নাজিয়া খানম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

নাজিয়া খানম
OBE, DL
স্থানীয় নাম নাজিয়া খানম
জন্ম ১৯৪৩ (বয়স ৭৩–৭৪)
বরিশাল, বাংলা প্রেসিডেন্সী (বর্তমান বাংলাদেশ), ব্রিটিশ ভারত
বাসস্থান লুটন, বেডফোরডশায়ার, ইংল্যান্ড
জাতীয়তা ব্রিটিশ
শিক্ষা বিএ এবং এমএ রাষ্ট্র বিজ্ঞান, পিএইচডি ইতিহাস
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ
পেশা ব্যবস্থাপনা পরামর্শক, গবেষক, academic, সামাজিক কর্মকাণ্ড
কার্যকাল ১৯৮৩–বর্তমান
উপাধি বৈচিত্র্যময় সমতার পরিচলক, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা লুটনের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
দাম্পত্য সঙ্গী ডেভিড ছিজম্যান
সন্তান

নাজিয়া খানম, OBE, DL (ইংরেজি: Nazia Khanum; জন্ম ১৯৪৩) হচ্ছেন একজন বাংলাদেশী ব্রিটিশ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক, গবেষক, বৈচিত্র্যময় সমতার পরিচালক, লুটনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠানের সদস্য।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

খানম বরিশাল, বঙ্গভঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ), ব্রিটিশ ভারত-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার সঠিক জন্ম তারিখ জানা যায়নি কেননা ঐ সময়ে নির্দিষ্ট কোন কাজে অনুরোধ ছাড়া বার্থ সার্টিফিকেট প্রদান করা হত না। তার বাবার নামানুকরনে তার নাম রাখা হয়, তিনি খুব ছোট থাকতেই তার বাবা মারা যান। তিনি তার পরিবারের সাথে ঢাকার চরফ্যাশনে চলে আসেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেন।[১][২] ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে তিনি তার পরিবারকে, লুটন, বেডফোরডশায়ার, ইংল্যান্ড নিয়ে আসেন।[৩]

শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

খানম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে বিএ এবং এমএ ডিগ্রী গ্রহণ করেন, এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের, স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে ইতিহাস বিষয়ের উপর পিএইচডি নেন।[৪]

তিনি দীর্ঘ দিন প্রভাষকের পদে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইডেন মিহিলা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রফেসরের দায়িত্বে আসেন।[৫]

১৯৯৬ সালে, খানম একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সমান সুযোগসন্ধানী ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।[৫][৬] তিনি লুটনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর।[৭]

১৯৮৩ সাল থেকে, খানম সারা যুক্তরাজ্য জুড়ে সাম্প্রদায়িক ক্ষমতায়নের লক্ষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের কাজ করে আচ্ছেন। পাঁচটি ইংলিশ স্থানীয় কতৃপক্ষের সাথে ব্যবস্থাপনার উপর তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।[৮] তিনি কতিপয় সিদ্ধান্ত-প্রণয়ন এবং সাম্প্রদায়িক-ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যেমন: লুটনের প্রাইমারী ট্রাস্ট কেয়ারের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর,[৯] কর্পোরেশন সদস্য,[৯] এবং লুটন সিক্সথ ফর্ম কলেজ এর গভর্নর।[১০] তিনি লুটনের কতিপয় সাম্প্রদায়িক দলের সভাপতিও।[১১] আরো এসব দলের সভাপতি,তাদের মধ্যে রয়েছে- লুটন অল উইমেন্স সেন্টার, লুটন মাল্টি-কালচারাল উইমেন্স কোয়ালিশন,[৯] এমনকি লুটন বাংলাদেশ হেল্পিং হ্যান্ড[১২] এবং পূর্বাচল সহ দলগুলোর। তিনি একটি সরকারি মুসলিম মহিলা উপদেষ্টা গ্রুপের সদস্য এবং পূর্বের অঞ্চলসমূহের সরকারি সমপর্যায়ের প্রতিনিধি।[৯]

খানম জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিষয়ে[১৩] একজন সরকারি উপদেষ্টা ছিলেন।[১৪] মার্চ ২০০৮-এ, খানম ইংল্যান্ডের হোম অফিস এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিস এর জন্য Forced marriage, family cohesion and community engagement: national learning through a case study of Luton নামে গবেষণাপত্র তৈরি করেন।[১৫] তিনি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা আবিষ্কার করেন যে ব্রিটেনে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০০০ হাজার অল্প বয়স্ক নারী জোড় করে বিয়ে দেওয়ার শিকার হন।[১৬][১৭][১৮] তার গবেষণাপত্র অনুযায়ী , খানম দেখতে পান যে ৩০০-র ও অধিক নারী প্রতি বছর লুটনে জোড় করে বিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।[৬][১৯][২০]

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে, খানম সমান সুযোগসুবিধা এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে তার কাজের জন্য নিউ ইয়ার অনার্স ২০০৬ অনুষ্ঠানে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার(OBE) পদবীতে ভূষিত হন।[২১] তিনি বেডফোরডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমমানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন।[২২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

খানমের বিয়ে শেফিল্ড হালাম বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজ ও উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর ডেভিড ছিজম্যানের সাথে হয়েছে। তাদের পুত্র, টারিন, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়েছে।[৪] নভেম্বর ২০০২ সালে, খানম এবং তার স্বামী তাদের প্রথম হজ্জ(মক্কা, সৌদি আরবএ ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় তীর্থযাত্রা) পালনে যান।[৩]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Nazia Khanum" (ইংরেজি ভাষায়)। Luton Voices। ৮ জুন ২০১০। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  2. "Interviewees" (ইংরেজি ভাষায়)। Luton Culture। ২০১০। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  3. "Leap of Faith"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ফেব্রুয়ারি ২০০২। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  4. Karim, Mohammed Abdul; Karim, Shahadoth (অক্টোবর ২০১১)। British Bangladeshi Who's Who (ইংরেজি ভাষায়)। British Bangla Media Group। পৃ: ৭৫। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  5. "Community Cohesion"। Equal But Different। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  6. Cunniffe, Jessica (৯ মার্চ ২০০৮)। "Breadth of forced marriages exposed"। Luton: Luton & Dunstable। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Women"British Bangladeshi Power & Inspiration 100 (ইংরেজি ভাষায়)। জানুয়ারি ২০১২। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  8. "Forced Marriage, Family Cohesion and Community Engagement" (ইংরেজি ভাষায়)। Social Work 2000। ২২ মে ২০০৮। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  9. "Our Directors"। Equality in Diversity। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  10. "Governors"। Luton Sixth form College। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  11. Saner, Emine (১৪ মার্চ ২০০৮)। "The Invisibles"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  12. "Star-studded fund-raising event by Luton Bangladesh Helping Hand"East London News (ইংরেজি ভাষায়) (London)। ২৭ জুলাই ২০১১। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  13. Suroor, Hasan (২০ মার্চ ২০০৮)। "Focus on forced marriages among Asian communities in the U.K."The Hindu (ইংরেজি ভাষায়) (India)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  14. Suroor, Hasan (৪ আগস্ট ২০১২)। "Killed For Trying To Be Normal"Daily Express (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  15. "Forced marriage problems revealed"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মার্চ ২০০৮। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  16. "Fears over forced marriage levels"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মার্চ ২০০৮। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  17. Revill, Jo (৯ মার্চ ২০০৮)। "Forced marriage in UK 'a widespread problem'"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  18. Slack, James (১১ মার্চ ২০০৮)। "More than 3,000 Asian children vanishing from school and 'forced into arranged marriages'"Mail Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  19. "Mosques slam report on forced marriages"। Luton: Luton on Sunday। ২৫ মে ২০০৮। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  20. Taylor, Matthew (১১ মার্চ ২০০৮)। "Victims of forced marriages could total 4,000, says study"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১২ 
  21. "Bangladeshi awarded OBE"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়) (Bangladesh)। ৬ জানুয়ারি ২০০৬। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  22. "Seminar examines forced marriages"। Bedfordshire: The University of Bedfordshire। ৯ জুন ২০০৮। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ [অকার্যকর সংযোগ]