জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলা, ২০১৪

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৪′২৪″ উত্তর ৬৭°০৯′৩৯″ পূর্ব / ২৪.৯০৬৬৭° উত্তর ৬৭.১৬০৮৩° পূর্ব / 24.90667; 67.16083

জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলা, ২০১৪
তারিখ৮ জুন ২০১৪ (পিকেটি)
লক্ষ্যজিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাকিস্তান
হামলার ধরনজঙ্গি হামলা
নিহত৩৬ (১০ আক্রমণকারী সহ)[১][২]
আহত১৮
হামলাকারী দলতেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (দাবিকৃত)

টেমপ্লেট:পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলা, ২০১৪ হল ২০১৪ সালের ৮ই জুন পাকিস্তানের সিন্ধের করাচিতে অবস্থিত জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনা। ঐদিন ১০ জন অস্ত্রশালী সামরিক বাহিনীর পোশাক পরিহিত ব্যক্তি বিমানবন্দর আক্রমণ করে এবং ৩১ জন নিহত হয়। ১০ আক্রমণকারী ছাড়াও ১৮ জন আহত হয়।[৩]

শুরুর কথা[সম্পাদনা]

জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর, এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি হাব হিসেবে কাজ করে। এই বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল করে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এই বিমানবন্দরের অন্যতম বড় জঙ্গি-হামলা। এর আগের ঘটনা ছিল ১৯৮৬ সালের প্যান এম ফ্লাইট ৭৩ ছিনতাই।[৪]

হামলা[সম্পাদনা]

করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের পার্শ্ব। হামলাকারীরা বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে আক্রমণ চালায়।

৮ই জুন ১১:২০ মিনিটে এই হামলা শুরু হয় এবং ৯ই জুন ৪:০০ মিনিট পর্যন্ত চলে। দশজন আক্রমণকারী একটি ভ্যানে করে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, হ্যান্ড-গ্রেনেড, রকেট-প্রপেলড গ্রেনেড ও অন্যান্য বিস্ফোরক নিয়ে কার্গো টার্মিনাল আক্রমণ করে। আক্রমণকারীরা সিকিউরিটি গার্ডের পোশাক পরে প্রবেশ করেছিল, কেউ কেউ আত্মহত্যাকারী পোশাক (সুইসাইড ভেস্ট) পরেও ঢুকেছিল। তারা এয়ারপোর্টস সিকিউরিটি ফোর্স (এএসএফ) এর পোশাক পরে ছিল এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য নকল পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিল।[৩] একজন বয়স্ক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা এবং কিছু কর্মকর্তা একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়।[৫]

হামলা শুরুর ৯০ মিনিট পর শ'খানেক স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কমান্ডোরা উক্ত স্থানে আসে এবং গোলাগুলি শুরু হয়।[৬] প্রাথমিক পর্যায়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানা গেলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক কমান্ডোরা অবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে যায় এবং দশ জনের মধ্যে আটজন জঙ্গিই নিহত হয়। বাকি দুই জন আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়।[৬][৭] অফিশিয়ালভাবে ৫ ঘন্টা পর এই গোলাগুলি শেষ হয়। দশজন জঙ্গি, আট এএসএফ কর্মকর্তা, দুইজন পাকিস্তানি রেঞ্জার, একজন সিন্ধ পুলিশ, দুইজন পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা সহ মোট ৩১জন নিহত হয়।[৪] কমপক্ষে ১৮জন নিরাপত্তারক্ষীও এই হামলায় আহত হয় এবং আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ভর্তি হয়।[৮]

একটি পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান, একটি এয়ার ব্লু বিমান ও একটি বৈদেশিক বিমানের কার্গো বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়। ইস্পাহানি হ্যাঙ্গারে একটি হ্যান্ড গ্রেনেডও বিস্ফোরিত হয়।[৯]

আক্রমণের পরে, বিমানবন্দরকে পরিষ্কার করা হয় এবং সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি ও এএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।[১০]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

নিজ দেশে[সম্পাদনা]

এ হামলায় পাকিস্তানে নিন্দার ঝড় তোলে। নানা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সমাজ বিজ্ঞানীরা এর প্রতি তীব্র ঘৃণা জানায়। [১১] তেহরিক-ই-ইনসাফ পাকিস্তান রাজনৈতিক দলের প্রধান এর প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনকরে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "সরকার ও রাষ্ট্রের একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থতা এটি এবং নাগরিকদের জীবন, নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। এর নজরদারীর দায়িত্বে যারা ছিল, অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।" [১২]

আন্তর্জাতিক মহলে[সম্পাদনা]

  •  গণচীন - চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়-এর মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন যে চীন "এই হামলার প্রতি তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে।" এছাড়াও তারা পাকিস্তানের জঙ্গিবাদ-বিরোধী কাজের প্রতি সমর্থন জানায়।[১৩]
  •  ইউরোপীয় ইউনিয়ন – ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস এর পক্ষ থেকে এক মুখপাত্র এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বক্তব্য পেশ করেন, নিরাপত্তারক্ষীদের ও সাধারণ ব্যক্তি যারা ঐ হামলায় নিহত হয়েছে, তাদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং একই সাথে পাকিস্তান সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী তৎপরতাকে স্বাগত জানান।[১৪]
  •  ভারত – ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এর প্রতি নিন্দা জানায়। পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার টিসিএ রঘুবান বলেন, "আমরা করাচির সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের প্রতি নিন্দা জানাই যা আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতির উপর এক বড় ধাক্কা ছিল।"[১৫] রঘুবান এই হামলায় ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।[১৬]
  •  জাতিসংঘ – জাতিসংঘ বিমানবন্দরের হামলা ও টাফটানে শিয়াদের ওপর হামলার নিন্দা জানায়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন পাকিস্তান সরকারকে জঙ্গিবাদ ও হামলার সাথে জড়িতদেরকে বিচারিক কার্যকলাপের মুখে আনতে আহবান জানান।[১৭]
  •  যুক্তরাষ্ট্র – হোয়াইট হাউসও এই হামলার প্রতি নিন্দাজ্ঞাপন করে। মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেন যে "আমেরিকানদের" হৃদয় নিহত ও আহতের পরিবারদের সাথে লীন হয়ে গেছে।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Taliban claim deadly attack on Karachi airport"। BBC News। ৯ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  2. "Pakistani Taliban claims Karachi airport raid"। Al Jazeera English। ২০১৪-০৬-০৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  3. "Heavy fighting reported at Karachi airport"Al Jazeera English। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৪ 
  4. "Militants mount fresh attack near Karachi airport"The Express Tribune। সংগ্রহের তারিখ জুন ৮, ২০১৪ 
  5. "Heavy fighting at Karachi airport as militants and security forces clash"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ 08 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  6. Craig, Tim (২০১৪-০৬-০৮)। "9 killed in attack on key Pakistani airport"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৪ 
  7. ur-Rehman, Zia; Masood, Salman (২০১৪-০৬-০৮)। "Gunmen Attack Karachi Airport, Killing at Least 6"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৪ 
  8. "Attack on Karachi Airport in Pakistan airport leaves over 23 dead"IANS। news.biharprabha.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  9. "TTP claims attack on Karachi airport"Dawn। সংগ্রহের তারিখ 08 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  10. "Karachi airport Handed over to CAA"Dawn। সংগ্রহের তারিখ 08 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  11. "Attack on Karachi airport: Reactions on social media"Dawn। সংগ্রহের তারিখ 08 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  12. "Taftan bombing, Karachi airport attack: PTI asks top officials to step down"The Express Tribune। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 
  13. "China expresses condolences to victims in Karachi airport attack"People's Daily Online। ৯ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 
  14. AUTHOR karafillis.jpg। "EU condemns attack at Karachi airport"। neurope.eu। ২০১৪-০৬-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-১১ 
  15. "India condemns Karachi airport attack"Daily Times। ৯ জুন ২০১৪। ১১ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  16. "India denies hand in Karachi attack"The Nation। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 
  17. Desk, Web। "UN condemns Karachi airport, Taftan attacks – The Express Tribune"। Tribune.com.pk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-১১ 
  18. "Nisar sees foreign, local elements involved in terror attacks"Dawn। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 

টেমপ্লেট:তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান