রনি গ্রিভসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রনি গ্রিভসন
রনি গ্রিভসন.jpg
১৯৩০-এর দশকের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রনি গ্রিভসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরোনাল্ড ইউসটেস গ্রিভসন
জন্ম(১৯০৯-০৮-২৪)২৪ আগস্ট ১৯০৯
জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু২৪ জুলাই ১৯৯৮(1998-07-24) (বয়স ৮৮)
জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৫৫)
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৩ মার্চ ১৯৩৯ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩০
রানের সংখ্যা ১১৪ ১১৩০
ব্যাটিং গড় ৫৭.০০ ৩৩.২৩
১০০/৫০ ০/১ ১/৭
সর্বোচ্চ রান ৭৫ ১০৭*
বল করেছে - ১২
উইকেট - -
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/৩ ২৫/১১
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রোনাল্ড ইউসটেস রনি গ্রিভসন, ওবিই (ইংরেজি: Ronnie Grieveson; জন্ম: ২৪ আগস্ট, ১৯০৯ - মৃত্যু: ২৪ জুলাই, ১৯৯৮) জোহেন্সবার্গে জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সালে সংক্ষিপ্ত সময়কালের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন রনি গ্রিভসন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

জোহেন্সবার্গের পার্কটাউন বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। তবে, ট্রান্সভালের সদস্য থাকাবস্থায় তাকে সর্বদাই উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতে হতো না। ১৯৩৫ সালে জাতীয় পর্যায়ের উইকেট-রক্ষক জক ক্যামেরনের মৃত্যু-পূর্ব পর্যন্ত এ অবস্থা চলমান ছিল। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে রনি গ্রিভসনের। এরপর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েক যুগ দলে পার করে দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একটিমাত্র সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব প্রদর্শনে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৭ রান করেছেন।[১]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন রনি গ্রিভসন।[২] ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে খেলেন। প্রথম দুই টেস্ট ড্র হবার পর সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নেয়। আংশিকভাবে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক বিলি ওয়েডের ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতার কারণে দলকে এর মাসুল গুণতে হয়।[৩]

ফলশ্রুতিতে, চতুর্থ টেস্ট থেকে ওয়েডকে বাদ দেয়া হয় ও গ্রিভসনকে উইকেট-রক্ষক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ড্র হওয়া বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকানরা উন্নত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিল। ফলশ্রুতিতে তাকে আর ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। কিন্তু, গ্লাভস হাতে পাঁচটি ক্যাচ মুঠোয় পুরেন। এছাড়াও দক্ষতার সাথে উইকেট সামলিয়েছিলেন।[৪][৫]

সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টেও তার অংশগ্রহণ ছিল। রাবার জয়ের স্বার্থে এ টেস্টটি অসীম সময়ের দিকে গড়ায়। এ খেলাটি ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘদিনের ছিল। ১০ দিনব্যাপী ঐ খেলায় একদিন বৃষ্টির জন্যে খেলাই যায়নি। দশম দিনশেষে ইংল্যান্ড দল জাহাজে চড়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়ায় খেলাটি ড্রয়ে পর্যবসিত হয়।[৬] দক্ষিণ আফ্রিকার উভয় ইনিংসেই রনি গ্রিভসনকে মাঠে নামতে হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৭৫ রান করেন। এটিই তৎকালীন টেস্টভূক্ত যে-কোন দেশের মধ্যে উইকেট-রক্ষক হিসেবে অভিষেকে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৩৯ রান। এছাড়াও দুই ক্যাচ ও তিনটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজ নামকে জড়িয়ে রাখেন তিনি। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগৃহীত ৬৫৪/৫ এর বিপরীতে তিনি মোটে আটটি বাই রান দিয়েছিলেন।[৭]

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৩৯-৪০ মৌসুমে আরও একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আর ফিরে আসেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মেজর পদবী ধারণ করেন ও ওবিই পদবীতে ভূষিত হন।[৮]

২৪ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে জোহেন্সবার্গে রনি গ্রিভসনের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Scorecard: Transvaal v Griqualand West"। www.cricketarchive.com। ১৯৩৩-১২-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-২৩ 
  2. "Ronnie Grieveson"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-১৭ 
  3. "M. C. C. in South Africa, 1938-1939"। Wisden Cricketers' Almanack (1940 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 733 
  4. "M. C. C. in South Africa, 1938-1939"। Wisden Cricketers' Almanack (1940 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 738 
  5. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৯৩৯-০২-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-২৩ 
  6. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৯৩৯-০৩-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-২৩ 
  7. "M. C. C. in South Africa, 1938-1939"। Wisden Cricketers' Almanack (1940 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 741 
  8. "Obituary"। Wisden Cricketers' Almanack (1999 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 1479 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]