মাইকেল ফ্যারাডে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
মাইকেল ফ্যারাডে
M Faraday Th Phillips oil 1842.jpg
মাইকেল ফ্যারাডে, ১৮৪২
জন্ম (১৭৯১-০৯-২২)২২ সেপ্টেম্বর ১৭৯১
Newington Butts, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ২৫ আগস্ট ১৮৬৭(১৮৬৭-০৮-২৫) (৭৫ বছর)
হ্যাম্পটন কোর্ট, মিডলসেক্স, ইংল্যান্ড
বাসস্থান যুক্তরাজ্য
জাতীয়তা ব্রিটিশ
কর্মক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন
প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইন্সটিটিউশন
পরিচিতির কারণ ফ্যারাডের আবেশ সূত্র
Electrochemistry
ফ্যারাডের প্রভাব
ফ্যারাডের খাঁচা
ফ্যারাডের ধ্রুবক
ফ্যারাডে কাপ
ফ্যারাডে তড়িদ্বিশ্লেষণ আইন
ফ্যারাডে প্যারাডক্স
ফ্যারাডে চক্রকার
ফ্যারাডে-দক্ষতা প্রভাব
ফ্যারাডে তরঙ্গ
ফ্যারাডে চাকা
বলরেখা
যাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হামফ্রি ডেভি
উইলিয়াম টমাস ব্রান্ডে
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার রয়্যাল মেডেল (১৮৩৫, ১৮৪৬)
কপলি পদক (১৮৩২, ১৮৩৮)
রামফোর্ড মেডেল (১৮৪৬)
আলবার্ট মেডেল (১৮৬৬)
স্বাক্ষর
বহিঃ ভিডিও
Faraday Laboratory 1870 Plate RGNb10333198.05.tif
ইউটিউবে “রসায়নে প্রোফাইল: মাইকেল ফ্যারাডে”, কেমিক্যাল হেরিটেজ ফাউন্ডেশন

মাইকেল ফ্যারাডে (সেপ্টেম্বর ২২, ১৭৯১আগস্ট ২৫, ১৮৬৭) একজন ইংরেজ রসায়নবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব এবং ইলেক্ট্রোকেমিস্টের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন যে, চুম্বকত্ব আলোক রশ্মিকে প্রভাবিত করে এবং এই দুই প্রত্যক্ষ ঘটনার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর আবিষ্কারের প্রধান বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে তড়িৎ-চৌম্বক আবেশ, ডায়াম্যাগনেটিজম, তড়িৎ বিশ্লেষণ।

১৭৯১ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডে নিউইংটন বাটস অঞ্চলে ফ্যারাডের জন্ম। তার বাবা জেমস ছিলেন একজন কামার। বাড়ির কাছে একটি প্রাথমিক স্কুল এ কিছুদিন পড়াশোনা করছেন ফ্যারাডে। তারপর আর্থিক অনটনের কারণে মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দিতে হয়। তারপর আর কোনদিন স্কুল এ যাওয়ার সৌভাগ্য হয় নি তার।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তিনি একটি বইয়ের দোকানে কাজ নেন। সেখান থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা মানুষের বাড়ি গিয়ে গিয়ে বিক্রি করাই ছিল তার কাজ। এক বছর কাজ করার পর তাকে বই বাধাইয়ের কাজ দেওয়া হয়। যাতে কষ্ট আরেকটু কম হয়। এই কাজের ফাকে পড়ার সুযোগ বেশি। বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলো তাকে বেশি আকর্ষন করে। কিছুদিনের মধ্যে তিনি তার বাড়িতে বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ছোট একটা ল্যাব তৈরি করে ফেলেন। হাত খরচের পয়সা বাচিয়ে গবেষণার জন্য একটা দুইটা জিনিস কিন্তেন।আবার অনেক জিনিস ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকে তুলে নিয়ে নিজে তৈরি করে নিতেন। একদিন হঠাত করে ২১ বছর বয়সে তিনি স্যার হামফ্রির সাথে কাজ করার সুযোগ পেলেন। হামফ্রি তাকে ল্যাবরেটরির বোতল ধোয়ার কাজ দিলেন। কাজের ফাকেই তিনি হামফ্রির গবেষণা মনযোগ সহকারে দেখতেন।

ফ্যারাডের গবেষণা কে মুলত তিনটি অংশে ভাগ করা যায়। তিনি প্রথমে রসায়ন নিয়ে গবেষণা করতেন। ধীরে ধীরে চুম্বক শক্তি সংক্রান্ত গবেষণার প্রতি মনযোগী হয়ে ওঠেন। তিনি প্রধানত তড়িৎ অ চুম্বক শক্তির মধ্যেকার সম্পর্ক নির্ণয় এবং তড়িত শক্তির সাহায্যে কিভাবে যান্ত্রিক শক্তি লাভ করা সম্ভবপর তা নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান করেন এবং এই কাজে অনেকখানি সাফল্য লাভ করেন। এই সময় বিজ্ঞানী ওয়ালস্টন একই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তিনি ফ্যারাডের বিরুদ্ধে তার গবেষণার বিষয়বস্তু চুরির অভিযোগ আনেন। যদিও অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় ফ্যারাডে নিজেকে বিদ্যুত সংক্রান্ত গবেষণা থেকে সরিয়ে আনেন। তারপর তিনি রসায়ন শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করতেন।

দীর্ঘ সাত বছর পর ১৮৩১ সালে আবার ফিরে এলেন তিনি তার তড়িৎ চুম্বক গবেষণায়। অবশেষে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ডায়নামো প্রস্তুত করে ফেললেন। তিনি এই মেশিনের নাম দেন ম্যাসোনো ইলেক্ট্রিক মেশিন। তারপর ১৮৪১ সালে তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন তার যুগান্তকারী তত্ত্ব আলোকের উপর চৌম্বকের প্রভাব। এই আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করেই ম্যাক্সয়েল বার করলেন তার বিখ্যাত বিদ্যুত চুম্বকীয় সমীকরন। আমরা এখন যে বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করছি তা মুলত মাইকেল ফ্যারাডের ই আবিষ্কার । তিনি সবসময় বলতেন যে, জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে সবকিছুকে সমানভাবে গ্রহণ করা, আর অবিচলভাবে নিজের পক্ষে এগিয়ে চলা।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্টাডিরুমে আইজ্যাক নিউটন আর জেমস্ ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এর ছবির পাশাপাশি মাইকেল ফ্যারাডের ছবিও রাখা ছিল। ফ্যারাডের স্মৃতি চারণ করে পদার্থবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেছিলেন:

আমরা যদি ফ্যারাডের আবিষ্কারের বিশালতা ও ব্যাপ্তি কল্পনা করি এবং সেইসাথে বিজ্ঞান ও শিল্পের উপর তার প্রভাব লক্ষ্য করি, তাহলে দেখা যাবে যে তাঁকে দেওয়ার মত বড় মাপের কোন সম্মাননা খুঁজে পাওয়াই ভার, সর্বকালের সেরা আবিষ্কর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক সত্ত্বা।

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

কেমিক্যাল ম্যানিপুলেশন ব্যতীত, ফ্যারাডের বৈজ্ঞানিক কাগজপত্র বা বক্তৃতা ট্রান্সক্রিপশানের সংগ্রহ ছিলো।[১] তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত, তার চিঠি এবং ১৮১৩-১৮১৫ সালে পর্যন্ত ডেভির সাথে ভ্রমণ জার্নাল বেশ কয়েকটি খন্ডে ফ্যারাডের দিনলিপি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৮২৭)। Chemical Manipulation, Being Instructions to Students in Chemistry। John Murray।  2nd ed. 1830, 3rd ed. 1842
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৮৩৯, ১৮৪৪)। Experimental Researches in Electricity, vols. i. and ii.। Richard and John Edward Taylor।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) ; vol. iii. Richard Taylor and William Francis, 1855
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৮৫৯)। Experimental Researches in Chemistry and Physics। Taylor and Francis। আইএসবিএন 0-85066-841-7 
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৮৬১)। W. Crookes, সম্পাদক। A Course of Six Lectures on the Chemical History of a Candle। Griffin, Bohn & Co.। আইএসবিএন 1-4255-1974-1 
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৮৭৩)। W. Crookes, সম্পাদক। On the Various Forces in Nature। Chatto and Windus। 
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৯৩২–১৯৩৬)। T. Martin, সম্পাদক। Diaryআইএসবিএন 0-7135-0439-0  – published in eight volumes; see also the 2009 publication of Faraday's diary
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৯৯১)। B. Bowers and L. Symons, সম্পাদক। Curiosity Perfectly Satisfyed: Faraday's Travels in Europe 1813–1815। Institution of Electrical Engineers। 
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (১৯৯১)। F. A. J. L. James, সম্পাদক। The Correspondence of Michael Faraday1। INSPEC, Inc.। আইএসবিএন 0-86341-248-3  – volume 2, 1993; volume 3, 1996; volume 4, 1999
  • ফ্যারাডে, মাইকেল (২০০৮)। Alice Jenkins, সম্পাদক। Michael Faraday's Mental Exercises: An Artisan Essay Circle in Regency London। Liverpool, UK: Liverpool University Press। 
  • Course of six lectures on the various forces of matter, and their relations to each other London; Glasgow: R. Griffin, 1860.
  • The Liquefaction of Gases, Edinburgh: W. F. Clay, 1896.
  • The letters of Faraday and Schoenbein 1836–1862. With notes, comments and references to contemporary letters London: Williams & Norgate 1899. (Digital edition by the University and State Library Düsseldorf)

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

মাইকেল ফ্যারাডেের সমাধি, হাইগেট সিমেট্রি, লণ্ডন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. See page 220 of Hamilton's A Life of Discovery: Michael Faraday, Giant of the Scientific Revolution (2002)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে:

জীবনী[সম্পাদনা]

অন্যান্য[সম্পাদনা]