শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর
Shridhar Venkatesh Ketkar.jpg
জন্ম(১৮৮৪-০২-০২)২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৪
রায়পুর, কেন্দ্রীয় প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১০ এপ্রিল ১৯৩৭(1937-04-10) (বয়স ৫৩)
পেশাইতিহাসবিদ,সমাজবিজ্ঞানী
দাম্পত্য সঙ্গীশীলাবতী কেতকর (পূর্ব নাম এডিথ কোহন)

শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর (২  ফেব্রুয়ারি ১৮৮৪ – ১০ এপ্রিল ১৯৩৭) ছিলেন একজন ভারতীয় মারাঠি সমাজবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও ঔপন্যাসিক। মারাঠি ভাষায় তেইশ খণ্ডের প্রথম বিশ্বকোষ (মহারাষ্ট্রীয় বিশ্বকোষ) সংকলন ও সম্পাদনা হল মারাঠি ভাষা ও সাহিত্যে তার অমর কীর্তি। [১]

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকরের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের কেন্দ্রীয় প্রদেশ অধুনা ছত্তিশগড়ের রাজধানী শহর রায়পুরের এক মারাঠি চিৎপাবন ব্রাহ্মণ পরিবারে। তার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয়  অমরাবতীতে ও পরে মুম্বাইয়ের উইলসন কলেজে। বিভিন্ন বিষয় ও সাহিত্যের উপর জ্ঞানার্জনের প্রবল আগ্রহে স্কুল-কলেজের প্রথাগত শিক্ষায় অগ্রগতি ছিল অনিয়মিত। ফলে ভারতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি লাভ সম্ভব হয়নি। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি  ডিগ্রি অর্জন করেন দ্য হিস্ট্রি অফ কাস্ট ইন ইন্ডিয়া তথা ভারতে বর্ণের ইতিহাস" শীর্ষক গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনায়। নিবন্ধটিতে তিনি ২২৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ৩২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মনুস্মৃতিতে প্রতিফলিত সামাজিক অবস্থার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। এরপর তিনি এক বছর লন্ডনে অতিবাহিত করেন সামাজিক সমস্যার অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানে। "অ্যান এসে অন হিন্দুইজম, ইনস্টিটিউট ফরমেশন অ্যান্ড ফিউচার" শীর্ষক "বর্ণের ইতিহাস" দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করেন। এই সময়ে সেখানে তার পরিচয় হয় এডিথ কোহন নামের এক জার্মান ভদ্রমহিলার, যাকে তিনি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে বিবাহ করেন এবং বিবাহের পর তিনি "শীলাবতী কেতকর" ভারতীয় নামে পরিচিত হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে জ্ঞানচর্চার জন্যই তিনি বরোদা সরকারের উচ্চ বেতন, পদ মর্যাদা, স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপেক্ষা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির সহ-অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। এই সময়ে তার দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় - একটি 'ভারতীয় অর্থশাস্ত্র' এবং অপরটি হিন্দুআইন ও ইতিহাস অধ্যয়নের পদ্ধতি ও নীতির উপর 'হিন্দুবিধান'। কিন্তু তার সত্য-সন্ধান ব্রত আর নির্ভীক স্পষ্টবাদিতায় কলকাতায় চাকরি স্থায়ী হয়নি।

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রখর পাণ্ডিত্য ও যোগ্যতায় মারাঠি বিশ্বকোষ তৈরির মহান কাজে লিপ্ত হন। তিনি আশা করেছিলেন যে পাঁচ বছরের মধ্যেই সে কাজ সম্পন্ন করবেন, কিন্তু বাস্তবে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হয়। কেননা তিনি পুরো প্রকল্পের দায়িত্বে (নিজে একক ভাবে সম্পাদক, প্রশাসক, মুদ্রক, প্রকাশক) ছিলেন। একুশতম খণ্ডটি (সূচী) প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে। বারো-তেরো বছর অতি সক্রিয়তার মধ্যে সমাধা করেন। এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলেন - 'মাই টুয়েলভ ইয়ার্স অফ ওয়ার্ক'। ড.কেতকরের স্ত্রী শীলাবতী কেতকর বিদেশিনী হয়ে পরবর্তীতে হয়েছিলেন আদর্শ ভারত-ললনা। তাদের দুই দত্তক পুত্র ও পারিবারিক জীবন নিয়ে স্মৃতিকথা লিখেছেন। তিনি স্বামীর সাহিত্যকর্মে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি তার পারিবারিক বন্ধু মরিজ উইন্টারনিৎসের এ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়ান লিটারেচার ইংরাজী হতে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন।[২]

কেতকর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে শারদোপাসক সম্মেলন এবং ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্র সাহিত্য সম্মেলন নামে দুটি মারাঠি সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবর্তিত বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা প্রকাশের পরামর্শদাতাদের অন্যতম ছিলেন।

মারঠি জ্ঞানকোষ সংকলনের পর, তিনি আট-নয় বৎসর বিপুল উদ্যমে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। রচনা করেছেন সাতটি উপন্যাস, ঐতিহাসিক গবেষণা সমৃদ্ধ গ্রন্থ, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রবন্ধ ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি মহারাষ্ট্র বাক্-বিলাস, বিদ্যা-সেবক, পুনাসমাচার নামক পত্র-পত্রিকার সম্পাদনা করতেন।

মারাঠি ভাষায় রচিত গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

কেতকর মারাঠি ভাষায় নিম্নলিখিত উপন্যাসগুলিও লিখেছেন।

  • গোণ্ডবনের প্রিয়ংবদা (गोंदवनातील प्रियंवदा)  (১৯২৭)
  • আশাবাদী (आशावादी)  (১৯২৭)
  • গ্রাম্যশ্বশ্রূমাতা (गावसासू) (১৯২৯)
  • ব্রাহ্মণকন্যা (ब्राह्मणकन्या) (১৯৩০)
  • বিচক্ষণা (विचक्षण) (১৯৩৭)

"ব্রাহ্মণকন্যা" উপন্যাসটি বাংলায় অনূদিত হয়েছে। অবৈধজাত ব্রাহ্মণ কন্যার ভবিষ্যত ভাবনাই হল উপন্যাসটির বিষয়বস্তু। অনুবাদ করেছেন অজিত কুমার দত্ত[১]

জীবনাবসান[সম্পাদনা]

শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর ডায়াবেটিকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুনেতে এক আঘাতপ্রাপ্ত হলে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল গ্যাংগ্রেনাসে মারা যান। [৩]


তার রচিত উপন্যাসগুলির উপর সমালোচনামূলক গবেষণাপত্র ডিএন গোখলে [৪] এবং দুর্গা ভাগবত দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। [৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর। ব্রাহ্মণ কন্যা (বাংলা)। অজিত কুমার দত্ত কর্তৃক অনূদিত। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া, নতুন দিল্লি। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-২১ 
  2. Ketkar, Sheelavati (১৯৯০)। 'Look Back With Me। Writers Workshop। 
  3. Gokhale, D.N. (১৯৫৯)। Dr. Ketkar (in Marathi)  
  4. Gokhale, D. N. (১৯৫৫)। Dr. Ketkaranchya Kadambarya (in Marathi) 
  5. Bhagwat, Durga (১৯৬৭)। Ketkari Kadambari (in Marathi)