বিষয়বস্তুতে চলুন

তথ্যগুপ্তিবিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জার্মান লোরেন্‌ৎস সাইফার মেশিন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জেনারেল স্টাফ বার্তা গোপন করার জন্য ব্যবহার করা হতো।

তথ্যগুপ্তিবিদ্যা (ইংরেজি: Cryptography ক্রিপ্‌টোগ্রাফি) বা গুপ্তলিখনবিদ্যা কম্পিউটার বিজ্ঞানের নিরাপত্তা এলাকার একটি শাখা, যাতে তথ্য গোপন করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে গবেষণা করা হয়। বর্তমান সময়ে তথ্যগুপ্তিবিদ্যা (ক্রিপ্টোগ্রাফি) বলতে বোঝায় - একটি বিশেষ ধরনের যোগাযোগের পদ্ধতি যাতে করে গ্রাহক এবং প্রেরক, উভয়ের তথ্য ৩য় কোন পক্ষ থেকে গোপন থাকে।

গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং তড়িৎ প্রকৌশলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্যগুপ্তিবিদ্যার উপস্থিতি লক্ষনীয়। এটিএম কার্ড, কম্পিউটার পাসওয়ার্ড, বৈদ্যুতিন বাণিজ্য বা ই-কমার্স- এর ক্ষেত্রে তথ্যগুপ্তিবিদ্যার ব্যবহারিক প্রয়োগ রয়েছে।

তথ্যগুপ্তিবিদ্যার বা গুপ্তলিখনবিদ্যার ইংরেজি পরিভাষা ক্রিপ্টোগ্রাফি শব্দটি এসেছে গ্রিক κρυπτός (উচ্চারণ ক্রিপ্‌তোস্‌) যার অর্থ "গোপন," এবং γράφω (উচ্চারণ গ্রাফি) যার অর্থ "লিখন" হতে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ক্রিপ্টোগ্রাফির প্রাচীনতম ব্যবহারের উদাহারন হল প্রায়  ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মিশরে পাথরের উপর খোদাই করা কিছু সিফারটেক্সট ।

ধ্রুপদী যুগের গ্রীকরা সাইফার সম্পর্কে জানতেন বলে জানা যায় (যেমন, স্পার্টান সামরিক বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত সাইটেল ট্রান্সপোজিশন সাইফার)).[] । স্টেগানোগ্রাফি (অর্থাৎ, গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য কোনও বার্তার অস্তিত্বও গোপন করা) প্রাচীনকালেই প্রথম বিকশিত হয়েছিল ,হেরোডোটাসের বইয়ে একটি উদাহরণ পাওয়া যায়- দাসের কামানো মাথায় ট্যাটু করা এবং বার্তাটি চুল গজানোর পর চুলের নীচে লুকিয়ে থাকে ।[]

ভারতে, ২০০০ বছরের পুরনো বাৎস্যায়নের কামসূত্রে কৌটিল্যম এবং মুলবেদীয় নামে দুটি ভিন্ন ধরণের সাইফারের /ক্রিপ্টোগ্রাফির কথা বলা হয়েছে। কৌটিল্যমে, সাইফার বর্ণ প্রতিস্থাপনগুলি ধ্বনিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যেমন স্বরবর্ণগুলি ব্যঞ্জনবর্ণে পরিণত হয়। মুলবেদীয়ায়, সাইফার বর্ণমালায় জোড়া অক্ষর এবং পারস্পরিক অক্ষর ব্যবহার করা হয়। []

মুসলিম লেখক ইবনে আল-নাদিমের মতে , সাসানীয় পারস্যে দুটি গোপন লিপি ছিল: শাহ-দাবিরিয়া (আক্ষরিক অর্থে "রাজার লিপি") যা সরকারী চিঠিপত্রের জন্য ব্যবহৃত হত এবং রাজ-সাহারিয়া যা অন্যান্য দেশের সাথে গোপন বার্তা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হত।[]

অনেক যান্ত্রিক এনক্রিপশন/ডিক্রিপশন ডিভাইস বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে উদ্ভাবিত হয় এবং বেশ কয়েকটি পেটেন্ট করা হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে রোটার মেশিন, এনিগমা মেশিন । ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি ক্রিপ্টোগ্রাফির উপর ব্যাপক একাডেমিক গবেষণা শুরু হয়। ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে আইবিএম কর্মীরা ডেটা এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (ডিইএস) অ্যালগরিদম ডিজাইন করেন যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ফেডারেল সরকারের ক্রিপ্টোগ্রাফি স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হয়। [] ১৯৭৬ সালে হুইটফিল্ড ডিফি এবং মার্টিন হেলম্যান ডিফি-হেলম্যান কী এক্সচেঞ্জ অ্যালগরিদম প্রকাশ করেন।.[] ১৯৭৭ সালে মার্টিন গার্ডনারের সায়েন্টিফিক আমেরিকান কলামে আরএসএ অ্যালগরিদম প্রকাশিত হয় । []তখন থেকে, ক্রিপ্টোগ্রাফি যোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং কম্পিউটার সুরক্ষায় একটি বহুল ব্যবহৃত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Liddell, Henry George; Scott, Robert; Jones, Henry Stuart; McKenzie, Roderick (১৯৮৪)। A Greek-English Lexiconঅক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস
  2. I︠A︡shchenko, V.V. (২০০২)। Cryptography: an introduction। AMS Bookstore। পৃ. ৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২১৮-২৯৮৬-৮
  3. 1 2 Kahn, David (১৯৬৭)। The Codebreakersআইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৮৪-৮৩১৩০-৫
  4. electricpulp.com। "CODES – Encyclopaedia Iranica"www.iranicaonline.org। ৫ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১৭
  5. "The Legacy of DES – Schneier on Security"www.schneier.com। ৬ অক্টোবর ২০০৪। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০২২
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Diffie-1976 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. Singh, Simon (১৯৯৯)। The Code Book: The Science of Secrecy From Ancient Egypt To Quantum Cryptography (First Anchor Books সংস্করণ)। New York: Anchor Books। পৃ. ২৭৮আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৫-৪৯৫৩২-৫