জাগরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাগরী
সতীনাথ ভাদুড়ী - জাগরী (১৯৪৫).jpg
লেখকসতীনাথ ভাদুড়ী
দেশভারত
ভাষাবাংলা
ধরনউপন্যাস
প্রকাশনার তারিখ
১৯৪৫
ইংরেজিতে প্রকাশিত
১৯৬৩
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পুরস্কাররবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫০)

জাগরী সতীনাথ ভাদুড়ী কর্তৃক লিখিত একটি বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।[১] ১৯৪৫ সালে উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। এটি অর্ধ-আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এর কাহিনিপট ১৯৪০ এর দশকের ভারত ছাড়ো আন্দোলন কে কেন্দ্র করে নির্মীত।[২][৩][৪]

কাহিনিসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

উপন্যাসটি চারজন ভিন্ন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে, উত্তমপুরুষে লিখিত। উপন্যাসে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতীয় বিপ্লবী বিলুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। উপন্যাসটি শুরু হয়, বিলুর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে জেল হেফাজতে তার শেষ রাত থেকে। প্রথম অধ্যায়টি বিলুর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে, যেখানে সে নিজের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে। তার সাথে সংঘটিত অমানবিক নির্যাতনের কথাও এখানে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়ে তার বাবা, মা এবং ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে একই গল্প বর্ণনা করা হয়েছে। তারা সকলেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় তাদের নিজস্ব চিন্তা, উদ্বেগ এবং অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে।

মূলভাব[সম্পাদনা]

উপন্যাসটি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (১৯৪২) পটভূমিতে রচিত।[৫] এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সাধারণ বাঙালি জনগণের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে। সতীনাথ ভাদুড়ী, সমসাময়িক ভারতীয় রাজনীতি এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তিনি এই উপন্যাসের কাহিনিতে বহু আত্মজৈবনিক উপাদান যোগ করেছেন।[১][৬]

প্রকাশনা ও স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। এটি সতীনাথ ভাদুড়ীর লেখা প্রথম উপন্যাস।[৭] প্রকাশনার পরপরই এটি বাঙালি সাহিত্য পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শিশির কুমার দাশ তার একটি বইয়ে এই উপন্যাসটিকে বাংলা ভাষায় রচিত "অন্যতম সেরা রাজনৈতিক উপন্যাস" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[৮] ২০১৪ সালে Scroll.in এর একটি নিবন্ধে, এই উপন্যাসটিকে "বাংলা সাহিত্যের পাঁচটি অবশ্যপাঠ্য বই" এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।[২]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে এই উপন্যাসটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Trust, National Book (১৯৯৭)। Masterpieces of Indian literature। National Book Trust। পৃষ্ঠা 124। আইএসবিএন 978-81-237-1978-8 
  2. Staff, Scroll। "The five must-read books of Bengali literature"Scroll.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  3. Chaudhuri, Sukanta (১৯৯০)। Calcutta, the Living City: The present and future। Oxford University Press। 
  4. Indian & Pakistan Year Book & Who's who। Bennett, Coleman & Company। ১৯৫০। পৃষ্ঠা 54। 
  5. Mācave, Prabhākara; Machwe, Prabhakar Balvant (১৯৭৬)। Four Decades of Indian Literature: A Critical Evaluation (ইংরেজি ভাষায়)। Chetana Publications। আইএসবিএন 978-0-88386-806-5 
  6. Socialist Perspective (ইংরেজি ভাষায়)। Council for Political Studies.। ১৯৮৯। 
  7. Sharma, Satya Deo (১৯৮৫)। Thematic Dichotomy of Writings in Indian English, Indology, and Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Prakash Book Depot। 
  8. Das, Sisir Kumar (২০০৫)। History of Indian Literature: 1911-1956, struggle for freedom : triumph and tragedy (ইংরেজি ভাষায়)। Sahitya Akademi। আইএসবিএন 978-81-7201-798-9 
  9. Rāmakr̥ṣṇan, I. Vi (২০০৫)। Narrating India: The Novel in Search of the Nation (ইংরেজি ভাষায়)। Sahitya Akademi। আইএসবিএন 978-81-260-2072-0