লুক ডে ইয়ং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লুক ডে ইয়ং
LuukDeJong.jpg
২০১০ সালে টুয়েন্টের হয়ে ডে ইয়ং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম লুক ডে ইয়ং[১]
জন্ম (1990-08-27) ২৭ আগস্ট ১৯৯০ (বয়স ৩১)
জন্ম স্থান এগল, সুইজারল্যান্ড
উচ্চতা ১.৮৮ মিটার (৬ ফুট ২ ইঞ্চি)
মাঠে অবস্থান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান ক্লাব
বার্সেলোনা
(সেভিয়া হতে ধারে)
জার্সি নম্বর ১৭
যুব পর্যায়
ডিজেডসি ১৯৬৮
২০০১–২০০৮ ডে গ্রাফসখাপ
জ্যেষ্ঠ পর্যায়*
বছর দল ম্যাচ (গোল)
২০০৮–২০০৯ ডে গ্রাফসখাপ ১৪ (২)
২০০৯–২০১২ টুয়েন্টে ৭৫ (৩৯)
২০১২–২০১৪ বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ৩৬ (৬)
২০১৪নিউক্যাসেল ইউনাইটেড (ধার) ১২ (০)
২০১৪–২০১৯ পিএসভি এইন্থোভেন ১৫৯ (৯৪)
২০১৯– সেভিয়া ৬৯ (১০)
২০২১–বার্সেলোনা (ধার) (০)
জাতীয় দল
২০০৮–২০০৯ নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৯ (১)
২০০৯–২০১৩ নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-২১ ১৮ (৫)
২০১১– নেদারল্যান্ডস ৩৮ (৮)
* শুধুমাত্র ঘরোয়া লীগে ক্লাবের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা গণনা করা হয়েছে এবং ১৬:২৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ (ইউটিসি) তারিখ অনুযায়ী সকল তথ্য সঠিক।
‡ জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা ১৬:২৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ (ইউটিসি) তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

লুক ডে ইয়ং (ওলন্দাজ: Luuk de Jong, ওলন্দাজ উচ্চারণ: [ˈlyk də ˈjɔŋ]; জন্ম: ২৭ আগস্ট ১৯৯০) হলেন একজন ওলন্দাজ পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। তিনি বর্তমানে স্পেনের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লা লিগার ক্লাব বার্সেলোনা এবং নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে দ্বিতীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

ডিজেডসি ১৯৬৮-এর যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে ডে ইয়ং ফুটবল জগতে প্রবেশ করেছেন এবং পরবর্তীকালে ডে গ্রাফসখাপের যুব দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি ফুটবল খেলায় বিকশিত হয়েছেন। ২০০৮–০৯ মৌসুমে, ওলন্দাজ ক্লাব ডে গ্রাফসখাপের মূল দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছেন; ডে গ্রাফসখাপের হয়ে মাত্র এক মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ২টি গোল করার পর ২০০৯–১০ মৌসুমে তিনি প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ওলন্দাজ ক্লাব টুয়েন্টেতে যোগদান করেছেন। টুয়েন্টের হয়ে তার প্রথম মৌসুমে তিনি স্টিভ ম্যাকক্লারেনের অধীনে ২০০৯–১০ এরেডিভিজির শিরোপা জয়লাভ করেছেন। পরবর্তীকালে, তিনি বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ এবং ধারে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। অতঃপর তিনি প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ওলন্দাজ ক্লাব পিএসভি এইন্থোভেনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে তিনি সকল প্রতিযোগিতায় ২০৪ ম্যাচে ১১২টি গোল করেছেন। ২০১৯–২০ মৌসুমে, তিনি প্রায় ১২.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পিএসভি এইন্থোভেন হতে স্পেনীয় ক্লাব সেভিয়ায় যোগদান করেছেন। ২০২১–২২ মৌসুমে, তিনি ধারে বার্সেলোনায় যোগদান করেছেন।

২০০৮ সালে, ডে ইয়ং নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অভিষেক করেছিলেন। প্রায় ৪ বছর যাবত নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলার পর, তিনি ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক করেছেন; নেদারল্যান্ডসের জার্সি গায়ে তিনি এপর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের হয়ে এপর্যন্ত ২টি উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে (২০১২ এবং ২০২০) অংশগ্রহণ করেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে, ডে ইয়ং বেশ কিছু পুরস্কার জয়লাভ করেছেন, যার মধ্যে টানা দুই মৌসুমে এরেডিভিজির বর্ষসেরা দলে এবং ২০১৯–২০ উয়েফা ইউরোপা লিগের মৌসুম সেরা দলে অন্তর্ভুক্তি অন্যতম।[২][৩][৪] দলগতভাবে, ডে ইয়ং এপর্যন্ত ১০টি শিরোপা জয়লাভ করেছেন, যার মধ্যে ৪টি টুয়েন্টের হয়ে, ৫টি পিএসভি এইন্থোভেনের হয়ে এবং ১টি সেভিয়ার হয়ে জয়লাভ করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

লুক ডে ইয়ং ১৯৯০ সালের ২৭শে আগস্ট তারিখে সুইজারল্যান্ডের এগলে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই তার শৈশব অতিবাহিত করেছেন। তার বাবা একজন পেশাদার ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল[সম্পাদনা]

ডে ইয়ং নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৯ এবং নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে তিনি ২০১৩ উয়েফা ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছেন,[৫] তবে তার দল উক্ত আসরের সেমি-ফাইনালে ইতালি অনূর্ধ্ব-২১ দলের কাছে ১–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আসর হতে বিদায় নিয়েছিল।[৬] এই আসরে তিনি ৩ ম্যাচে ১টি গোল করেছিলেন।[৭] নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে তিনি ২৩ ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৬টি গোল করেছেন। তিনি ২০০৯ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে রোমানিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে প্রথমবারের মতো গোল করেছেন।[৮]

২০১১ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি তারিখে, মাত্র ২০ বছর ৫ মাস ১৩ দিন বয়সে, ডান পায়ে ফুটবল খেলায় পারদর্শী ডে ইয়ং অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেদারল্যান্ডসের হয়ে অভিষেক করেছেন।[৯] উক্ত ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ডির্ক কুইটের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন;[১০] ম্যাচে তিনি ২০ নম্বর জার্সি পরিধান করে কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন।[১১] ম্যাচটি নেদারল্যান্ডস ৩–১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল।[১২] জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের ৬ মাস ২৮ দিন পর, নেদারল্যান্ডসের জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেছেন; ৬ই সেপ্টেম্বর তারিখে, ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে এলজেরো এলিয়ার অ্যাসিস্ট হতে নেদারল্যান্ডসের প্রথম গোলটি করার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম গোলটি করেছেন।[১৩][১৪][১৫] নেদারল্যান্ডসের হয়ে অভিষেকের বছরে ডে ইয়ং সর্বমোট ৬ ম্যাচে ১টি গোল করেছেন।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ক্লাব[সম্পাদনা]

১ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।
ক্লাব মৌসুম লিগ জাতীয় কাপ মহাদেশীয় অন্যান্য মোট
বিভাগ ম্যাচ গোল ম্যাচ গোল ম্যাচ গোল ম্যাচ গোল ম্যাচ গোল
ডে গ্রাফসখাপ এরেডিভিজি ২০০৮–০৯ ১৪ ১৯
টুয়েন্টে এরেডিভিজি ২০০৯–১০ ১২ ২১
২০১০–১১ ৩২ ১২ ১১ ৪৯ ২০
২০১১–১২ ৩১ ২৫ ১৪ ৫১ ৩২
মোট ৭৫ ৩৯ ১৩ ২৯ ১০ ১২১ ৫৯
বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ বুন্দেসলিগা ২০১২–১৩ ২৩ ৩১
২০১৩–১৪ ১৩ ১৪
মোট ৩৬ ৪৫
নিউক্যাসেল ইউনাইটেড (ধার) প্রিমিয়ার লিগ ২০১৩–১৪ ১২ ১২
পিএসভি এরেডিভিজি ২০১৪–১৫ ৩২ ২০ ১১ ৪৫ ২৬
২০১৫–১৬ ৩৩ ২৬ ৪৪ ৩২
২০১৬–১৭ ৩২ ৩৯
২০১৭–১৮ ২৮ ১২ ৩৩ ১৩
২০১৮–১৯ ৩৪ ২৮ ৪৩ ৩২
মোট ১৫৯ ৯৪ ১০ ৩২ ১১ ২০৪ ১১২
সেভিয়া লা লিগা ২০১৯–২০ ৩৫ ৪৬ ১০
২০২০–২১ ৩৪ ৪৮
মোট ৬৯ ১০ ১০ ১৪ ৯৪ ১৯
বার্সেলোনা (ধার) লা লিগা ২০২১–২২
সর্বমোট ৩৬৫ ১৫১ ৩৭ ১৮ ৮২ ২৮ ১১ ৪৯৫ ২০১

আন্তর্জাতিক[সম্পাদনা]

১ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।
দল সাল ম্যাচ গোল
নেদারল্যান্ডস ২০১১
২০১২
২০১৫
২০১৬
২০১৭
২০১৮
২০১৯
২০২০
২০২১
সর্বমোট ৩৮

অর্জন[সম্পাদনা]

ক্লাব[সম্পাদনা]

টুয়েন্টে
  • এরেডিভিজি: ২০০৯–১০
  • কেএনভিবি কাপ: ২০১০–১১
  • ইয়োহান ক্রুইফ শিল্ড: ২০১০, ২০১১
পিএসভি
  • এরেডিভিজি:২০১৪–১৫, ২০১৫–১৬, ২০১৭–১৮
  • ইয়োহান ক্রুইফ শিল্ড: ২০১৫, ২০১৬
সেভিয়া

ব্যক্তিগত[সম্পাদনা]

  • এরেদিভিজি বর্ষসেরা দল: ২০১৭–১৮,[২] ২০১৮–১৯[৩]
  • ইউরোপা লিগ বর্ষসেরা দল: ২০১৯–২০[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Premier League clubs submit squad lists" (PDF)। Premier League। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। পৃষ্ঠা 24। ৮ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "ELFTAL VAN HET SEIZOEN 2017/2018 BEKEND" (ওলন্দাজ ভাষায়)। Eredivisie। ১ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  3. "Frenkie de Jong Eredivisie Player of the Season 2018/2019"। Eredivisie। ১৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২১ 
  4. "UEFA Europa League Squad of the Season"UEFA.com। Union of European Football Associations। ২৬ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২০ 
  5. "Netherlands name experienced finals party"। UEFA। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৩ 
  6. "Borini downs Dutch to set up Spain final"UEFA.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  7. "Netherlands U21 - AppearancesU21 EURO 2013"worldfootball.net (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  8. "Netherlands - Romania 2:2 (U19 Friendlies 2009, March)"worldfootball.net (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  9. "Netherlands vs. Austria - 9 February 2011"Soccerway। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  10. "Netherlands - Austria 3:1 (Friendlies 2011, February)"worldfootball.net। ২৭ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  11. "Netherlands - Austria, Feb 9, 2011 - International Friendlies - Match sheet"Transfermarkt (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  12. Strack-Zimmermann, Benjamin (৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "Netherlands vs. Austria (3:1)"National Football Teams। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  13. "Finland - Netherlands, Sep 6, 2011 - Match sheet"Transfermarkt (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  14. "Finland vs. Netherlands - 6 September 2011"Soccerway। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  15. "Finland - Netherlands 0:2 (EURO Qualifiers 2010/2011, Group E)"worldfootball.net (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ নভেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  16. Wilkinson, Jack (২১ আগস্ট ২০২০)। "Sevilla 3-2 Inter Milan: Sevilla edge five-goal thriller for sixth Europa League crown"। Sky Sports। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]