মরিশাস জাতীয় মহিলা ফুটবল দল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 Mauritius
শার্ট ব্যাজ/অ্যাসোসিয়েশন কুলচিহ্ন
অ্যাসোসিয়েশনমরিশাস ফুটবল এসোসিয়েশন
কনফেডারেশনসিএএফ (আফ্রিকা)
সাব-কনফেডারেশনCOSAFA
(দক্ষিণ আফ্রিকা)
প্রধান কোচএলাইন জুলস
ফিফা কোডMRI
ফিফা র‌্যাঙ্কিং
বর্তমানUnranked
প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা
 রেউনিওঁ ৩ − ০  মরিশাস
(সেন্ট-ডেনিস: ৩ জুন ২০১২)
বৃহত্তম জয়
কোন জয় পায়নি
বৃহত্তম হার
 রেউনিওঁ ৩ − ০  মরিশাস
(সেন্ট-ডেনিস: ৩ জুন ২০১২)

মরিশাস জাতীয় মহিলা ফুটবল দল একটি এসোসিয়েশন ফুটবল দল যা আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবলে মরিশাসের প্রতিনিধিত্ব করে। দলটি তাদের ইতিহাসে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে যা; ২০১২ সালের ৩ জুন ও ২৫ নভেম্বর রেউনিওয়ের সেন্ট ডেনিসে অনুষ্ঠিত হয়। রেউনিও ফিফার সদস্য না হওয়ায় ম্যাচ দুটিতে ফিফার কোন স্বীকৃতি ছিল না। ম্যাচ দুটি ফিফার সদস্য সংস্থা মরিশাস ফুটবল এসোসিয়েশন, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন, কাউন্সিল অব সাউদার্ন আফ্রিকা ফুটবল এসোসিয়েশন যৌথভাবে আয়োজন করে। ২০১২ সালে এলাইন ‍জুলস প্রধান কোচ হিসাবে যোগ দেয়। মরিশাসসহ সমগ্র আফ্রিকায় মহিলাদের জন্য ফুটবলের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন থাকায় জাতীয় মহিলা ফুটবল দল না থাক দেশসমুহ ১৯৯৭ সালের মধ্যে মহিলা দল গঠনের লক্ষ্যে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। ফিফা মরিশাস ফুটবল এসোসিয়েশনকে অর্থ সহায়তা করে যার, ১০% খেলার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ছিল, যেখানে মহিলাদের ফুটবল, ক্রীড়া মেডিসিন এবং ফুটসাল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালের দিকে বিশ্বের প্রায় দেশেই জাতীয় মহিলা ফুটবল দল ছিল না[১] এবং মরিশাস এর ব্যতিক্রম ছিল না। মরিশাস জাতীয় মহিলা ফুটবল দল গঠনের জন্য ১৯৯৭ সালে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে।[২] ২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ফিফা অনুমোদিত কিংবা নির্ধারিত কোন ম্যাচ খেলনি। ২০১২ সালের ৩ জুন, সেন্ট ডেনিসে রেউনিও এর সাথে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করে;[৩] যাতে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরে যায়। ২০১২ সালের জুলাইয়ে আরেকটি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। মরিশাসের ব্যামবোসে ২০১২ সালের ২৫ নভেম্বর রেনিউও জাতীয় দলের সাথে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। মরিশাস রেউনিওয়ের নিকট পুনরায় ২-১ গোলে পরাজিত হয়।

মরিশাস জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কথা থাকলেও, কিছু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেনি।[৪][৫] তার মধ্যে ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের হারারেতে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশন অব সাউদার্ন আফ্রিকান ফুটবল এসোসিয়েশনসের মহিলাদের টুনার্মেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার।[৫] ২০০৫ সালে আফ্রিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা কাউন্সিল অব সাউদান আফ্রিকা ফুটবল এসোসিয়েশন (COSAFA) কর্তৃক জাম্বিয়ায় একটি প্রতিযোগিতা অায়োজনের সিদ্ধান্ত ছিল, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, মালাবি, সিসিলি, মরিশাস, মাদাস্কাগার, জাম্বিয়া, বতসোয়ানা, নামিবিয়া, লেসোথো এবং সোয়াজিল্যান্ডের অংশগ্রহণের কথা ছিল।[৬] অবশেষে টুনামের্ন্টটি ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু মরিশাস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেনি।[৭] এরপর ২০০৮ মহিলা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অংশগ্রহনের কথা ছিল যেখান প্রথম পর্বে তাদের প্রতিযোগিত ছিল জিম্বাবুয়ে; যাহোক জিম্বাবুয়ে প্রতিযোগিতা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং মরিশাস বিনাপ্রতিদ্বীতায় এই পর্ব সমাপ্ত করে। দ্বিতীয় পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে মোকাবেলার কথা থাকলেও পরে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করা হয়। ফলে মরিশাস কোন ম্যাচই খেলতে পারেনি।[৪]

২০১২ সালে এলাইন জুলস প্রধান কোচ হিসাবে যোগদেন।[৮] ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত মরিশাস ফিফা র‌্যাংকিং অর্জন করতে পারেনি, যার ফলে দলটি ফিফার সদস্য হিসাবে অন্যান্য সদস্য দেশের সাথে কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে না।[৯]

খেলোয়ার বাছাই ও সংগঠন[সম্পাদনা]

সমগ্র আফ্রিকায় মহিলাদের ফুটবল বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন। কারণগুলো হল: শিক্ষার সীমিত সুযোগ, অধিকাংশ সমাজে দারিদ্র্যতা, লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীদের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের সীমারেখা নির্দিষ্ট্র করে রাখা।[১০] এছাড়া জাতীয় দল গঠিত না হওয়ার আরও একটি কারণ হল; ভাল খেলোয়াড় না থাকা। অধিকাংশ ভাল মানের ফুটবল খেলোয়াড়েরা অধিক সুযোগ-সুবিধা দেখে উত্তর ইউরোপযুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়।[১১]

মরিশাসে মহিলাদের ফুটবল আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত, মরিশাসে মহিলাদের জন্য জাতীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে কোন প্রতিযোগিতা ছিল না, তবে স্কুল পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতার অস্থিত ছিল। দেশে মহিলাদের জন্য চারটি যুব ক্লাব এবং ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১৭টি ক্লাব রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিনটি জাতীয় মহিলা ফুটবল দল রয়েছে; তা হল, বয়োজেষ্ঠ দল বা জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ দল।[২][১২] ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তারা কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি।[১৩] ফিফার অর্থ সহায়তা কর্মসূচী থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০% খেলার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ছিল, যেখানে মহিলাদের ফুটবল, ক্রীড়া মেডিসিন এবং ফুটসাল অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৪] ১৯৯১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মরিশাসে মহিলাদের জন্য কোন ফিফা এফইউটিইউআরও III প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়নি, হয়নি মহিলা বা যুব ফুটবলারদের জন্য ফিফা এমএ কোর্স এবং মহিলাদের ফুটবল নিয়ে কোন সেমিনার।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Chrös McDougall (১ জানুয়ারি ২০১২)। Soccer। ABDO। পৃষ্ঠা 45। আইএসবিএন 978-1-61783-146-1। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  2. "Goal! Football: Mauritius" (PDF)। FIFA। ২১ এপ্রিল ২০০৯। পৃষ্ঠা 4। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১২ 
  3. http://liguefoot-reunion.fff.fr/cg/9600//www/selection/feminines/feminines/2017657.shtml[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "African Women U-20 World Cup 2008 Qualifying"। RSSSF। ২৫ মার্চ ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  5. "COSAFA Women Tournaments"RSSSF। ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  6. Mukoka, Augustine (১৬ আগস্ট ২০০৫)। "The Post (Zambia) - AAGM: Zambia to Host Cosafa Women's Soccer Tourney"The Post। Lusaka, Zambia। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  7. http://www.rsssf.com/tablesc/cosafa-wom.html#06
  8. "Mauritius"FIFA। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  9. "FIFA/Coca-Cola Women's World Ranking"। FIFA। ১৬ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  10. Jean Williams (১৫ ডিসেম্বর ২০০৭)। A Beautiful Game: International Perspectives on Women's Football। Berg। পৃষ্ঠা 186। আইএসবিএন 978-1-84520-674-1। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  11. Gabriel Kuhn (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। Soccer Vs. the State: Tackling Football and Radical Politics। PM Press। পৃষ্ঠা 34। আইএসবিএন 978-1-60486-053-5। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  12. Saavedra, Martha; Center for African Studies, University of California, Berkeley (ডিসেম্বর ২০০৭)। "Women's Football in Africa" (PDF)Third Transnational Meeting on Sport and Gender, Urbino। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১২ 
  13. FIFA (২০০৬)। "Women's Football Today" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১২ 
  14. "Goal! Football: Mauritius" (PDF)। FIFA। ২১ এপ্রিল ২০০৯। পৃষ্ঠা 1। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১২