ভুটানের প্রশাসনিক অঞ্চল
ভুটানের প্রশাসনিক অঞ্চল মোট ২০টি জেলায় বিভক্ত। প্রশাসনিক এবং বিচার-সংক্রান্ত প্রত্যেকটি জেলাকে জংখা ভাষায় জংখাগ (জংখা: རྫོང་ཁག dzongkhak) বলা হয়। ২০টি জংখাগ আবার ২০৫টি গিয়োগ এ বিভক্ত। কিছু বড় জংখাগে একটি বা তার বেশি অন্তর্বর্তী বিচারিক বিভাগ রয়েছে, সেগুলো ডুংখাগ (উপজেলা) নামে পরিচিত। প্রত্যেকটি ডুংখাগ দুই বা ততোধিক গিয়োগ দ্বারা গঠিত। ভুটানের জাতীয় সংসদ ২০০২ সালে আইন প্রণয়ন করে এবং ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকারের পদমর্যাদা, গঠনপ্রক্রিয়া এবং নেতৃত্ব জংখাগে অন্তর্ভুক্ত করে। এর সর্বশেষ জংখাগ সংক্রান্ত প্রণয়নকৃত আইন হল ভুটানের স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯.[২][৩][৪]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পেনলপের অধীনে ভুটানের ৯টি প্রদেশ ছিল। সেগুলো হল: ব্যাকার (বর্তমানে বুমতাং কেন্দ্রীভূত), দুখিয়ে, হা, পারু, পুনাখা, দাগানা, থিম্ফু, ট্রংসা এবং ওয়াংদুয়ে ফোদ্রাং। পরবর্তীতে দেশটি জংখাগে পুনর্গঠিত হয়। চতুর্থ দ্রুক গ্যালপো রাজা জিগমে সিনগিয়ে ওয়াংচুক এর উদ্যোগে ১৯৮১ সালে স্থানীয় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যেক জংখাগ বা জেলায় প্রাথমিকভাবে জেলা উন্নয়ন কমিটি বা জংখাগ ইয়ারগিয়ে শগচুং গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি জংখাগের জেলা উন্নয়ন কমিটিতে জংখাগের গুপ (নেতা), মাংমিস (ডেপুটি) এবং চিমিস (জাতীয় বিধানসভা প্রতিনিধি) নিহিত করা হয়। জেলা উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে নিজেদের ভোটে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে থাকে। জেলা উন্নয়ন কমিটিতে পৌরসভাসমূহ এবং জংখাগের অধীনস্থ শহরসমূহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেলা উন্নয়ন কমিটিতে অ-ভোটিং সদস্যও রয়েছে, যেগুলোতে বিভিন্ন সেক্টরের জংডাগ, ডুংপা (যেটিতে ডুংখাগ বিদ্যমান) এবং জংখাগ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: জংখাগ পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জংখাগ অর্থ কর্মকর্তা, জংখাগ শিক্ষা কর্মকর্তা, জংখাগ প্রধান প্রকৌশলী, জংখাগ কৃষি কর্মকর্তা, জংখাগ বন কর্মকর্তা, জংখাগ প্রাণী প্রজনন কর্মকর্তা এবং জংখাগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।[২][৩]
১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে গাসা জংখাগ এলাকাকে পুনাখা এবং থিম্ফুতে বিভক্ত করা হয়; সাম্তসে, পারু এবং থিম্ফু জেলার অংশ নিয়ে চুখা জেলা গঠিত হয়।[৫][৬] ১৯৯২ সালে পুনাখা জেলা থেকে গাসা জেলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও খোদিত হয়; একই বছরে ত্রাশিগাং জেলা থেকে ত্রাশিয়াংটসে জেলা খোদিত হয়।[৫][৬]
২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল লামোজিংখা ডুংখাগ (উপজেলা) আনুষ্ঠানিকভাবে সারপাং জেলা থেকে দাগানা জেলায় হস্তান্তরিত হয়।[৭] প্রভাবিত তিনটি গিয়োগ (লামোজিংখা, ডিওরালি ও নিচুলা বা জিনচুলা এবং লামোজিংখা শহর), যেগুলো সারপাং জেলার সর্ব-পশ্চিমাংশে গঠিত ছিল; বর্তমানে সেগুলো দাগানা জেলার সর্ব-দক্ষিণাংশে গঠিত।[৮] ২০০৮ সাল থেকে ভুটান তার অনেকগুলো অন্যান্য সীমানা, আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সীমানা পুনঃবিন্যস্ত করেছে, যা জনশূণ্য এলাকা তৈরি হওয়ার উপর করা হয়েছে, পরবর্তীতে চীন গাসা জেলার উত্তর অববাহিকা অঞ্চল দাবি করে বসে।[৯]
ভুটানের জেলাসমূহ (জংখাগ)
[সম্পাদনা]২০০৫ সালের আদমশুমারীর ফলাফল সহ ভুটানের জেলাসমূহ নিচে উল্লেখ করা হল:[১০]
| ক্রম নং | জংখাগ (জেলা) | রাজধানী | আয়তন বর্গ কিলোমিটার | জনসংখ্যা ২০০৫ | ঘনত্ব | সংদে (অঞ্চল) | ডুংখাগ[১১] (উপজেলা) | গিয়োগ | শহর |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ০১ | বুমথাং | জাকার | ২,৪৯০ | ১৬,১১৬ | ৬.৫ | দক্ষিণাঞ্চল | - | ৪ | ৫ |
| ০২ | চুখা | ফুয়েন্টশলিং | ১,৯৯১ | ৭৪,৩৮৭ | ৩৭.৪ | পশ্চিমাঞ্চল | ১ | ১১ | ৬ |
| ০৩ | দাগানা | দাগা | ১,২৭৬ | ১৮,২২২ | ১৪.৩ | মধ্যাঞ্চল | - | ১১ | ৪ |
| ০৪ | গাসা | গাসা | ৪,০৮৯ | ৩,১১৬ | ০.৮ | মধ্যাঞ্চল | - | ৪ | ১ |
| ০৫ | হা | হা | ১,৩১৯ | ১১,৬৪৮ | ৮.৮ | পশ্চিমাঞ্চল | - | ৫ | ১ |
| ০৬ | লুন্তসে | লুন্তশি | ২,৮৮১ | ১৫,৩৯৫ | ৫.৩ | পূর্বাঞ্চল | - | ৮ | ২ |
| ০৭ | মনগার | মনগার | ১,৬৩৮ | ৩৭,০৬৯ | ২২.৬ | পূর্বাঞ্চল | - | ১৬ | ৪ |
| ০৮ | পারু | পারু | ১,৬৯৩ | ৩৬,৪৩৩ | ২১.৫ | পশ্চিমাঞ্চল | - | ১০ | ২ |
| ০৯ | পেমাগাতশেল | পেমাগাতশেল | ৫৯৩ | ১৩,৮৬৪ | ২৩.৪ | পূর্বাঞ্চল | - | ৭ | ৭ |
| ১০ | পুনাখা | পুনাখা | ৮৪৫ | ১৭,৭১৫ | ২১.০ | মধ্যাঞ্চল | - | ৯ | ১ |
| ১১ | সামদ্রুপ জংখার | সামদ্রুপ জংখার | ২,২০৭ | ৩৯,৯৬১ | ১৮.১ | পূর্বাঞ্চল | ৩ | ১১ | ৫ |
| ১২ | সাম্তসে | সাম্তসে | ১,৭২৫ | ৬০,১০০ | ৩৪.৮ | পশ্চিমাঞ্চল | ২ | ১৬ | ৩ |
| ১৩ | সারপাং | গেইলেগফুগ | ২,০৪৮ | ৪১,৫৪৯ | ২০.৩ | দক্ষিণাঞ্চল | ২ | ১৫ | ৩ |
| ১৪ | থিম্ফু | থিম্ফু | ১,৬১৭ | ৯৮,৬৭৬ | ৬১.০ | পশ্চিমাঞ্চল | ১ | ১০ | ১ |
| ১৫ | ত্রাশিগাং | ত্রাশিগাং | ২,১৭১ | ৫১,১৩৪ | ২৩.৬ | পূর্বাঞ্চল | ৩ | ১৬ | ৬ |
| ১৬ | ত্রাশিয়াংসে | ত্রাশিয়াংসে | ১,৪৫৯ | ১৭,৭৪০ | ১২.২ | পূর্বাঞ্চল | - | ৮ | ২ |
| ১৭ | ট্রংসা | ট্রংসা | ১,৮১৫ | ১৩,৪১৯ | ৭.৪ | দক্ষিণাঞ্চল | - | ৫ | ১ |
| ১৮ | সিরাং | ডাম্ফু | ৬৩২ | ১৮,৬৬৭ | ২৯.৫ | মধ্যাঞ্চল | - | ১২ | ১ |
| ১৯ | ওয়াংদুয়ে ফোদ্রাং | ওয়াংদুয়ে ফোদ্রাং | ৪,১৮১ | ৩১,১৩৫ | ৭.৪ | মধ্যাঞ্চল | - | ১৫ | ৩ |
| ২০ | ঝেমগাং | ঝেমগাং | ২,১৪৬ | ১৮,৬৩৬ | ৮.৭ | দক্ষিণাঞ্চল | ১ | ৮ | ৩ |
| ভুটান | থিম্ফু | ৩৮,৮১৬ | ৬৩৪,৯৮২ | ১৬.৪ | ১৩ | ২০১ | ৬১ |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Final Delimitation"। Election Commission, Government of Bhutan। ২০১১। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৩।
- 1 2 "Dzongkhag Yargay Tshogdu Chathrim 2002" (পিডিএফ)। Government of Bhutan। ২৩ জুলাই ২০০২। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৬।
- 1 2 "The Local Governments' Act of Bhutan 2007" (পিডিএফ)। Government of Bhutan। ৩১ জুলাই ২০০৭। ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৬।
- ↑ "The Local Government Act of Bhutan, 2009" (পিডিএফ)। Government of Bhutan। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৯। ১২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৬।
- 1 2 Law, Gwillim (১৮ ডিসেম্বর ২০১০)। "Districts of Bhutan"। Administrative Divisions of Countries ("Statoids")। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০।
- 1 2 Lahmeyer, Jan (২০০২)। "BHUTAN – Historical Demographical Data of the Administrative Division"। Population Statistics। ৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০।
- ↑ "Archived copy"। ১৯ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১১।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ Pc.gov.bt[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "An Open letter to the Bhutanese parliamentarians"। AFPA News.com। ২০ নভেম্বর ২০০৯। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Fact Sheet – Population and Housing Census of Bhutan" (পিডিএফ)। Bhutan National Statistics Bureau। ২০০৫। ২৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ Statoids
