ডিজিটাল ক্যামেরা



ডিজিটাল ক্যামেরা, যাকে ডিজিক্যামও বলা হয়,[১] হলো এমন একটি ক্যামেরা যা ডিজিটাল মেমোরিতে আলোকচিত্র বা ছবি ধারণ করে। একবিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্ন থেকে উৎপাদিত বেশিরভাগ ক্যামেরাই ডিজিটাল,[২] যা ফটোগ্রাফিক ফিল্ম বা ফিল্ম স্টকে ছবি ধারণকারী ক্যামেরাগুলোকে অনেকাংশে প্রতিস্থাপন করেছে। বর্তমানে স্মার্টফোনের মতো মোবাইল ডিভাইসগুলোতেও ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য অনেক সময় স্বতন্ত্র ক্যামেরার সমতুল্য বা তার চেয়েও বেশি হয়।[৩] তবে পেশাদার আলোকচিত্রী এবং যারা অত্যন্ত উচ্চ-মানের ছবি তুলতে আগ্রহী, তারা এখনও সাধারণত উন্নত মানের এবং হাই-ডেফিনিশন স্বতন্ত্র ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকেন।[৪]
ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ফিল্ম-ভিত্তিক ক্যামেরার অপটিক্যাল সিস্টেম বা আলোকীয় ব্যবস্থা প্রায় একই। উভয় ক্ষেত্রেই আলোকরশ্মিকে ফোকাস করে একটি ইমেজ পিকআপ ডিভাইসের (চিত্র গ্রাহক যন্ত্র) ওপর ফেলার জন্য পরিবর্তনযোগ্য ডায়াফ্রাম যুক্ত একটি লেন্স ব্যবহার করা হয়।[৫] ফিল্ম ক্যামেরার মতোই এখানেও ডায়াফ্রাম এবং শাটার নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় আলো প্রবেশ করতে দেয়, কিন্তু এখানে চিত্র গ্রাহক যন্ত্রটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কাজ করে। তবে ফিল্ম ক্যামেরার সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো, ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলার পরপরই তা পর্দায় দেখা যায় এবং মেমোরি থেকে ছবি সংরক্ষণ বা মুছে ফেলা যায়। অনেক ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে শব্দসহ ভিডিও ধারণ করাও সম্ভব। কিছু ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি কাটছাঁট (ক্রপ) এবং জোড়া লাগানোর (স্টিচ) সুবিধা থাকে এবং অন্যান্য প্রাথমিক ছবি সম্পাদনার কাজও করা যায়।[৬][৭]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ইমেজ সেন্সর বা চিত্র গ্রাহক ছিল চার্জ-কাপল্ড ডিভাইস (সিসিডি)। ১৯৬৯ সালে বেল ল্যাবসে উইলার্ড এস. বয়েল এবং জর্জ ই. স্মিথ মস ক্যাপাসিটর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এটি উদ্ভাবন করেন।[৮][৯] পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে অলিম্পাসে সুতোমু নাকামুরার দল এনমস অ্যাক্টিভ-পিক্সেল সেন্সর উদ্ভাবন করে,[১০][১১][১২] যা ১৯৯৩ সালে নাসা-র জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে সিএমওএস অ্যাক্টিভ-পিক্সেল সেন্সর (সিএমওএস সেন্সর) তৈরির পথ প্রশস্ত করে।[১৩][১১]
১৯৬০-এর দশকে জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির ইউজিন এফ. ল্যালি ডিজিটাল ছবি ধারণের জন্য মোজাইক ফটোসেন্সর ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছিলেন। তার ধারণা ছিল মহাকাশ ভ্রমণের সময় গ্রহ ও নক্ষত্রের ছবি তুলে মহাকাশচারীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা।[১৪] ১৯৭২ সালে টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টসের কর্মী উইলিস অ্যাডককের ফিল্মবিহীন ক্যামেরার (ইউএস পেটেন্ট ৪,০৫৭,৮৩০) মতোই,[১৫] এই ধারণার সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি তখনও গড়ে ওঠেনি।
১৯৭২ সালে ল্যান্ডস্যাট ১ উপগ্রহের মাল্টিস্পেক্ট্রাল স্ক্যানার (এমএসএস) পৃথিবীর ডিজিটাল ছবি তোলা শুরু করে। ১৯৬৯ সালে হিউজ এয়ারক্রাফট কোম্পানিতে ভার্জিনিয়া নরউডের নকশা করা এই এমএসএস একটি যান্ত্রিক ঘূর্ণায়মান আয়না এবং ২৪টি ডিটেক্টরের অ্যারে বা বিন্যাস ব্যবহার করে প্রতি চ্যানেলে ৬ বিট করে সবুজ, লাল এবং দুটি ইনফ্রারেড ব্যান্ড থেকে চিত্রের ডেটা সংগ্রহ ও প্রেরণ করত। ছয় বছর ধরে কাজ করার সময় এটি প্রতিদিন পৃথিবীকে প্রায় ১৪ বার প্রদক্ষিণ করে এবং ৩,০০,০০০-এরও বেশি ডিজিটাল ছবি প্রেরণ করে।
এছাড়াও ১৯৭২ সালে এমআইটি এর টমাস ম্যাকর্ড এবং ক্যালটেকের জেমস ওয়েস্টফাল যৌথভাবে টেলিস্কোপের সাথে ব্যবহারের উপযোগী একটি ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করেন। তাদের ১৯৭২ সালের "ফটোমিটার-ডিজিটাইজার সিস্টেম" একটি অ্যানালগ-টু-ডিজিটাল কনভার্টার এবং একটি ডিজিটাল ফ্রেম মেমোরি ব্যবহার করে গ্রহ ও নক্ষত্রের ২৫৬ x ২৫৬ পিক্সেলের ছবি সংরক্ষণ করত, যা পরে ডিজিটাল ম্যাগনেটিক টেপে রেকর্ড করা হতো। সিসিডি সেন্সর তখনও বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য না হওয়ায় এই ক্যামেরায় একটি সিলিকন ডায়োড ভিডিকন টিউব ডিটেক্টর ব্যবহার করা হতো। ডার্ক কারেন্ট কমানোর জন্য এটিকে শুষ্ক বরফ দিয়ে ঠান্ডা রাখা হতো, যা এক ঘণ্টা পর্যন্ত আলোকসম্পাত বা এক্সপোজার সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিত।
ক্রোমেমকো সাইক্লপস ছিল ১৯৭৫ সালে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে আসা সম্পূর্ণ ডিজিটাল একটি ক্যামেরা। এর নকশা পপুলার ইলেকট্রনিক্স ম্যাগাজিনের ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় শৌখিন নির্মাতাদের প্রজেক্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। এটিতে একটি ৩২×৩২ মেটাল–অক্সাইড–সেমিকন্ডাক্টর (এমওএস) ইমেজ সেন্সর ব্যবহৃত হতো, যা ছিল একটি পরিবর্তিত এমওএস ডায়নামিক র্যাম (ডি-র্যাম) মেমোরি চিপ।[১৬]
১৯৭৫ সালে ইস্টম্যান কোডাকের প্রকৌশলী স্টিভেন স্যাসন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ক্যামেরা তৈরি করেন, যাতে একটি মনোক্রোম ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর সিসিডি ইমেজ সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছিল।[১৭][১৮][১৯] প্রায় একই সময়ে, ১৯৭০-এর দশকে ফুজিফিল্ম সিসিডি প্রযুক্তির উন্নয়ন শুরু করে।[২০] এর প্রাথমিক ব্যবহার ছিল মূলত সামরিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে, এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা ও সংবাদমাধ্যমেও এর প্রয়োগ শুরু হয়।[২১]
১৯৮১ সালের আগস্টে সনি জনসমক্ষে প্রথম ফিল্মবিহীন এসএলআর (সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স) ক্যামেরা প্রদর্শন করে। সনি মাভিকা (ম্যাগনেটিক স্থির ভিডিও ক্যামেরাতে) ২৮০কে পিক্সেল বিশিষ্ট একটি ২/৩" ফরম্যাটের রঙিন-স্ট্রাইপযুক্ত সিসিডি সেন্সর এবং অ্যানালগ ভিডিও সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণ ও রেকর্ডিং ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছিল।[২২] মাভিকা ইলেকট্রনিক স্টিল ক্যামেরাটি এফএম-মডুলেটেড অ্যানালগ ভিডিও সংকেতগুলো একটি সদ্য উদ্ভাবিত ২" চৌম্বকীয় ফ্লপি ডিস্কে রেকর্ড করত, যার নাম দেওয়া হয়েছিল "মাভিপ্যাক"। ডিস্কের এই ফরম্যাটটি পরবর্তীতে "স্টিল ভিডিও ফ্লপি" বা "এসভিএফ" হিসেবে প্রমিত করা হয়।
১৯৮৬ সালের মে মাসে বাজারে আসা ক্যানন আরসি-৭০১ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রথম এসভিএফ ক্যামেরা (এবং প্রথম ইলেকট্রনিক এসএলআর ক্যামেরা)। এতে একটি এসএলআর ভিউফাইন্ডার এবং ৩৮০কে পিক্সেল বিশিষ্ট একটি ২/৩" ফরম্যাটের রঙিন সিসিডি সেন্সর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি খোলার যোগ্য ১১-৬৬ মিমি এবং ৫০-১৫০ মিমি জুম লেন্সের সাথে বিক্রি হতো।[২৩] পরবর্তী কয়েক বছরে আরও অনেক কোম্পানি এসভিএফ ক্যামেরা বিক্রি শুরু করে। এই অ্যানালগ ইলেকট্রনিক ক্যামেরাগুলোর মধ্যে নিকন কিউভি-১০০০সি উল্লেখযোগ্য, যাতে একটি এসএলআর ভিউফাইন্ডার এবং ৩৮০কে পিক্সেল বিশিষ্ট ২/৩" ফরম্যাটের একরঙা (মনোক্রোম) সিসিডি সেন্সর ছিল। এটি স্টিল ভিডিও ফ্লপিতে অ্যানালগ সাদাকালো ছবি রেকর্ড করত।[২৪][২৫]
১৯৮৮ সালের ফটোকিনা প্রদর্শনীতে ফুজিফিল্ম 'ফুজিক্স ডিএস-১পি' উপস্থাপন করে, যা ছিল প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্যামেরা। এটি সেমিকন্ডাক্টর মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে ডিজিটাল ছবি রেকর্ড করত। ক্যামেরাটির মেমোরি কার্ডে ২ মেগাবাইট এস-র্যাম (স্ট্যাটিক র্যান্ডম-অ্যাক্সেস মেমোরি) ধারণক্ষমতা ছিল এবং এটি দশটি পর্যন্ত ছবি জমা রাখতে পারত। ১৯৮৯ সালে ফুজিফিল্ম বাণিজ্যিকভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্যামেরা 'ফুজিক্স ডিএস এক্স' বাজারে আনে।[২০] ১৯৯৬ সালে তোশিবার ৪০ মেগাবাইট ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য গ্রহণ করা হয়।[২৬]
প্রথম বাণিজ্যিক ক্যামেরা ফোন ছিল কিওসেরা ভিজ্যুয়াল ফোন ভিপি-২১০, যা ১৯৯৯ সালের মে মাসে জাপানে মুক্তি পায়।[২৭] সে সময় এটিকে "মোবাইল ভিডিওফোন" বলা হতো,[২৮] এবং এতে একটি ১,১০,০০০-পিক্সেল বিশিষ্ট সামনের ক্যামেরা ছিল।[২৭] এটি ২০টি পর্যন্ত জেপিইজি ডিজিটাল ছবি সংরক্ষণ করতে পারত, যা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো যেত। এছাড়াও ফোনটি জাপানের পার্সোনাল হ্যান্ডি-ফোন সিস্টেম (পিএইচএস) সেলুলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে দুটি করে ছবি পাঠাতে সক্ষম ছিল।[২৭] ২০০০ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ায় মুক্তিপ্রাপ্ত স্যামসাং এসসিএইচ-ভি২০০ ফোনটিও ছিল বিল্ট-ইন ক্যামেরা যুক্ত প্রথম ফোনগুলোর মধ্যে একটি। এতে একটি টিএফটি লিকুইড-ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) ছিল এবং এটি ৩,৫০,০০০-পিক্সেল রেজোলিউশনে ২০টি পর্যন্ত ডিজিটাল ছবি সংরক্ষণ করতে পারত। তবে, এটি টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে ছবি পাঠাতে পারত না; ছবি দেখার জন্য কম্পিউটারের সাথে সংযোগের প্রয়োজন হতো।[২৯] সাধারণ বাজারের জন্য প্রথম ক্যামেরা ফোন ছিল জে এসএইচ০৪, যা শার্প জে-ফোন মডেল হিসেবে ২০০০ সালের নভেম্বরে জাপানে বিক্রি হয়।[৩০][২৯] এটি সেল ফোনের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ছবি পাঠাতে পারত।[৩১]
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ-মানের সেল ফোনগুলোতে একটি সমন্বিত বা ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল ক্যামেরা যুক্ত হয় এবং ২০১০-এর দশকের শুরুতে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল ক্যামেরা দেখা যায়।[৩২] ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে উৎপাদিত ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো টিকটক ট্রেন্ড এবং ইবে ও ইটসির মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসের কারণে ২০২৪-এর দশকের শুরুতে আবার জনপ্রিয়তা ফিরে পায়। এই প্রবণতাটি জেন জি এর মধ্যে নস্টালজিক এবং ওয়াই২কে নান্দনিকতার প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।[৩৩][৩৪]
ইমেজ সেন্সর
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ইমেজ সেন্সর মূলত দুই ধরনের হয়: সিসিডি এবং সিএমওএস। একটি সিসিডি সেন্সরে সমস্ত পিক্সেলের জন্য একটিই অ্যামপ্লিফায়ার থাকে, যেখানে সিএমওএস অ্যাক্টিভ-পিক্সেল সেন্সরের প্রতিটি পিক্সেলের নিজস্ব অ্যামপ্লিফায়ার থাকে।[৩৫] সিসিডির তুলনায় সিএমওএস সেন্সর কম শক্তি খরচ করে। ছোট সেন্সরযুক্ত ক্যামেরাগুলোতে ব্যাক-সাইড-ইলুমিনেটেড সিএমওএস (বিএসআই-সিএমওএস) সেন্সর ব্যবহার করা হয়। সেন্সরের ধরনের চেয়ে ক্যামেরার ইমেজ প্রসেসিং বা চিত্র প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা চূড়ান্ত ছবির গুণমান নির্ধারণে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[৩৬][৩৭]
সেন্সর রেজোলিউশন
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ক্যামেরার রেজোলিউশন প্রায়ই ইমেজ সেন্সর দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে যা আলোকে বিচ্ছিন্ন সংকেতে রূপান্তরিত করে। সেন্সরের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছবি যত উজ্জ্বল হয়, সেই পিক্সেলের জন্য পঠিত মান তত বেশি হয়। সেন্সরের ভৌত কাঠামোর ওপর নির্ভর করে একটি কালার ফিল্টার অ্যারে ব্যবহার করা হতে পারে, যা পূর্ণ-রঙিন ছবি তৈরি করতে ডেমোজাইকিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। সেন্সরের পিক্সেল সংখ্যা ক্যামেরার "পিক্সেল কাউন্ট" নির্ধারণ করে। একটি সাধারণ সেন্সরে, পিক্সেল কাউন্ট হলো সারি এবং কলামের সংখ্যার গুণফল। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১,০০০ বাই ১,০০০-পিক্সেল সেন্সরে ১,০০০,০০০ পিক্সেল বা ১ মেগাপিক্সেল থাকবে।
রেজোলিউশন অপশন বা বিকল্প
[সম্পাদনা]ফার্মওয়্যারের রেজোলিউশন নির্বাচক ব্যবহারকারীকে রেজোলিউশন কমানোর সুবিধা দেয়, যাতে প্রতি ছবির ফাইলের আকার কমানো যায় এবং লসলেস বা গুণমান-অক্ষুণ্ন ডিজিটাল জুম বাড়ানো যায়। সর্বনিম্ন রেজোলিউশন অপশনটি সাধারণত ৬৪০×৪৮০ পিক্সেল (০.৩ মেগাপিক্সেল) হয়।
রেজোলিউশন কমালে খালি জায়গায় আরও বেশি ছবি তোলার সুযোগ থাকে এবং স্টোরেজ পূর্ণ হতে দেরি হয়। এটি তখন কাজে লাগে যখন অতিরিক্ত ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস পাওয়া যায় না এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ছবি তোলার প্রয়োজন হয়, যেখানে স্টোরেজ বাঁচানোর সুবিধাটি ছবির বিস্তারিত কমে যাওয়ার অসুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।[৩৮]
ছবির তীক্ষ্ণতা বা শার্পনেস
[সম্পাদনা]ছবির তীক্ষ্ণতা বা শার্পনেস এর স্পষ্ট বিবরণ, সুনির্দিষ্ট রেখা এবং প্রদর্শিত কনট্রাস্ট বা বৈপরীত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শার্পনেস ডিএসএলআর ক্যামেরার একাধিক সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে, যেমন, এর আইএসও , রেজোলিউশন, লেন্স এবং লেন্স সেটিংস, ছবির পরিবেশ এবং এর পোস্ট-প্রসেসিং বা পরবর্তী সম্পাদনা। ছবি অতিরিক্ত শার্প বা তীক্ষ্ণ হতে পারে, কিন্তু কখনোই ফোকাসে অতিরিক্ত হতে পারে না।
ডিজিটাল ক্যামেরার রেজোলিউশন ডিজিটাল সেন্সর দ্বারা নির্ধারিত হয়। ডিজিটাল সেন্সর নির্দেশ করে যে, ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে গৃহিত নয়েজ এবং গ্রেইনের সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে উচ্চ স্তরের তীক্ষ্ণতা তৈরি করা সম্ভব। ডিজিটাল স্থিরচিত্র এবং ডিজিটাল চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে রেজোলিউশন নির্ধারিত হয় দূরত্বের ভিত্তিতে বিস্তারিত বা ডিটেইল বোঝার ক্ষমতার মাধ্যমে, যা ফ্রেমের আকার, পিক্সেলের ধরন, সংখ্যা এবং বিন্যাসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। যদিও কিছু ডিএসএলআর ক্যামেরার রেজোলিউশন সীমিত, তবুও ছবির উপযুক্ত শার্পনেস না থাকা প্রায় অসম্ভব। ছবি তোলার সময় আইএসও নির্বাচন ছবির গুণমানকে প্রভাবিত করে; উচ্চ আইএসও সেটিংসে নয়েজ বা গোলযোগ বেড়ে যাওয়ায় ছবি কম শার্প হয়, আবার খুব কম নয়েজ থাকলেও ছবি শার্প নাও হতে পারে।[৩৯]
ছবি ধারণ করার পদ্ধতি
[সম্পাদনা]

প্রথম ডিজিটাল ব্যাক প্রবর্তনের পর থেকে ছবি ধারণের তিনটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যার প্রতিটিই সেন্সর এবং কালার ফিল্টারের হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
সিঙ্গেল-শট বা একবারে ছবি ধারণের ব্যবস্থায় হয় একটি বেয়ার ফিল্টার মোজাইকসহ একটি সেন্সর চিপ ব্যবহৃত হয়, অথবা তিনটি পৃথক ইমেজ সেন্সর (লাল, সবুজ এবং নীল এই তিনটি মৌলিক সংযোজক রঙের প্রতিটির জন্য একটি করে) ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর ওপর একটি বিম স্প্লিটার বা আলোকরশ্মি বিভাজকের মাধ্যমে একই ছবি ফেলা হয় (দেখুন থ্রি-সিসিডি ক্যামেরা)।
মাল্টি-শট পদ্ধতিতে লেন্সের অ্যাপারচার বা রন্ধ্র তিন বা ততোধিকবার খোলার মাধ্যমে সেন্সরকে ছবির সামনে উন্মুক্ত করা হয়। মাল্টি-শট কৌশল প্রয়োগের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিটি ছিল মূলত একটি একক ইমেজ সেন্সর ব্যবহার করা, যেখানে সংযোজক রঙের তথ্য পাওয়ার জন্য সেন্সরের সামনে দিয়ে পর্যায়ক্রমে তিনটি ফিল্টার চালনা করা হতো। আরেকটি মাল্টিপল-শট পদ্ধতির নাম হলো মাইক্রোস্ক্যানিং। এই পদ্ধতিতে বেয়ার ফিল্টারসহ একটি একক সেন্সর চিপ ব্যবহৃত হয় এবং লেন্সের ফোকাস তলে সেন্সরটিকে শারীরিকভাবে সরিয়ে চিপের নিজস্ব রেজোলিউশনের চেয়ে উচ্চতর রেজোলিউশনের ছবি তৈরি করা হয়। তৃতীয় একটি সংস্করণে চিপের ওপর কোনো বেয়ার ফিল্টার ছাড়াই এই দুটি পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়।
তৃতীয় পদ্ধতিটিকে স্ক্যানিং বলা হয় কারণ এতে সেন্সরটি ফোকাল প্লেন বা ফোকাস তল বরাবর এমনভাবে সরে যায়, যা অনেকটা ইমেজ স্ক্যানারের সেন্সরের মতো। স্ক্যানিং ক্যামেরার লিনিয়ার বা ট্রাই-লিনিয়ার সেন্সরগুলোতে ফটোসেন্সরের মাত্র একটি সারি, অথবা তিনটি রঙের জন্য তিনটি সারি ব্যবহার করা হয়। সেন্সর সরিয়ে (উদাহরণস্বরূপ, যখন কালার কো-সাইট স্যাম্পলিং ব্যবহার করা হয়) অথবা পুরো ক্যামেরাটি ঘুরিয়ে স্ক্যানিং সম্পন্ন করা যেতে পারে। একটি ডিজিটাল ঘূর্ণায়মান লাইন ক্যামেরা অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি প্রদান করে।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিঙ্গেল-শট ক্যামেরা এবং ইমেজ ফাইল প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের উন্নতির ফলে সিঙ্গেল-শট ক্যামেরাগুলো প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে, এমনকি উচ্চমানের বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফিতেও।
ফিল্টার মোজাইক, ইন্টারপোলেশন এবং অ্যালিয়াসিং
[সম্পাদনা]
বর্তমানের বেশিরভাগ সাধারণ ডিজিটাল ক্যামেরায় একটি বেয়ার ফিল্টার মোজাইকের সাথে অপটিক্যাল অ্যান্টি-অ্যালিয়াসিং ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। এটি বিভিন্ন প্রাথমিক রঙের ছবির কম স্যাম্পলিংয়ের কারণে সৃষ্ট অ্যালিয়াসিং (বিকৃতি) কমাতে সাহায্য করে। আরজিবি ছবির পূর্ণাঙ্গ ডেটা তৈরির উদ্দেশ্যে রঙের তথ্য ইন্টারপোলেট বা প্রক্ষেপণ করার জন্য একটি ডেমোজাইকিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।
যেসব ক্যামেরা বিম-স্প্লিটার সিঙ্গেল-শট ৩সিসিডি পদ্ধতি, থ্রি-ফিল্টার মাল্টি-শট পদ্ধতি, কালার কো-সাইট স্যাম্পলিং বা ফোভিয়ন এক্স৩ সেন্সর ব্যবহার করে, সেগুলোতে অ্যান্টি-অ্যালিয়াসিং ফিল্টার বা ডেমোজাইকিংয়ের প্রয়োজন হয় না।
ক্যামেরার ভেতরের ফার্মওয়্যার, কিংবা অ্যাডোবি ক্যামেরা র এর মতো 'র' কনভার্টার প্রোগ্রামের সফটওয়্যার সেন্সর থেকে প্রাপ্ত 'র' বা অপরিশোধিত ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি তৈরি করে, কারণ আরজিবি কালার মডেলের জন্য প্রতিটি পিক্সেলের তিনটি তীব্রতার মান প্রয়োজন: লাল, সবুজ এবং নীলের জন্য একটি করে (অন্যান্য কালার মডেল ব্যবহৃত হলে, সেখানেও প্রতি পিক্সেলের জন্য তিন বা ততোধিক মানের প্রয়োজন হয়)। একটি একক সেন্সর উপাদান একই সাথে এই তিনটি তীব্রতা রেকর্ড করতে পারে না, তাই প্রতিটি পিক্সেলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রঙ বাছাই করতে একটি কালার ফিল্টার অ্যারে (সিএফএ) ব্যবহার করতে হয়।
বেয়ার ফিল্টার প্যাটার্ন হলো আলোক ফিল্টারের একটি পুনরাবৃত্তাকার ২x২ মোজাইক প্যাটার্ন, যার বিপরীত কোণগুলোতে সবুজ এবং অন্য দুটি অবস্থানে লাল ও নীল রঙ থাকে। এতে সবুজের উচ্চ অনুপাত মানব দৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের সুবিধা গ্রহণ করে, কারণ মানুষের চোখ উজ্জ্বলতা মূলত সবুজ থেকেই নির্ধারণ করে এবং রঙের আভা বা সম্পৃক্ততার চেয়ে উজ্জ্বলতার প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল। কখনও কখনও ৪-রঙের ফিল্টার প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রায়শই সবুজের দুটি ভিন্ন আভা থাকে। এটি সম্ভাব্য আরও নির্ভুল রঙ প্রদান করে, তবে এর জন্য কিছুটা জটিল ইন্টারপোলেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।[৪০]
প্রতিটি পিক্সেলের জন্য যে রঙের তীব্রতার মানগুলো ধারণ করা হয়নি, তা পার্শ্ববর্তী পিক্সেলগুলোর মান থেকে ইন্টারপোলেট বা অনুমান করে নেওয়া যায়, যা নির্ণীয়মান রঙটিকে প্রতিনিধিত্ব করে।[৪১]
সেন্সরের আকার এবং দৃষ্টিকোণ
[সম্পাদনা]যেসব ক্যামেরার ডিজিটাল ইমেজ সেন্সর সাধারণ ৩৫ মিমি ফিল্মের আকারের চেয়ে ছোট, একই ফোকাস দৈর্ঘ্যের লেন্স ব্যবহার করলে সেগুলোর ফিল্ড বা দৃষ্টিকোণ (অ্যাঙ্গেল অফ ভিউ) ছোট হয়। এর কারণ হলো দৃষ্টিকোণ বা ভিউ অ্যাঙ্গেল লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য এবং ব্যবহৃত সেন্সর বা ফিল্মের আকার ,উভয়ের ওপরই নির্ভর করে।

ক্রপ ফ্যাক্টর বা কর্তন গুণক বিষয়টি ৩৫ মিমি ফিল্ম ফরম্যাটের সাপেক্ষে হিসাব করা হয়। যদি ছোট সেন্সর ব্যবহার করা হয়, যেমনটা বেশিরভাগ ডিজিক্যামে দেখা যায়, তবে ৩৫ মিমি ফুল-ফ্রেম ফরম্যাটের তুলনায় সেন্সর দ্বারা দৃশ্যের ক্ষেত্রটি কেটে ছোট বা 'ক্রপ' করা হয়। দৃশ্যের ক্ষেত্রের এই সংকীর্ণ হয়ে যাওয়াকেই ক্রপ ফ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে; এটি এমন একটি গুণক যা নির্দেশ করে যে, ৩৫ মিমি ফিল্ম ক্যামেরায় একই দৃশ্য পেতে হলে কতটা দীর্ঘ ফোকাস দৈর্ঘ্যের লেন্স প্রয়োজন হবে। ফুল-ফ্রেম ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরাগুলো ৩৫ মিমি ফিল্মের ফ্রেমের সমান আকারের সেন্সর ব্যবহার করে।
অ্যাক্টিভ পিক্সেল সেন্সর ব্যবহারকারী ডিএসএলআর-গুলোতে ফিল্ড অফ ভিউ ক্রপের সাধারণ মানগুলোর মধ্যে রয়েছে, কিছু ক্যানন (এপিএস এইচ) সেন্সরের জন্য ১.৩x, নিকন, পেন্ট্যাক্স ও কোনিকা মিনোল্টা এবং ফুজিফিল্ম সেন্সরে ব্যবহৃত সনি এপিএস-সি সেন্সরের জন্য ১.৫x, বেশিরভাগ ক্যানন সেন্সরের জন্য ১.৬ (এপিএস-সি), সিগমা-র ফোভিয়ন সেন্সরের জন্য ~১.৭x এবং অলিম্পাস ও প্যানাসনিক দ্বারা বর্তমানে ব্যবহৃত কোডাক ও প্যানাসনিক ৪/৩-ইঞ্চি সেন্সরের জন্য ২x। ননএসএলআর সাধারণ ব্যবহারকারীদের কম্প্যাক্ট এবং ব্রিজ ক্যামেরাগুলোর ক্রপ ফ্যাক্টর আরও বেশি, যা প্রায়শই ৪x বা তার বেশি হয়।

| ধরন | প্রস্থ (মিমি) | উচ্চতা (মিমি) | আকার (মিমি²) |
|---|---|---|---|
| ১/৩.৬" | ৪.০০ | ৩.০০ | ১২.০ |
| ১/৩.২" | ৪.৫৪ | ৩.৪২ | ১৫.৫ |
| ১/৩" | ৪.৮০ | ৩.৬০ | ১৭.৩ |
| ১/২.৭" | ৫.৩৭ | ৪.০৪ | ২১.৭ |
| ১/২.৫" | ৫.৭৬ | ৪.২৯ | ২৪.৭ |
| ১/২.৩" | ৬.১৬ | ৪.৬২ | ২৮.৫ |
| ১/২" | ৬.৪০ | ৪.৮০ | ৩০.৭ |
| ১/১.৮" | ৭.১৮ | ৫.৩২ | ৩৮.২ |
| ১/১.৭" | ৭.৬০ | ৫.৭০ | ৪৩.৩ |
| ২/৩" | ৮.৮০ | ৬.৬০ | ৫৮.১ |
| ১" | ১২.৮ | ৯.৬ | ১২৩ |
| ৪/৩" | ১৮.০ | ১৩.৫ | ২৪৩ |
| এপিএস-সি | ২৫.১ | ১৬.৭ | ৪১৯ |
| ৩৫ মিমি | ৩৬ | ২৪ | ৮৬৪ |
| ব্যাক (Back) | ৪৮ | ৩৬ | ১৭২৮ |
সেন্সর রেজোলিউশন
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ক্যামেরার রেজোলিউশন প্রায়ই ইমেজ সেন্সর দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, যা আলোকে বিচ্ছিন্ন সংকেতে রূপান্তরিত করে। সেন্সরের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছবি যত উজ্জ্বল হয়, সেই পিক্সেলের জন্য পঠিত মান তত বেশি হয়। সেন্সরের ভৌত কাঠামোর ওপর নির্ভর করে, একটি কালার ফিল্টার অ্যারে ব্যবহার করা হতে পারে, যা পূর্ণ-রঙিন ছবি পুনর্গঠন করতে ডেমোজাইকিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। সেন্সরের পিক্সেল সংখ্যা ক্যামেরার "পিক্সেল কাউন্ট" নির্ধারণ করে। একটি সাধারণ সেন্সরে, পিক্সেল কাউন্ট হলো সারি এবং কলামের সংখ্যার গুণফল। পিক্সেলগুলো বর্গাকার এবং প্রায়শই ১-এর সমান হয়, উদাহরণস্বরূপ, একটি ১,০০০ বাই ১,০০০-পিক্সেল সেন্সরে ১,০০০,০০০ পিক্সেল বা ১ মেগাপিক্সেল থাকবে। ফুল-ফ্রেম সেন্সরগুলোতে (অর্থাৎ, ২৪ মিমি × ৩৬ মিমি), কিছু ক্যামেরা ২০–২৫ মিলিয়ন পিক্সেলের ছবি প্রদান করে যা ৭.৫–মিমি (সম্ভবত µm বা মাইক্রোমিটার) ফোটোসাইট বা ৫০ গুণ বড় পৃষ্ঠতল দ্বারা ধারণ করা হয়েছিল। [৪৩]

ডিজিটাল ক্যামেরার প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ক্যামেরা বিভিন্ন আকার, দাম এবং সক্ষমতায় পাওয়া যায়। সাধারণ কাজের ডিজিটাল ক্যামেরা ছাড়াও, মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজিং সরঞ্জাম এবং অ্যাস্ট্রোগ্রাফ-সহ বিশেষায়িত ক্যামেরাগুলো বৈজ্ঞানিক, সামরিক, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।


কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলো বহনযোগ্য (পকেটে রাখার মতো) হিসেবে তৈরি এবং সাধারণ "স্ন্যাপশট" বা চটজলদি ছবি তোলার জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। পয়েন্ট-এন্ড-শুট ক্যামেরাগুলো সাধারণত এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
অনেক ক্যামেরায় একটি সংকোচনযোগ্য বা রিট্র্যাক্টেবল লেন্সের ব্যবস্থা থাকে যা অপটিক্যাল জুম সুবিধা দেয়। বেশিরভাগ মডেলে, একটি স্বয়ংক্রিয় লেন্স কভার লেন্সটিকে ধুলোবালি ও বৈরী পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। বেশিরভাগ মজবুত বা পানি-প্রতিরোধী মডেলগুলোর লেন্স ভেতরে গোটানো যায় না এবং সুপারজুম ক্ষমতা সম্পন্ন বেশিরভাগ লেন্স পুরোপুরি গোটানো সম্ভব হয় না।
কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলো সাধারণত সহজে ব্যবহারযোগ্য করে ডিজাইন করা হয়। প্রায় সবগুলিতেই একটি স্বয়ংক্রিয় মোড বা "অটো মোড" থাকে, যা ব্যবহারকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যামেরার সমস্ত সেটিংস ঠিক করে দেয়। কিছু ক্যামেরায় ম্যানুয়াল বা কায়িক নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও থাকে। কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরাগুলোতে সাধারণত একটি ছোট সেন্সর থাকে যা আকার ছোট রাখা ও সরলতার বিনিময়ে ছবির মানের সাথে কিছুটা আপস করে; ছবিগুলো সাধারণত শুধুমাত্র লসি কমপ্রেশন (জেপিইজি) ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা যায়। অধিকাংশের মধ্যে একটি অন্তর্নির্মিত ফ্ল্যাশ থাকে যা সাধারণত কম শক্তির হয় এবং কাছের বস্তুর জন্য পর্যাপ্ত। কিছু উচ্চ-মানের কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরায় বাহ্যিক ফ্ল্যাশ সংযোগ করার জন্য একটি হট সু থাকে। একটি সমন্বিত এলসিডি (এলসিডি) তে ছবির ফ্রেম ঠিক করার জন্য প্রায় সর্বদাই লাইভ প্রিভিউ ব্যবহৃত হয়। স্থিরচিত্র তোলার পাশাপাশি প্রায় সব কম্প্যাক্ট ক্যামেরারই ভিডিও রেকর্ড করার ক্ষমতা থাকে।
কম্প্যাক্টগুলোতে প্রায়শই ম্যাক্রো ক্ষমতা এবং জুম লেন্স থাকে, তবে জুমের পরিসর (৩০ গুণ পর্যন্ত) সাধারণত ক্যান্ডিড ফটোগ্রাফির জন্য যথেষ্ট হলেও তা ব্রিজ ক্যামেরা (৬০ গুণের বেশি) বা ডিএসএলআর ক্যামেরার পরিবর্তনযোগ্য লেন্সের (যা অনেক বেশি দামে পাওয়া যায়) তুলনায় কম।[৪৪] কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার অটোফোকাস সিস্টেম সাধারণত প্রধান ইমেজের লাইভ প্রিভিউ ফিড থেকে প্রাপ্ত ইমেজ ডেটা ব্যবহার করে কনট্রাস্ট-ডিটেকশন পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিছু কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা হাইব্রিড অটোফোকাস সিস্টেম ব্যবহার করে, যা সাধারণত ডিএসএলআর এ দেখা যায়।
সাধারণত, কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো লেন্সের মধ্যে প্রায় নিঃশব্দ লিফ শাটার ব্যবহার করে, কিন্তু স্কিউমরফিক বা যান্ত্রিক অনুভূতির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম ক্যামেরার শব্দ বাজায়। কম খরচ এবং ছোট আকারের জন্য, এই ক্যামেরাগুলো সাধারণত এমন ইমেজ সেন্সর ফরম্যাট ব্যবহার করে যার কর্ণ ৬ থেকে ১১ মিমি, যা ৭ থেকে ৪ ক্রপ ফ্যাক্টরের সমান। এর ফলে কম আলোতে এদের পারফরম্যান্স দুর্বল হয়, ডেপথ অফ ফিল্ড বেশি হয়, সাধারণত খুব কাছ থেকে ফোকাস করার ক্ষমতা থাকে এবং বড় সেন্সর ব্যবহারকারী ক্যামেরার তুলনায় এর যন্ত্রাংশগুলো ছোট হয়। কিছু ক্যামেরা বড় সেন্সর ব্যবহার করে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের ফুল-ফ্রেম সেন্সরযুক্ত কম্প্যাক্ট ক্যামেরা, যেমন সনি সাইবার-শট ডিএসসি-আরএক্স১, তবে এদের সক্ষমতা ডিএসএলআর এর কাছাকাছি।
ক্যামেরার মডেলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জিপিএস, কম্পাস, ব্যারোমিটার এবং অল্টিমিটার।[৪৫] ২০১০ সাল থেকে, কিছু কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা থ্রিডি স্থিরচিত্র তুলতে সক্ষম।[৪৬] এই থ্রি-ডি কম্প্যাক্ট স্টেরিও ক্যামেরাগুলো ডুয়াল লেন্স বা এমনকি সিঙ্গেল লেন্স দিয়ে থ্রিডি প্যানোরামিক ছবি তুলতে পারে, যা থ্রি-ডি টিভিতে দেখা যায়।
২০১৩ সালে, সনি ডিসপ্লে ছাড়া দুটি অ্যাড-অন ক্যামেরা মডেল বাজারে ছাড়ে, যা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সাথে ব্যবহার করা হয় এবং ওয়াইফাই এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।[৪৭]
মজবুত কম্প্যাক্ট ক্যামেরা
[সম্পাদনা]মজবুত বা রাগড কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলোতে সাধারণত জলমগ্নতা, অত্যধিক গরম ও ঠান্ডা অবস্থা, আঘাত এবং চাপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করতে যথাক্রমে পানিনিরোধী , হিমাঙ্করোধী , তাপরোধী , আঘাতরোধী এবং চাপরোধী শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। প্রায় সব প্রধান ক্যামেরা নির্মাতার এই ক্যাটাগরিতে অন্তত একটি পণ্য রয়েছে। কিছু ক্যামেরা ১০০ ফুট (৩০ মিটার) পর্যন্ত গভীর পানিতেও নিরাপদ থাকে;[৪৮] অন্যগুলো মাত্র ১০ ফুট (৩ মিটার) পর্যন্ত, তবে খুব কম ক্যামেরাই পানিতে ভাসতে পারে। রাগড ক্যামেরাগুলোতে সাধারণ কম্প্যাক্ট ক্যামেরার কিছু বৈশিষ্ট্যের অভাব থাকতে পারে, তবে এদের ভিডিও করার ক্ষমতা থাকে এবং অধিকাংশই শব্দ রেকর্ড করতে পারে। বেশিরভাগেই ইমেজ স্টেবিলাইজেশন বা ছবির কম্পন রোধ এবং বিল্ট-ইন ফ্ল্যাশ থাকে। টাচস্ক্রিন এলসিডি এবং জিপিএস পানির নিচে কাজ করে না।
অ্যাকশন ক্যামেরা
[সম্পাদনা]গো প্রো এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের অ্যাকশন ক্যামেরাগুলো বেশ মজবুত ও ছোট আকারের হয়, যা সহজেই হেলমেট, হাত বা বাইসাইকেলের সাথে যুক্ত করা যায়। অধিকাংশ ক্যামেরায় ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বা বিস্তৃত কোণ এবং ফিক্সড ফোকাস বা নির্দিষ্ট ফোকাস থাকে এবং এগুলোতে সাধারণত শব্দের সাথে স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করা যায়।
৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা
[সম্পাদনা]৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা দুটি লেন্স পিঠাপিঠি ব্যবহার করে একই সময়ে ছবি বা ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য ধারণ করতে পারে। রিকো থিটা এস, নিকন কিমিশন ৩৬০ এবং স্যামসাং গিয়ার ৩৬০ এ ধরনের কিছু ক্যামেরা। নিকো৩৬০ ২০১৬ সালে বাজারে আসে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা হিসেবে দাবি করা হয়, যার আকার ৪৬ x ৪৬ x ২৮ মিমি (১.৮ x ১.৮ x ১.১ ইঞ্চি) এবং দাম ২০০ ডলারের কম। এতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মোড, বিল্ট-ইন স্টিচিং, ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা সম্ভব। এটি পানিনিরোধী বা ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট হওয়ায় নিকো৩৬০ অ্যাকশন ক্যামেরা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।[৪৯]
ব্রিজ ক্যামেরা
[সম্পাদনা]
ব্রিজ ক্যামেরাগুলো দেখতে অনেকটা ডিএসএলআর এর মতো হয় এবং কখনও কখনও এদের ডিএসএলআর-আকৃতির বা ডিএসএলআর-সদৃশ বলা হয়। এগুলো ডিএসএলআর এর মতো কিছু সুবিধা প্রদান করে, কিন্তু কম্প্যাক্ট ক্যামেরার মতোই এতে ফিক্সড বা স্থায়ী লেন্স এবং ছোট সেন্সর ব্যবহার করা হয়। কিছু কম্প্যাক্ট ক্যামেরায় পিএসএএম মোডও থাকে। ছবি ফ্রেম করার জন্য অধিকাংশ ক্যামেরায় লাইভ প্রিভিউ ব্যবহার করা হয়। এদের অটোফোকাস ব্যবস্থা সাধারণত কম্প্যাক্ট ক্যামেরার মতোই কনট্রাস্ট-ডিটেক্ট বা বৈপরীত্য-শনাক্তকরণ পদ্ধতির হয়, তবে অনেক ব্রিজ ক্যামেরায় ম্যানুয়াল ফোকাস মোড থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও ভালো নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ফোকাস রিং দেওয়া থাকে।
বড় শারীরিক আকার এবং ছোট সেন্সরের কারণে এতে সুপারজুম এবং প্রশস্ত অ্যাপারচার বা রন্ধ্র ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়। ব্রিজ ক্যামেরাগুলোতে সাধারণত একটি ইমেজ স্টেবিলাইজেশন বা চিত্র স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থা থাকে, যা হাতে ধরে দীর্ঘ সময় আলোকসম্পাত বা এক্সপোজারে ছবি তুলতে সাহায্য করে; এটি কখনও কখনও কম আলোতে ডিএসএলআর এর চেয়েও ভালো কাজ করে।
২০১৪ সাল পর্যন্ত, সেন্সরের আকারের ভিত্তিতে ব্রিজ ক্যামেরাগুলো প্রধানত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। প্রথমত, প্রথাগত ১/২.৩" সেন্সর (ইমেজ সেন্সর ফরম্যাট অনুযায়ী পরিমাপকৃত), যা লেন্স ডিজাইনে নমনীয়তা দেয় এবং হাতে ধরে ব্যবহারের উপযোগী জুম (২০ থেকে ২৪ মিমি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল থেকে ১০০০ মিমি পর্যন্ত সুপার টেলিফটো; ৩৫ মিমি সমতুল্য) সুবিধা প্রদান করে। দ্বিতীয়ত, ১" সেন্সর, যা বিশেষ করে কম আলোতে (উচ্চ আইএও-তে) ভালো মানের ছবি দেয় কিন্তু লেন্স ডিজাইনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। ফলে জুম লেন্সগুলো ২০০ মিমি (স্থির অ্যাপারচার, যেমন সনি আরএক্স১০) বা ৪০০ মিমি (পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার, যেমন প্যানাসনিক লুমিক্স এফজেড১০০০) সমতুল্য ফোকাস দূরত্বে সীমাবদ্ধ থাকে, যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের সমান।
কিছু ব্রিজ ক্যামেরায় লেন্স থ্রেড থাকে, যাতে ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা টেলিফটো কনভার্টার এবং ইউভি বা সার্কুলার পোলারাইজিং ফিল্টার ও লেন্স হুডের মতো আনুষাঙ্গিক যুক্ত করা যায়। ডিসপ্লে বা ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার (ইভিএফ) দেখে দৃশ্য বা সিন কম্পোজ করা হয়। অধিকাংশ ক্যামেরার শাটার ল্যাগ বা বিলম্ব ডিএসএলআর এর চেয়ে সামান্য বেশি হয়। জেপিইজি সাপোর্টের পাশাপাশি অনেক ক্যামেরা 'র' ফরম্যাটে ছবি সংরক্ষণ করতে পারে।[ক] বেশিরভাগ ক্যামেরায় বিল্ট-ইন ফ্ল্যাশ থাকে, তবে খুব কম সংখ্যক মডেলেই হটশু দেখা যায়।
উজ্জ্বল রোদ বা আলোতে, একটি ভালো মানের কম্প্যাক্ট ক্যামেরা এবং ডিজিটাল এসএলআর এর ছবির মানের পার্থক্য নগণ্য, তবে ব্রিজ ক্যামেরাগুলো বেশি বহনযোগ্য, দাম কম এবং জুম করার ক্ষমতা বেশি। তাই পেশাদার মানের ছবি প্রয়োজন না হলে, বাইরের দিনের বেলার কার্যকলাপের জন্য ব্রিজ ক্যামেরা বেশি উপযোগী হতে পারে।[৫০]
মিররলেস ইন্টারচেঞ্জেবল-লেন্স ক্যামেরা
[সম্পাদনা]

২০০৮ সালের শেষের দিকে, এক নতুন ধরনের ক্যামেরার আবির্ভাব ঘটে, যাকে বলা হয় মিররলেস ইন্টারচেঞ্জেবল-লেন্স ক্যামেরা। এটি কৌশলগতভাবে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা যার রিফ্লেক্স মিরর বা প্রতিফলক আয়নার প্রয়োজন হয় না, যা ডিএসএলআর-এর একটি মূল উপাদান। একটি সাধারণ ডিএসএলআর-এ আয়না থাকে যা লেন্স থেকে আসা আলোকে প্রতিফলিত করে অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডারে পাঠায়, কিন্তু মিররলেস ক্যামেরায় কোনো অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডার থাকে না। ইমেজ সেন্সরটি সর্বদা আলোর সংস্পর্শে থাকে, যা ব্যবহারকারীকে পেছনের এলসিডি স্ক্রিন বা ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডারে (ইভিএফ) ছবির ডিজিটাল প্রিভিউ দেখায়।[৫১]
লেন্স রিফ্লেক্স সিস্টেম না থাকায় এগুলো ডিএসএলআর এর চেয়ে সহজ এবং আরও সংহত বা কম্প্যাক্ট হয়। মিল্কস (এমআইএলসি) বা সংক্ষেপে মিররলেস ক্যামেরাগুলো ব্র্যান্ড ও নির্মাতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সেন্সর আকারের হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ছোট ১/২.৩ ইঞ্চি সেন্সর, যা সাধারণত মূল পেন্ট্যাক্স কিউ এর মতো ব্রিজ ক্যামেরাগুলোতে ব্যবহৃত হয় (পরবর্তী পেন্ট্যাক্স কিউ সংস্করণগুলোতে সামান্য বড় ১/১.৭ ইঞ্চি সেন্সর রয়েছে); ১-ইঞ্চি সেন্সর; মাইক্রো ফোর থার্ডস সেন্সর; সনি এনইএক্স সিরিজ, আলফা "ডিএসএলআর-সদৃশ", ফুজিফিল্ম এক্স সিরিজ, পেন্ট্যাক্স কে-০১ এবং ক্যানন ইওএস এমে ব্যবহৃত এপিএস-সি সেন্সর; এবং সনি আলফা ৭ এর মতো কিছু ক্যামেরা ফুল ফ্রেম (৩৫ মিমি) সেন্সর ব্যবহার করে। হাসেলব্লাড এক্স১ডি হলো প্রথম মিডিয়াম ফরম্যাট মিররলেস ক্যামেরা। অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডারের অভাব পূরণের জন্য কিছু মিল্ক ক্যামেরায় পৃথক ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার থাকে। অন্যান্য ক্যামেরায় কম্প্যাক্ট ক্যামেরার মতোই পেছনের ডিসপ্লে প্রাথমিক ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ডিএসএলআর এর তুলনায় মিররলেস ক্যামেরার একটি অসুবিধা হলো এর ব্যাটারির স্থায়িত্ব, কারণ ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার বেশি শক্তি খরচ করে। তবে কিছু মডেলে ক্যামেরার সেটিংস পরিবর্তন করে এটি কমানো যায়।[৫২] অনেক মিররলেস ক্যামেরায় হটশু থাকে।
অলিম্পাস এবং প্যানাসনিক অনেক মাইক্রো ফোর থার্ডস ক্যামেরা বাজারে এনেছে যেগুলোর ইন্টারচেঞ্জেবল বা বিনিময়যোগ্য লেন্স কোনো অ্যাডাপ্টার ছাড়াই একে অপরের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে নিজস্ব মাউন্ট বা প্রোপারাইটারি মাউন্ট থাকে। ২০১৪ সালে কোডাক তাদের প্রথম মাইক্রো ফোর থার্ড সিস্টেম ক্যামেরা বাজারে আনে।[৫৩]
২০১৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত[হালনাগাদ], মিররলেস ক্যামেরাগুলো তাদের সরলতা, কিছু ডিএসএলআর লেন্সের সাথে সামঞ্জস্যতা এবং বর্তমানের ডিএসএলআর এর সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো ফিচারের কারণে শৌখিন এবং পেশাদার, উভয় শ্রেণির আলোকচিত্রীদের কাছেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।[৫৪]
মডুলার ক্যামেরা
[সম্পাদনা]
বিনিময়যোগ্য লেন্সযুক্ত বেশিরভাগ ডিজিটাল ক্যামেরায় কোনো না কোনো লেন্স-মাউন্ট থাকলেও, বেশ কিছু মডুলার ক্যামেরা রয়েছে যেখানে শাটার এবং সেন্সর লেন্স মডিউলের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রথম মডুলার ক্যামেরা ছিল ১৯৯৬ সালের মিনোল্টা ডিমেজ ভি , এরপর ১৯৯৮ সালে আসে মিনোল্টা ডিমেজ ইএক্স ১৫০০ এবং ১৯৯৯ সালে মিনোল্টা মেটাফ্ল্যাশ ৩ডি ১৫০০। ২০০৯ সালে রিকো রিকো জিএক্সআর মডুলার ক্যামেরা বাজারে আনে।
২০১৩ সালের সিইএস এ সাকার ইন্টারন্যাশনাল পোলারয়েড আইএম১৮৩৬ ঘোষণা করে, যা ছিল ১৮ মেগাপিক্সেল এবং ১" সেন্সরযুক্ত বিনিময়যোগ্য সেন্সর-লেন্স ক্যামেরা। ক্যামেরাটির সাথে মাইক্রো ফোর থার্ডস, নিকন এবং কে-মাউন্ট লেন্সের অ্যাডাপ্টার সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল।[৫৫]
স্মার্টফোনের জন্য বেশ কিছু অ্যাড-অন বা বাড়তি ক্যামেরা মডিউল রয়েছে, এগুলোকে লেন্স-স্টাইল ক্যামেরা (লেন্স ক্যামেরা বা স্মার্ট লেন্স) বলা হয়। এগুলোতে ডিএসএলআর লেন্সের আকৃতির মডিউলের ভেতরে ডিজিটাল ক্যামেরার সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে (নামকরণ এখান থেকেই), কিন্তু এতে কোনো ভিউফাইন্ডার এবং সাধারণ ক্যামেরার অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এর পরিবর্তে, এগুলো তারবিহীনভাবে স্মার্টফোনের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং স্মার্টফোনটি এর ডিসপ্লে ও ক্যামেরার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পরিচালনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
লেন্স-স্টাইল ক্যামেরাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সনি সাইবার-শট কিউএক্স সিরিজ "স্মার্ট লেন্স" বা "স্মার্টশট" ক্যামেরা, যা ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সাইবার-শট ডিএসসি-কিউএক্স১০ এর মাধ্যমে ঘোষিত ও মুক্তি পায়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ডিএসসি-কিউএক্স১০ এবং ডিএসসি-কিউএক্স১০০ এর জন্য একটি ফার্মওয়্যার আপডেট ঘোষণা করা হয়।[৫৬] ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে, সনি সাইবার-শট ডিএসসি-কিউএক্স৩০ এবং আলফা আইএলসিই-কিউএক্স১ ঘোষণা করে।[৫৭][৫৮] প্রথমটি ছিল বিল্ট-ইন ৩০ গুণ অপটিক্যাল জুম লেন্সযুক্ত আল্ট্রাজুম এবং দ্বিতীয়টিতে বিল্ট-ইন লেন্সের পরিবর্তে বিনিময়যোগ্য সনি ই-মাউন্ট ব্যবহার করা হয়।
- কোডাক পিক্সপ্রো স্মার্ট লেন্স ক্যামেরা সিরিজ, যা ২০১৪ সালে ঘোষিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এসএল৫ , ১০ গুণ অপটিক্যাল জুম এসএল১০ এবং ২৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এসএল২৫ ; এসএল৫ ছাড়া বাকি সবগুলোতে ১৬ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ১০৮০পি ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা ছিল (এসএল৫ এ সর্বোচ্চ ৭২০পি)।[৫৯]
- সাকার মালিকানাধীন ব্র্যান্ড ভিভিটারের ভিভিক্যাম আইইউ৬৮০ স্মার্ট লেন্স ক্যামেরা, যা ২০১৪ সালে ঘোষিত হয়।[৬০]
- অলিম্পাস এয়ার এ০১ লেন্স ক্যামেরা, যা ২০১৪ সালে ঘোষিত এবং ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। এই লেন্স ক্যামেরাটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম-সহ একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম এবং এটি সনি কিউএক্স১ এর মতোই দুটি অংশে (সেন্সর মডিউল এবং লেন্স) বিভক্ত হতে পারে। ক্যামেরাটির সেন্সর মডিউলের বিল্ট-ইন লেন্স মাউন্টে সমস্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ মাইক্রো ফোর থার্ডস লেন্স যুক্ত করা যায়।[৬১][৬২]
ডিজিটাল সিঙ্গেল-লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা (ডিএসএলআর)
[সম্পাদনা]
ডিজিটাল সিঙ্গেল-লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা (ডিএসএলআর) হলো ডিজিটাল সেন্সরযুক্ত এমন এক ধরনের ক্যামেরা যা একটি প্রতিবিম্ব আয়না বা রিফ্লেক্স মিরর ব্যবহার করে আলোকরশ্মিকে বিভক্ত বা নির্দেশিত করে ভিউফাইন্ডারে পাঠায় এবং ছবি তৈরি করে।[৬৩] রিফ্লেক্স মিররটি ক্যামেরার সেন্সরের দিকে যাওয়া আলোকে বাধা দিয়ে এবং তা ক্যামেরার পেন্টাপ্রজমে প্রতিফলিত করার মাধ্যমে ছবিটি খুঁজে পায়, যা ভিউফাইন্ডারের ভেতর দিয়ে দৃশ্যমান হয়।[৬৩] যখন শাটার রিলিজ বোতামটি পুরোপুরি চাপা হয়, তখন রিফ্লেক্স মিররটি অনুভূমিকভাবে সরে পেন্টাপ্রজমের নিচে চলে আসে, যার ফলে ভিউফাইন্ডারটি মুহূর্তের জন্য অন্ধকার হয়ে যায় এবং সেন্সরটি আলোকসম্পাত বা এক্সপোজারের জন্য উন্মুক্ত হয়ে ছবি তৈরি করে।[৬৩] ডিজিটাল ছবিটি সেন্সরের মাধ্যমে তৈরি হয়, যা আলোকের মান রেকর্ড করতে সক্ষম একটি মাইক্রোচিপের ওপর বসানো ফটোরিসেপ্টর বা আলোকগ্রাহকের সমষ্টি। অনেক আধুনিক ডিএসএলআর "লাইভ ভিউ" সুবিধা দেয়, অর্থাৎ সেন্সর থেকে প্রাপ্ত দৃশ্যটি একটি ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখা যায় এবং ফ্রেম করা যায়। এছাড়া অনেক ক্যামেরায় একটি হটশু থাকে।
সেন্সরটি, যা ফুল-ফ্রেম সেন্সর নামেও পরিচিত, অন্যান্য ধরনের চেয়ে অনেক বড় হয়, সাধারণত কর্ণে ১৮ মিমি থেকে ৩৬ মিমি (ক্রপ ফ্যাক্টর ২, ১.৬ বা ১)।[৬৩] বড় সেন্সরের প্রতিটি পিক্সেল অধিক আলো গ্রহণ করতে পারে; এর সাথে তুলনামূলক বড় লেন্স যুক্ত হলে তা কম আলোতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বা কার্যক্ষমতা প্রদান করে। একই ফিল্ড অফ ভিউ বা দৃষ্টিকোণ এবং একই অ্যাপারচারের ক্ষেত্রে, বড় সেন্সর অগভীর ফোকাস বা শ্যালো ডেপথ অফ ফিল্ড তৈরি করে। ডিএসএলআর ক্যামেরায় বিনিময়যোগ্য লেন্স ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে, যা লেন্স মাউন্ট (সাধারণত ডিএসএলআর এর সামনের দিকের একটি রুপালি রিং) থেকে খুলে পরিবর্তন করা যায়।[৬৪] এই লেন্সগুলো অ্যাপারচার এবং ফোকাস সামঞ্জস্য করতে ডিএসএলআর এর যান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে। মিরর বক্সের সেন্সরগুলো ব্যবহার করে অটোফোকাস সম্পন্ন হয় এবং অধিকাংশ আধুনিক লেন্সে লেন্স থেকেই এটি সক্রিয় করা যায়, যা শাটার রিলিজের সময় কাজ করে।[৬৩]
ভিউ ক্যামেরা
[সম্পাদনা]২০১৯ সালে, ফেজ ওয়ান ১০০ এমপি (মেগাপিক্সেল) থেকে ১৫০ এমপি রেজোলিউশনের আইকিউ৪ সিরিজের ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক চালু করে (যা ফেজ ওয়ান এক্সএফ আইকিউ৪ ১৫০এমপি ক্যামেরা (খুচরা মূল্য লেন্স ছাড়া ৫১,৯৯০ মার্কিন ডলার, ১ এফপিএস, ডিএসএলআর) এবং ফেজ ওয়ান এক্সটি আইকিউ৪ ১৫০এমপি ক্যামেরা (খুচরা মূল্য লেন্স ছাড়া ৫৬,৯৯০ মার্কিন ডলার, ১ এফপিএস, মিররলেস) উভয়ের সাথেই অন্তর্ভুক্ত ছিল)। ১৫০ মেগাপিক্সেলের এই ব্যাকটি ৩০০ ডিপিআইতে ১২০.২৬ x ৯০.১৯ সেমি (৪৭.৩৫" x ৩৫.৫") ১৬-বিট রঙিন ছবি তৈরি করতে সক্ষম।[৬৫][৬৬][৬৭][৬৮][৬৯][৭০]
২০২৫ সালে, ৫০ থেকে ১০০ এমপি রেজোলিউশন সীমার মধ্যে বিভিন্ন কম দামি মিডিয়াম ফরম্যাট ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে উপলব্ধ ছিল।[৭১] উপলব্ধ ১০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাগুলোর মধ্যে ছিল ফুজিফিল্ম জিএফএক্স ১০০ ২ (খুচরা মূল্য লেন্স ছাড়া ৭,৪৯৯ মার্কিন ডলার, ৩০পিতে ৮কে ভিডিও/৬০পিতে ৪কে ভিডিও), ফুজিফিল্ম জিএফএক্স ১০০এস (খুচরা মূল্য লেন্স ছাড়া ৫,৯৯৯ মার্কিন ডলার, ৩০পিতে ৪কে ভিডিও), ফুজিফিল্ম জিএফএক্স ১০০এস ২ (খুচরা মূল্য লেন্স ছাড়া ৪,৯৯৯ মার্কিন ডলার, অটোফোকাসসহ ৮ এফপিএস, ৩০পিতে ৪কে ভিডিও) এবং হাসেলব্লাড এক্স২ডি ২ ১০০সি (এক্সসিডি ৭৫মিমি এফ/৩.৪ লেন্সসহ খুচরা মূল্য ৭,৩৯৯ মার্কিন ডলার; কোনো ভিডিও সুবিধা নেই)।[৭২][৭৩][৭৪][৭৫][৭৬][৭৭]
ডিজিটাল স্টিল ক্যামেরা (ডিএসসি)
[সম্পাদনা]ডিজিটাল স্টিল ক্যামেরা (ডিএসসি), যেমন সনি ডিএসসি ক্যামেরা, হলো এমন এক ধরনের ক্যামেরা যাতে রিফ্লেক্স মিরর বা প্রতিফলক আয়না ব্যবহৃত হয় না। ডিএসসিগুলো পয়েন্ট-এন্ড-শুট ক্যামেরার মতো এবং এগুলোর সাশ্রয়ী দাম ও গুণমানের কারণে এগুলো সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ক্যামেরা।
এখানে ডিএসসি-এর একটি তালিকা দেওয়া হলো: সনি সাইবার-শট ক্যামেরাগুলোর তালিকা
ফিক্সড-মিরর ডিএসএলটি ক্যামেরা
[সম্পাদনা]ফিক্সড বা স্থায়ী আধা-স্বচ্ছ আয়নাযুক্ত ক্যামেরা, যা ডিএসএলটি ক্যামেরা নামেও পরিচিত, যেমন সনি এসএলটি ক্যামেরাগুলো হলো সিঙ্গেল-লেন্স ক্যামেরা, যাতে প্রচলিত ডিএসএলআর মতো নড়াচড়া করা রিফ্লেক্স মিরর থাকে না। একটি আধা-স্বচ্ছ আয়না কিছু আলো ইমেজ সেন্সরে প্রেরণ করে এবং কিছু আলো প্রতিফলিত করে অটোফোকাস সেন্সরের পথে পাঠায়। আলোর মোট পরিমাণ পরিবর্তিত হয় না, কেবল কিছু আলো এক পথে এবং বাকিটা অন্য পথে গমন করে। এর ফলে ডিএসএলটি ক্যামেরাগুলোকে ডিএসএলআর এর চেয়ে হাফ স্টপ ভিন্নভাবে ছবি তুলতে হয়। ডিএসএলটি ক্যামেরা ব্যবহারের একটি সুবিধা হলো, ডিএসএলআর ব্যবহারকারীরা যে "অন্ধ মুহূর্ত" বা ব্লাইন্ড মোমেন্ট অনুভব করেন, তা এখানে নেই; ডিএসএলআর এ আলো ভিউফাইন্ডারের বদলে সেন্সরে পাঠানোর সময় প্রতিফলক আয়নাটি সরে যায় বলে এমন ঘটে। ডিএসএলটি ক্যামেরায় এই "ব্ল্যাকআউট" বা অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্ত থাকে না কারণ এগুলো ইভিএফ (ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার) ব্যবহার করে। যেহেতু এমন কোনো সময় নেই যখন আলো উভয় পথে চলাচল করে না, তাই ডিএসএলটি ক্যামেরাগুলো নিরবচ্ছিন্ন অটোফোকাস ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা পায়। এটি বিশেষত কম আলোতে বার্স্ট-মোড শুটিং এবং ভিডিও করার সময় ট্র্যাকিংয়ের জন্য উপকারী।
ডিজিটাল রেঞ্জফাইন্ডার
[সম্পাদনা]রেঞ্জফাইন্ডার হলো এমন একটি যন্ত্র যা সাবজেক্ট বা বিষয়ের দূরত্ব পরিমাপ করে, যার উদ্দেশ্য হলো সেই অনুযায়ী ক্যামেরার অবজেক্টিভ লেন্সের ফোকাস ঠিক করা (ওপেন-লুপ কন্ট্রোলার)। রেঞ্জফাইন্ডার এবং লেন্স ফোকাসিং মেকানিজম বা কৌশল সংযুক্ত থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। সাধারণ কথাবার্তায়, "রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা" শব্দটি খুব সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা দিয়ে মূলত প্যারালাক্স-ভিত্তিক দৃশ্যমান অপটিক্যাল রেঞ্জফাইন্ডারযুক্ত ম্যানুয়াল-ফোকাস ক্যামেরাগুলোকে বোঝানো হয়। বেশিরভাগ ডিজিটাল ক্যামেরা অবজেক্টিভ লেন্স দ্বারা ধারণকৃত ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফোকাস করে এবং দূরত্ব অনুমান (যদি আদৌ করা হয়) ফোকাসিং প্রক্রিয়ার একটি উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট মাত্র (ক্লোজড-লুপ কন্ট্রোলার)।[৭৮]
লাইন-স্ক্যান ক্যামেরা সিস্টেম
[সম্পাদনা]
একটি লাইন-স্ক্যান ক্যামেরায় প্রথাগতভাবে পিক্সেল সেন্সরের ম্যাট্রিক্স বা জালের পরিবর্তে মাত্র একটি সারি থাকে। লাইনগুলো অবিচ্ছিন্নভাবে একটি কম্পিউটারে পাঠানো হয় যা সেগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করে।[৭৯][৮০] এটি সাধারণত ক্যামেরার আউটপুটকে একটি ফ্রেম গ্রাবারের সাথে সংযুক্ত করে করা হয়, যা একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কম্পিউটারের পিসিআই স্লটে থাকে। ফ্রেম গ্রাবারটি ছবি বাফার করতে কাজ করে এবং কখনও কখনও কম্পিউটার সফটওয়্যারের কাছে প্রসেসিংয়ের জন্য পাঠানোর আগে কিছু প্রাথমিক প্রসেসিং প্রদান করে। শিল্প প্রক্রিয়ায় প্রায়শই ডিজিটাল লাইন-স্ক্যান সিস্টেমের মাধ্যমে উচ্চতা এবং প্রস্থ পরিমাপের প্রয়োজন হয়।[৮১]
রঙিন ছবি তৈরি করতে অথবা টিডিআই (টাইম ডিলে অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশনের) মাধ্যমে সংবেদনশীলতা বাড়াতে সেন্সরের একাধিক সারি ব্যবহার করা হতে পারে। অনেক শিল্প অ্যাপ্লিকেশনে বা প্রয়োগে বিস্তৃত ফিল্ড অফ ভিউ বা দৃষ্টিকোণের প্রয়োজন হয়। প্রথাগতভাবে বৃহৎ দ্বিমাত্রিক এলাকাজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলো বজায় রাখা বেশ কঠিন। লাইন স্ক্যান ক্যামেরার ক্ষেত্রে কেবল ক্যামেরাটি বর্তমানে যে "লাইন" বা রেখাটি দেখছে, তার ওপর সুষম আলো প্রদান করাই যথেষ্ট। এটি ক্যামেরার সামনে দিয়ে উচ্চ গতিতে চলে যাওয়া বস্তুরও স্পষ্ট বা শার্প ছবি তৈরি করে।
যখন একাধিক প্রতিযোগী প্রায় একই সময়ে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করে তখন বিজয়ী নির্ধারণের জন্য ফটো ফিনিশ তৈরিতেও সাধারণত এই ধরণের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। দ্রুত গতির প্রক্রিয়াগুলো বিশ্লেষণের জন্য এগুলোকে শিল্পযন্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
উপগ্রহ থেকে চিত্রগ্রহণের ক্ষেত্রেও লাইন-স্ক্যান ক্যামেরা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় (দেখুন পুশ ব্রুম স্ক্যানার)। এক্ষেত্রে সেন্সরের সারিটি উপগ্রহের গতির দিকের সাথে লম্বভাবে থাকে। স্ক্যানারগুলোতে লাইন-স্ক্যান ক্যামেরা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে, ক্যামেরাটি অনুভূমিকভাবে চলাচল করে।
সুপারজুম ক্যামেরা
[সম্পাদনা]ডিজিটাল সুপারজুম ক্যামেরা হলো এমন এক ধরণের ডিজিটাল ক্যামেরা যা অনেক দূর পর্যন্ত জুম করতে সক্ষম। যাদের ক্ষ ক্ষীণদৃষ্টি বা দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা আছে, তাদের জন্য সুপারজুম ক্যামেরা উপযুক্ত। এইচএক্স সিরিজটি সনির সুপারজুম ক্যামেরা যেমন এইচএক্স২০ভি , এইচএক্স৯০ভি এবং নতুন এইচএক্স৯৯ নিয়ে গঠিত। এইচএক্স মানে হলো হাইপারজুম ।
এই ধরণের ডিজিটাল ক্যামেরা কোনো দৃশ্য থেকে আসা আলোক ক্ষেত্র বা লাইট ফিল্ড সম্পর্কে তথ্য ধারণ করে; অর্থাৎ এটি দৃশ্যের আলোর তীব্রতা এবং সেই সাথে মহাকাশে আলোক রশ্মিগুলো কোন দিকে ভ্রমণ করছে তা রেকর্ড করে। এটি প্রচলিত ডিজিটাল ক্যামেরার বিপরীত, যা শুধুমাত্র আলোর তীব্রতা রেকর্ড করে।
কোনো পূর্বনির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে (এক্সপোজার টাইম) আলোর তীব্রতা পরিমাপ করার পরিবর্তে, ইভেন্ট ক্যামেরাগুলো প্রতিটি পিক্সেলের জন্য স্বতন্ত্রভাবে আলোর তীব্রতার পরিবর্তন কোনো নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তা শনাক্ত করে, যা সাধারণত মাইক্রোসেকেন্ডের নির্ভুলতায় সম্পন্ন হয়।
অন্যান্য ডিভাইসে সংযোজন
[সম্পাদনা]অনেক ডিভাইসে বিল্ট-ইন বা অন্তর্নির্মিত ডিজিটাল ক্যামেরা থাকে, যার মধ্যে স্মার্টফোন, মোবাইল ফোন, পিডিএ এবং ল্যাপটপ কম্পিউটার অন্যতম। বিল্ট-ইন ক্যামেরাগুলো সাধারণত জেপিইজি ফাইল ফরম্যাটে ছবি সংরক্ষণ করে, যদিও অ্যাপলের আইফোন সিরিজের ক্যামেরাগুলো ২০১৭ সাল থেকে এইচইআইসি ফরম্যাট ব্যবহার করছে।[৮২]
২০০১ সালে জাপানে জে-ফোন ডিজিটাল ক্যামেরা যুক্ত মোবাইল ফোন প্রবর্তন করে। ২০০৩ সালে ক্যামেরা ফোনগুলো স্বতন্ত্র ডিজিটাল ক্যামেরার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় এবং ২০০৬ সালে সেগুলো ফিল্ম এবং ডিজিটাল স্বতন্ত্র ক্যামেরা, উভয়ের বিক্রির সংখ্যাকেই ছাড়িয়ে যায়। পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন ক্যামেরা ফোন বিক্রি হয়েছিল এবং ২০০৭ সালের মধ্যে সমস্ত মোবাইল ফোনের ইনস্টলড বেসের অর্ধেকেরও বেশি ছিল ক্যামেরা ফোন। পৃথক বা স্বতন্ত্র ক্যামেরার বিক্রি ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।[৮৩]
উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল ক্যামেরা নির্মাতা
[সম্পাদনা]বেশ কয়েকজন নির্মাতা ডিজিটাল ক্যামেরা (সাধারণত ডিএসএলআর) উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি ব্র্যান্ডের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য বা মিশন স্টেটমেন্ট রয়েছে যা তাদের উৎপাদিত সরঞ্জাম ছাড়াও অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। অধিকাংশ নির্মাতা তাদের উৎপাদিত ক্যামেরাগুলোতে আধুনিক বৈশিষ্ট্যগুলো ভাগ করে নেয়। তবে, কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তা ক্যামেরার বাহ্যিক গঠন হোক কিংবা সিস্টেম ও ছবির গুণমানের ক্ষেত্রে।
বাজারের প্রবণতা
[সম্পাদনা]
সাধারণ ফটোগ্রাফির জন্য স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে প্রথাগত ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি কমে গেছে। স্মার্টফোন অ্যাপ এবং ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবার মাধ্যমে ছবি এডিট করা এবং শেয়ার করা সহজ করে তুলেছে। এর বিপরীতে, "ব্রিজ ক্যামেরা" তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে কারণ এতে অপটিক্যাল জুম এবং অন্যান্য উন্নত বৈশিষ্ট্য থাকে যা বেশিরভাগ স্মার্টফোন ক্যামেরায় নেই।[৮৪][৮৫] ডিএসএলআর-গুলোও মিররলেস ইন্টারচেঞ্জেবল-লেন্স ক্যামেরা (মিল্কর) কাছে বাজার হারিয়েছে, কারণ এগুলো ছোট আকারের ক্যামেরায় একই সেন্সর সাইজ অফার করে। কিছু দামী মডেলে ডিএসএলআর পেশাদার ক্যামেরার মতোই ফুল-ফ্রেম সেন্সর ব্যবহার করা হয়।
স্মার্টফোন ক্যামেরার সুবিধা এবং নমনীয়তার প্রতিক্রিয়ায়, কিছু নির্মাতা "স্মার্ট" ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করেছে যা প্রথাগত ক্যামেরা এবং স্মার্টফোনের বৈশিষ্ট্যগুলোকে একত্রিত করে। ২০১২ সালে, নিকন এবং স্যামসাং কুলপিক্স এস৮০০সি এবং গ্যালাক্সি ক্যামেরা বাজারে আনে, যা ছিল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা প্রথম দুটি ডিজিটাল ক্যামেরা। যেহেতু এই সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মটি অনেক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো স্মার্টফোনের মতোই কিছু পরিষেবার (যেমন ই-মেইল সংযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ফটো শেয়ারিং সাইট) সাথে যুক্ত হতে পারে এবং অ্যান্ড্রয়েড-সামঞ্জস্যপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে।[৮৪]
এর উল্টোটাও ঘটেছে, কিছু ফোন নির্মাতা এমন স্মার্টফোন এনেছে যা দেখতে প্রথাগত ডিজিটাল ক্যামেরার মতো। নকিয়া ২০১২ ও ২০১৩ সালে ৮০৮ পিওরভিউ এবং লুমিয়া ১০২০ বাজারে আনে; ডিভাইস দুটি যথাক্রমে সিম্বিয়ান এবং উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলত এবং উভয়েই ৪১-মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ছিল (লুমিয়া ১০২০-এর জন্য আলাদা ক্যামেরা গ্রিপ বা হাতল ছিল)।[৮৬] একইভাবে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৪ জুম বাজারে আনে, যাতে ১৬-মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ১০ গুণ অপটিক্যাল জুম ছিল, যা গ্যালাক্সি এস৪ মিনি এবং গ্যালাক্সি ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যগুলোর সংমিশ্রণ।[৮৭] প্যানাসনিক লুমিক্স ডিএমসি-সিএম১ হলো একটি অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট ৪.৪ স্মার্টফোন যাতে ২০ এমপি, ১" সেন্সর রয়েছে (স্মার্টফোনের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সেন্সর), সাথে আছে এফ২.৮ অ্যাপারচারের ২৮ মিমি সমতুল্য লাইকা ফিক্সড লেন্স। এটি 'র' (RAW) ছবি এবং ৪কে (4K) ভিডিও তুলতে পারে এবং এর পুরুত্ব ২১ মিমি।[৮৮] তাছাড়া, ২০১৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড ওরিও ৮.১ চালিত হুয়াওয়ে পি২০ প্রো স্মার্টফোনের পেছনে তিনটি লাইকা লেন্স যুক্ত করা হয়: প্রথম লেন্স হিসেবে ৪০ এমপি ১/১.৭" আরজিবি সেন্সর, দ্বিতীয় লেন্স হিসেবে ২০ এমপি ১/২.৭" মনোক্রোম সেন্সর এবং তৃতীয় লেন্স হিসেবে ৩ গুণ অপটিক্যাল জুমসহ ৮ এমপি ১/৪" আরজিবি সেন্সর।[৮৯] প্রথম ও দ্বিতীয় লেন্সের সমন্বয়ে বেশি হাই ডায়নামিক রেঞ্জসহ বোকেহ বা ঝাপসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি তৈরি হয়, যেখানে প্রথম লেন্সের মেগাপিক্সেল এবং অপটিক্যাল জুমের সমন্বয়ে ছবির আকার ৮ এমপিতে কমিয়ে গুণমান নষ্ট না করেই সর্বোচ্চ ৫ গুণ ডিজিটাল জুম করা সম্ভব হয়।[৯০]
২০১২ সালে বিক্রিতে বড় ধসের পর, ২০১৩ সালে ভোক্তা পর্যায়ের ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি আবারও ৩৬ শতাংশ কমে যায়। ২০১১ সালে মাসে ১ কোটি কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা বিক্রি হতো। ২০১৩ সালে তা কমে মাসে প্রায় ৪০ লাখে নেমে আসে। প্রায় দশ বছর দুই অঙ্কের (শতাংশে) প্রবৃদ্ধির পর ২০১৩ সালে ডিএসএলআর এবং এমআইএলসি এর বিক্রিও ১০–১৫% হ্রাস পায়।[৯১] বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি ২০১১ সালের ১৪৮ মিলিয়ন থেকে কমে ২০১৫ সালে ৫৮ মিলিয়নে দাঁড়ায় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তা আরও কমার প্রবণতা দেখায়।[৯২]
১৯৯৭ সালে ফিল্ম ক্যামেরার বিক্রি সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছায়, যখন ১৯৮৯ সালে ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি শুরু হয়। ২০০৮ সালের মধ্যে ফিল্ম ক্যামেরার বাজার প্রায় শেষ হয়ে যায় এবং ২০১০ সালে ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি সর্বোচ্চ ১২১ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছায়। ২০০২ সালে ইন্টিগ্রেটেড বা যুক্ত ক্যামেরাসহ সেল ফোন বাজারে আসে এবং ২০০৩ সালে এই ধরনের ফোন বছরে ৮০ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রি হয়। ২০১১ সালের মধ্যে ক্যামেরা যুক্ত সেল ফোন বছরে কয়েকশ মিলিয়ন বিক্রি হতে থাকে, যা ডিজিটাল ক্যামেরার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালে ডিজিটাল ক্যামেরার বিক্রি ছিল ৩৫ মিলিয়ন ইউনিট, যা তাদের সর্বোচ্চ বিক্রির এক-তৃতীয়াংশেরও কম এবং ফিল্ম ক্যামেরার সর্বোচ্চ বিক্রির চেয়েও সামান্য কম।
সংযোগ ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]ছবি স্থানান্তর
[সম্পাদনা]অনেক ডিজিটাল ক্যামেরা ডেটা স্থানান্তরের জন্য সরাসরি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত হতে পারে:-
- প্রাথমিক ক্যামেরাগুলো পিসি সিরিয়াল পোর্ট ব্যবহার করত। বর্তমানে ইউএসবি সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পদ্ধতি (বেশিরভাগ ক্যামেরা ইউএসবি মাস স্টোরেজ হিসেবে দেখা যায়), যদিও কিছু ক্যামেরায় ফায়ারওয়্যার পোর্ট থাকে। কিছু ক্যামেরা সংযোগের জন্য ইউএসবি এমএসসি এর পরিবর্তে ইউএসবি পিটিপি মোড ব্যবহার করে; আবার কিছু ক্যামেরা উভয় মোডই অফার করে।
- অন্যান্য ক্যামেরা তারবিহীন সংযোগ ব্যবহার করে, যেমন ব্লুটুথ বা আইইইই ৮০২.১১ ওয়াই-ফাই; উদাহরণস্বরূপ কোডাক ইজিশেয়ার ওয়ান। ওয়াই-ফাই যুক্ত মেমোরি কার্ড (এসডিএইচসি, এসডিএক্সসি) সংরক্ষিত ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে প্রেরণ করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের মতো মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলো ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে ফটো শেয়ারিং এবং ক্লাউড পরিষেবাগুলিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি আপলোড এবং ব্যাকআপ বা শেয়ার করার অনুমতি দেয়।
- বিল্ট-ইন ওয়াই-ফাই বা নির্দিষ্ট ওয়াই-ফাই অ্যাডাপ্টারযুক্ত ক্যামেরাগুলো মূলত মিডিয়া ডেটা স্থানান্তরের পাশাপাশি কম্পিউটার বা স্মার্টফোন অ্যাপ থেকে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে শাটার রিলিজ, এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ এবং আরও অনেক কিছু (টিদারিং) করার সুবিধা দেয়।
- ক্যামেরাফোন এবং কিছু উচ্চমানের স্বতন্ত্র ডিজিটাল ক্যামেরা ছবি শেয়ার করার জন্য সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সেলুলার নেটওয়ার্কে সবচেয়ে সাধারণ মান হলো এমএমএস (মাল্টিমিডিয়া মেসেজিং সার্ভিস), যা সাধারণত "পিকচার মেসেজিং" নামে পরিচিত। স্মার্টফোনের দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো ইমেল সংযুক্তি হিসেবে ছবি পাঠানো। তবে অনেক পুরনো ক্যামেরাফোন ইমেল সমর্থন করে না।
একটি সাধারণ বিকল্প হলো কার্ড রিডার ব্যবহার করা, যা বিভিন্ন ধরণের স্টোরেজ মিডিয়া পড়তে এবং কম্পিউটারে উচ্চ গতিতে ডেটা স্থানান্তর করতে সক্ষম। কার্ড রিডার ব্যবহার করলে ডাউনলোড প্রক্রিয়ার সময় ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ খরচ হয় না। একটি বাহ্যিক বা এক্সটার্নাল কার্ড রিডার স্টোরেজ মিডিয়ার সংগ্রহে থাকা ছবিগুলোতে সরাসরি প্রবেশের সুবিধা দেয়। তবে যদি মাত্র একটি স্টোরেজ কার্ড ব্যবহার করা হয়, তবে ক্যামেরা এবং রিডারের মধ্যে বারবার কার্ড অদলবদল করা অসুবিধাজনক হতে পারে। অনেক কম্পিউটারে, অন্তত এসডি কার্ডের জন্য, বিল্ট-ইন কার্ড রিডার থাকে।
ছবি প্রিন্ট করা
[সম্পাদনা]অনেক আধুনিক ক্যামেরা পিক্টব্রিজ মান সমর্থন করে, যা কম্পিউটারের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি পিক্টব্রিজ-সক্ষম প্রিন্টারে ডেটা পাঠাতে দেয়। পিক্টব্রিজ ছবি এবং নিয়ন্ত্রণের তথ্য স্থানান্তরের জন্য পিটিপি ব্যবহার করে।
তারবিহীন সংযোগের মাধ্যমেও ক্যাবল ছাড়া ছবি প্রিন্ট করা সম্ভব।
একটি ইনস্ট্যান্ট-প্রিন্ট ক্যামেরা হলো এমন একটি ডিজিটাল ক্যামেরা যাতে একটি বিল্ট-ইন প্রিন্টার থাকে।[৯৩] এটি একটি ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা বা তাৎক্ষণিক ক্যামেরার মতোই কার্যকারিতা প্রদান করে, যা দ্রুত একটি ভৌত ছবি তৈরি করতে ইনস্ট্যান্ট ফিল্ম ব্যবহার করে। ১৯৭২ সালে এসএক্স-৭০ এর মাধ্যমে পোলারয়েড এই ধরণের নন-ডিজিটাল ক্যামেরা জনপ্রিয় করে তুলেছিল।[৯৪]
ছবি প্রদর্শন
[সম্পাদনা]অনেক ডিজিটাল ক্যামেরায় একটি ভিডিও আউটপুট পোর্ট থাকে। সাধারণত এটি এস-ভিডিও হয়, যা টেলিভিশনে একটি স্ট্যান্ডার্ড-ডেফিনিশন ভিডিও সংকেত পাঠায়, যার ফলে ব্যবহারকারী একবারে একটি করে ছবি দেখতে পারেন। ক্যামেরার বোতাম বা মেনু ব্যবহার করে ছবি নির্বাচন করা, এক ছবি থেকে অন্য ছবিতে যাওয়া, অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিভিতে "স্লাইড শো" পাঠানো যায়।
অনেক উচ্চমানের ডিজিটাল ক্যামেরা নির্মাতা এইচডিএমআই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে, যাতে এইচডিটিভিতে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি প্রদর্শন করা যায়।
২০০৮ সালের জানুয়ারিতে, সিলিকন ইমেজ মোবাইল ডিভাইস থেকে টেলিভিশনে ডিজিটাল আকারে ভিডিও পাঠানোর জন্য একটি নতুন প্রযুক্তি ঘোষণা করে। এমএইচএল ১০৮০পি রেজোলিউশন পর্যন্ত ভিডিও স্ট্রিম হিসেবে ছবি পাঠায় এবং এটি এইচডিএমআই এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[৯৫] কিছু ডিভিডি রেকর্ডার এবং টেলিভিশন সেট ক্যামেরায় ব্যবহৃত মেমোরি কার্ড পড়তে পারে; বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাশ কার্ড রিডারের টিভি আউটপুট ক্ষমতা থাকে।
ওয়েদার-সিলিং এবং পানিনিরোধক ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]পানির ঝাপটা, আর্দ্রতা (কুয়াশা ও ভ্যাপসা আবহাওয়া), ধুলোবালি এবং বালু থেকে সুরক্ষা দিতে, কিংবা নির্দিষ্ট গভীরতা ও সময়ের জন্য সম্পূর্ণ পানিনিরোধক করতে ক্যামেরাগুলোতে বিভিন্ন মাত্রার এনভায়রনমেন্টাল সিলিং বা পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে পারে। শেষের পদ্ধতিটি পানির নিচে ছবি তোলার অন্যতম উপায়; অন্য উপায়টি হলো ওয়াটারপ্রুফ হাউজিং বা পানিনিরোধক খোলস ব্যবহার করা। অনেক পানিনিরোধক ডিজিটাল ক্যামেরা একই সাথে আঘাতরোধী এবং নিম্ন তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম হয়।
কিছু পানিনিরোধক ক্যামেরায় পানির নিচে আরও গভীরে কাজ করার জন্য অতিরিক্ত পানিনিরোধক হাউজিং লাগানো যায়। অলিম্পাসের 'টাফ' সিরিজের কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলো এর একটি উদাহরণ।
মোড
[সম্পাদনা]অনেক ডিজিটাল ক্যামেরায় বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রিসেট বা পূর্বনির্ধারিত মোড থাকে। সঠিক এক্সপোজারের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও বিভিন্ন প্যারামিটার পরিবর্তন করা যায়, যার মধ্যে রয়েছে এক্সপোজার, অ্যাপারচার, ফোকাসিং, লাইট মিটারিং, হোয়াইট ব্যালেন্স এবং সমতুল্য সংবেদনশীলতা (আইএসও)। উদাহরণস্বরূপ, একটি পোর্ট্রেট বা প্রতিকৃতি তোলার সময় পটভূমি বা ব্যাকগ্রাউন্ড ঘোলা করার জন্য চওড়া বা ওয়াইড অ্যাপারচার ব্যবহার করা হতে পারে এবং ক্যামেরাটি ছবির অন্যান্য উপাদানের পরিবর্তে মানুষের মুখমন্ডল খুঁজে তাতে ফোকাস করবে।
খুব কম ক্যামেরাতেই ভয়েস নোট (শুধুমাত্র অডিও) রেকর্ড করার সুবিধা থাকে।[৯৬]
সিন মোড
[সম্পাদনা]নির্মাতারা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ক্যামেরার ফার্মওয়্যারে নানাবিধ সিন মোড যুক্ত করেন। যেমন—"ল্যান্ডস্কেপ মোড", যা বৃষ্টির কারণে বা দাগযুক্ত জানালার কাঁচে (যেমন উইন্ডশিল্ড) ফোকাস হওয়া রোধ করে; এবং "স্পোর্টস মোড", যা আলোর সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে এক্সপোজার টাইম কমিয়ে দিয়ে চলমান বিষয়ের মোশন ব্লার বা অস্পষ্টতা হ্রাস করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত সিন মোড নির্বাচন করার ক্ষমতা ফার্মওয়্যারে যুক্ত থাকতে পারে।[৯৭][৯৮]
ছবির ডেটা সংরক্ষণ
[সম্পাদনা]


অনেক ক্যামেরা ফোন এবং অধিকাংশ স্বতন্ত্র ডিজিটাল ক্যামেরা ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড বা অন্যান্য অপসারণযোগ্য মিডিয়াতে ছবির ডেটা সংরক্ষণ করে। অধিকাংশ স্বতন্ত্র ক্যামেরা এসডি ফরম্যাট ব্যবহার করে, তবে কিছু ক্যামেরা কম্প্যাক্টফ্ল্যাশ, সিএফএক্সপ্রেস বা অন্যান্য ধরন ব্যবহার করে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে, আরও দ্রুতগতির এক্সকিউডি কার্ড ফরম্যাট ঘোষণা করা হয়।[৯৯] ২০১৪ সালের শুরুর দিকে, কিছু উচ্চমানের ক্যামেরায় দুটি হট-সোয়াপযোগ্য মেমোরি স্লট যুক্ত করা হয়। ক্যামেরা চালু থাকা অবস্থায় আলোকচিত্রীরা মেমোরি কার্ড পরিবর্তন করতে পারেন। প্রতিটি মেমোরি স্লট কম্প্যাক্ট ফ্ল্যাশ বা এসডি কার্ড গ্রহণ করতে পারে। সনির সব নতুন ক্যামেরাতেও দুটি মেমোরি স্লট থাকে, একটি তাদের নিজস্ব মেমোরি স্টিক এবং অন্যটি এসডি কার্ডের জন্য, তবে এগুলো হট-সোয়াপযোগ্য নয়।[১০০]
জায়গা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কতগুলো ছবি তোলা যাবে, তার আনুমানিক সংখ্যা ব্যবহারের সময় ফার্মওয়্যার গণনা করে এবং ভিউফাইন্ডারে প্রদর্শন করে। এটি ব্যবহারকারীকে মেমোরি কার্ডের আসন্ন প্রয়োজনীয় হট সোয়াপ (চালু অবস্থায় পরিবর্তন) এবং/অথবা ফাইল অফলোড বা স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত করে।
কিছু ক্যামেরায় অন্যান্য অপসারণযোগ্য স্টোরেজ ব্যবহৃত হতো, যেমন মাইক্রোড্রাইভ (খুব ছোট হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ), সিডি সিঙ্গেল (১৮৫ মেগাবাইট),[১০১] এবং ৩.৫" ফ্লপি ডিস্ক (যেমন: সনি মাভিকা)। অন্যান্য অস্বাভাবিক ফরম্যাটের মধ্যে রয়েছে:
- অনবোর্ড (অভ্যন্তরীণ) ফ্ল্যাশ মেমোরি — সস্তা ক্যামেরা এবং যেসব যন্ত্রে ক্যামেরা গৌণ বিষয় (যেমন ক্যামেরা ফোন) সেগুলোতে ব্যবহৃত হয়। কিছু ক্যামেরায় খুব কম ধারণক্ষমতা থাকে (যেমন ১০০ মেগাবাইট বা তার কম), যা মূলত মেমোরি কার্ড হট সোয়াপ করার সময় নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের জন্য বাফার স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[১০২]
- সুপারডিস্ক (এলএস১২০), যা দুটি প্যানাসনিক ডিজিটাল ক্যামেরায় ব্যবহৃত হয়েছিল: পিভি-এসডি৪০৯০[১০৩] এবং পিভি-এসডি৫০০০ ।[১০৪] এগুলো সুপারডিস্ক এবং ৩.৫" ফ্লপি ডিস্ক—উভয়ই ব্যবহার করতে পারত।
- পিসি কার্ড হার্ড ড্রাইভ — প্রারম্ভিক পেশাদার ক্যামেরাগুলোতে ব্যবহৃত হতো (এখন আর তৈরি হয় না)।[১০৫]
- পিসি কার্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড।[১০৫]
- থার্মাল প্রিন্টার — শুধুমাত্র ক্যাসিও পেটিট কোলে জেডআর-১ এবং জেডআর-১০ এ দেখা গিয়েছিল,[১০৬][১০৭] যা ছবি সংরক্ষণের পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করত।
- জিঙ্ক প্রযুক্তি — ছবি সংরক্ষণের পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করা।
- পকেটজিপ — আগফা ই-ফটো সিএল৩০ ক্লিক! ক্যামেরায় ব্যবহৃত মিডিয়া।
- মাইক্রোড্রাইভ (সিএফ-২)
- ৩.৫" ফ্লপি ডিস্ক
- সনির মালিকানাধীন মেমোরি স্টিক
অধিকাংশ ডিজিটাল ক্যামেরা নির্মাতা তাদের ক্যামেরাগুলোকে লিনাক্স বা অন্যান্য মুক্ত সফটওয়্যারের সাথে কাজ করানোর জন্য ড্রাইভার এবং সফটওয়্যার সরবরাহ করে না। তবুও, অনেক ক্যামেরা প্রমিত ইউএসবি মাস স্টোরেজ এবং/অথবা মিডিয়া ট্রান্সফার প্রোটোকল ব্যবহার করে, এবং তাই এগুলো ব্যাপকভাবে সমর্থিত। অন্যান্য ক্যামেরাগুলো জি-ফটো প্রজেক্ট দ্বারা সমর্থিত এবং অনেক কম্পিউটারে মেমোরি কার্ড রিডার থাকে।
ফাইল ফরম্যাট
[সম্পাদনা]ছবির ডেটা সংরক্ষণের জন্য জয়েন্ট ফটোগ্রাফি এক্সপার্টস গ্রুপ স্ট্যান্ডার্ড বা জেপিইজি হলো সবচেয়ে সাধারণ ফাইল ফরম্যাট। অন্যান্য ধরনের ফাইলের মধ্যে রয়েছে ট্যাগড ইমেজ ফাইল ফরম্যাট (টিআইএফএফ), হাই এফিসিয়েন্সি ইমেজ ফাইল ফরম্যাট এবং বিভিন্ন 'র' ইমেজ ফরম্যাট।
অনেক ক্যামেরা, বিশেষ করে দামী বা হাই এন্ড ক্যামেরাগুলো 'র' ইমেজ ফরম্যাট সমর্থন করে। 'র' ইমেজ হলো ক্যামেরার সেন্সর থেকে সরাসরি পাওয়া অপ্রক্রিয়াজাত পিক্সেল ডেটার সমষ্টি, যা প্রায়শই মালিকানাধীন ফরম্যাটে সংরক্ষিত হয়। অ্যাডোবি সিস্টেমস ডিএনজি ফরম্যাট প্রকাশ করেছে, যা একটি রয়্যালটি-মুক্ত 'র' ইমেজ ফরম্যাট এবং অন্তত ১০টি ক্যামেরা নির্মাতা এটি ব্যবহার করে।
'র' ফাইলগুলো প্রথমে বিশেষায়িত ইমেজ এডিটিং প্রোগ্রামে প্রসেস বা প্রক্রিয়া করার প্রয়োজন হতো, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গুগলের পিকাসা-র মতো অনেক মূলধারার এডিটিং প্রোগ্রাম 'র' ইমেজের সমর্থন যুক্ত করেছে। 'র' সেন্সর ডেটা থেকে স্ট্যান্ডার্ড ইমেজে রূপান্তর করার সময় ছবির গুণমান নষ্ট না করে বা পুনরায় ছবি না তুলেই বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নমনীয়তা পাওয়া যায়।
মুভি বা ভিডিওর জন্য ফরম্যাটগুলো হলো এভিআই , ডিভি , এমপিইজি , এমওভি (যাতে প্রায়শই মোশন জেপিইজি থাকে), ডব্লিউএমভি এবং এএসএফ (মূলত ডব্লিউএমভির মতোই)। সাম্প্রতিক ফরম্যাটগুলোর মধ্যে রয়েছে এমপি৪ , যা কুইকটাইম ফরম্যাটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং একই পরিমাণ জায়গায় দীর্ঘ সময় রেকর্ডিংয়ের জন্য নতুন কমপ্রেশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে।
ক্যামেরায় ব্যবহৃত অন্যান্য ফরম্যাট (তবে ছবির জন্য নয়) হলো ডিজাইন রুল ফর ক্যামেরা ফরম্যাট (ডিসিএফ), যা একটি আইএসও স্পেসিফিকেশন। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় সব ক্যামেরায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা একটি অভ্যন্তরীণ ফাইল কাঠামো এবং নামকরণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে। এছাড়াও ডিজিটাল প্রিন্ট অর্ডার ফরম্যাট (ডিপিওএফ) ব্যবহৃত হয়, যা নির্দেশ করে যে ছবিগুলো কোন ক্রমে এবং কত কপি প্রিন্ট করতে হবে। ডিসিএফ ১৯৯৮ একটি যৌক্তিক ফাইল সিস্টেম নির্ধারণ করে যা ৮.৩ ফাইলের নাম ব্যবহার করে এবং প্ল্যাটফর্মের পারস্পরিক কার্যকারিতা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি সর্বাধিক করার জন্য এর ফিজিক্যাল লেয়ারে FAT12, FAT16, FAT32 অথবা exFAT ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে।[১০৮]
অধিকাংশ ক্যামেরায় এক্সিপ ডেটা অন্তর্ভুক্ত থাকে যা ছবি সম্পর্কে মেটাডেটা প্রদান করে। এক্সিপ ডেটায় অ্যাপারচার, এক্সপোজার টাইম, ফোকাস দৈর্ঘ্য, ছবি তোলার তারিখ ও সময় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিছু ক্যামেরা অবস্থান ট্যাগ (জিওট্যাগ) করতে সক্ষম।
ডিরেক্টরি এবং ফাইল কাঠামো
[সম্পাদনা]পারস্পরিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে, ডিসিএফ ফরম্যাট করা ডিসিএফ মিডিয়াতে (যেমন অপসারণযোগ্য বা স্থায়ী মেমোরি) ছবি এবং সাউন্ড ফাইলের জন্য FAT12, FAT16, FAT32, অথবা exFAT ফাইল সিস্টেম নির্দিষ্ট করে দেয়।[১০৯] ২ গিগাবাইটের বেশি ক্ষমতার মিডিয়া অবশ্যই FAT32 বা exFAT ব্যবহার করে ফরম্যাট করতে হবে।
ডিজিটাল ক্যামেরার ফাইল সিস্টেমে একটি ডিসিআইএম (ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি) ডিরেক্টরি থাকে। এতে "123ABCDE" এর মতো নামের একাধিক সাব-ডিরেক্টরি থাকতে পারে, যা একটি অনন্য ডিরেক্টরি নম্বর (১০০ থেকে ৯৯৯-এর মধ্যে) এবং পাঁচটি অক্ষর বা সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই অক্ষরগুলো স্বাধীনভাবে নির্বাচন করা যায় এবং প্রায়শই ক্যামেরা নির্মাতাকে নির্দেশ করে। এই ডিরেক্টরিগুলোতে "ABCD1234.JPG" নামের ফাইল থাকে, যা চারটি অক্ষর বা সংখ্যা (প্রায়শই "100_", "DSC0", "DSCF", "IMG_", "MOV_", বা "P000") এবং এরপর একটি সংখ্যা দ্বারা গঠিত হয়। ব্যবহারকারীর তৈরি করা ডুপ্লিকেট বা একই নম্বরের ডিরেক্টরিগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা ক্যামেরার ফার্মওয়্যারের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
ডিসিএফ ২.০ (DCF 2.0) ঐচ্ছিক কালার স্পেসে (অর্থাৎ এসআরজিবির পরিবর্তে অ্যাডোবি আরজিবি) রেকর্ড করা ডিসিএফ ঐচ্ছিক ফাইলগুলোর জন্য সমর্থন যোগ করে। এই ধরনের ফাইলগুলোর শুরুতে অবশ্যই একটি "_" চিহ্ন থাকতে হবে (যেমন "100_" বা "DSC0" এর পরিবর্তে "_DSC")।[১০৯]
থাম্বনেইল ফাইল
[সম্পাদনা]ক্ষুদ্রাকৃতির ভিউ বা মিনিয়েচার ভিউতে অনেক ছবি দ্রুত ও দক্ষতার সাথে লোড করতে এবং মেটা ডেটা ধরে রাখতে, কিছু নির্মাতার ফার্মওয়্যার ভিডিও এবং 'র' ফটোগুলোর জন্য সাথে কম-রেজোলিউশনের থাম্বনেইল ফাইল তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যানন ক্যামেরার ফাইলগুলো .THM দিয়ে শেষ হয়।[১১০] জেপিইজি নিজেই একটি থাম্বনেইল ইমেজ স্বতন্ত্রভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।[১১১]
ব্যাটারি
[সম্পাদনা]সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল ক্যামেরা আকারে ছোট হয়ে এসেছে, যার ফলে এমন একটি ব্যাটারি তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় যা ক্যামেরার ভেতরে আঁটবে এবং একইসাথে যথেষ্ট সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
ডিজিটাল ক্যামেরায় সাধারণত নির্দিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব (প্রোপাইটারি) অথবা সাধারণ ব্যবহারের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত[হালনাগাদ], বেশিরভাগ ক্যামেরায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। তবে কিছু ক্যামেরায় সাধারণ এএ ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, আবার কিছু ক্যামেরায় মূলত রিচার্জযোগ্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক থাকলেও বিকল্প হিসেবে এএ ব্যাটারি হোল্ডার ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
নিজস্ব বা প্রোপাইটারি
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় প্রোপাইটারি বা নির্মাতার নিজস্ব ফরম্যাটের ব্যাটারি। এগুলো নির্দিষ্ট নির্মাতার নিজস্ব স্পেসিফিকেশন বা বিনির্দেশ অনুযায়ী তৈরি করা হয়। প্রায় সব প্রোপাইটারি ব্যাটারিই লিথিয়াম-আয়ন ভিত্তিক হয়। মূল সরঞ্জাম নির্মাতা(ওএম) ছাড়াও, অধিকাংশ ক্যামেরা মডেলের জন্য বিকল্প বা তৃতীয় পক্ষের (আফটারমার্কেট) ব্যাটারি বাজারে সচরাচর পাওয়া যায়।
সাধারণ ব্যবহার্য ব্যাটারি
[সম্পাদনা]যেসব ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে সহজলভ্য ব্যাটারি ব্যবহার করে, সেগুলো সাধারণত এমনভাবে তৈরি হয় যেন একবার ব্যবহারযোগ্য এবং রিচার্জযোগ্য উভয় ধরনের ব্যাটারিই ব্যবহার করা যায় (তবে একই সাথে দুই ধরনের ব্যাটারি নয়)। সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাটারির আকার হলো এএ । কিছু ক্যামেরায় সিআর২ , সিআর-ভি৩ এবং এএএ ব্যাটারিও ব্যবহৃত হয়। সিআর২ এবং সিআর-ভি৩ ব্যাটারিগুলো লিথিয়াম-ভিত্তিক এবং একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি। সিআর-ভি৩ ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে রিচার্জযোগ্য আরসিআর-ভি৩ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিও পাওয়া যায়।
ডিএসএলআর এর জন্য কিছু ব্যাটারি গ্রিপে বাহ্যিক শক্তির উৎস হিসেবে এএ সেল বা ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য আলাদা হোল্ডার বা খাপ থাকে।
ফিল্ম ক্যামেরাকে ডিজিটালে রূপান্তর
[সম্পাদনা]
ডিজিটাল ক্যামেরা যখন সহজলভ্য হয়ে উঠল, তখন অনেক আলোকচিত্রী জানতে চেয়েছিলেন যে তাদের পুরনো ফিল্ম ক্যামেরাগুলো ডিজিটালে রূপান্তর করা সম্ভব কি না। এর উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না, কারণ এটি মডেলভেদে ভিন্ন ছিল। বেশিরভাগ ৩৫ মিমি ফিল্ম ক্যামেরার ক্ষেত্রে উত্তরটি হলো 'না'; কারণ ক্যামেরা এবং লেন্সের প্রযুক্তির বিবর্তনের সাথে সাথে এদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং খরচ অত্যধিক হবে। অধিকাংশের ক্ষেত্রে ডিজিটালে রূপান্তরের জন্য ইলেকট্রনিক্সের জায়গা করা এবং প্রিভিউ দেখার জন্য লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) বসাতে ক্যামেরার পেছনের অংশটি খুলে ফেলে সেখানে একটি কাস্টম বা বিশেষায়িত ডিজিটাল ইউনিট প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হতো।
অনেক প্রাথমিক পেশাদার এসএলআর ক্যামেরা, যেমন কোডাক ডিসিএস সিরিজ, ৩৫ মিমি ফিল্ম ক্যামেরা থেকেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে, এগুলো কেবল ডিজিটাল "ব্যাক" ছিল না; বরং এই ক্যামেরাগুলোর বডি বা শরীর বিশাল ও ভারী ডিজিটাল ইউনিটের ওপর বসানো থাকত, যা অনেক সময় ক্যামেরার অংশের চেয়েও বড় হতো। অবশ্য এগুলো কারখানা থেকেই এভাবে তৈরি হতো, কোনো আফটারমার্কেট বা পরবর্তী রূপান্তর ছিল না।
একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো নিকন ই২ এবং নিকন ই৩, যেখানে ৩৫ মিমি ফরম্যাটকে ২/৩ সিসিডি-সেন্সরে রূপান্তর করতে অতিরিক্ত অপটিক্স বা লেন্স ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল।
কিছু ৩৫ মিমি ক্যামেরার জন্য তাদের নির্মাতারা ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক তৈরি করেছিলেন; এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো লাইকা আর৮–আর৯। মিডিয়াম ফরম্যাট এবং লার্জ ফরম্যাট ক্যামেরাগুলোর (যেগুলো ৩৫ মিমির চেয়ে বড় ফিল্ম স্টক ব্যবহার করে) উৎপাদন সংখ্যা কম এবং এগুলোর জন্য সাধারণ ডিজিটাল ব্যাকের দাম ১০,০০০ ডলারের বেশি। এই ক্যামেরাগুলো অত্যন্ত মডুলার বা খণ্ড খণ্ড অংশের হয়; বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলোর হ্যান্ডগ্রিপ, ফিল্ম ব্যাক, ওয়াইন্ডার এবং লেন্স আলাদাভাবে পাওয়া যায়।
এই ব্যাকগুলোতে ব্যবহৃত বিশাল সেন্সরের কারণে ছবির আকারও বিশাল হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফেজ ওয়ানের পি৪৫ ৩৯ মেগাপিক্সেল ইমেজ ব্যাক ২২৪.৬ মেগাবাইট পর্যন্ত আকারের একটি টিফ (টিআইএফএফ) ছবি তৈরি করে এবং এর চেয়েও বেশি পিক্সেল কাউন্ট বর্তমানে পাওয়া যায়। এই ধরনের মিডিয়াম ফরম্যাট ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো ছোট ডিএসএলআর এর তুলনায় স্টুডিও এবং পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য বেশি উপযোগী; বিশেষ করে এগুলোর আইএসও গতি সাধারণত সর্বোচ্চ ৪০০-এর মধ্যে থাকে, যেখানে কিছু ডিএসএলআর ক্যামেরায় তা ৬৪০০ পর্যন্ত হয় (ক্যানন ইওএস-১ডি মার্ক ৪ এবং নিকন ডি৩এস এ আইএসও ১২৮০০ এবং হাই-৩ আইএসও ১০২৪০০, এবং ক্যানন ইওএস-১ডিএক্স এ আইএসও ২০৪৮০০ পর্যন্ত থাকে)।
ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক
[সম্পাদনা]শিল্পক্ষেত্র এবং উচ্চমানের পেশাদার ফটোগ্রাফির বাজারে, কিছু ক্যামেরা সিস্টেমে মডুলার (অপসারণযোগ্য) ইমেজ সেন্সর ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু মিডিয়াম ফরম্যাট এসএলআর ক্যামেরা, যেমন মামিয়া ৬৪৫ডি (Mamiya 645D) সিরিজ, ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক অথবা প্রথাগত ফটোগ্রাফিক ফিল্ম ব্যাক—উভয়ই ব্যবহারের সুবিধা দেয়।
- এরিয়া অ্যারে
- সিসিডি
- সিমস
- লিনিয়ার অ্যারে
- সিসিডি (মনোক্রোম বা একরঙা)
- কালার ফিল্টারসহ ৩-স্ট্রিপ সিসিডি
লিনিয়ার অ্যারে ক্যামেরাগুলোকে স্ক্যান ব্যাক ও বলা হয়।
- সিঙ্গেল-শট
- মাল্টি-শট (সাধারণত থ্রি-শট বা তিনবার শট নেওয়া)
বেশিরভাগ প্রাথমিক ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাকগুলোতে লিনিয়ার অ্যারে সেন্সর ব্যবহার করা হতো, যা উল্লম্বভাবে সরে গিয়ে ছবিকে ডিজিটাল করত। এদের অনেকেই কেবল গ্রে-স্কেল বা সাদাকালো ছবি ধারণ করতে পারত। আলোকসম্পাতের সময়কাল বা এক্সপোজার টাইম সেকেন্ড বা এমনকি মিনিটের ঘরে থাকায়, স্ক্যান ব্যাকগুলো সাধারণত স্টুডিও অ্যাপ্লিকেশনে সীমাবদ্ধ থাকত, যেখানে দৃশ্যের সমস্ত দিক আলোকচিত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অন্যান্য কিছু ক্যামেরা ব্যাক সাধারণ ক্যামেরার মতোই সিসিডি অ্যারে ব্যবহার করে। এগুলোকে সিঙ্গেল-শট ব্যাক বলা হয়।
যেহেতু লক্ষ লক্ষ পিক্সেলের সিসিডি ম্যাট্রিক্সের চেয়ে হাজার হাজার পিক্সেলযুক্ত উচ্চমানের লিনিয়ার সিসিডি অ্যারে তৈরি করা অনেক সহজ, তাই সিসিডি ম্যাট্রিক্সের অনেক আগেই খুব উচ্চ রেজোলিউশনের লিনিয়ার সিসিডি ক্যামেরা ব্যাক পাওয়া যেত। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ৭,০০০-এর বেশি পিক্সেল হরাইজন্টাল বা অনুভূমিক রেজোলিউশনযুক্ত (যদিও ব্যয়বহুল) ক্যামেরা ব্যাক কেনা যেত। তবে, ২০০৪ সাল[হালনাগাদ] পর্যন্ত একই রেজোলিউশনের সিসিডি ম্যাট্রিক্স ক্যামেরা কেনা কঠিন ছিল। রোটেটিং লাইন বা ঘূর্ণায়মান লাইন ক্যামেরা, যার সেন্সর লাইনে প্রায় ১০,০০০ কালার পিক্সেল থাকে, তা ২০০৫ সাল[হালনাগাদ] নাগাদ একটি পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনের সময় প্রায় ১,২০,০০০ লাইন ক্যাপচার করতে সক্ষম ছিল, যার ফলে ১,২০০ মেগাপিক্সেলের একটি ডিজিটাল ছবি তৈরি হতো।
অধিকাংশ আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক সিসিডি বা সিমস ম্যাট্রিক্স সেন্সর ব্যবহার করে। ম্যাট্রিক্স সেন্সর দীর্ঘ এক্সপোজারের মাধ্যমে ধাপে ধাপে স্ক্যান না করে পুরো ছবির ফ্রেমটি একবারে ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ফেজ ওয়ান ২০০৮ সালে ৪৯.১ × ৩৬.৮ মিমি সিসিডি যুক্ত ৩৯ মিলিয়ন পিক্সেলের একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাক তৈরি করে। এই সিসিডি অ্যারেটি ১২০ ফিল্মের একটি ফ্রেমের চেয়ে সামান্য ছোট এবং ৩৫ মিমি ফ্রেমের (৩৬ × ২৪ মিমি) চেয়ে অনেক বড়। এর তুলনায়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল ক্যামেরায় ৩৬ × ২৪ মিমি (হাই এন্ড ডিএসএলআর এর ফুল ফ্রেম) থেকে ১.২৮ × ০.৯৬ মিমি (ক্যামেরা ফোনে) আকারের সিমস সেন্সর ব্যবহৃত হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]নোট
[সম্পাদনা]- ↑ জেপিইজি হলো একটি লসি কমপ্রেশন ফরম্যাট, যার রঙের গভীরতা সাধারণত 'র' ফরম্যাটের চেয়ে কম; তবে অধিকাংশ 'র' ফরম্যাট সঠিকভাবে দেখার জন্য ডেমোজাইকিং ("র কনভার্টার") সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "The Perfect Vintage Digicam for Travel"। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- ↑ Musgrove, Mike (১২ জানুয়ারি ২০০৬)। "Nikon Says It's Leaving Film-Camera Business"। Washington Post। ১৩ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৭।
- ↑ Cooke, Alex (৩০ অক্টোবর ২০১৭)। "Nikon Closes China Camera Factory, Cites Smartphones as Cause"। Fstoppers (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৯।
- ↑ Tarrant, Jon (২০০৬)। "Basic Features"। Understanding Digital Cameras। পৃ. ৮–৩১। ডিওআই:10.1016/B978-0-240-52024-7.50005-X। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৪০-৫২০২৪-৭।
- ↑ "How Does A Digital Camera Work? [Technology Explained]"। MUO (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ অক্টোবর ২০০৯। ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ White, Alexander (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। Photographer's Guide to the Panasonic Lumix DC-LX100 II। White Knight Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯৩৭৯৮৬-৭৯-৭ – Google Books এর মাধ্যমে।
- ↑ Zhang, Michael (২ মার্চ ২০১১)। "Panasonic Lumix FX77 Can Whiten Teeth and Apply Makeup to Faces"। PetaPixel।
- ↑ James R. Janesick (২০০১)। Scientific charge-coupled devices। SPIE Press। পৃ. ৩–৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৯৪-৩৬৯৮-৬।
- ↑ Williams, J. B. (২০১৭)। The Electronics Revolution: Inventing the Future। Springer। পৃ. ২৪৫–৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৩১৯-৪৯০৮৮-৫।
- ↑ Matsumoto, Kazuya; এবং অন্যান্য (১৯৮৫)। "A new MOS phototransistor operating in a non-destructive readout mode"। Japanese Journal of Applied Physics। ২৪ (5A): L৩২৩। বিবকোড:1985JaJAP..24L.323M। ডিওআই:10.1143/JJAP.24.L323।
- 1 2 Fossum, Eric R. (১৯৯৩)। "Active pixel sensors: Are CCDS dinosaurs?"। Blouke, Morley M. (সম্পাদক)। Charge-Coupled Devices and Solid State Optical Sensors III। খণ্ড ১৯০০। পৃ. ২–১৪। ডিওআই:10.1117/12.148585।
- ↑ Fossum, Eric R. (২০০৭)। "Active Pixel Sensors" (পিডিএফ)। Eric Fossum।
- ↑ Fossum, Eric R.; Hondongwa, D. B. (২০১৪)। "A Review of the Pinned Photodiode for CCD and CMOS Image Sensors"। IEEE Journal of the Electron Devices Society। ২ (3): ৩৩–৪৩। ডিওআই:10.1109/JEDS.2014.2306412।
- ↑ Belbachir, Ahmed Nabil; Göbel, Peter Michael (২০০৯)। "Smart Cameras: A Historical Evolution"। Smart Cameras। পৃ. ৩–১৭। ডিওআই:10.1007/978-1-4419-0953-4_1। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪১৯-০৯৫২-৭।
- ↑ "Electronic photography system"।
- ↑ Benchoff, Brian (১৭ এপ্রিল ২০১৬)। "Building the First Digital Camera"। Hackaday। ৬ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৬।
the Cyclops was the first digital camera
- ↑ Prakel, David (১০ ডিসেম্বর ২০০৯)। The Visual Dictionary of Photography। AVA Publishing। পৃ. ৯১। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৯৪০৪১১-০৪-৭। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১৩।
- ↑ DOBBIN, BEN (৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫)। "Kodak engineer had revolutionary idea: the first digital camera"। Seattle Post-Intelligencer (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ Estrin, James (১২ আগস্ট ২০১৫)। "Kodak's First Digital Moment"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
- 1 2 "Innovation: FUJIX DS-1P: the world's first digital camera"। Fujifilm। ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "History"। www.digitalkameramuseum.de। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Kihara, N.; Nakamura, K.; Saito, E.; Kambara, M. (আগস্ট ১৯৮২)। "The Electrical Still Camera a New Concept in Photography"। IEEE Transactions on Consumer Electronics। CE-২৮ (3): ৩২৫–৩৩১। ডিওআই:10.1109/TCE.1982.353928।
- ↑ Callahan, Sean (জুন ১৯৮৬)। "The future arrives - Canon RC-701"। Popular Photography। ৯৩ (7): ৬২–৬৩।
- ↑ Busch, David D. (২ আগস্ট ২০১১)। Nikon D70 Digital Field Guide (ইংরেজি ভাষায়)। John Wiley & Sons। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৮-০৮০২৩-৮।
- ↑ Kriss, Michael; Parulski, Ken; Lewis, David (১৯৮৯)। "Critical Technologies for Electronic Still Imaging Systems"। Urbach, John C. (সম্পাদক)। Applications of Electronic Imaging। খণ্ড ১০৮২। পৃ. ১৫৭। ডিওআই:10.1117/12.952864।
- ↑ "Toshiba | Business to Business Integrated Solutions"। www.toshiba.com। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১।
- 1 2 3 "Camera phones: A look back and forward"। Computerworld। ১১ মে ২০১২। ৯ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ "First mobile videophone introduced"। CNN। ১৮ মে ১৯৯৯। ২৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- 1 2 "From J-Phone to Lumia 1020: A complete history of the camera phone"। Digital Trends। ১১ আগস্ট ২০১৩। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Evolution of the Camera phone: From Sharp J-SH04 to Nokia 808 Pureview"। Hoista.net। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ৩১ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৩।
- ↑ "Taking pictures with your phone"। BBC News। BBC। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০১। ২৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ AU, Samsung (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "How mobile photography technology has evolved over two decades of phone cameras"। Mashable (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ Farrell, Mike (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "Digital cameras back in fashion after online revival"। BBC Home। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "Say sleaze! The return of the digital camera"। Dazed। ১৯ এপ্রিল ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "What Is the Difference Between a CCD and CMOS Video Camera"। ২৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৪।
- ↑ Nakamura, Junichi (১৯ ডিসেম্বর ২০১৭)। Image Sensors and Signal Processing for Digital Still Cameras (ইংরেজি ভাষায়)। CRC Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২০০-২৬৮৫-৬।
- ↑ Joshua Goldman। "Why the iPhone 4 takes good low-light photos: BSI CMOS sensors explained!"। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Advantages and Disadvantages of Low vs High Resolution Cameras"। Photography Life। ১৯ জুন ২০১৫। ১০ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২১।
- ↑ Andersson, Barry (২০১২)। The DSLR filmmaker's handbook: real-world production techniques। Janie L. Geyen। Indianapolis, Indiana: John Wiley & Sons। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৮-৯৮৩৫০-৮। ওসিএলসি 904979226।
- ↑ Cheremkhin, P A; Lesnichii, V V; Petrov, N V (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Use of spectral characteristics of DSLR cameras with Bayer filter sensors"। Journal of Physics: Conference Series। ৫৩৬ (1) 012021। বিবকোড:2014JPhCS.536a2021C। ডিওআই:10.1088/1742-6596/536/1/012021।
- ↑ Malvar, Henrique (২০০৪)। High Quality Linear Interpolation for Demosaicing of Bayer-Patterned Color Images।
- ↑ Bockaert, Vincent। "Sensor sizes"। Digital Photography Review। ৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০০৭।
- ↑ Maitre, Henri (২০১৭)। From Photon to Pixel. (2nd সংস্করণ)। Newark: John Wiley & Sons, Incorporated। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৯-৪০২৪৩-৫। ওসিএলসি 975225434।
- ↑ Ken Rockwell। "Nikon 18-300mm VR DX AF-S G ED NIKKOR, $1,000"। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ Panasonic DMC FT3 Specification ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৫-০১-০২ তারিখে. Cameras.co.uk. Retrieved on 2013-08-16.
- ↑ "Fujifilm FinePix Real 3D W3 review: Fujifilm FinePix Real 3D W3"।
- ↑ "Sony DSC-QX100 and QX10 lens cameras bring top-notch optics to any smartphone or tablet, we go hands-on (video)"। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩। ৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Jon Stapley (১৭ মে ২০২২)। "The best waterproof camera in 2022: underwater cameras for fun and action"। digitalcameraworld (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০২২।
- ↑ Simon Crisp (১৯ জুলাই ২০১৬)। "Big plans for "world's smallest" 360-degree camera"। ২০ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৬।
- ↑ Martin, Jonny (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "Which type of digital camera should you choose?"। Which? (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Gannon Burgnett। "What's a mirrorless camera and what makes it different from a DSLR?"। Digital Trends। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ Andy Westlake (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "The rise of mirrorless compact system cameras"। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ Andy Westlake। "Kodak Pixpro S-1 First Impressions Review"। ৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
- ↑ Lawler, Richard (১৩ মার্চ ২০১৪)। "Nikon 1 V3 camera unveiled: $1,200, 120fps slow motion, 20fps continuous shooting"। Engadget। AOL। ২০ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৪।
- ↑ "Polaroid offers first Android camera with interchangeable lenses"। Connect। ৮ জানুয়ারি ২০১৩। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ Mariella Moon (৩১ জানুয়ারি ২০১৪)। "Sony upgrades smartphone-pairing QX10 and QX100 lens cameras with higher ISO and 1080p video capture"। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Sony introduces QX1 with APS-C sensor and E-mount for smartphones"। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪। ১৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Smartphone-Kameramodule QX1 und QX30 von Sony (aktualisiert)"। ৩০ নভেম্বর ২০০১। ৪ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
- ↑ Simon Crisp (১৮ জানুয়ারি ২০১৪)। "Kodak smart lens cameras try to take on Sony"। ৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ "Sakar shows QX-style, Vivitar-branded modular smart camera"। ১৪ জানুয়ারি ২০১৪। ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১৭।
- ↑ Edgar Alvarez (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "Olympus Air is a lens camera that pairs with your smartphone"। ৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Michael Zhang (১৫ ডিসেম্বর ২০১৪)। "Olympus Showing Off New 'Lens Camera' Prototypes with a Rounded Design"। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 Freeman, Michael (২০১১)। The DSLR field guide: the essential handbook to getting the most from your camera। Burlington, Mass. : Focal Press। পৃ. ৩–১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৪০-৮১৭২০-০।
- ↑ "[Lesson 2] Knowing the Different Parts of the Camera"। SNAPSHOT - Canon Singapore Pte. Ltd. (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "XF Camera System features"। Phase One। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "XT Camera features"। Phase One। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Nicholson, Angela (২ জুলাই ২০১৯)। "Phase One XF IQ4 150MP camera review"। Digital Camera World। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=এর 73 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Henderson, Zac (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "Hands On With The Phase One IQ4 150MP: Can You Shoot Long Exposures at 1/125s?"। FStoppers। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=এর 101 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Henderson, Zac (১ মে ২০২০)। "Hands on With the Phase One XT: A Digital Medium Format Field Camera"। FStoppers। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=এর 93 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Lawton, Rod; George, Chris (১ মে ২০২৪)। "Phase One XT Camera System review"। Digital Camera World। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=এর 86 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Artaius, James (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "The best medium format cameras: 100MP monsters for supreme image quality"। Digital Camera World। ১৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Bevan, Gareth (১৭ অক্টোবর ২০২৩)। "Fujifilm GFX 100 II review: medium format marvel"। Digital Camera World। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|first=এর 7 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ McIntyre, Gary (২৫ জানুয়ারি ২০২৪)। "We Review the GFX100 II Medium Format Mirrorless Camera: Fuji's Marvel"। FStoppers। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|first=এর 5 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|url=এর 99 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Westlake, Andy (২৩ মে ২০২৫)। "Fujifilm GFX100 II in-depth review"। Amateur Photographer। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|url=এর 66 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Lawton, Rod; Sarkar, Sharmishta (২৭ এপ্রিল ২০২১)। "Fujifilm GFX 100S review"। Digital Camera World। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Bevan, Gareth (১৯ জুলাই ২০২৪)। "Fujifilm GFX 100S II review: a refinement of a medium format favorite"। Digital Camera World। ১৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|first=এর 7 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Artaius, James (২৬ আগস্ট ২০২৫)। "Hasselblad X2D II 100C review: The finest stills camera ever made"। Digital Camera World। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|first=এর 6 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Wing, Michael। Comparing Digital Range Finders for Forestry Applications। 2004।
- ↑ Steger, Carsten; Markus Ulrich; Christian Wiedemann (২০১৮)। Machine Vision Algorithms and Applications (2nd সংস্করণ)। Weinheim: Wiley-VCH। পৃ. ৪১। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫২৭-৪১৩৬৫-২। ১৫ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২১।
- ↑ Carsten Steger, Markus Ulrich (২০২১)। "A Camera Model for Line-Scan Cameras with Telecentric Lenses"। International Journal of Computer Vision। ১২৯: ৮০–৯৯। ডিওআই:10.1007/s11263-020-01358-3।
- ↑ Boyes, Walt (২ ডিসেম্বর ২০০২)। Instrumentation reference book. (3rd. সংস্করণ)। Butterworth-Heinemann-Elsevier Science। পৃ. ৮৯১। আইএসবিএন ০-০৮-০৪৭৮৫৩-০। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ Casserly, Martyn। "What is HEIC?"। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ O'Brien, Kevin J. (১৪ নভেম্বর ২০১০)। "Smartphone Sales Taking Toll on G.P.S. Devices"। The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১।
- 1 2 Pogue, David (১৯ ডিসেম্বর ২০১২)। "Smile, and Say 'Android'"। The New York Times। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৩।
- ↑ "Bridge cameras a growing market says Canon and Nikon"। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ২৭ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
- ↑ "Nokia Lumia 1020 preview: Take two"। GSMArena। ২১ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৩।
- ↑ "Nokia Lumia 1020 vs. Galaxy S4 Zoom: The Best Camera Phone Is…"। Laptop। ১৪ আগস্ট ২০১৩। ১৭ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৩।
- ↑ Lars Rehm (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Panasonic announces Lumix DMC-CM1 smartphone with 1-inch sensor"। Connect। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Huawei P20 Pro"। ২১ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৮।
- ↑ Andy Boxall (৪ জুন ২০১৮)। "Huawei P20 Pro review"। ৫ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৮।
- ↑ Andrew Reid (২৬ অক্টোবর ২০১৩)। "Consumer DSLRs "dead in 5 years""। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩।
- ↑ "Worldwide unit sales of digital cameras from 2011 to 2016 (in millions)"। ২৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৭।
- ↑ William Sawalich (২৮ মার্চ ২০১৬)। "Options For Instant-Print Cameras"। Digital Photo Magazine। ৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৭।
- ↑ McCracken, Harry (২৫ এপ্রিল ২০১৩)। "Polaroid's SX-70, the Greatest Gadget of All Time, Is 41"। Time (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0040-781X। ২৪ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২১।
- ↑ "Mobile High-Definition Link Technology Gives Consumers the Ability to Link Mobile Devices to HDTVs with Support for Audio and Video"। Silicon Image। ৭ জানুয়ারি ২০০৮। ১৬ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০০৯।
- ↑ Mansurov, Nasim (২০১৯)। "Understanding Digital Camera Modes"। ৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Scene Mode"। ২৬ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০২১।
- ↑ "Canon Knowledge Base - Switching Shooting Modes and Scene (SCN) Modes (PowerShot SX60 HS)"। support.usa.canon.com। ২৪ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ "Sony Announces World's First XQD Memory Cards"। ৬ জানুয়ারি ২০১২। ৭ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১২।
- ↑ Tse, Kenneth (২০০৯)। Analyzing Storage Media of Digital Camera।
- ↑ "American Photo"।
- ↑ "Operating Instructions Digital Camera Model No. DMC-FS5 DMC-FS3" (পিডিএফ)। Panasonic। পৃ. ১৯।
- ↑ "Digital Camera Operating Instructions Model No. PV-SD4090" (পিডিএফ)। Panasonic। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Digital Camera Operating Instructions Model No. PV-SD5000" (পিডিএফ)। Panasonic। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 "User's Guide for the DCS 700 Series Digital Cameras" (পিডিএফ)। kodak.com। ১৪ মে ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "産業技術史資料データベース"।
- ↑ "プロカメラマン山田久美夫のCes展示会場レポート"।
- ↑ JEIDA/JEITA/CIPA (২০১০)। "Standard of the Camera & Imaging Products Association, CIPA DC-009-Translation-2010, Design rule for Camera File system: DCF Version 2.0 (Edition 2010)" (পিডিএফ)। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১১।
- 1 2 Standard of the Camera & Imaging Products Association, CIPA DC- 009-Translation- 2010, Design rule for Camera File system: DCF Version 2.0 (Edition 2010) (পিডিএফ), ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১১
- ↑ "What are THM files?" (ইংরেজি ভাষায়)। অক্টোবর ২০০৬। ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০২১।
- ↑ "Description of Exif file format" (ইংরেজি ভাষায়)। Massachusetts Institute of Technology। ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৯। ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০২১।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ইমেজিংয়ের ইতিহাস, ডিজিটাল ক্যামেরা মিউজিয়াম