বিষয়বস্তুতে চলুন

পান্না কোকিল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পান্না কোকিল
Chrysococcyx maculatus
স্ত্রী কোকিল
পুরুষ কোকিল
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: প্রাণী জগৎ
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Cuculiformes
পরিবার: Cuculidae
গণ: Chrysococcyx
প্রজাতি: C. maculatus
দ্বিপদী নাম
Chrysococcyx maculatus
(Gmelin, 1788)

পান্না কোকিল (বৈজ্ঞানিক নাম: Chrysococcyx maculatus), এশীয় শ্যামাপাপিয়া, এশীয় সবুজাভ কোকিল বা শ্যামা পাপিয়া কোকিল (কুকুলিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Chrysococcyx (ক্রাইসোকক্কিজ) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির সবুজ পাখি।[][][] পান্না কোকিলের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ তিলা সোনাপাপিয়া (গ্রিক; khrusos = সোনা, cuculus = পাপিয়া; লাতিন: maculatus = তিলাযুক্ত)।[][] পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক প্রায় ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।[] বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা স্থির রয়েছে, আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[] বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় নি।[]

বিস্তৃতি

[সম্পাদনা]

হিমালয়ের গাড়ওয়ালের পূর্বাঞ্চল থেকে নেপাল হয়ে আসাম, মণিপুর, বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত, দক্ষিণ চীন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও মধ্য ভিয়েতনাম এদের মূল আবাস। শীতকালে বাংলাদেশ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, মালয় উপদ্বীপসুমাত্রায় পরিযান করে।[]

নারী পান্না কোকিল

পান্না কোকিল লম্বায় মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার।[] এর ডানা কমবেশি ১১ সেমি, ঠোঁট ১.৫ সেমি, পা ১.৫ সেমি ও লেজ ৬.৭ সেমি।[] স্ত্রী ও পুরুষের রঙে ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষের পিঠের ওপরটা চকচকে পান্না-সবুজ, তাতে সোনালি-ব্রোঞ্জ আভা। থুতনি, গলা ও বুকেও তাই। বুক-পেটের নিচটা সাদা, তার ওপর ধাতব ব্রোঞ্জ-সবুজ ডোরা। লেজের নিচটা ধাতব সবুজ, তাতে সাদা ডোরা। স্ত্রীর মাথা ও ঘাড়ের পেছনটা সোনালি লাল। পিঠের পালকের রং ব্রোঞ্জ-সবুজ। গলা-বুক-পেটে সাদার ওপর বাদামি-ব্রোঞ্জ ডোরা। লেজে খয়েরি-কালো ডোরা, ডগা সাদা। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় পাখির চোখ ও চোখের পাতা গাঢ় লাল। ঠোঁট কমলা-হলুদ, আগা কালো। পা ও পায়ের পাতা গাঢ় বাদামি-সবুজ।[] অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে স্ত্রীপাখির মতোই, কেবল কাঁধ-ঢাকনি ও ডানায় লালচে-কমলা ডোরা থাকে। এছাড়া মাথার চাঁদিতেও ডোরা দেখা যায়। যুবা পাখির মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের পেছন দিক পান্না-সবুজ রঙের। এছাড়া বাকিসব স্ত্রীপাখির মত।[]

খাদ্য

[সম্পাদনা]

পান্না কোকিল সাধারণত পিঁপড়া, শুঁয়োপোকা, ছারপোকা ও নরম পোকামাকড় খেতে পছন্দ করে।[]

স্বভাব

[সম্পাদনা]

পান্না কোকিল প্রধানত চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। তবে নিচু ভূমি, হালকা বন, পাহাড়ঘেরা বাগান ও পাহাড়ের ১৫০০ মিটার উঁচুতেও দেখা যায়। এরা একাকী, জোড়ায় বা চার-ছয়টির দলে বিচরণ করে। গাছের মগডালে পাতার আচ্ছাদনে লুকিয়ে থাকে, তাই সহজে দেখা যায় না।[] গাছের মগডাল থেকে বাতাসে ভেসে শিকার ধরে।[]

প্রজনন

[সম্পাদনা]

এপ্রিল-জুলাই মাস এর প্রজনন ঋতু। প্রজননের সময় পুরুষ পাখি দিনভর চিরর্-চিরর্-চিরর্... স্বরে ডাকে। স্ত্রী কোকিল চুপিসারে মৌটুসি বা মাকড়মারের বাসায় ডিম পাড়ে। অনেকসময় এরা পোষকের বাসার ক্ষুদে প্রবেশপথেও ডিম পেড়ে রাখে। সাদা রঙের ডিমগুলোয় বাদামি বা লালচে ছিট থাকে।[] ডিমের মাপ ১.৬ × ১.২ সেমি।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Chrysococcyx maculatus"। Home Page The IUCN Red List of Threatened Species। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৩ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |প্রকাশক= এর 10 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য)
  2. 1 2 3 4 5 6 7 আ ন ম আমিনুর রহমান (০৫-০৭-২০১৩)। "বিরল পান্না কোকিলের সন্ধানে"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৩ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. রেজা খান (২০০৮)। বাংলাদেশের পাখি। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃ. ৬৪। আইএসবিএন ৯৮৪০৭৪৬৯০১
  4. 1 2 3 4 5 6 7 জিয়া উদ্দিন আহমেদ (সম্পা.) (২০০৯)। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: পাখি, খণ্ড: ২৬। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ. ৯৪। আইএসবিএন ৯৮৪৩০০০০০২৮৬০ {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ উপসর্গ পরীক্ষা করুন (সাহায্য); |লেখক= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  5. "Asian Emerald Cuckoo Chrysococcyx maculatus"। BirdLife International। ২৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৩
  6. "Asian Emerald Cuckoo (Chrysococcyx maculatus)"। The Internet Bird Collection। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]