ভারতে খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যগুলোতে খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা বর্তমান রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় খ্রিস্টানপ্রধান তিনটি রাজ্য মেগালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতায় খ্রিস্টানরা অন্যতম মনিপুর, অরুণাচল, আসাম, ত্রিপুরানাগাল্যান্ড ইত্যাদি রাজ্যে খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ বেশি মাত্রায় লক্ষণীয়।

আসাম[সম্পাদনা]

মানসাসি জাতীয় খ্রিস্টান সেনাবাহিনী (এমএনসিএ), উত্তর-পূর্ব ভারতের অপারেটিং একটি খ্রিস্টান চরমপন্থী দল [১][২] ২০০৯ সালে হিন্দুদের বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠেছিল এই দলটির বিরুদ্ধে। দলটির সদস্যরা এক গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে খ্রিস্টান ধর্মান্তরের চেষ্টা করেছিল। জঙ্গিরা এক হাতে বন্দুক এবং অন্য হাতে বাইবেল বহন করেছিল।[৩] তারা তাদের রক্ত দিয়ে দেয়ালের উপর ক্রুশের ছবি এঁকে মন্দিরগুলি অপবিত্র করেছিল। সোনাই পুলিশ খ্রিস্টান জঙ্গী দলটির নেতাসহ ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ বন্দুক এবং গোলাবারুদ থেকে জব্দ করা হয়। [১][২][৪]

ত্রিপুরা[সম্পাদনা]

ত্রিপুরার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এনএলএফটি), একটি বিদ্রোহী দল যা ত্রিপুরা , উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে এবং এটি ভারতের একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। খ্রিস্টান বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনটি সন্ত্রাসী সহিংসতায় জড়িত হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৫][৬][৭] এনএলএফটির অন্যতম লক্ষ্য রয়েছে ত্রিপুরাতে সকল উপজাতিদের জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে রূপান্তর।[৮] এনএলএফটি দাবি অনুযায়ী তারা শুধু উপজাতিঅধ্যুষিত এলাকা থেকে বাঙালিদের অপসারণই চায় না, তারা সকল উপজাতীয়দের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা দিতে চায়। সংগঠনটি উপজাতীয় সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সতর্ক করেছে যে তাদের আক্রমণ করা হতে পারে যদি তারা তার খৃস্টান এজেন্ডা গ্রহণ না করেন "।[৯] ২০০০ সালের বাগবের গণহত্যাকাণ্ডে এনএলএফটি জঙ্গিদের দ্বারা ২৫ জন বাঙালি হিন্দু শরণার্থী নিহত হয়। সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন, ২০০২ অনুযায়ী এনএলএফটি একটি সন্ত্রাসী সংস্থা হিসাবে তালিকাভুক্ত।[১০] রাজ্য সরকার দাবি করে যে ত্রিপুরা ব্যাপটিস্ট গির্জা অস্ত্র সরবরাহ করে এবং এনএলএফটিকে আর্থিক সহায়তা দেয়।[১১][১২][১৩] রাজ্য সরকার ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলি ত্রিপুরা নোয়াপাড়া ব্যাপটিস্ট চার্চের মাধ্যমে বিস্ফোরকগুলির এনএলএফটি কর্তৃক অধিগ্রহণের মতো কার্যকলাপ বর্ণনা করে [১৩] এবং হিন্দু ধর্মীয় উৎসব পালনকারীদের হত্যা করার হুমকি দেয়। [১৪] ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরাতে এনএলএফটি কর্তৃক খ্রিস্টধর্মকে বাধ্যতামূলক রূপান্তর প্রতিরোধের জন্য ২০-এর অধিক হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। [১৫] এ অঞ্চলের হিন্দুদের মতে, সশস্ত্র এনএলএফটি জঙ্গিদের দ্বারা উপজাতি গ্রামবাসীদের খ্রিস্টান ধর্মকে রূপান্তর করা হয়েছে। [১৫] ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ জন গ্রামবাসীকে জোরপূর্বক খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তর করা হয়েছিল। এই জোরপূর্বক ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে এনএলএফটি প্রায়শ ধর্ষণকে ভয় সঞ্চারের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।[১৬] ২০০০ সালে এনএলএফটি একটি মন্দির ভেঙ্গে দেয় এবং জনপ্রিয় কালী নামে পরিচিত জনপ্রিয় হিন্দু প্রচারককে গুলি করে হত্যা করে। [১৭] বৌদ্ধদের খ্রিস্টধর্মকে রূপান্তরিত করার জন্য তারা বল প্রয়োগ করে থাকে। [১৮]

২০০১ সালে ত্রিপুরাতে ৮২৬টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪০৫ জন লোক প্রাণ হারিয়েছে এবং এনএলএফটি এবং ক্রিশ্চিয়ান অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিপি) ইত্যাদি খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদী সংস্থাগুলি দ্বারা ৪৮১ জন অপহৃত হয়েছে। ত্রিপুরা নোয়াপাড়া ব্যাপটিস্ট চার্চের সেক্রেটারি নাগমনলাল হালমকে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ এবং এনএলএফটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তিনি স্বীকা্রুক্তি দিয়েছিলেন।[১৯]

নাগাল্যান্ড[সম্পাদনা]

নাগাল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক কাউন্সিল (এনএসসিএন) উত্তর ভারতের ভারতে পরিচালিত একটি খ্রিস্টান [২০] নাগা জাতীয়তাবাদী জঙ্গি গ্রুপ। [২১][২২] সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য একটি সার্বভৌম খ্রিস্টান রাষ্ট্র, "নাগালিম", স্থাপন করা হয়।[২৩] তাদের লক্ষ্য উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বার্মার সকল নাগাদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি খ্রিস্টান সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।[২৪][২৫] প্রতিষ্ঠানের স্লোগান হল "খ্রিস্টের জন্য নাগাল্যান্ড"।[২৬][২৭][২৮][২৯][৩০][৩১] এনএসসিএনের ইশতেহার সমাজতন্ত্র ও ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে তৈরি।[৩২] তাদের কয়েকটি নথিতে এনএসসিএন নাগা রাষ্ট্রে কেবল খ্রিস্টধর্ম থাকবে বলে জানিয়েছে।[৩৩] তারা খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে বিশ্বাসি। [৩৪] অবৈধ তৎপরতা (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭ অনুযায়ী এনএনসিএন ভারতে একটি সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। [৩৫] মিয়ানমার থেকে মাদক ও অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে এনএসসিএন তহবিল সংগ্রহ করে।[৩৬] গ্রুপটি অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক ধর্মান্তর,[৩৭] এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী ক্রিয়াকলাপে জড়িত।[৩৮][৩৯][৪০][৪১][৪২][৪৩][৪৪][৪৫][৪৬]

৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে এনএসসিএন নেতা টি মুভিবাহা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং এনএসএ অজিত দোভালের উপস্থিতিতে ভারত সরকারের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।[৪৭] কিন্তু একই সাথে এনএসসিএন অন্যান্য উত্তর-পূর্ব ভারতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ [৪৮][৪৯] ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ওয়েস্টার্ন সাউথ ইস্ট এশিয়া নামক একটি মিলিশিয়া সংস্থার সাথে যোগ দেয়,[৪৮][৪৯] এবং শীঘ্রই ভারত সরকারের সাথে শান্তি সংলাপ বন্ধ করে দেয়।[৫০]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Christianity threat looms over Bhuvan Pahar - Assam Times"www.assamtimes.org 
  2. Administrator। "Terror in the Name of Christ in Northeast"www.vigilonline.com 
  3. "Christianity threat looms over Bhuvan Pahar"Assam Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-২০ 
  4. "Manmasi National Christian Army flag" 
  5. Henderson, Alex (২০১৫)। "6 Modern-day Christian Terrorist Groups Our Media Conviently Ignores"Salon। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৫ 
  6. Adam, de Cordier & Titeca, Vlassenroot (২০০৭)। "In the Name of the Father? Christian Militantism in Tripura, Northern Uganda, and Ambon": 963। doi:10.1080/10576100701611288 
  7. Kumar, B.B. (২০০৭)। Problems of Ethnicity in North-East India। Concept Publishing Company। পৃষ্ঠা 23। আইএসবিএন 818069464X। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৪ 
  8. "Hindu preacher killed by Tripura rebels"। BBC News। ২৮ আগস্ট ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  9. "Analysis: Tripura's tribal strife"। BBC News। ২১ মে ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  10. "The Prevention of Terrorism Act, 2002"Republic of India। South Asia Terrorism Portal। ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০০৯ 
  11. "Constitution of National Liberation Front Of Tripura"। South Asia Terrorism Portal। 
  12. "National Liberation Front of Tripura, India"। South Asia Terrorism Portal। 
  13. Bhaumik, Subhir (১৮ এপ্রিল ২০০০)। "'Church backing Tripura rebels'"। BBC News। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০০৬ 
  14. "Separatist group bans Hindu festivities"BBC News। ২ অক্টোবর ২০০০। 
  15. "rediff.com: Tribals unite against conversions in Tripura"rediff.com 
  16. Adam, de Cordier & Titeca, Vlassenroot (২০০৭)। "In the Name of the Father? Christian Militantism in Tripura, Northern Uganda, and Ambon": 965, 966, 967। doi:10.1080/10576100701611288 
  17. "BBC News - SOUTH ASIA - Hindu preacher killed by Tripura rebels"bbc.co.uk 
  18. Puniyani, Ram (২০০৬)। The Politics Behind Anti Christian Violence: A Compilation of Investigation Committee Reports Into Acts of Violence Against the Christian Minorities (ইংরেজি ভাষায়)। Media House। আইএসবিএন 9788174952370 
  19. "BBC News | SOUTH ASIA | 'Church backing Tripura rebels'"news.bbc.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-২০ 
  20. Ghosh, Dr Kunal (১ জানুয়ারি ২০০৮)। "SEPARATISM IN NORTH EAST INDIA: ROLE OF RELIGION LANGUAGE AND SCRIPT"। Suruchi Prakashan – Google Books-এর মাধ্যমে। 
  21. Dholabhai, Nishit (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "NSCN wants swift solution"The Telegraph। Calcutta, India। 
  22. "Police, NSCN militants exchange fire"The Hindu। Chennai, India। ২ জুলাই ২০০৪। 
  23. "National Socialist Council of Nagaland - Isak-Muivah"। Satp.org। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  24. Lyle Morris; The Diplomat। "Is China Backing Indian Insurgents? | The Diplomat | Page 2"। The Diplomat। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  25. Callimachi, Rukmini (২০১৭-০৩-১১)। "'Passage from India': Rebels fight for Christian nation in Nagaland"Daily Herald (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-২১ 
  26. "Nagas' Rights to Self Determination"google.com.bd 
  27. "Ethnic Life-Worlds in North-East India"google.com.bd 
  28. "A Matter of Belief"google.com.bd 
  29. "Holy Warriors"google.com.bd 
  30. Manpreet Singh। "The Soul Hunters of Central Asia"ChristianityToday.com 
  31. "'Is this the India we should be proud of?' - Rediff.com India News"। News.rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  32. Web.com(india) Pvt. Ltd.। "Cdps, Nagaland Militant Groups Profile"। Cdpsindia.org। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  33. "Naga Identity - Braj Bihari Kumar - Google Books"। Books.google.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  34. "Separatism In North East India: Role Of Religion Language And Script - Dr. Kunal Ghosh - Google Books"। Books.google.com.bd। ১ জানুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  35. "Government declares NSCN (K) as terrorist organization under UAPA" 
  36. Lyle Morris; The Diplomat। "Is China Backing Indian Insurgents? | The Diplomat | Page 2"। The Diplomat। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  37. "Buddhists allege NSCN-IM threat - Indian Express" 
  38. "Manipur ambush: 18 army men killed, 11 injured"The Indian Express। ৫ জুন ২০১৫। 
  39. "Christian Terrorism in North-East India - The NSCN"tripod.com 
  40. "National Socialist Council of Nagaland - Khaplang"satp.org 
  41. "Naga militants attack Assam Rifles camp in Arunachal"mid-day। ৮ জুন ২০১৫। 
  42. "Arunachal Pradesh: Naga Militants Attack Assam Rifles Camp 3 Days after Deadly Manipur Ambush"International Business Times, India Edition। ৭ জুন ২০১৫। 
  43. Avaneesh Pandey (৪ মে ২০১৫)। "Indian Security Personnel Killed In Militant Attack In Nagaland"International Business Times 
  44. "Naga militant outfit NSCN-K banned by Govt for 5 years- TIMESNOW.tv - Latest Breaking News, Big News Stories, News Videos"timesnow.tv। ৩০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ 
  45. PTI। "10 soldiers killed in Manipur militant ambush"The Hindu 
  46. "Internecine clashes between Naga militant outfits beyond Nagaland"satp.org 
  47. "Government signs landmark Nagaland peace treaty with NSCN(I-M) in presence of PM Narendra Modi"The Economic Times। India। ৩ আগস্ট ২০১৫। 
  48. "UNLFW: The new name for terror in NE - Times of India" 
  49. "Nine miltant [sic] groups of NE form united front with Chinese blessings"। ২৪ এপ্রিল ২০১৫। 
  50. "4 Assam Rifles jawans killed in Nagaland ambush - Times of India"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-২০