টুনস ম্যাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টুনস ম্যাগ
Toons Mag Logo.png
বিভাগকার্টুন সাময়িকী
প্রকাশকআরিফুর রহমান
প্রতিষ্ঠাতাআরিফুর রহমান
প্রতিষ্ঠার বছর২০০৯
প্রথম প্রকাশ১ নভেম্বর ২০০৯; ৯ বছর আগে (2009-11-01)
দেশনরওয়ে Flag of Norway.svg
ভিত্তিদ্রব্যাক, নরওয়ে
ভাষাইংরেজি, বাংলা, হিন্দি, স্পেনীয়, আরবি
ওয়েবসাইটbd.toonsmag.com
আইএসএসএন2535-7492

টুনস ম্যাগ একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক কার্টুন সাময়িকী। সম্পাদকীয় কার্টুন, কমিক্স, কেরিকেচার, ইলাস্ট্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ এবং নিবন্ধ প্রকাশনা। এবং আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীর আয়োজক।[১][২][৩]

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে অক্টোবরের শেষের দিকে আরিফুর রহমান ইন্টারনেটে কার্টুন সাময়িকী টুনস ম্যাগের প্রকাশনা শুরু করেন এবং বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন কার্টুনিস্টদের আমন্ত্রণ জানান কার্টুন প্রকাশের জন্য।[৪] এরপর কার্টুনিস্টরা টুনস ম্যাগে যোগ দিতে থাকে এবং কার্টুন প্রকাশ করতে থাকে। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় টুনস ম্যাগ কার্টুন সাময়িকী। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের শতাধিক কার্টুনিস্ট নিয়মিত কার্টুন প্রকাশ করে থাকেন। [৫]

পুরস্কার এবং সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে জার্মানির ডয়েচে ভেলে আয়োজিত বেস্ট অফ অনলাইন এক্টিভিস্ট হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ণ পায় এবং বিপুল গণভোটে জয় লাভ করে। [৬]

কার্টুন প্রতিযোগীতা এবং প্রদর্শনী[সম্পাদনা]

২০১৫ সাল থেকে টুনস ম্যাগ প্রতি বছর মানবাধিকারের ভিভিন্ন বিষয়ে, যেমন: শিশু অধিকার, নারী অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সম অধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রতিযেগীতা এবং প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে।

২০১৫: যুদ্ধের শিশু[সম্পাদনা]

চিত্র: নরওয়ের দ্রব্যাক  শহরে যুদ্ধের শিশু আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রদর্শনীর একাংশ।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রদর্শনীর বিষয় ছিলো “যুদ্ধের শিশু”। এটি মুলত শিশু অধিকার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রদর্শনী ছিলো। উক্ত প্রদর্শনীতে ৫১ টি দেশ থেকে ১২৮ জন কার্টুনিস্ট অংশ নিয়েছিলেন। প্রদর্শনী হয়েছিলো নরওয়ে এবং সুইডেনের একাধিক স্থানে।[৭][৮]

টুনস ম্যাগের সঙ্গে সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিলো নরওয়েজিয়ান কার্টুনিস্ট গ্যালারী এবং আর্থিক সহযোগীতায় ছিলো ফ্রিত উর নামে নরওয়ের একটি দাতব্য সংস্থা[৯][১০]

২০১৬: নারী অধিকার[সম্পাদনা]

চিত্র: নরওয়ের দ্রব্যাক  শহরে নারী অধিকার আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া কার্টুন সমূহের একাংশ।

নারী অধিকার এবং বিভিন্ন দেশ এবং সমাজের নারীদের প্রকৃত অবস্থা উঠে এসেছিলো এই প্রদর্শনীতে। সব মিলিয়ে ১৬২৫ টি কার্টুন জমা পড়েছিলো, প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৯ টি দেশ থেকে ৫৬৭ জন কার্টুনিস্ট।

প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ৮ মার্চ ২০১৬ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, একই দিনে দুইটি দেশের তিনটি গ্যালারীতে প্রদর্শিত হয়েছিলো। যথাক্রমে: নরওয়েজিয়ান কার্টুন গ্যালারী দ্রবাক, নরওয়ে, ভারতীয় কার্টুনিস্ট ইন্সটিটিউট গ্যালারী ব্যাঙ্গালুর, এবং আগ্রা, উত্তর প্রদেশ ভারত।[১১][১২][১৩][১৪][১৫] ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ প্রদর্শনীটি স্লোভাকিয়ার প্রেশব শহরে প্রদর্শিত হয়েছিলো।[১৬][১৭]

টুনস ম্যাগের সহযোগী হিসেবে ছিলো নরওয়েজিয়ান কার্টুনিস্ট গ্যালারী, মিউজিয়াম অফ আকেরশুশ নরওয়ে, এবং আর্থিক সহযোগীতায় ছিলো ফ্রিত উর নামে নরওয়ের একটি দাতব্য সংস্থা। ভারতে, ভারতীয় কার্টুনিস্ট ইন্সটিটিউট। স্লোভাকিয়ায় ব্রেইন স্নিজিং গ্যালারী, প্রেশভ ওয়েভ ক্লাব। আর্থিক সহযোগীতায় ছিলো ইইএ ফান্ড এবং স্লোভাক রিপাবলিক। [১৮]

বিচারক হিসেবে ছিলেন ৮ টি দেশের ৮ জন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট তন্মধ্যে ৪ জন নারী ৪ জন পুরুষ। বিচারকদের ভোটে ৫৬৭ জন কার্টুনিস্টদের মধ্যে ১২ জন পুরস্কার বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৭: বাক স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

চিত্র: নরওয়ের লিল্ল্যাহ্যামার শহরে বাক স্বাধীনতা সম্পর্কিত একাধিক দেশ থেকে কার্টুন প্রাপ্ত কার্টুন সমূহের একাংশ।

বিশ্বব্যাপী মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং এবং কার্টুনে মুক্তমত প্রচারের লক্ষ্যে এই প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়েছিলো। সাবেক বাংলাদেশী কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমানের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিলো, যিনি নিজে নিজে এক সময় তার অঙ্কনের জন্য বাংলাদেশে গ্রেফতার, নির্যাতন এবং কারা ভোগ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৫৫৬ টি কার্টুন জমা পরেছিল, কার্টুন নিয়ে ৮৩ টি দেশের ৫১৮ জন কার্টুনিস্ট অংশগ্রহণ করেছিলেন। নির্বাচিত ৮৪ টি দেশের ১২০ জনের ১২০ টি কার্টুন দিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এবং ক্যাটালগ প্রকাশ করা হয়।[১৯]

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী হয়েছিলো তিনটি দেশে, যথা নরওয়ে, স্লোভাকিয়া, এবং ভারত। নরয়েতে নরওয়েজিয়ান কার্টুনিস্ট গ্যালারি (অ্যাভিস্তেন্নারস হুস)-এ উদ্বোধনী হয়, সেখানে পের এডগার্ড কোক্কোভোল্ড, লেখক, এবং নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সাবেক সংবাদপত্র সম্পাদক, নরওয়েজিয়ান প্রেস এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রেস কম্যুনিটি কমিশনের নেতা এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। এবং লিল্লাহামেরে নরওয়েজিয়ান সাহিত্য উৎসবে উদ্বোধনী হয়, সেখানে নরওয়েজিয়ান সঙ্গীতশিল্পী মোদদি নুতসেন, প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এবং রোয়ার হ্যাগেন, নরওয়েজীয় রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট উক্ত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিজয়ী কার্টুনিস্টদের নাম ঘোষণা করেন।[২০]

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কার্টুনিস্ট এর গ্যালারি ব্যাঙ্গালোর, ভারত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী করেন ডা সতীভাম বদরিনাথ, ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্টের পরিচালক।[২১][২২]

স্লোভাকিয়াতে ব্রেইন স্নিজিং গ্যালারি, প্রিসোভ, স্লোভাকিয়া, এছাড়াও নরওয়ে অসলো, স্লোভাক দূতাবাসে প্রদর্শিত হয়।[২৩] পরে, এটি নরওয়ের স্বাধীনতা সূচনার কেদ্রস্থল আইসদভলে প্রদর্শিত হয়।[২৪]

উক্ত প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীর সহযোগী হিসেবে ছিল, টুনস ম্যাগ, নরওয়েজিয়ান কার্টুনিস্ট গ্যালারী, ফ্রেট অর্ড, লিলেহ্যামার নরওয়েজিয়ান সাহিত্যের ফেস্টিভাল, ব্রেইন স্নিজিং গ্যালারি, প্রিসভ, ফেডারেশন অফ স্লোভাক রিপাবলিক এবং কার্টুনিস্ট ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট। উক্ত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ১০ জন কার্টুনিস্ট। ৫১৮ জন কার্টুনিস্টের মধ্যে ১২ কার্টুনিস্ট পুরস্কার বিজয়ী হয়েছিলেন।

কার্টুনিস্ট অফ দ্যা ইয়ার পদক[সম্পাদনা]

টুনস ম্যাগ কার্টুনিস্টদের সেরা কার্টুনের জন্য  প্রশংসা এবং অনুপ্রেরণা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতি বছর "কার্টুনিস্ট অফ দ্যা ইয়ার" পুরস্কার প্রদান করে থাকে।

পুরস্কার বিজয়ী
সাল নাম পরিচয় দেশ
২০১৬/ ২০১৭ জোসে আন্তোনিও রদ্রিগেজ গার্সিয়া মেক্সিকোর রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট এবং চিত্রশিল্পী মেক্সিকো
২০১৮ আরকাদিও এসকুইভেল কার্টুনিস্ট এবং কোস্টারিকা ইউনিভার্সিটি অফ জেনারেল স্টাডিজের ফাইন ফাইন আর্টস বিভাগের অধ্যাপক কোস্টারিকা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অনলাইন কার্টুন ম্যাগাজিন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  2. "অনলাইন কার্টুন ম্যাগাজিন :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd (Bengali ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  3. "প্রথম অনলাইন কার্টুন ম্যাগাজিন"www.jugantor.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  4. "অনলাইন কার্টুন ম্যাগাজিন :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd (Bengali ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  5. "প্রথম অনলাইন কার্টুন ম্যাগাজিন"www.jugantor.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  6. "People's Choice for Bengali - The Bobs - Best of Online Activism"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  7. "Biskopen åpner utstilling i Drøbak om barns lidelser i krig"www.amta.no (নরওয়েজীয় ভাষায়)। ২০১৫-০৯-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  8. "Utstilling: Barn i krig @TicketCo"solvberget.ticketco.events (নরওয়েজিয়ান বোকমাল ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  9. Sätre, Trond (২০১৬-১১-২৫)। "Stribefeber om karikaturer • serienett.no"serienett.no (নরওয়েজিয়ান বোকমাল ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  10. "Karikaturtegner på Stribefeber: - Jeg risikerer å bli drept i hjemlandet"Fædrelandsvennen। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  11. "নারী দিবসে টুনস ম্যাগের আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রতিযোগিতা | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  12. Welle (www.dw.com), Deutsche। "কার্টুন বাংলাদেশের সমাজে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে | DW | 04.05.2015"DW.COM। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  13. "'টুনস ম্যাগে'র কার্টুন প্রতিযোগিতার কার্টুন আহবান"প্রিয়.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  14. Quintano, Kristina (২০১৭-০১-১১)। "PENs Fribyer - En trygg havn å skrive i"55pluss (নরওয়েজিয়ান বোকমাল ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  15. Madhukar, Jayanthi MadhukarJayanthi; Feb 27, Bangalore Mirror Bureau | Updated:; 2016; Ist, 21:01। "The feminist half"Bangalore Mirror (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  16. "Pozvánka na výstavu - Správy - MZV MZV PORTAL"www.mzv.sk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  17. "Správy RTVS"rtvs.sk (স্লোভাক ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  18. "Utstillingen "Women's Rights" på Avistegnernes Hus"www.frittord.no। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  19. "Freedom of Expression - Avistegnernes Hus"mia.no (নরওয়েজীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  20. "Freedom of expression"Norsk Litteraturfestival (নরওয়েজিয়ান বোকমাল ভাষায়)। ২০১৭-০৫-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  21. "Express Publications Indulge - Chennai dated Fri, 12 May 17"epaper.newindianexpress.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  22. "Toons shall overcome: The fight for freedom of expression"www.indulgexpress.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 
  23. s.r.o, Adsulting (২০১৭-০৮-২০)। "Kreslený humor je prejavom slobody"Výmenníky (স্লোভাক ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-০২ 
  24. "Fra fengsel i hjemlandet til utstilling på Verket"www.eub.no (নরওয়েজিয়ান বোকমাল ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]