সাংবাদিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(প্রতিবেদক থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
একজন টেলিভিশন সংবাদদাতা ক্যামেরার সামনে মাইক্রোফোন হাতে কটা বলছেন

সংবাদদাতা বা সাংবাদিক বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন। পেশাজীবি হিসেবে একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সাংবাদিকতায় সহায়তা করা। বিভিন্ন বয়সের পুরুষ কিংবা নারী সাংবাদিকতাকে অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পেশারূপে বেছে নিচ্ছেন।

তিনি প্রতিবেদক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকেন। যথাযথ গবেষণালব্ধ তথ্য, লেখনী এবং প্রতিবেদন রচনা করে তিনি গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মুদ্রিত মাধ্যমরূপে সংবাদপত্র, সাময়িকী; ইলেকট্রনিক মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও, প্রামাণ্যচিত্র এবং ডিজিটাল মাধ্যমরূপে অনলাইন সাংবাদিকতায় নিজস্ব সংবাদ প্রচার কিংবা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীতে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকেন। একজন প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্যের উৎসমূল অনুসন্ধান করেন, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার পর্ব গ্রহণ করেন, গবেষণায় সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং অবশেষে প্রতিবেদন প্রণয়নে অগ্রসর হন। তথ্যের একীকরণ সাংবাদিকের কাজেরই অংশ, যা কখনো কখনো রিপোর্টিং বা প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। বৈপরীত্য চিত্র হিসেবে চাকুরীরত অবস্থায় প্রবন্ধ রচনা এরই অংশবিশেষ।

সামাজিক মর্যাদা[সম্পাদনা]

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার হেনরি ডব্লিউ কলেজ অব জার্নালিজম এন্ড ম্যাস কমিউনিকেশন ১৯৯৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিষয়ের স্নাতকধারীদের উপর বার্ষিক জরীপ কার্য পরিচালনা করে আসছে। ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (পুয়ের্তোরিকোসহ) এ বিষয়ের স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন চাকুরী হিসেবে ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারের বেতনে সংবাদপত্রশিল্পে প্রবেশ করছে; যা ছিল ২০০৬, ২০০৭ এবং ২০০৮ সালের অনুরূপ।[১]

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকগণকে কার্যক্ষেত্রে সংবাদপত্র প্রতিনিধি, টেলিভিশন সংবাদদাতা বা বেতার সাংবাদিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভাজন ঘটানো হয়েছে। এছাড়াও, অবস্থানের ভিত্তিতেও নামকরণে বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তারমধ্যে সম্পাদক পরবর্তী বার্তা প্রধান, বার্তা সম্পাদক, মফস্বল সম্পাদক, চীফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্যুরো চীফ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্রিড়া প্রতিবেদক, সংস্কৃতি প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক, প্রবাসী প্রতিবেদক, সংবাদদাতা ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্ব-স্ব মাধ্যমের জন্য সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে ঘটনাবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রেরণ করেন। আরেকটি শ্রেণি সম্পাদনায় অংশ নিয়ে সংবাদটি প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন। [২]

সাংবাদিকের অাচরণবিধি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্যে অনুসরণীয় আচরণবিধি, ১৯৯৩ ( ২০০২ সালে সংশোধিত) প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ১১ : (বি) ধারা অনুযায়ী সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণ বিধিতে বলা হয়েছে- ১. জাতিসত্তা বিনাশী এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও সংবিধান বিরোধী বা পরিপন্থী কোনো সংবাদ অথবা ভাষ্য প্রকাশ না করা। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং এর বিরুদ্ধে প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। জনগণকে আকর্ষণ করে অথবা তাদের ওপর প্রভাব ফেলে এমন বিষয়ে জনগণকে অবহিত রাখা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। জনগণের তথা সংবাদপত্রের পাঠকগণের ব্যক্তিগত অধিকার ও সংবেদনশীলতার প্রতি পূর্ণ সম্মানবোধসহ সংবাদ ও সংবাদভাষ্য রচনা ও প্রকাশ করা। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের প্রাপ্ত তথ্যাবলির সত্যতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য কোনোরূপ শাস্তির ঝুঁকি ছাড়াই জনস্বার্থে প্রকাশ করা। এ ধরনের জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদ যদি সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে থাকে এবং প্রাপ্ত তথ্য যৌক্তিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য বিবেচিত হয়, তবে এ ধরনের প্রকাশিত সংবাদ থেকে উদ্ভূত প্রতিকূল পরিণতি থেকে সাংবাদিককে রেহাই দেয়া। গুজব ও অসমর্থিত প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে সেগুলোকে চিহ্নিত করা এবং যদি এ সব প্রকাশ করা অনুচিত বিবেচিত হয়, তবে সেগুলো প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা। যে সকল সংবাদের বিষয়বস্তু অসাধু এবং ভিত্তিহীন অথবা যেগুলোর প্রকাশনায় বিশ্বাস ভঙ্গের আশংকা আছে, সে সকল সংবাদ প্রকাশ না করা। সংবাদপত্র ও সাংবাদিক বিতর্র্কিত বিষয়ে নিজস্ব মতামত জোরালোভাবে ব্যক্ত করার অধিকার রাখেন, কিত্তু এরূপ করতে গিয়ে। সত্য ঘটনা এবং মতামতকে পরিচ্ছন্নভাবে প্রকাশ করা। পাঠককে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো ঘটনাকে বিকৃত না করা। মূলভাষ্যে অথবা শিরোনামে কোনো সংবাদকে বিকৃত না করা বা অসাধুভাবে চিহ্নিত না করা। মূল সংবাদের ওপর মতামত পরিচ্ছন্নভাবে তুলে ধরা। কুৎসামূলক বা জনস্বার্থ পরিপন্থী না হলে বাহ্যত ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থবিরোধী হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষরিত যে কোনো বিজ্ঞাপন সংবাদপত্রে প্রকাশের অধিকার সম্পাদকের আছে। কিন্তু এরূপ বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ করা হলে সম্পাদককে তা’ বিনা খরচে মুদ্রণের ব্যবস্থা করা। ব্যক্তি অথবা সম্প্রদায়বিশেষ সম্পর্কে তাদের বর্ণ, গোত্র, জাতীয়তা, ধর্ম অথবা দেশগত বিষয় নিয়ে অবজ্ঞা বা মর্যাদা হানিকর বিষয় প্রকাশ না করা। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িকতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা। ব্যক্তিবিশেষ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান অথবা কোনো জনগোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণীর মানুষ সম্পর্কে তাদের স্বার্থ ও সুনামের ক্ষতিকর কোনো কিছু যদি সংবাদপত্র প্রকাশ করে তবে পক্ষপাতহীনতা ও সততার সাথে সংবাদপত্র বা সাংবাদিকের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান/ সংস্থাকে দ্রুত এবং সংগত সময়ের মধ্যে প্রতিবাদ বা উত্তর দেয়ার সুযোগ প্রদান। প্রকাশিত সংবাদ যদি ক্ষতিকর হয় বা বস্তুনিষ্ঠ না হয়, তবে তা’ অবিলম্বে প্রত্যাহার, সংশোধন বা ব্যাখ্যা করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমা প্রার্থনা করা। জনগণকে আকর্ষণ করে অথচ জনস্বার্থ পরিপন্থী চাঞ্চল্যকর মুখরোচক কাহিনীর মাধ্যমে পত্রিকা কাটতির স্বার্থে রুচিহীন ও অশালীন সংবাদ এবং অনুরূপ ছবি পরিবেশন না করা। অপরাধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সংবাদপত্রের যুক্তিসংগত পন্থা অবলম্বন করা। অন্যান্য গণমাধ্যমের তুলনায় সংবাদপত্রের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি; এ কারণে যে সাংবাদিক সংবাদপত্রের জন্য লিখবেন তিনি সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষভাবে সাবধান থাকা এবং ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সূত্রসমূহ সংরক্ষণ করা। কোনো অপরাধের ঘটনা বিচারাধীন থাকাকালীন সব পর্যায়ে তার খবর ছাপানো এবং মামলা বিষয়ক প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের জন্য আদালতের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা সংবাদপত্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বিচারাধীন মামলার রায় প্রভাবিত হতে পারে, এমন কোনো মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণার আগ পর্যন্ত সাংবাদিককে বিরত থাকা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত পক্ষ বা পক্ষসমূহের প্রতিবাদ সংবাদপত্রটিতে সমগুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ছাপানো এবং সম্পাদক প্রতিবাদলিপির সম্পাদনাকালে এর চরিত্র পরিবর্তন না করা। সম্পাদকীয়ের কোনো ভুল তথ্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যদি প্রতিবাদ করে, তবে সম্পাদকের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে একই পাতায় ভুল সংশোধন করে দুঃখ প্রকাশ করা; বিদ্বেষপূর্ণ কোনো খবর প্রকাশ না করা। সম্পাদক কর্র্তৃক সংবাদপত্রের সকল প্রকাশনার পরিপূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করা। কোনো দুর্নীতি বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক বা অন্য কোনো অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের উচিত ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সাধ্যমতো নিশ্চিত হওয়া এবং প্রতিবেদককে অবশ্যই খবরের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করার মতো যথেষ্ট তথ্য যোগাড় করা। প্রতিবাদ হয়নি এমন দায়িত্বশীল প্রকাশনা খবরের উৎস হতে পারে, তবে পুনঃর্মুদ্রণ করা হয়েছে নিছক এই অজুহাতে কোনো সাংবাদিক কোনো সাংবাদিকের কোনো খবর সম্পর্কে দায়িত্ব না এড়ানো। সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের অধঃপতন তুলে ধরা সাংবাদিকের দায়িত্ব, তবে নারী-পুরুষ ঘটিত অথবা কোনো নারী সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিকের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা। কোনো ব্যক্তি সংবাদপত্র, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকরূপে চাকরি গ্রহণকালে আচরণবিধির পরিশিষ্টে উল্লিখিত শপথনামা ‘ক’ সম্পাদকের সামনে পাঠ এবং স্বাক্ষরদান করতে বাধ্য থাকা। প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ১১ (বি) ধারা অনুযায়ী সংবাদপত্র প্রকাশক আচরণবিধির পরিশিষ্টে উল্লিখিত শপথনামা ‘খ’ পাঠ ও স্বাক্ষর করতে বাধ্য থাকা। [৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lee B. Becker et al. "2009 Annual Survey of Journalism & Mass Communication Graduates" (August 4, 2010).
  2. বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) "[১]"
  3. বাংলাপিডিয়া "[২]"

বাংলাদেশের সাংবাদিক[সম্পাদনা]

বাঙালি প্রয়াত সাংবাদিক[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]