শহীদুল্লাহ (কবি)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

ভাষাবীর ,মুক্তিযোদ্ধা কবি শহীদুল্লাহ সাহিত্যরত্ন (১৯২৩-২০০৫ ইং) সালের কুমিল্লার শহরতলী চান্দপুরে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ।পিতা মরহুম মৌলভী মকসূদ আহমদ একজন সরকারি আমলা ছিলেন ।মাতা মরহুমা মরিয়ম বিবি ও নাজির বাড়ীর একমাত্র মেয়ে । মৃত্যু কালে তিনি ৫ কন্যা, ৫ পুত্র সন্তান রেখে যান। উনার নাতি চার জনই বাংলাদেশের খ্যাতিমান ক্রিকেটার । নাতি গণ হলেন, নাসিরুল আলম নাহিদ,রেজাউল করিম নাঈম,রাজিন সালেহ আলম(জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক)ও রিজভি আলম।

মরহুমভাষা বীর কবি শহীদুল্লাহ সাহিত্যরত্ন কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করেন । তিনি সুপন্ডিত ড,মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ,ড, কাজী দীন মোহাম্মদ,ড,সৈয়দ আলী আহসান সাহেবের শিক্ষা ও সাহচর্য লাভ করেন । এ সময় তিনি অধ্যাপক (প্রিন্সিপাল) আবুল কাসেম, মজলুম জননেতা মাওলানা আঃ হামিদ খাঁন ভাসানী,শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ,ড,নুরুল হক ভূইয়া,কাজী গোলাম মাহবুব,তাজউদ্দিন আহমদ,মোঃ তোয়াহা,আতাউর রহমান খাঁন, প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, আবুল মনসুর আহমদ,শেখ মুজিবর রহমান,অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ (ন্যাপ),প্রথিতযশা লেখক আবুল মনসুর আহমদ,আতাউর রহমান খান, এবি,এম গোলাম মোস্তফা,মৌলানা মহীউদ্দিন খান,সানাউল্লাহ নূরী, আঃ গফুর , এ বি এম গোলাম মোস্তফা ,অধ্যাপক গোলাম আযম সহ দেশ-বরেণ্য ব্যাক্তিদের সাহচর্যে এসে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ।

তিনি একাধারে সাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক ছিলেন ।কুমিল্লায় ১৯৪৭সালে মাসিক কোরক-এর প্রকাশক তথা সম্পাদক ছিলেন । তিনি মৌলানা আকরাম খাঁ-র দৈনিক আজাদ ও দৈনিক ইনসাফ -১৯৫০-১৯৫২-এর সিনিয়র সাব এডিটর হিসাবে কর্মরত অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় থেকে, সকল সংবাদ সংগ্রহ করতেন। তার প্রকাশনা ও সম্পাদনায় সাপ্তাহিক " আলো " (রেজি:নং ডিএ ৩৬৯) প্রকাশিত হয়।পরবর্তিতে তিনি "সাপ্তাহিক "শহীদ" নামে একটি পত্রিকার প্রকাশের অনুমতি পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ও দৈনিক আজাদের সিনিয়র সাব এডিটর ও তমদ্দুন মজলিসের একনিষ্ঠ কর্মি থাকা অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বিখ্যাত ব্যঙ্গ কবিতার বই পাকিস্তানি পাচঁ বছর প্রকাশ করে পাকিস্তানী শাসকের রোষানলে পড়েন। ভাষা আন্দোলনের জন্য কুমিল্লা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায়, কুমিল্লা টাউন হল ময়দানের জনসভায় সভাপতিত্ব করার সময়, ১৯৫২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানী শাসকের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ সাত মাস জেল খাটেন। ঠিক তখনই কুমিল্লা জেলের নতুন নামকরণ করা হয় কেন্দ্রীয় কারাগার।

১৯৫০-১৯৫১ইং সালে গৌড়বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ (দিনাজপুর) ও যশোর সাহিত্য পরিষদ (যশোহর) কবি শহীদুল্লাহ , মোঃ নজিবর রহমান ও কাজী আবদুল ওদুদ কে সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করেন ।

১৯৬৪-১৯৬৫ইং তে সামরিক শাসক আইউব শাহীর জুলুম প্রতিরোধ দিবসে কপ-এর নেতা হিসাবে গ্রেফতার হন । এ সময় আরো কয়েকবার গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন । শেখ মুজিবর রহমান ও কবি শহীদুল্লাহ কে জামিন নেন এডভোকেট মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া । ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন তিনি। ভাষা বীর, মুক্তিযোদ্ধা কবি শহীদুল্লাহ সাহিত্যরত্ন মুলত শিশু-সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর কবিতার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই : ১) শিশু সাথী (১৯৪১ইং), ২) জীবন ফসল (১৯৫০ইং), ৩) আগড় বাগড় (১৯৫০ইং), ৪) জেলের চিঠি (১৯৫২ইং), ৫) কচিঁ পাঠ (১৯৫৩ইং), ৬) এক পেট দুই হাত (১৯৫৪ইং), ৭) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম পাঠ (১৯৫৫ইং), ৮) সোহাগ পাঠ (১৯৬২ইং), ৯) এতিম বালক আহমদ (১৯৬১), ১০) জীবন স্বপ্ন (১৯৪৯ইং; সাহিত্যরত্ন উপাধিপ্রাপ্ত বই), ১১) পাকিস্তানী পাঁচ বছর (১৯৫১ইং), ১২) রোড টু ব্লীজিং (ইংরেজী প্রবন্ধমুলক বই১৯৭৪ইং), ১৩) সহজ বাঙলা ১ম পাঠ ও ২য় পাঠ (১৯৭৪ ও ১৯৭৫ইং) ইত্যাদি আরো অনেক গ্রন্থ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]