তুলসী বৃন্দাবন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের আঙ্গিনায় একটি তুলসী বৃন্দাবন (তুলসী মন্দির)।

তুলসী বৃন্দাবন (সংস্কৃত: तुलसीवृंदावन ) হল একটি ক্ষুদ্র মঞ্চ-সদৃশ পাথর বা সিমেন্টের বেদি যা ঐতিহ্যবাহী হিন্দু বাড়ির সম্মুখে রাখার প্রথা রয়েছে। এর দ্বারা পবিত্র তুলসী গাছের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।[১]

কাঠামোটি তুলসী থারা (মালয়ালম : തുളസിത്തറ), তুলসী চৌরা বা তুলসী বৃন্দাবন (ওড়িয়া: ତୁଳସୀ ଚଉରା ) , তুলসী বৃন্দাবনম (তামিল: துளசி பிருந்தாவனம் ), এবং তুলসী ব্রুন্দাবনম (তেলেগু : తులసి బృందావనం) ইত্যাদি নামে ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় পরিচিত।

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

হিন্দু সাহিত্যে তুলসী বৃক্ষকে দেবী তুলসী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণের এক কিংবদন্তি অনুসারে, সরস্বতী, গঙ্গালক্ষ্মী ছিলেন বিষ্ণুর তিন স্ত্রী। একবার ক্ষুব্ধ সরস্বতী ও গঙ্গার মধ্যে একটি তর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে তারা স্বামীর খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে একে অপরকে অভিযুক্ত করেন। লক্ষ্মী তাদের উভয়কে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বচসা বাড়তে থাকে, এক পর্যায়ে তিনজন একে অপরকে পৃথিবীতে অবতারিত হওয়ার জন্য অভিশাপ দিয়েছিল: সরস্বতী ও গঙ্গা নদী হয়ে ওঠেন, আর লক্ষ্মী তুলসী বৃক্ষ রূপে অবতীর্ণ হন।[২]

দেবী ভাগবত পুরাণের কিংবদন্তিতে, লক্ষ্মী নিজেকে রাজা ধর্মধ্বজের কন্যা তুলসী রূপে অবতারিত করেছিলেন। তিনি শঙ্খচূড় বিয়ে করেছিলেন। শঙ্খচূড় ছিল দুষ্ট অসুর এবং কৃষ্ণের সখা সুদামার অবতার। শিব একটি যুদ্ধে শঙ্খচূড়ের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু শঙ্খচূড় তার স্ত্রীর সতীত্বের কারণে অজেয় হয়েছিল। বিষ্ণু শঙ্খচুড়ের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং তুলসীর সাথে প্রেম করেন যতক্ষণ না তুলসী বুঝতে পারেন যে তিনি একজন প্রতারক। যখন তুলসী বিষ্ণুকে অভিশাপ দিতে উদ্যত হলেন, বিষ্ণু তাকে তার স্ত্রী হিসাবে আসল পরিচয় জানিয়েছিলেন। যুদ্ধে শিব অসুরকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। জড় জগৎ থেকে মুক্ত হয়ে, সুদামা গোলোকে প্রত্যাবর্তন করেন। এদিকে তুলসী তার পার্থিব রূপকে তুলসী বৃক্ষে রূপান্তরিত করেন ও বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মীরূপে বিষ্ণুর সাথে পুনরায় মিলিত হন।[৩]

তুলসী বিবাহ[সম্পাদনা]

তুলসী বিবাহ নামে পরিচিত একটি অনুষ্ঠান হিন্দুধর্মাবলম্বীগণ প্রবোধিনী একাদশী (কার্তিক শুক্লপক্ষের একাদশী চান্দ্র দিন) থেকে কার্তিক পূর্ণিমার মধ্যে সাধারণত একাদশ বা দ্বাদশ চান্দ্র দিবসে পালন করে থাকে। এটি দেবী তুলসীর আনুষ্ঠানিক বিবাহ যেখানে তুলসী উদ্ভিদ বিষ্ণুর প্রতীক শালগ্রামের (কৃষ্ণ বা রামের একটি প্রতিমূর্তি) সাথে শোভিত হন। বর - কন্যার আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা করা হয়। তারপর ঐতিহ্যগত হিন্দু বিবাহের রীতি অনুযায়ী বিবাহ দেওয়া হয়। এটি চার মাসের (চাতুর্মাস্য) সমাপ্তিকালকে চিহ্নিত করে এবং বর্ষাকালের সাথে মিলে যায়। এই সময় বিবাহ ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানের জন্য অশুভ বলে বিবেচিত হয়। এই দিনটি ভারতে বার্ষিক বিবাহ মরসুমের উদ্বোধন করে।[৪][৫]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. www.wisdomlib.org (২০১৮-০৫-১৭)। "Tulasivrindavana, Tulasīvṛndāvana, Tulasi-vrindavana, Tulasivrimdavana: 7 definitions"www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১২-০২ 
  2. Varadpande, Manohar Laxman (২০০৯)। Mythology of Vishnu and His Incarnations (ইংরেজি ভাষায়)। Gyan Publishing House। পৃষ্ঠা 25। আইএসবিএন 978-81-212-1016-4 
  3. Books, Kausiki (২০২১-১০-২৪)। Narada Purana Part 1: English Translation only without Slokas (ইংরেজি ভাষায়)। Kausiki Books। পৃষ্ঠা 115। 
  4. Flood, Gavin D. (২০০১)। The Blackwell companion to Hinduism। Wiley-Blackwell। পৃষ্ঠা 331। আইএসবিএন 978-0-631-21535-6 
  5. "Tulsi Vivah"Sanatan Sanstha (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০০-১০-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-৩০