শামসুল হক চৌধুরী (রংপুরের রাজনীতিবিদ)
শামসুল হক চৌধুরী | |
|---|---|
| রংপুর-১২ আসনের সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ – ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ | |
| রংপুর-১৩ আসনের সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ২ এপ্রিল ১৯৭৯ – ২৪ মার্চ ১৯৮২ | |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ৩০ জুন ১৯৩০ চর বলদিয়া গ্রাম, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, বাংলাদেশ |
| মৃত্যু | ৭ মে ২০০৮ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| দাম্পত্য সঙ্গী | মোছা: নুরজাহান বেগম এবং নুরজাহান বেগম |
| সন্তান | ৬ |
| পিতামাতা | শরীফ উদ্দিন আহমদ এবং আছিয়া বেগম |
| শিক্ষা | এলএলবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক |
শামসুল হক চৌধুরী (৩০ জুন ১৯৩৬– ৭ মে ২০০৮) বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন রংপুর-১২ ও রংপুর-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।[১][২]
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]শামসুল হক চৌধুরী ১৯৩০ সালের ৩০ জুন বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন-এর চর বলদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শরীফ উদ্দিন আহমদ এবং মায়ের নাম আছিয়া বেগম। তার দুই স্ত্রীর একই নাম (নুরজাহান বেগম)। বড় পক্ষের ৪ সন্তান - নুরুন্নবী হক চৌধুরী খোকন(১ম), শামসুন্নাহার চৌধুরী লিলি(২য়), সুলতানা জেসমিন নাহার চৌধুরী শেলি(৩য়), নাজনীন নাহার লিপি(৪র্থ)। ছোট পক্ষের ২ সন্তান - চৌধুরী শারমিন শামস্ মণি(৫ম), মো: নিয়ামুল আরিফ চৌধুরী নিখিল(৬ষ্ঠ)।
শামসুল হক চৌধুরী ১৯৪৪ সালে গনাইরকুঠি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৪৫ সালে সোনাহাট মহারাজা শ্রী শচন্দ্র নন্দী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি ভর্তি হন ভুরুঙ্গামারী হাই ইংলিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে৷ ১৯৫১ সালে ভুরুঙ্গামারী হাই স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন ও পরে কারমাইকেল কলেজ এ ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে তিনি এখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী (আই.এ) পাশ করেন। কারমাইকেল কলেজ থেকে (আই.এ) পাশ করার পর শামসুল হক চৌধুরী ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ এ স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি এ কলেজ থেকে স্নাতক (বি.এ.) ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৮ সালে তার বাড়ির কাছেই সোনাহাটে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । শামসুল হক চৌধুরী এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে তিনি সোনাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি ভুরুঙ্গামারী হাই ইংলিশ স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন।[৩]
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]শামসুল হক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ভূরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে রংপুর-১২ আসন থেকে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য (M.N.A) নির্বাচিত হয়েছিলেন।[৩] ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলে শামসুল হক চৌধুরী ভুরুঙ্গামারীর জনগণকে শান্ত রেখে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অত্র অঞ্চলের "সংগ্রাম পরিষদ" শামসুল হক চৌধুরীর নেতৃত্ব গঠিত হয় এবং এসময় তিনি অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণকে সংগঠিত করতে থাকেন।
মুক্তিযুদ্ধে তার উল্ল্যেখ যোগ্য পদক্ষেপ গুলো ছিলো -
* ভুরুঙ্গামারী পাইলট হাই স্কুলের বৃহত্তর মাঠে ইপিআর সেনাদের জন্য ক্যাম্প স্থাপনের ব্যাবস্থা করা এবং ইপিআর সেনা দ্বারা ছাত্র কৃষক ও সাধারণ জনগণকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সংগঠিত করা।
* ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্তে মোট ১৮ টি শিবির (ক্যাম্প) (মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র প্রশিক্ষন কেন্দ্র) সংগঠিত করা।
* সোনাহাট ব্রীজ অচল করতে এবং গেরিলা বাহিনীর সমরাস্ত্র সংগ্রহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ চূড়ান্ত করা।
* ১৯৭১ এর ৩রা ডিসেম্বর থেকে অত্র অঞ্চলের মুক্তিবাহিনীর সাথে আসাম ও পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক সংযোগ চুড়ান্ত ও অব্যাহত রাখতে মুখ্য সংগঠক হিসেবে শামছুল হক চৌধুরী কাজ করেন।
এই সময়ে শামছুল হক চৌধুরীকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পেতে হানাদার পাকবাহিনী তাদের দোসর শান্তি কমিটির মাধ্যমে রাজাকার, আলবদর, আল শামস এর নিকট ৫০০০ টাকা পুরুষ্কার প্রদানের ঘোষনাটি ছড়িয়ে পরলে, তিনি মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত অত্র অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করে যান।
শামসুল হক চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৭২ এর ১০ এপ্রিলে তিনি Member of constituent Assembly (M.C.A) হিসেবে গনপরিষদের ১ম অধিবেশন থেকে বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় ভুমিকা রাখেন।
* ১৯৭২ এর ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর আয়োজিত স্বাক্ষর দান উৎসবে তিনি বাংলা ও ইংরেজি উভয় পাঠের হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে- ১ম স্বাক্ষরকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট ৩৯৯ জন স্বাক্ষর প্রদান করেছিলেন।
তিনি ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন রংপুর-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১]
১৯৭৫ সালের ১৯ জুন বঙ্গবন্ধু সারাদেশে ৬০টি জেলা গঠন করেন এবং প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডিন্যান্স এ শামসুল হক চৌধুরীকে রংপুর ১২ ও ১৩ এর একাংশ নিয়ে বর্তমান কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের গভর্নর নিয়োগ দেন।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন রংপুর-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।[২] শামসুল হক চৌধুরী ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব এত পালন করেন।[৩]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]শামসুল হক চৌধুরী ২০০৮ সালের ৭ই মে বুধবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "১ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "২য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 4 "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ২১ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২০।