রোহণ দালুওয়াত্তে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রোহণ দালুওয়াত্তে
জন্ম(১৯৪১-০৫-০৯)৯ মে ১৯৪১
আমবালানগোদা, শ্রীলঙ্কা
মৃত্যু২৭ আগস্ট ২০১৮(2018-08-27) (বয়স ৭৭)[১]
কলম্বো, শ্রীলঙ্কা
আনুগত্য শ্রীলঙ্কা
সার্ভিস/শাখা শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী
কার্যকাল১৯৬৩-১৯৯৮
পদমর্যাদাজেনারেল
ইউনিটশ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী সাঁজোয়া শাখা
নেতৃত্বসমূহশ্রীলঙ্কার সেনা কমান্ডার
যুদ্ধ/সংগ্রামশ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ

রোহণ ডি সিলভা দালুওয়াত্তে (১৯৪১-২০১৮) শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল ছিলেন। শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী সাঁজোয়া শাখায় কমিশনপ্রাপ্ত রোহণ ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার সেনাকমান্ডার নিযুক্ত হন। তিনি সেনা কমান্ডার ছাড়াও চীফ অব ডিফেন্স স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ব্রাজিলে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান এবং অন্যান্য বেসামরিক দায়িত্বও তিনি পেয়েছিলেন।[২]

রোহণ শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ ছিলেন, এই পদে তিনি তামিল জঙ্গি গোষ্ঠী এলটিটিইর বিরুদ্ধে সমর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জাফনাতে 'অপারেশন রিভিরাসা' নামের একটি সমরাভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন, তিনি জয়েন্ট অপারেশন্স কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেনা কমান্ডার হিসেবে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর এলটিটিইর বিরুদ্ধে 'অপারেশন জয়সিকিরুই', 'অপারেশন সাথ জয়া', 'অপারেশন ত্রিবিদ পাহারা'-এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দেশ দিয়েছিলেন রোহণ এবং এগুলো সফল সামরিক অভিযান ছিলো।

পূর্ব জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

রোহণের জন্ম আম্বালানগোদাতে হয়েছিলো যেটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপকূলীয় শহর; তারা বাবার নাম ছিলো ডি. এইচ. পাউলি ডি সিলভা যিনি একজন কৃষক এবং একজন দৌড়বিদ ছিলেন, রোহণের মার নাম ছিলো ডি. ডব্লিউ. লীলা সোমবতী। তার একটি বোন ছিলো যার নাম ছিলো মালিনী এবং চারজন ভাই ছিলো।

রোহণ ধর্মপাল বিদ্যালয় এবং আনন্দ কলেজে পড়াশোনা করেন।

প্রাথমিক সেনা জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালে সেনা ক্যাডেট হিসেবে রোহণের সামরিক জীবন শুরু হয় ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, '৬১ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখে রোহণের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি প্রশিক্ষণ একাডেমীতে ভালো সাঁতার কাটতেন।[৩]

১৯৬৩ সালের ১ আগস্ট রোহণ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে 'সিলন আর্মার্ড কোর'-এর ১ রিকনিসান্স রেজিমেন্টে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি ব্রিটেনের রাজকীয় সাঁজোয়া কোর কেন্দ্র থেকে জুনিয়র কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। তিনি পরে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী বাস্কেটবল দলের অধিনায়ক হন।

তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত 'আর্মি ট্রেনিং সেন্টার'-এর অফিসার ক্যাডেট স্কুলের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ১৯৮২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত রোহণ মেজর পদবীতে ১ম রকনিসান্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; এছাড়া তিনি শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর সার্ভিস কোরের কমান্ডিং কর্মকর্তা; মান্নার সেনা অঞ্চলের কোঅর্ডিনেটিং কর্মকর্তা কমান্ডিং ট্রুপস; ডাইরেক্টর-সাপ্লাইজ অ্যান্ড ট্র্যান্সপোর্ট; আর্মি ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, ভারত এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ভারত থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন।

অপারেশন রিভিরেসা[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালে মেজর জেনারেল রোহণ দালুওয়াত্তে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ ছিলেন, তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার নির্দেশে নর্থ অ্যান্ড ইস্ট-এর ওভারলঅল অপারেশন্স কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন, তাকে 'অপারেশন রিভিরেসা' কমান্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়, এই অপারেশন কমান্ড করার জন্য চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা রোহণকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সেনা অভিযান জাফনা এলাকায় করা হয় এবং এলটিটিইর বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়, শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী এলটিটিইর বহু সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।

সেনা কমান্ডার[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রপতি চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার নির্দেশে ১৯৯৬ সালের ১ মে রোহণ শ্রীলঙ্কার সেনা কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদবী প্রদান করা হয়। তিনি সেনা কমান্ডারের দায়িত্ব নেবার পর এলটিটিইর বিরুদ্ধে আবার সমরাভিযানে নামতে হয় শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীকে, সেনাবাহিনী 'ব্যাটল অব মুল্লাইটিভু' এবং 'অপারেশন সাথ জয়া'তে জড়িয়ে পড়ে। ভাভুনাথিভু এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হবার পর সেনাবাহিনী 'অপারেশন জয়সিকুরুই' পরিচালনায় নামে। এলটিটিইকে পরাজিত করার জন্য শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর ওপর রাষ্ট্রপতির নির্দেশ ছিলো। ১৯৯৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর রোহণ সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত হন এবং তাকে পূর্ণ জেনারেল পদবী দেওয়া হয়।

চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ[সম্পাদনা]

সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর রোহণকে নতুন তৈরি করা জয়েন্ট অপারেশন্স ব্যুরো-এর চেয়ারম্যান করা হয়; তাকে সেনাবাহিনীতে পুনর্বহাল করে চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদ সৃষ্টি করে এই পদে বসানো হয়। ২০০২ সালে রোহণ চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদ থেকে অব্যাহতি পান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Death of former Army Commander Gen. Rohan Daluwatte"dailynews.lk। ২৮ আগস্ট ২০১৮। 
  2. "Sri Lanka Army – Past Army Commanders"। Army.lk। ৩০ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  3. Epasingha, P। "Rohan Daluwatta: A versatile sportsman"। Island। ২৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০২০