লিন ফুলস্টন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লিন ফুলস্টন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলিনেট অ্যান ফুলস্টন
জন্ম(১৯৫৬-০৩-০৩)৩ মার্চ ১৯৫৬
কারুন্ডা, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু১ জুন ২০০৮(2008-06-01) (বয়স ৫২)
অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামলেফটি
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯৯)
২১ জানুয়ারি ১৯৮৪ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২৯ আগস্ট ১৯৮৭ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২৬)
১০ জানুয়ারি ১৯৮২ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই১৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ডব্লিউওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৪১
রানের সংখ্যা ২৮৫ ১৩৪
ব্যাটিং গড় ৩১.৬৬ ২৭.৭৮
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৪১* ২৭
বল করেছে ৩৬১০ ২৩৬৬
উইকেট ৪১ ৭৩
বোলিং গড় ২৫.৫৩ ১৩.২৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৫৩ ৫/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২০/- ১৮/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

লিনেট অ্যান ফুলস্টন (ইংরেজি: Lyn Fullston; জন্ম: ৩ মার্চ, ১৯৫৬ - মৃত্যু: ১ জুন, ২০০৮) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কারুন্ডা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় প্রমিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে ‘লেফটি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান স্কর্পিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন লিন ফুলস্টনঅস্ট্রেলীয় নেটবল দলেও তাঁর সপ্রতিভ উপস্থিতি ছিল।[১] প্রকৃতিপ্রদত্ত মহিলা ক্রীড়াবিদরূপে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।[২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শিক্ষকদের কলেজে অবস্থানকালে শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুদের উৎসাহে ক্রিকেটে তাঁর সম্পৃক্ততা গড়ে উঠে।[৩] অ্যাডিলেড কলেজ অব এডভান্সড এডুকেশনের পক্ষে ১৯৭৭ সালে খেলতে শুরু করেন। ১৯৮২ সালে ফ্লিন্ডার্স ইউনিতে অধিনায়ক/কোচ হিসেবে স্থানান্তরিত হন ও তারপর ইন্সিতে একই দায়িত্বে ১৯৮৮ পর্যন্ত থাকেন। ১৯৯৪ সালে পোর্ট অ্যাডিলেড ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। সেখানে ২০০৭ সালে অবসর নেয়ার পূর্ব-পর্যন্ত খেলেন ও কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নির্দেশনায় পোর্ট দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মহিলাদের ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম সফল ক্লাবের মর্যাদা পায়। এক মৌসুমে তিন স্তরের সবগুলো প্রিমিয়ারশীপ জয় করে প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়ে।[৪]

রাজ্য পর্যায়েও ফুলস্টন কোচিং করিয়েছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২১ দলকে কোচিং করান। দলটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সালে ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৫ বছর অতিবাহিত করেন। এ সময়ে তিনি ১২৩টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ৭৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৪১টি টেস্ট উইকেটের সন্ধান পান। দুইবার ওডিআই ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলেনেন। ওডিআইয়ে তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫/২৭। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে তিনি ৩১.৬৭ গড়ে রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪১* রান তুলেন।[৫] ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৪ তারিখে ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

১০ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে মহিলাদের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক ঘটে।[৫] ১৯৮২-১৯৮৮ সময়কাল পর্যন্ত সর্বমোট ২টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত মহিলা বিশ্বকাপের খেলায় ব্যক্তিগতভাবে সর্বাধিক ৩৯ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড ধারন করে আছেন।[৫][৬] তন্মধ্যে ১৯৮২ সালের আসরে সর্বাধিক ২৩ উইকেট দখল করেছিলেন।[৭] ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ঐ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় তাঁর দল নিউজিল্যান্ডের ৪৯.৩ ওভারে নিউজিল্যান্ড ১৬৪ রানে গুটিয়ে গেলে বেলিন্ডা ক্লার্কের ৮১ বলে গড়া ৫২ রানের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া ৪৭.৪ ওভারে ১৬৫/৫ সংগ্রহ করে ও ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা লাভ করে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। শারীরিক শিক্ষা, গণিত ও ভূগোলের শিক্ষকরূপে ২৮ বছর পড়াশোনা করিয়েছেন।[৩] লে ফেভরে হাই স্কুলের নতুন জিমনেসিয়ামটি তাঁর পরামর্শক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর এ জিমনেসিয়ামটি নামাঙ্কিত হয়।[৮] গারভিল নেটবল ক্লাব, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নেটবলেও অংশগ্রহণ করেছেন। গারভিলের পক্ষে তাঁকে আজীবন সদস্যরূপে সম্মানিত করা হয়।[৯]

দেহাবসান[সম্পাদনা]

দীর্ঘদিন রোগে আক্রান্ত হবার পর ১ জুন, ২০০৮ তারিখে তাঁর দেহাবসান ঘটে।[৩] ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর মৃত্যু প্রভাব ফেললেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে তেমন মনোযোগ আকর্ষণ করেনি।

তাঁর মৃত্যুর পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মন্তব্য করেন যে, ফুলস্টন নিজ সম্প্রদায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত মহিলাদের ক্রীড়ার দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Tribute paid to Aust cricketer, netballer"ABC News (Australia)Australian Broadcasting Corporation। ৪ জুন ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৪ 
  2. "Lyn Fullston"Player Profiles। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  3. "World-class cricketer dies"। Australian Teacher Magazine। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Lefty Fullston"। Port Adelaide Cricket Club। ৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  5. "Cricket Australia pays tribute to Lyn Fullston"Press ReleaseAustralian Cricket Board। ১৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  6. "Records / Women's World Cup / Most wickets"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১২ 
  7. "Records / Women's World Cup / Most wickets in a series"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১২ 
  8. Rob Shepherd (২৬ মে ২০১১)। "Le Fevre High School History"। Le Fevre High School। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  9. http://garville.com.au/about/honour-trophies/
  10. "http://www.thatscricket.com/news/2008/06/02/ex-australia-eves-spinner-lyn-fullston-dies-at-52.html"। Thats Cricket.com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩  |title= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]