বড়ঠুঁটি নলফুটকি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বড়ঠুঁটি নলফুটকি
Acrocephalus orinus Tajikistan.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Passeriformes
মহাপরিবার: Sylvioidea
পরিবার: Acrocephalidae
গণ: Acrocephalus
প্রজাতি: A. orinus
দ্বিপদী নাম
Acrocephalus orinus
Oberholser, 1905

বড়ঠুঁটি নলফুটকি পৃথিবীর সবচেয়ে কম পরিচিত পাখিদের মধ্যে অন্যতম। [২]

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ১৮৬৭ সালে ভারত এ প্রথম এই পাখির সন্ধান পান। ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডে এই প্রজাতির একটি পাখিকে এর পালকের ডিএনএ পর্যায়ক্রম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত করে পরিবেশে মুক্ত করা হয়। ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে একটি প্রজনন এলাকার সন্ধান পাওয়া যায় এবং গবেষণার পর এর প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজাখস্তান এবং তাজিকিস্তানকে চিহ্নিত করা হয়। ৭ ডিসেম্বর, ২০১১ এ বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে এর দেখা মিলে।[৩]
আফগানিস্তান এবং কাজাখস্তান এ প্রাপ্ত তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে এরা মধ্য এশিয়ায় প্রজনন করে। পালক পর্যবেক্ষণে বোঝা যায় এই প্রজাতি শীতকালে হিমালয় হয়ে উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আসে।[৪]

গঠন[সম্পাদনা]

এর দেহের উপরিপৃষ্ঠের পালকবিন্যাস, ডানার দৃশ্যমান অংশ এবং লেজ জলপাই-বাদামি বর্ণের। দেহের নিম্নদেশ ফিকে ক্রিম বর্ণের। এর দৈর্ঘ্য ৫ ইঞ্চি(১৩০ মিমি.), লেজ ২.৩ ইঞ্চি(৫৮ মিমি.), ডানা ২.৪ ইঞ্চি(৬১ মিমি.)।টারসাস এর দৈর্ঘ্য ০.৮৫ ইঞ্চি(২২ মিমি.)। মুখের অভ্যন্তর ভাগ থেকে চঞ্চু এর দৈর্ঘ্য ০.৮ ইঞ্চি(২০ মিমি.)। ঊর্ধ্বচোয়াল গারো কিন্তু ধার এবং নিম্নচোয়াল ফিকে বর্ণের। পা, পায়ের আঙ্গুল এবং থাবা ফিকে বাদামি বর্ণের।[৫] আফগানিস্তান এবং কাজাখস্তান এ প্রাপ্ত তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে এরা মধ্য এশিয়ায় প্রজনন করে। পালক পর্যবেক্ষণে বোঝা যায় এই প্রজাতি শীতকালে হিমালয় হয়ে উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আসে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ১৩ নভেম্বর, ১৮৬৭ সালে ভারত এর হিমাচল প্রদেশ এর রামপুরের নিকটবর্তী Sutlej Valley তে প্রথম এই পাখির সন্ধান পান। এই প্রজাতিকে আঞ্চলিকভাবে Phyllopneuste macrorhyncha (হিউম, ১৮৬৯[৬]) ঘোষণা করা হয়েছিল(BMNH registration no. 1886.7.8. 1742)। কিন্তু দুই বছর পরে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Acrocephalus macrorhynchus ( হিউম, ১৮৭১)। ১৯০৫ সালে Harry Church Oberholser এটি অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেন কারণ ১৮৫৩ সালে Johann Wilhelm von Müller মিসরে একটি প্রজাতিকে Calamoherpe macrorhyncha হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন যা প্রকৃতপক্ষে Acrocephalus stentoreus ছিল। ফলে Acrocephalus macrorhynchus হয়ে যায় Acrocephalus orinus। তাই প্রজাতিটির পরিচিতি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত Acrocephalus orinus কে Clamorous Reed Warbler (Acrocephalus stentoreus) এর প্রতিশব্দ মনে করা হত।[৭] কেউ আবার একে অস্বাভাবিক Blyth's Reed Warbler মনে করতেন। অবশেষে প্রজাতিটির গঠন নিরীক্ষণ[৮] এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পর্যবেক্ষণে বোঝা যায় যে এটি একটি ভিন্ন প্রজাতি।[৯]

পুনরুদ্ধার[সম্পাদনা]

২৭ মার্চ, ২০০৬ সালে Mahidol বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানি Philip Round থাইল্যান্ডের Phetchaburi প্রদেশের Laem Phak Bia পরিবেশ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে একটি জীবন্ত পাখি পান। পাখির দেহে প্রয়জনিও তথ্য সংশ্লিষ্ট ট্যাগ লাগানো হয় এবং দুটি পালক নেয়া হয়, যাদের ডিএনএ ১৮৬৭ সালে প্রাপ্ত পাখির ডিএনএর সাথে মিলে যায়।[১০][১১]
ছোট ও গোল ডানার কারণে পূর্বের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছিল এটি একটি স্বল্প দূরত্বের পরিযায়ী পাখি অথবা আবাসিক পাখি। কিন্তু থাইল্যান্ডের বন্য পরিবেশে প্রাপ্ত পাখি এবং অন্য জায়গার জাদুঘর থেকে প্রাপ্ত পাখি এই ধারণায় সন্দেহের সৃষ্টি করে।
ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেসন সোসাইটির গবেষক Robert Timmins যিনি পামির মালভূমির পক্ষীকুল পর্যবেক্ষণ করছিলেন, আফগানিস্তানের উত্তর পূর্বে পামিরের Wakhan করিডোরে বড়ঠুঁটি নলফুটকির প্রজনন ক্ষেত্র আবিষ্কার করেন। তিনি একটি বাদামি বর্ণের ফুটকি দেখতে পান এবং এর গান রেকর্ড করেন। তবে ইংল্যান্ডে ট্রিং এ অবস্থিত ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এ বড়ঠুঁটি নলফুটকি পর্যবেক্ষণের পর তিনি তাঁর দেখা বড়ঠুঁটি নলফুটকিকে চিনতে পেরেছিলেন।তাঁর আবিষ্কার নিশ্চিত হয় ২০০৯ সালে প্রায় ২০ টি পাখি আটক করে মাঠপর্যায়ে, জাদুঘরে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ পর্যবেক্ষণ করে এবং ২০০৮ সালে প্রজাতিটির সম্ভবত তৈরিকৃত প্রথম অডিওর ভিত্তিতে।[১২][১৩][১৪]
২০১১ সালে রাশিয়ার পাখিবিজ্ঞানিগণ নিশ্চিত করেন যে জাদুঘরে Acrocephalus orinus কে ভুলে Acrocephalus dumetorum হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল এবং তাঁদের মতে প্রজাতিটির সম্ভাব্য আবাসস্থল তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান, পূর্ব উজবেকিস্তান এবং কাজাখস্তান।[১৫]
২০১১ সালে তাজিকিস্তানের পাঞ্জ নদী উপত্যকায় পাখিটির বাসা পাওয়া গিয়েছিল।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. BirdLife International (২০১২)। "Acrocephalus orinus"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2013.2প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৩ 
  2. http://www.birdlife.org/news
  3. http://www.kalerkantho.com/print_edition/print_news.php?pub_no=744&cat_id=1&menu_id=14&news_type_id=1&index=5
  4. Svensson, L., Prŷs-Jones, R., Rasmussen, P.C., Olsson, U. 2008 Discovery of ten new specimens of large-billed reed warbler Acrocephalus orinus, and new insights into its distributional range. Journal of Avian Biology 39 (6):605-610
  5. Oates, E. W. (1889) Fauna of British India. Birds. Volume 1.
  6. Hume, A. 1869. Ibis 2 (5): 355–357 (no title).
  7. Grimmett, R., Inskipp, C. & Inskipp, T. 1998. Birds of the Indian Subcontinent. London: A. & C. Black.
  8. Vaurie, C. (1955) Systematic Notes on Palearctic Birds. No. 18:Supplementary Notes on Corvidae, Timaliinae, Alaudidae, Sylviinae, Hirundinidae, and Turdinae. American Museum Novitates. 1753 [১]
  9. Bensch, S and D. Pearson (2002) The Large-billed Reed Warbler Acrocephalus orinus revisited. Ibis (2002), 144:259–267 PDF Nucleotide sequence
  10. The Nation, Bird comes back from the dead, 7 March 2007
  11. Round, Philip D., Bengt Hansson, David J. Pearson, Peter R. Kennerley, Staffan Bensch. (2007) Lost and found: the enigmatic large-billed reed warbler Acrocephalus orinus rediscovered after 139 years. Journal of Avian Biology 38:2 133 PDF
  12. "'World's least known bird' found breeding in Afghanistan"
  13. ""World's Least Known Bird" breeding site discovered in Afghanistan"
  14. Timmins RJ, Naqueebullah Mostafawi, Ali Madad Rajabi, Hafizullah Noori, Stephane Ostrowski, Urban Olsson, Lars Svensson & Colin M. Poole (২০০৯)। "The discovery of Large-billed Reed Warblers Acrocephalus orinus in north-eastern Afghanistan" (PDF)BirdingASIA12: 42–45। 
  15. Koblik EA, Red'kin YA, Meer MS, Derelle R, Golenkina SA, Kondrashov FA, VY Arkhipov (২০১১)। "Acrocephalus orinus: A Case of Mistaken Identity"। PLoS ONE6 (4): e17716। doi:10.1371/journal.pone.0017716 
  16. Kvartalnov P.V., Samotskaya V.V., Abdulnazarov A.G. (২০১১)। "From museum collections to live birds" (PDF)Priroda (12): 56–58। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]