মোরশেদ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাননীয় মন্ত্রী

মোরশেদ খান
Morshed Khan.jpg
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৪ নভেম্বর ২০০১ – ২৯ অক্টোবর ২০০৬
প্রধানমন্ত্রীখালেদা জিয়া
পূর্বসূরীএকিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
উত্তরসূরীইখতেখার আহমদ চৌধুরী
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ – ২০০৬
পূর্বসূরীসিরাজুল ইসলাম
উত্তরসূরীএম. আবদুল লতিফ
কাজের মেয়াদ
১৯৮৬ – ১৯৮৮
পূর্বসূরীসিরাজুল ইসলাম
উত্তরসূরীবেগম কামরুন নাহার
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মমন্জুর মোরশেদ খান
(1940-08-08) ৮ আগস্ট ১৯৪০ (বয়স ৮০)
চট্টগ্রাম, ব্রিটিশ ভারত (বতর্মান বাংলাদেশ)
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
দাম্পত্য সঙ্গীনাসরিন খান
সন্তানফয়সাল খান
বাসস্থানচট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
শিক্ষাস্নাতকোত্তর (অর্থনীতি)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীটোকিও কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতি
জীবিকাব্যবসা
মন্ত্রীসভাখালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা

মোরশেদ খান (জন্ম ৮ আগস্ট ১৯৪০) হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদসংসদ সদস্য। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের একজন সফল ব্যবসায়ী। সিটিসেল, প্যাসিফিক মোটরস, আরব বাংলাদেশ ব্যাংক সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে তার বিনিয়োগ ও সম্পত্তি রয়েছে।[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মোরশেদ খান ১৯৪০ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা চট্টগ্রামেই অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি জাপানের টোকিও কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

মোরশেদ খানের পরিবার ছিল একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার। তিনিও পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[২] এরপর তিনি আরও তিনবার (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন[৩] এবং একই সাথে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর চেয়ারম্যানও ছিলেন। মোরশেদ খান ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করেন।

মোরশেদ ৫ নভেম্বর ২০১৯ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দলের সকল পদবীসহ সাধারণ সদস্যপদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। [৪]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

মোরশেদ দম্পতি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেশের বাইরে ৩২১ কোটি  টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্তে মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়।[৫]

মামলায় বলায় মোরশেদ খানের প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে মোট ১১টি বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মোট ৩২১ কোটি সাত লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৯ টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন।[৬]

মামলায় মোরশেদ খান এবং তার ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের নামে হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হিসাব বন্ধে নিম্ন আদালতের দেয়া রায় ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বহাল রাখেন। তাদের টেলিকম সিটিসেল প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পরে ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিটিসেলের তরঙ্গ আবার খুলে দেওয়া হলেও যা ৬ নভেম্বর আবার বন্ধ করা হয়।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Morshed Khan sent to jail"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৯-০৫-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-০৫ 
  2. "তৃতীয় জাতীয় সংসদ" (PDF)www.parliament.gov.bd। জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  3. "মোরশেদ খান :সাফল্য ও উন্নয়নের প্রতিভূ"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২০ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  4. "বিএনপি থেকে মোরশেদ খানের পদত্যাগ"মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-০৫ 
  5. "মোরশেদ খান ও তার ছেলের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ হাইকোর্টে বহাল"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-১৮ 
  6. "মোরশেদ খানের হংকংয়ের অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ বহাল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-১৯ 
  7. "মোর্শেদ খান ও তার স্ত্রী-পুত্রকে দুদকে তলব"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-১৮