প্রোপিলিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রোপিলিন একটি জৈব যৌগ। এর অন্য নাম হলো প্রোপিন অথবা মিথাইল ইথিলিন। এর রাসায়নিক সংকেত । এটি একটি বর্ণহীন গ্যাস এবং পেট্রোলিয়ামের মতো হালকা গন্ধযুক্ত।

উৎপাদন[সম্পাদনা]

স্টিম ক্রাকিং[সম্পাদনা]

প্রোপিলিন উৎপাদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো স্টিম ক্রাকিং। এই পদ্ধতিতে কাঁচামাল হিসাবে জৈব যৌগ প্রোপেন ব্যবহার করা হয়। প্রোপেন থেকে হাইড্রোজেন বিযুক্তি করে প্রোপিলিন তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে উপজাত হিসাবে হাইড্রোজেন পাওয়া যায়।[১]

CH3CH2CH3 → CH3CH=CH2 + H2

জৈব যৌগ ইথেন থেকে ইথিলিন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

প্রোপিলিন উৎপাদনে কাঁচামাল হিসাবে ন্যাপথাও ব্যবহার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পেট্রোলিয়াম থেকে বিভিন্ন ধরনের তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের সময় প্রচুর পরিমাণে প্রোপেন পাওয়া যায়।[২] পেট্রোলিয়াম শোধন এবং তাপবিভাজন প্রক্রিয়ার (Cracking) সময় উৎপন্ন হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ থেকে আংশিক পাতন পদ্ধতির সাহায্যে  প্রোপেনকে আলাদা করা হয়। পেট্রোলিয়াম শোধনগার থেকে যে প্রোপেনে উৎপন্ন হয় (রিফাইনারি গ্রেড) তাতে শতকরা ৫০ থেকে ৭০ ভাগ প্রোপেন থাকে।থাকে।

অলিফিন থেকে তৈরির প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

রেনিয়াম এবং মলিবডেনাম অনুঘটকের উপস্থিতে ইথিলিন ও 2-বিউটিন মিশ্রণের বিক্রিয়ায় প্রোপিলিন তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে সমগ্র মিশ্রণের ওজনের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই প্রোপিলিনে রূপান্তরিত হয়। [৩] বিক্রিয়াটি এই রকমঃ

CH2=CH2 + CH3CH=CHCH3 → 2 CH2=CHCH3

ব্যবহার[সম্পাদনা]

পেট্রোরাসায়নিক শিল্পে ইথিলিনের পরেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ইিসাবে প্রোপিলিন ব্যবহার করা হয়। অনেক জৈব পদার্থ তৈরির কাঁচামাল হিসাবে প্রোপিলিনের ব্যবহার রয়েছে। পলিপ্রোপিলিন তৈরিতে প্রোপিলিনের চাহিদা সব থেকে বেশি। সমগ্র উৎপাদনের দুই তৃতীয়ংশই পলিপ্রোপিলিন তৈরিতে ব্যবহার হয়ে যায়। [৪]

বিক্রিয়া[সম্পাদনা]

প্রোপিলিন অন্যান্য অ্যালকেনের মতো সাধারণ তাপমাত্রায় তুলনামূলকভাবে সহজে সংযোজন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

দহন[সম্পাদনা]

প্রোপিলিন অন্যান্য অ্যালেকেনের মতো দহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।পর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রোপিলিনের দহনে জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয়।

2 C3H6 + 9 O2 → 6 CO2 + 6 H2O

অক্সিজেনের পরিমান কম হলে দাহন সম্পূর্ণ না হওয়ার জন্য কার্বন মনোক্সাইডের সঙ্গে ঝুল/ভুসা (কার্বন)ও তৈরি হয়।

C3H6 + 2 O2 → 3 H2O + 2 C + CO

পরিবেশ সুরক্ষা[সম্পাদনা]

কার্বনঘটিত পদার্থের দহনে প্রোপিলিন তৈরি হয়। বনজঙ্গলে আগুন লাগলে, সিগারেটের ধোঁয়ায়, গাড়ীর ধোঁয়ায়, এবং উড়োজাহাজের নির্গত ধোঁয়ায় প্রোপিলিন থাকে।

সংরক্ষণ এবং পরিবহন[সম্পাদনা]

যেহেতু প্রোপিলিন উদ্বায়ী এবং দাহ্য তাই এটি ব্যবহারের সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। ব্যবহারের সময় আগুন যেন না লাগে তার জন্য সতর্কতা প্রয়োজন। প্রোপিলিন পরিবহন বা ভর্তির সময় কোন যন্ত্র, আধার, বা যন্ত্রাংশ থেকে যেন স্ফ‌ুংলিঙ্গ বের না হয়। হবার সম্ভাবনা থাকলে সেটি ঠিক করা উচিত। প্রোপিলিন তরল অবস্থায় চাপে সংরক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত আধারে সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা চলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Giovanni Maggini (২০১৩-০৪-১৭)। "Technology Economics: Propylene via Propane Dehydrogenation, Part 3"। Slideshare.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১১-১২ 
  2. Ashford’s Dictionary of Industrial Chemicals, Third edition, 2011, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৫২২৬৭৪-৩-০, pages 7766-9
  3. Ghashghaee, Mohammad (২০১৮)। "Heterogeneous catalysts for gas-phase conversion of ethylene to higher olefins"। Rev. Chem. Eng.34 (5): 595–655। এসটুসিআইডি 103664623ডিওআই:10.1515/revce-2017-0003 
  4. "Market Study: Propylene (2nd edition), Ceresana, December 2014"। ceresana.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০২-০৩