জারসাঙ্গা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"পশতুন লোকাচারবিদ্যার সম্রাজ্ঞী"

জারসাঙ্গা
Zarsanga (cropped).jpg
২০১৫ সালে জারসাঙ্গা
স্থানীয় নাম
Zarsângá
জন্ম১৯৪৬
বাসস্থানযাযাবর
জাতীয়তাপাকিস্তানি
অন্য নামজার সাঙ্গা
পেশাগায়ক
কার্যকালযৌবন–বর্তমান
আদি নিবাসনওশেরা
দাম্পত্য সঙ্গীমলা জান (বি. ১৯৬৫)
সন্তান৯ (৬ ছেলে, ৩ মেয়ে)
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরনপশতু, পশতু লোককথা
লেবেললং ডিসটেন্স
সহযোগী শিল্পীখুমারিয়া, গুল পানরা

জারসাঙ্গা (এছাড়াও জার সাঙ্গাপশতুন লোকাচারবিদ্যার সম্রাজ্ঞী[১][২] নামেও পরিচিত; জন্ম ১৯৪৬) পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের পশতুন যাযাবর গায়িকা। তাকে বেতার পেশাওয়ারের এয়ারওয়েভের রাণী বিবেচনা করা হয়।[৩]

জীবন[সম্পাদনা]

নিজের ব্যন্ড সঙ্গীত দলের সঙ্গে জারসাঙ্গা মার্চ ১৯৯১ সালে, হ্যাকনি সাম্রাজ্য, লন্ডন

জারসাঙ্গা ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমানে পাকিস্তান) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ অঞ্চলের লাকি মারওয়াতের নওশেরা নামক একটি ছোটো গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবা জাফর মামাখলে।[৪] তিনি কুটানির (কুটন) নামক যাযাবর উপজাতির অন্তর্গত; যারা পাঞ্জাব এবং সিন্ধু থেকে পশতু অঞ্চলে আসে। সাধারণত এরা এক জায়গায় স্থায়ীভাবে অবস্থান নেয় না। তাদের প্রধান পেশার মধ্য রয়েছে গান গাওয়া। তাদের প্রধান ভ্রমণ পথ ডেরা ইসমাইল খান থেকে বন্নু সড়ক এবং কোহাটপেশাওয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের মধ্যে কেউ-কেউ আফগানিস্তান পর্যন্তও বিচরণ করে এবং প্রায়শই গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে শীতের সময় খাইবার পাখতুনখোয়া দক্ষিণের জেলায় ফিরে আসে।

১৯৬৫ সালে, তিনি লাকি মারওয়াতের, সারাই নূরঙ্গের বাসিন্দা মালা জানকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন একজন পশতু যাযাবর।[৫] অনেকেই মনে করেন তিনি জনপ্রিয় লোক গায়ক খান তেহসিলকে বিয়ে করেছিলেন, যদিও তিনি এই গুজব অস্বীকার করেন এবং খান তেহসিলকে তার স্বামীর চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন:

আসলে আমি অনেকবার তার সাথে গান গেয়েছি এবং আমাদের বেশিরভাগ যৌথ গানগুলি প্রচুর জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছিল। সে আমার স্বামী নয়, বরংচ ভাইয়ের মতো।

জারসাঙ্গার তিন মেয়ে এবং ছয় পুত্রসহ নয়জন সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে শুধু তার দ্বিতীয় পুত্র শাহজাদা সঙ্গীত জগতে যুক্ত রয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ার নওশরা জেলার একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জারসাঙ্গাসহ তার তিন পুত্র, এক কন্যা এবং দুই নাতির উপর হামলা চালায়।[৬][৭][৮][৯]

পেশাজীবন[সম্পাদনা]

জারসাঙ্গা ও তার দল, ২০১৫ সালে

সঙ্গীতজীবনের শুরুতে জারসাঙ্গা, গুলনার বেগম, কিশোর সুলতান, বাচা জারিন জান, খায়াল মোহাম্মদ, আহমদ খান এবং সাবজ আলী উস্তাদের গান শুনতেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য:

তাদের সবাইকেই পছন্দ, কিন্তু লোক গানে আমি নিজস্ব ঐতিহ্যগত উপায় বজায় রেখেছি। দুরন্দ লাইনের (পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত) দুই পাশের মানুষ আন্তরিকভাবে আমার গান উপভোগ করে। আমি কোন শিক্ষা পাইনি বলে কাগজে লেখা গাইতে পারি না। প্রায়শই সাধারণ লোকসংগ্রহ থেকে গান গাই। যদিও আমার স্বামী আমার জনপ্রিয় কিছু গান লিখেছেন।

ফরাসি গবেষক, মিস কিয়া, যিনি রেডিও ফ্রান্সে কাজ করতেন, একদা বলেছিলেন জারসাঙ্গার কণ্ঠ ছিলো পশতু ভাষার একমাত্র পাহাড়ী কণ্ঠ। পরবর্তীতে কিয়া তাকে ফ্রান্সে[১০] কনসার্টে অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানান। ফ্রান্সে, অনেকেই তার সুরে মুগ্ধ হয়েছিলো। এই পশতু গায়িকা লন্ডনে একটি কনসার্টের বর্ণনা দিয়েছেন: "আমি জিপসি উপজাতিদের জীবন এবং পাহাড় সম্পর্কে পশতু ভাষায় একটি ঐতিহ্যগত লোক গান পরিবেশন করছিলাম, এবং যখন গানটি শেষ করি, তখন এক ব্রিটিশ ব্যক্তি আমার কাছে আসে এবং গর্বের সাথে নিজেকে জিপসি পরিচয় প্রদান করে।"

জারসাঙ্গা জনপ্রিয় গানসমূহ, যেগুলো সাধারণত তিনি যেকোনো কনসার্টে গেয়ে থাকেন, "দা বাঙ্গরিয়াল পা ছোলি মা যা", বেতারে পরিবেশকৃত তার একমাত্র গান, "জামা দ খ্রো জামো ইয়ারা", "রাশা মামা যুই দে", "জামা দে ঘরনো পানা ইয়ারা", এবং "খাত মে জাঞ্জেরি দে" অর্ন্তভূক্ত। জারসাঙ্গা জার্মানি, বেলজিয়াম, ইরাক, দুবাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।[৪]

ডিস্কতালিকা[সম্পাদনা]

একক[সম্পাদনা]

  • "দা বাঙ্গরিয়াল পা ছোলি মা যা"
  • "খাত মে জাঞ্জেরি দে"
  • "রাশা মামা যুই দে"
  • "জামা দে ঘরনো পানা উয়ারা"
  • "জামা দ খ্রো জামো ইয়ারা"
অবদানশিল্পী হিসেবে

কোক স্টুডিও (পাকিস্তান)[সম্পাদনা]

২০১৮ সালে, জারসাঙ্গা পাশাপাশি একটি পশতু ব্যান্ড খুমারিয়া এবং পশতু গায়ক গুল পানরা সহযোগে কোক স্টুডিও মৌসুম ১১, পর্ব ২ অনুষ্ঠানে "রাশা মামা" শিরোনামে একটি পশতু সঙ্গীত পরিবেশন করেন, যেটি এপর্যন্ত ইউটিউবে ৪১ লক্ষ বারের বেশি দেখা হয়েছে।[১১][১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Pakistan Review [দ্য পাকিস্তান রিভিউ] (ডিজিটাইজড) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ফিরোজসন্স লিমিটেড। ১৯৬৭। পৃষ্ঠা ৩৫–৩৭। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮ 
  2. "Zar Sanga: The Queen Of Pashtun Folklore"। পশতুন পোস্ট। ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৯। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১০That is why when Zar Sanga, the queen of gypsy, sang out 'Rasha mama zwi de lewani de' ( O dear uncle! My fascinating beauty has driven your son insane) at ... 
  3. Broughton, Simon; Ellingham, মার্ক; ট্রিলল, রিচার্ড; অর্লা, ডুয়ান; ম্যাককনকচি, জেমস, সম্পাদকগণ (১৯৯৯)। "লোক, শিল্পী"। World Music: Latin & North America, Caribbean, India, Asia and Pacific (সচিত্র সংস্করণ)। রাফ গাইড। পৃষ্ঠা ২১২। আইএসবিএন 9781858286365। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮ 
  4. "Zarsanga"খাইবার পাখতুনখোয়াখাইবার পাখতুনখোয়া সরকার। ১২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 
  5. খেশগি, খালেদ। "Zarsanga - Melody Queen of Pashto"। Khyber.org। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১০ 
  6. নিজ প্রতিবেদক (২৪ জুলাই ২০১৭)। "জারসাঙ্গা"দ্য ন্যাশন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 
  7. নিজ প্রতিবেদক (২৪ জুলাই ২০১৭)। "Hamid Karzai, politicians, among fans to condemn attack on Zarsanga"পাকিস্তান টুডে 
  8. মনিটরিং ডেস্ক (২৬ জুলাই ২০১৭)। "Pashto folk singer Zarsanga warns Pakistan Will leave for Afghanistan if justice not provided"। কাবুল: আফগানিস্তান টাইমস। ১৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 
  9. "Lok Virsa ED inquires after Zarsanga"দ্য নিউজ। ২৭ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 
  10. "জারসাঙ্গা"। থিয়েটার অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 
  11. "কোক স্টুডিও মৌসুম ১১"কোক স্টুডিও পাকিস্তান। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮ 
  12. কোক স্টুডিও পাকিস্তান (মৌসুম ১১) (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫), রাশা মামা, জারসাঙ্গা, গুল পানরা এবং খুমারিয়া, কোক স্টুডিও মৌসুম ১১, পর্ব ২, কোক স্টুডিও পাকিস্তান, সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]