ক্যামেরা

ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র[১] (ইংরেজি: Camera বা Photographic camera) আলোকচিত্র (ফটোগ্রাফ) গ্রহণ ও ধারণের যন্ত্র। দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়।[২] ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র। প্রাথমিক পর্যায়ে, ক্যামেরায় একটি ছোট গর্ত ( অ্যাপারচার ) দিয়ে সিল করা বাক্স (ক্যামেরার শরীর বা বডি) দেওয়া হয়। এতে ক্যামেরাতে এটি হালকা সংবেদনশীল পৃষ্ঠার (সাধারণত আলোকচিত্রগ্রাহী ফিল্ম বা ডিজিটাল সেন্সর ) উপর একটি চিত্র ক্যাপচার করতে দেয়। কীভাবে আলোক-সংবেদনশীল পৃষ্ঠের উপরে আলো পড়বে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ক্যামেরার বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। লেন্স ক্যামেরায় প্রবেশকারী আলোকে আলোকপাত করে এবং অ্যাপারচারের আকারটি বেশি বা কম আলো ক্যামেরায় আসতে দিতে প্রশস্ত বা সংকীর্ণ করা যায়। এতে শাটার প্রক্রিয়াটি ফটো সংবেদনশীল পৃষ্ঠটি আলোর সংস্পর্শে আসার সময় নির্ধারণ করে। স্থির চিত্র, গতিশীল চিত্র, শব্দসহ চিত্র, রঙ্গিন চিত্র প্রভৃতি এর দ্বারা গ্রহণ করা সম্ভব। ক্যামেরা নামটি লাতিন পদগুচ্ছ কামেরা ওবস্কিউরা থেকে এসেছে, যার অর্থ "অন্ধকার ঘর"।[৩] ক্যামেরার আবিষ্কার ১৯ শতকে ঘটে এবং এরপর থেকে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এটি বিবর্তিত হয়েছে, যার ফলে ২১ শতকে বিভিন্নধরনের এবং মডেলের একটি বিশাল পরিসর তৈরি হয়েছে।
অতীতে আলোকচিত্রগ্রাহী ফিল্ম অর্থাৎ আলোকসংবেদী পর্দায় চিত্রের নেগেটিভ বা ঋণাত্মক ছাপ সংগৃহীত হত। নেগেটিভ ছবিকে পজিটিভ করতে ছবি ‘ডেভেলপ’ বা প্রসেস করতে হতো। এখন আলোক ডায়োড (ফটোডায়োড) ও সিসিডি-যুক্ত ডিজিটাল ক্যামেরার আবির্ভাবের কারণে আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।হ্যাসেলব্লাড ৫০০ সি/এম ক্যামেরা জাইস লেন্স সহ ক্যামেরাগুলি একাধিক যান্ত্রিক উপাদান এবং নীতির সমন্বয়ে কাজ করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ, যা সেন্সর বাফিল্মে পৌঁছানো আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে; লেন্স, যা আলোকে ফোকাস করে; ভিউফাইন্ডার, যা ব্যবহারকারীকে দৃশ্যের পূর্বরূপদেখতে দেয়; এবং ফিল্ম বা সেন্সর, যা ছবি ক্যাপচার করে।[৪]
বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা বিদ্যমান, প্রতিটি নির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত এবং অনন্য ক্ষমতা প্রদান করে। সিঙ্গেল-লেন্স রিফ্লেক্স (এসএলআর) ক্যামেরা লেন্সের মাধ্যমে সঠিক সময়, সঠিকইমেজিং সরবরাহ করে। বড় ফরম্যাট এবং মাঝারি ফরম্যাটের ক্যামেরা উচ্চতর ইমেজ রেজোলিউশন প্রদান করে এবং এটি প্রায়শইপেশাদার এবং শিল্পকলার ফটোগ্রাফিতে ব্যবহৃত হয়। কমপ্যাক্ট ক্যামেরা, তাদের বহনযোগ্যতা এবং সরলতার জন্য পরিচিত, গ্রাহকফটোগ্রাফিতে জনপ্রিয়। রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা, পৃথক দৃশ্যপট এবংইমেজিং সিস্টেম সহ, ঐতিহাসিকভাবে ফটোজার্নালিজমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত। চলতে থাকা কোনো কিছুর ছবি বা মোশন পিকচার ক্যামেরাগুলি সিনেমাটিক কন্টেন্ট চিত্রগ্রহণের জন্য বিশেষায়িত ডিজিটাল ক্যামেরা, যা ২০ শতকের শেষের দিকে এবং ২১ শতকের গোড়ারদিকে প্রচলিত হয়েছিল, ছবি ক্যাপচার এবং সংরক্ষণ করতে ইলেকট্রনিক সেন্সর ব্যবহার করে।২১ শতকে স্মার্টফোন ক্যামেরা প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিবেদিত ক্যামেরা এবং বহুকার্যকরী ডিভাইসের মধ্যেকার সীমারেখা বিলীন করে দিয়েছে, সমাজ কীভাবে দৃশ্যমান বিষয়বস্তু তৈরি করে, ভাগ করে নেয় এবং গ্রহণকরে তা গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।[৫]

কর্মপদ্ধতি
[সম্পাদনা]
স্থির ছবি তোলার জন্য ব্যবহৃত ক্যামেরা। ক্যামেরা যখন আবিষ্কার হয় তখন থেকেই স্টিল ক্যামেরাই ক্যামেরা নামে চলে আসছে, ভিডিও ক্যামেরা আসার পর এর স্থির বা স্টিল নামটি যোগ হয়। আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো একই সঙ্গে স্টিল চিত্র ও ভিডিও ধারণ এই দুই ধরনের কাজই করতে পারে। স্টিল ক্যামেরা মূলত ছবি তোলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এর লেন্স ও সেন্সর উচ্চ গুণমানের স্থির চিত্র ক্যাপচার করতে সক্ষম। ভিডিও ক্যামেরার তুলনায় স্টিল ক্যামেরার শাটার স্পিড বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য, যা স্পষ্ট ও বিস্তারিত ছবি তোলায় সাহায্য করে। ডিজিটাল যুগে ক্যামেরাগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই ছবি এবং ভিডিও দুটোই একই ডিভাইস থেকে ধারণ করতে পারেন।
ক্যামেরার ইতিহাস
[সম্পাদনা]শুরুর দিকে মানুষের অবয়ব, বিভিন্ন শখের বস্তু, ইমারত ও নৈসর্গিক দৃশ্যকে ধরে রাখার জন্য নানা উপায়ে চেষ্টা চালানো হতো। এক পর্যায়ে শুরু হয় কলম ও রঙ-তুলির ব্যবহার। তারপর কাপড়, কাগজ ও পাথরের ওপর ছবি আঁকার প্রচলন শুরু হতে থাকে। স্মৃতি রক্ষার্থে মানুষের ছবি, ইতিহাসখ্যাত ইমারত, ঐতিহাসিক বিভিন্ন দৃশ্য ও শখের বস্তুকে কলম অথবা রঙ-তুলির সাহায্যে ক্যানভাসে ধরে রাখার চেষ্টা চালায় মানুষ। এভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে বড় বড় চিত্রকর, যারা সৃষ্টি করেন ইতিহাসখ্যাত চিত্রকর্ম। এরপর মানুষ ভাবতে থাকে ছবির বিষয়টিকে কীভাবে আধুনিকতার সংস্পর্শে আনা যায়। অর্থাৎ কীভাবে খুব সহজে নিখুঁত ছবি তোলা যায়। চলতে থাকে গবেষণা। আবিষ্কৃত হয় ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। এরই ধারাবাহিকতায় চলে আসে ক্যামেরা তত্ত্বটি। ১০২১ সালে ইরাকের এক বিজ্ঞানী ইবন-আল-হাইতাম আলোক বিজ্ঞানের ওপর সাত খণ্ডের একটি বই লিখেছিলেন আরবি ভাষায়, এর নাম ছিল কিতাব আল মানাজির। সেখান থেকে ক্যামেরার উদ্ভাবনের প্রথম সূত্রপাত। ১৫০০ শতাব্দীতে এসে চিত্রকরের একটি দল তাদের আঁকা ছবিগুলোকে একাধিক কপি করার জন্য ক্যামেরা তৈরির প্রচেষ্টা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫৬০ সালে রোলামো কারদানো নামের জার্মানির একজন বিজ্ঞানী ক্যামেরাতে প্রথম লেন্স সংযোজন করেন। তখন ক্যামেরায় এই লেন্স ব্যবহার করে শুধু ছবি আঁকা হতো। তখনও আবিষ্কৃত ওই ক্যামেরা দিয়ে কোনো প্রকার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই ক্যামেরাকে সফল রূপ দিতে সময় লেগেছিল আরও অনেক বছর।
ক্যামেরার ইতিহাসে একটি মাইলফলক ছিল ১৮২৬ সাল। ওই সালেই প্রথমবারের মতো আলোকচিত্র ধারণের কাজটি করেন জোসেপ নাইসপোর নিপস। এরপরই বিশ্বব্যাপী ক্যামেরার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দ্রুতবেগে সম্প্রসারিত হতে থাকে। ১৮৮৫ সালে জর্জ ইস্টম্যান তার প্রথম ক্যামেরা ‘কোড’-এর জন্য পেপার ফিল্ম উৎপাদন করেন। বাণিজ্যিকভাবে এটাই ছিল বিক্রির জন্য তৈরি প্রথম ক্যামেরা। এর ঠিক এক বছর পরে পেপার ফিল্মের পরিবর্তে সেলুলয়েড ফিল্মের ব্যবহার চালু হয় ক্যামেরায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো নয়। ১৯৪৮ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় পোলারয়েড ক্যামেরা, যা দ্বারা মাত্র এক মিনিটে ছবিকে নেগেটিভ ইমেজ থেকে পজিটিভ ইমেজে রূপান্তর করা সম্ভব হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর অ্যানালগ ক্যামেরার রাজত্ব চলার পর ১৯৭৫ সালে কোডাকের স্টিভেন স্যাসোন প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা উদ্ভাবন করেন। এভাবেই আজ ক্যামেরা মানুষের হাতের মুঠোয়।[৬]
যান্ত্রিক কাঠামো
[সম্পাদনা]আধুনিক ডিজিটাল ডিজিটাল একক-লেন্স রিফ্লেক্স (SLR) স্থির ক্যামেরার মৌলিক উপাদান বেশিরভাগ ক্যামেরা দৃশ্যমান আলোক বর্ণালী থেকে আলো ধারণ করে, তবে কিছু বিশেষায়িত ক্যামেরা তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ণালীর অন্যান্য অংশ যেমন ইনফ্রারেড ধারণ করে।
সব ক্যামেরার নকশা একই রকম: আলো একটি আবদ্ধ বাক্সে প্রবেশ করে একটি উত্তল লেন্স দিয়ে এবং একটি আলো-সংবেদনশীল মাধ্যমের উপর চিত্র রেকর্ড হয়। একটি শাটার ব্যবস্থার মাধ্যমে আলো প্রবেশের সময় নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বেশিরভাগ ক্যামেরায় একটি ভিউফাইন্ডার থাকে, যা রেকর্ড হতে যাওয়া দৃশ্য দেখায়, এবং এর পাশাপাশি ফোকাস, অ্যাপারচার, এবং শাটার স্পিডের সমন্বয় করার সুবিধা থাকে।[৭]
এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ
[সম্পাদনা]অ্যাপারচার
[সম্পাদনা]আলো ক্যামেরায় প্রবেশ করে একটি অ্যাপারচারের মাধ্যমে, যা একে অপরের উপর বসানো পাতের সাহায্যে তৈরি খোলা অংশ। সাধারণত এটি লেন্সের মধ্যে থাকে, এবং এটিকে চওড়া বা সরু করা যায় যাতে ফিল্ম বা সেন্সরে কতটা আলো পড়বে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অ্যাপারচার ম্যানুয়ালি (লেন্স ঘুরিয়ে বা একটি ডায়াল ঘুরিয়ে) অথবা ক্যামেরার ভেতরের লাইট মিটার থেকে প্রাপ্ত পাঠের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেট করা যায়।
অ্যাপারচার f-stop নামক ধাপে পরিবর্তিত হয়। ছোট f-stop মানে বেশি আলো ঢোকে, বড় f-stop মানে কম আলো ঢোকে। সাধারণত f-stop এর মান f/1.4 থেকে f/32 পর্যন্ত হয়: 1.4, 2, 2.8, 4, 5.6, 8, 11, 16, 22, এবং 32। প্রতিটি ধাপে আলো অর্ধেক হয়ে যায়।
লেন্সের অ্যাপারচার গভীরতার উপর প্রভাব ফেলে (Depth of field)। ছোট f-stop (বড় খোলা) মানে কম গভীরতা, ফলে সামনের বস্তু ফোকাসে থাকলেও পেছনের অংশ ঝাপসা হয়। বড় f-stop (ছোট খোলা) মানে বেশি গভীরতা, ফলে একাধিক দূরত্বের বস্তু ফোকাসে থাকে।
শাটার
[সম্পাদনা]শাটার অ্যাপারচারের সাথে মিলে ক্যামেরায় প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। শাটার খোলে, আলো ফিল্ম বা সেন্সরে পড়ে, এবং পরে শাটার বন্ধ হয়।
যান্ত্রিক শাটারের দুটি ধরণ রয়েছে: পাতার মতো শাটার (leaf shutter) এবং ফোকাল-প্লেন শাটার। পাতার শাটার লেন্সের ভেতরে বা ঠিক পিছনে থাকে এবং দ্রুত খোলে ও বন্ধ হয়। ফোকাল-প্লেন শাটার বেশি প্রচলিত, যা ফিল্ম বা সেন্সরের একেবারে সামনে থাকে এবং ধাতব পাত বা কাপড়ের পর্দা দিয়ে আলো নিয়ন্ত্রণ করে। এসএলআর ক্যামেরাতে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
ডিজিটাল ক্যামেরায় যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক শাটার উভয়ই থাকতে পারে। ইলেকট্রনিক শাটার দুইভাবে কাজ করে — সব পিক্সেল একসাথে পড়ে (global shutter) বা লাইন বাই লাইন পড়ে (rolling shutter)।
শাটারের খোলা থাকার সময়কে শাটার স্পিড বা এক্সপোজার টাইম বলা হয়। সাধারণত ১ সেকেন্ড থেকে ১/১০০০ সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। ছোট এক্সপোজার দ্রুতগতির বিষয়বস্তু ধারণে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি আলো প্রয়োজন হয়।
অ্যাপারচার এবং শাটার স্পিড একসাথে এক্সপোজার ভ্যালু (EV) নির্ধারণ করে।
লাইট মিটার
[সম্পাদনা]আধুনিক ক্যামেরায় সাধারণত একটি বিল্ট-ইন লাইট মিটার থাকে, যা লেন্সের মাধ্যমে (TTL metering) দৃশ্যের আলো মাপে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক্সপোজার নির্ধারণ করে।
লাইট মিটার সাধারণত দৃশ্যের গড় আলোকে ১৮% মধ্য ধূসর ধরে। উন্নত ক্যামেরায় সেন্টার-ওয়েটেড, ম্যাট্রিক্স এবং স্পট মিটারিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার হয়।
লেন্স
[সম্পাদনা]লেন্স উচ্চ মানের কাচ দিয়ে তৈরি বহু অপটিক্যাল উপাদানের সমষ্টি। এটি আলো ফোকাস করে ফিল্ম বা সেন্সরের উপর ছবি তৈরি করে। প্রতিটি লেন্স উপাদান ক্রোম্যাটিক অ্যাবারেশন, ভিনেটিং, এবং বিকৃতি কমানোর জন্য তৈরি হয়।
লেন্সের ফোকাল দৈর্ঘ্য দৃশ্যের পরিমাণ ও বস্তুর আকার নির্ধারণ করে। ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স বেশি এলাকা ধরে, টেলিফটো লেন্স দূরের বস্তু বড় করে দেখায়।
দুটি প্রধান লেন্স প্রকার হলো জুম লেন্স ও প্রাইম লেন্স। জুম লেন্সে ফোকাল দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু প্রাইম লেন্সে তা নির্দিষ্ট থাকে।
ফোকাস ম্যানুয়ালি বা অটোফোকাস ব্যবস্থায় হয়। অনেক লেন্সে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন থাকে। এছাড়া লেন্স হুড, ফিল্টার, ও লেন্স ক্যাপ সাধারণ আনুষঙ্গিক।
ভিউফাইন্ডার
[সম্পাদনা]ভিউফাইন্ডার হলো সেই অংশ যা দিয়ে আলোকচিত্রী দৃশ্য দেখেন ও ফ্রেম নির্ধারণ করেন। অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডার আয়না ও প্রিজম ব্যবহার করে দৃশ্য দেখায়, আর ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার একটি ছোট স্ক্রিনে দৃশ্য প্রদর্শন করে।
প্যারাল্যাক্স ত্রুটি (Parallax error) কাছের বস্তুতে বেশি দেখা যায়, যা কিছু ভিউফাইন্ডারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক করা হয়।
ফিল্ম ও সেন্সর
[সম্পাদনা]ছবি তোলা হয় যখন আলো ফটোগ্রাফিক ফিল্ম বা ডিজিটাল সেন্সরে পড়ে।
ফিল্ম ক্যামেরায় ফিল্ম হাতে সেট করতে হয়, শট নেওয়ার পর ফিল্ম এগিয়ে দিতে হয় যাতে একই জায়গায় দুইবার ছবি না পড়ে (ডাবল এক্সপোজার)। ফিল্ম শেষ হলে তা রিওয়াইন্ড করে ডেভেলপিংয়ের জন্য বের করতে হয়।
ডিজিটাল ক্যামেরায় সিসিডি বা সিএমওএস সেন্সর আলোকে ইলেকট্রনিক সংকেতে রূপান্তর করে। সিসিডি সেন্সর আলো সংবেদনশীল হলেও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, আর সিএমওএস সেন্সর কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দ্রুত ছবি তোলে।
ডিজিটাল ছবি মেমোরি কার্ডে সংরক্ষিত হয় এবং সাথে সাথেই এলসিডি মনিটরে দেখা যায়।
ক্যামেরা আনুষঙ্গিক
[সম্পাদনা]ফ্ল্যাশ
[সম্পাদনা]ফ্ল্যাশ এক ধরনের কৃত্রিম আলো যা স্বল্প সময়ের জন্য প্রচুর আলো দেয়। আধুনিক ফ্ল্যাশ ব্যাটারি চালিত হয় এবং ১/১০০০ সেকেন্ড বা তার কম সময়ে আলোকিত করে।
ফ্ল্যাশ ক্যামেরার সাথে সরাসরি বা কেবল দ্বারা যুক্ত হয়ে শাটারের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে।
অন্যান্য আনুষঙ্গিক
[সম্পাদনা]- লেন্স হুড – সূর্যালোক বা তীব্র আলো আটকাতে ব্যবহৃত হয়।
- লেন্স ক্যাপ – লেন্স রক্ষা করে।
- লেন্স অ্যাডাপ্টার – ভিন্ন মাউন্টের লেন্স ব্যবহার করতে।
- ফিল্টার – রঙ পরিবর্তন বা আলো কমাতে।
- লেন্স এক্সটেনশন টিউব – ম্যাক্রো ফটোগ্রাফিতে কাছ থেকে ছবি তুলতে।
- ক্যামেরা কভার, স্ক্রিন প্রটেক্টর – সুরক্ষার জন্য।
- ক্যামেরা মনিটর – উন্নত ফ্রেমিং ও এক্সপোজার কন্ট্রোল।
- ট্রাইপড – স্থিরভাবে ছবি তুলতে।
- মাইক্রোস্কোপ অ্যাডাপ্টার – মাইক্রোস্কোপে ক্যামেরা লাগাতে।
- কেবল রিলিজ – দূর থেকে শাটার নিয়ন্ত্রণ করতে।
- ডিউ শিল্ড – লেন্সে আর্দ্রতা জমা ঠেকাতে।
- ইউভি ফিল্টার – লেন্স রক্ষায়।
- ব্যাটারি ও চার্জার।
- বড় ফরম্যাট ক্যামেরার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম যেমন ম্যাগনিফায়ার লুপ, ফোকাসিং রেল।
প্রধান ধরন
[সম্পাদনা]একক লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা (এসএলআর ক্যামেরা)
[সম্পাদনা]ফটোগ্রাফিতে, একক লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা (SLR)–এ একটি আয়না থাকে যা লেন্স দিয়ে প্রবেশ করা আলোকে ভিউফাইন্ডারের দিকে প্রতিফলিত করে, যাতে ছবি তোলার আগে ফ্রেম ও ফোকাস নির্ধারণ করা যায়। যখন শাটার চাপা হয়, আয়নাটি উপরে উঠে যায় ও আলো সরাসরি ফিল্মে বা সেন্সরে পড়ে। এক্সপোজার শেষ হলে আয়নাটি সাথে সাথে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ১৯৫৪ সালের আগে কোনো এসএলআর ক্যামেরায় এই বৈশিষ্ট্য ছিল না। জাপানের আসাহি (পেন্টাক্স) কোম্পানির ১৯৫৪ সালে উন্মুক্ত Asahiflex II ছিল বিশ্বের প্রথম এসএলআর ক্যামেরা যাতে ইনস্ট্যান্ট রিটার্ন মিরর ব্যবহৃত হয়।
এসএলআর ক্যামেরায় ফটোগ্রাফার সরাসরি লেন্স দিয়ে দৃশ্য দেখে, ফলে ভিউফাইন্ডার আলাদা থাকলে যে প্যারাল্যাক্স ত্রুটি হয় তা এড়ানো যায়। এসএলআর ক্যামেরা বিভিন্ন ফরম্যাটে তৈরি হয়েছে, যেমন শিট ফিল্ম ৫×৭ ইঞ্চি ও ৪×৫ ইঞ্চি, রোল ফিল্ম ১২০/২২০ যা ৮, ১০, ১২ বা ১৬টি ছবি তুলতে পারে (১২০ রোলে), এবং ২২০ ফিল্মে দ্বিগুণ ছবি। এগুলোর মাপ যথাক্রমে ৬×৯, ৬×৭, ৬×৬ ও ৬×৪.৫ সেমি। ব্রোনিকা, গ্রাফ্লেক্স, হ্যাসেলব্লাড, সিগাল, মামিয়া ও পেন্টাক্স বড় ফরম্যাট ও রোল ফিল্ম এসএলআর ক্যামেরার উল্লেখযোগ্য নির্মাতা। তবে সবচেয়ে প্রচলিত ফরম্যাট ছিল ৩৫ মিমি ফিল্ম এবং পরে এর ডিজিটাল সংস্করণ ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা।
প্রায় সব এসএলআর ক্যামেরায় সামনের দিকে প্রতিফলনকারী আয়না ব্যবহৃত হয় যা লেন্সের আলোকে ভিউয়িং স্ক্রিন ও পেন্টাপ্রিজম দিয়ে আইপিসে পাঠায়। এক্সপোজারের সময় আয়নাটি উপরে উঠে যায় ও শাটার খোলে। কিছু পুরনো ক্যামেরায় এই প্রক্রিয়ার ভিন্ন পরীক্ষা হয়েছিল, যেমন Canon Pellix–এ আধা-স্বচ্ছ আয়না বা Corfield Periflex সিরিজে ছোট পেরিস্কোপ ব্যবহার।
বড় ফরম্যাট ক্যামেরা, যা শিট ফিল্ম ব্যবহার করে, প্রাচীন প্লেট ক্যামেরার উত্তরসূরি। এগুলো উচ্চমানের, প্রযুক্তিগত, স্থাপত্য ও শিল্প ফটোগ্রাফিতে ব্যবহৃত হয়। তিনটি প্রচলিত ধরন হলো: ভিউ ক্যামেরা (মনোরেল ও ফিল্ড ক্যামেরা), এবং প্রেস ক্যামেরা। এগুলোর সামনে লেন্স বোর্ডে লেন্স ও শাটার থাকে এবং মাঝখানে সম্প্রসারণযোগ্য বেলোস থাকে। রোল ফিল্ম ব্যাক ও পরবর্তীতে ডিজিটাল ব্যাকও ব্যবহারযোগ্য। এই ক্যামেরায় ফোকাস ও পারস্পেক্টিভ খুব নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফোকাস ও কম্পোজিশন সাধারণত গ্রাউন্ড-গ্লাস স্ক্রিনে দেখা হয়, যা এক্সপোজারের সময় ফিল্ম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এগুলো ধীরগতির এবং স্থির বিষয়ের জন্য উপযুক্ত।
প্রথম ব্যাপক উৎপাদিত ক্যামেরা ছিল প্লেট ক্যামেরা, যেখানে আলো-সংবেদনশীল কাচের প্লেট ব্যবহৃত হতো। আলো একটি লেন্স দিয়ে প্রবেশ করে বেলোসের মাধ্যমে প্লেটে পড়ত। অনেক প্লেট ক্যামেরায় লেন্স উপরে-নিচে বা সামনে-পেছনে নাড়িয়ে পারস্পেক্টিভ নিয়ন্ত্রণ করা যেত। ফোকাস করার জন্য গ্রাউন্ড-গ্লাস স্ক্রিন ব্যবহার করা হতো। ছোট অ্যাপারচারের কারণে ছবি ম্লান দেখা যেত, তাই ফটোগ্রাফাররা মাথা ঢাকতে কালো কাপড় ব্যবহার করতেন। ফোকাস ঠিক হলে স্ক্রিন সরিয়ে সংবেদনশীল প্লেট বসানো হতো এবং ডার্ক স্লাইড খুলে শাটার চালানো হতো। পরে কাচের প্লেটের পরিবর্তে শিট ফিল্ম ব্যবহৃত হয়।
মিডিয়াম-ফরম্যাট ক্যামেরা
[সম্পাদনা]মিডিয়াম-ফরম্যাট ক্যামেরার ফিল্মের আকার লার্জ-ফরম্যাট ক্যামেরা এবং ছোট ৩৫ মিমি ক্যামেরার মাঝামাঝি। সাধারণত এগুলোতে ১২০ বা ২২০ রোল ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে প্রচলিত ছবি আকার হলো ৬×৪.৫ সেমি, ৬×৬ সেমি এবং ৬×৭ সেমি; পুরনো ৬×৯ সেমি এখন খুব কম ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের ক্যামেরার নকশায় ভিন্নতা দেখা যায়—কিছু মনোরেল ক্যামেরা, ক্লাসিক হাসেলব্লাড মডেল যেখানে আলাদা ফিল্ম ব্যাক থাকে, আবার কিছু ছোট রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা। এমনকি কমপ্যাক্ট শখের ক্যামেরাও এই ফরম্যাটে পাওয়া যায়।
টুইন-লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা
[সম্পাদনা]এই ক্যামেরায় দুটি প্রায় অভিন্ন লেন্স থাকে, একটি ছবি তোলার জন্য আরেকটি ভিউফাইন্ডার হিসেবে। লেন্স দুটি উপরে-নিচে সাজানো থাকে। ভিউইং লেন্সের মাধ্যমে উপরের স্ক্রিনে ছবি দেখা যায়। কিছু নির্মাতা যেমন মামিয়া ভিউ স্ক্রিনে একটি রিফ্লেক্স হেড দিত, যাতে চোখের সমান ধরে ছবি তোলা যায়। এর সুবিধা ছিল সহজে ফোকাস করা যায় এবং সাধারণত ভিউ স্ক্রিনে যা দেখা যায় সেটাই ফিল্মে ওঠে। তবে কাছ থেকে ছবি তোলার সময় প্যারাল্যাক্স সমস্যা দেখা দিত, এজন্য কিছু ক্যামেরায় নির্দেশকও থাকত।
কিছু টিএলআর-এ লেন্স পরিবর্তন করা যেত, তবে সেগুলো ভারী হতো এবং এসএলআর ক্যামেরার মতো এত ফোকাল দৈর্ঘ্যের লেন্স ব্যবহার করা যেত না। বেশিরভাগ টিএলআর ১২০ বা ২২০ ফিল্ম ব্যবহার করত; কিছু ছোট ১২৭ ফিল্ম ব্যবহার করত।
কমপ্যাক্ট ক্যামেরা
[সম্পাদনা]ইন্সট্যান্ট ক্যামেরা
[সম্পাদনা]এক্সপোজারের পর প্রতিটি ছবি ক্যামেরার ভিতরে থাকা রোলারের মাধ্যমে প্রসেস হত। এতে কাগজের ভেতরের কেমিক্যাল ছবিতে ছড়িয়ে পড়ত এবং এক মিনিটের মধ্যে একটি আসল পজিটিভ ছবি পাওয়া যেত। কিছু সিস্টেমে ছবি থেকে নেগেটিভ তৈরি করে ল্যাবে কপি করা যেত। পোলারয়েড এসএক্স-৭০ সিস্টেম ছিল সবচেয়ে উন্নত, যেখানে ১০টি ছবি একটানা তোলা যেত। ইন্সট্যান্ট ক্যামেরা বিভিন্ন ফরম্যাটে পাওয়া যেত এবং মিডিয়াম বা লার্জ ফরম্যাট ক্যামেরার জন্যও ফিল্ম অ্যাডাপ্টার ছিল।
সাবমিনিয়েচার ক্যামেরা
[সম্পাদনা]সাবমিনিয়েচার ক্যামেরা প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০শ শতকে, যেখানে ৩৫ মিমি-এর চেয়ে অনেক ছোট ফিল্ম ব্যবহার হত। মিনক্স ৮×১১ মিমি ক্যামেরা (১৯৩৭–১৯৭৬) গুপ্তচরবৃত্তিতে খুব বিখ্যাত ছিল। পরে সাধারণ ব্যবহারের জন্যও ছোট সাবমিনিয়েচার ক্যামেরা বানানো হয়। তবে এত ছোট ফিল্মে ছবির মান সীমিত ছিল।
ফোল্ডিং ক্যামেরা
[সম্পাদনা]ফিল্ম ব্যবহারের ফলে পুরনো প্লেট ক্যামেরাকে ছোট করে ভাঁজ করার মতো করা সম্ভব হয়েছিল। এগুলোকে খুব কমপ্যাক্ট করে তৈরি করা হত এবং ছোট সংস্করণগুলোকে "ভেস্ট পকেট ক্যামেরা" বলা হত। এর মধ্যে ভেস্ট পকেট কোডাক (১৯১২–১৯৩৪) সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল।
বক্স ক্যামেরা
[সম্পাদনা]বক্স ক্যামেরা ছিল সস্তা ক্যামেরা, যেখানে কোনো উন্নত নিয়ন্ত্রণ থাকত না। ব্রাউনি ক্যামেরার প্রথম মডেলগুলোতে ছোট ভিউফাইন্ডার ছিল, কোনো অ্যাপারচার বা ফোকাসিং সিস্টেম থাকত না। পরে ব্রাউনি ১২৭ মডেলে বড় ভিউফাইন্ডার ও উন্নত ফিল্ম পথ যোগ করা হয়।
রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা
[সম্পাদনা]লেন্স প্রযুক্তি উন্নত হলে বড় অ্যাপারচারের লেন্স সহজে ফোকাস করার জন্য রেঞ্জফাইন্ডার ক্যামেরা চালু হয়। প্রথম দিকে দুটি আলাদা ভিউফাইন্ডার উইন্ডো থাকত, একটি ফোকাসের সাথে যুক্ত থাকত। দুটি ছবি মিলে গেলে অবজেক্ট ফোকাসে আসত। পরে ভিউফাইন্ডার ও রেঞ্জফাইন্ডার একত্র করা হয়। অনেক রেঞ্জফাইন্ডারে লেন্স পরিবর্তনযোগ্য ছিল। এগুলো হাফ-ফ্রেম এবং ফুল-ফ্রেম ৩৫ মিমি বা মিডিয়াম ফরম্যাট ফিল্মে পাওয়া যেত।
মুভি ক্যামেরা
[সম্পাদনা]মুভি ক্যামেরা স্থির ক্যামেরার মতো কাজ করলেও এক সেকেন্ডে ২৪টি স্থির ছবি তোলে, যা একসাথে চালালে চলমান ছবির ভ্রম তৈরি হয়। প্রথম মুভি ক্যামেরা বানানো হয় ১৮৮৮ সালে। ৩৫ মিমি ফিল্ম ছিল মান ফরম্যাট, পরে ৭০ মিমি ফিল্ম, ১৬ মিমি ফিল্ম এবং সুপার ৮ও জনপ্রিয় হয়।
পেশাদার মুভি ক্যামেরা বড় ও ভারী হলেও শখের ক্যামেরা হালকা ও এক হাতে ব্যবহারযোগ্য হত।
পেশাদার ভিডিও ক্যামেরা
[সম্পাদনা]পেশাদার ভিডিও ক্যামেরা (প্রথমে টেলিভিশন ক্যামেরা নামে পরিচিত) উচ্চমানের ইলেকট্রনিক ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত হয়। এগুলো প্রথমে টেলিভিশন স্টুডিওতে ব্যবহৃত হত, পরে মিউজিক ভিডিও, বিয়ে, শিক্ষামূলক ভিডিও ইত্যাদিতেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে। প্রথমদিকে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হত, পরে ইমেজ সেন্সর ব্যবহার শুরু হয়।
ক্যামকর্ডার
[সম্পাদনা]ক্যামকর্ডার হলো ভিডিও ক্যামেরা এবং ভিডিও রেকর্ডারর সমন্বয়। এটি একটি বহনযোগ্য ডিভাইস, যার মূল কাজ ভিডিও ধারণ ও রেকর্ড করা।
ডিজিটাল ক্যামেরা
[সম্পাদনা]ডিজিটাল ক্যামেরা[৮] (ডিজিক্যাম নামেও পরিচিত) হলো এমন ক্যামেরা যা ডিজিটাল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং মেমোরিতে সংরক্ষণ করে। বেশিরভাগ ক্যামেরা ফোন, গাড়িসহ নানা ডিভাইসে এগুলো যুক্ত থাকে। ডিজিটাল ক্যামেরায় লেন্স দিয়ে আলো ইমেজ সেন্সর-এ পড়ে এবং ছবি তোলা হয়। ফিল্মের বদলে ইলেকট্রনিক সেন্সর ব্যবহার হয়।
স্টিভেন স্যাসন ১৯৭৫ সালে প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করেন। ২০০০–২০০২ সালে প্রথম ফুল-ফ্রেম ডিএসএলআর (Pentax MZ-D, Contax N Digital, Canon EOS-1Ds) তৈরি হয়। ধীরে ধীরে পেশাদার ফটোগ্রাফিতে ডিএসএলআর জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ক্যামেরা ফোন
[সম্পাদনা]২০০০ সালে জাপানে শার্প কর্পোরেশন প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা ফোন (J-SH04 J-Phone) চালু করে। ২০০৫ সালের পর প্রায় সব স্মার্টফোন-এ ডিজিটাল ক্যামেরা যুক্ত হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "What is a Camera? Learn The Magic Behind Taking Photos!"। Red October Firm। ২৫ এপ্রিল ২০২৫। ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Young, Freedman & Ford, pg. 1182-1183
- ↑ Batchen, Geoffrey। "Images formed by means of a camera obscura"। Burning with Desire: The Conception of Photography। Cambridge, MA: MIT Press। পৃ. ৭৮–৮৫। আইএসবিএন ০-২৬২-৫২২৫৯-৪।
The camera obscura looms large in traditional historical accounts of photography's invention.
- ↑ "Camera"। Encyclopædia Britannica। Encyclopædia Britannica, Inc.। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Camera Official Website"। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ Thomas Gregory (১ নভেম্বর ২০২৪)। "The First Camera Ever Made: A History of Cameras"। History Cooperative। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Mechanical structure of the camera – The outer structure shown in grey connects to the…"। ResearchGate। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Digicame"। ComputerHope। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৫।