জন ল্যাংগ্রিজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন ল্যাংগ্রিজ
জন ল্যাংগ্রিজ.jpg
আনুমানিক ১৯৩৩ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে জন ল্যাংগ্রিজ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯১০-০২-১০)১০ ফেব্রুয়ারি ১৯১০
উত্তরে নিউইক, লিউয়েস, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৭ জুন ১৯৯৯(1999-06-27) (বয়স ৮৯)
ইস্টবোর্ন, সাসেক্স
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৭৪
রানের সংখ্যা ৩৪৩৭৮
ব্যাটিং গড় ৩৭.৪৪
১০০/৫০ ৭৬/১৫২
সর্বোচ্চ রান ২৫০*
বল করেছে ৩৩৯০
উইকেট ৪৪
বোলিং গড় ৪২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৩/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭৮৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জন জর্জ ল্যাংগ্রিজ, এমবিই (ইংরেজি: John Langridge; জন্ম: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ - মৃত্যু: ২৭ জুন, ১৯৯৯) লিউয়েসের উত্তরে নিউইকের চইলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেট তারকা ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন জন ল্যাংগ্রিজ

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

লিউয়েসের উত্তরে নিউইক এলাকায় এক ক্রিকেট পরিবারে জন ল্যাংগ্রিজের জন্ম। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেমস ল্যাংগ্রিজের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯২৮ সালে সাসেক্স দলে যোগদান করেন তিনি। এরপর ১৯৫৫ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত এ দলেই রয়ে যান। এ সময়কালে ৩৪,০০০ এর অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ জাতীয় দলে খেলার জন্যে তার সুযোগ ঘটেনি। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে ভারত গমনের জন্য তাকে ইংরেজ দলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এ সফরটি বাতিল হয়ে যেতে বাধ্য হয়।

৭৬বার শতরানের সন্ধান পেয়েছেন তিনি যা অন্য কোন টেস্টবিহীন খেলোয়াড়ের ছোঁয়া পায়নি। তন্মধ্যে, আটবার এ শতরানকে দ্বি-শতকের পরিণত করার দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। রান সংগ্রাহকদের মধ্যে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তার অবস্থান ৪০তম। কেবলমাত্র, গ্ল্যামারগনের অ্যালান জোন্স নিজদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক খেলাবিহীন অবস্থাতে থেকে রান সংগ্রাহকদের মধ্যে তার তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।[১][২] তবে সেঞ্চুরি করার দিক দিয়ে জন ল্যাংগ্রিজ তার তুলনায় এগিয়ে ছিলেন।

১৯৩৩ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় টেড বোলিকে সাথে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৫০ মিনিটে ৪৯০ রানের জুটি গড়েন। এ সংগ্রহটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রথম উইকেট জুটিতে অদ্যাবধি চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহরূপে বিবেচিত হয়ে আসছে।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

অধিকাংশ সময়েই স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। এ অঞ্চলে অবস্থান করে সুদীর্ঘ অব্যর্থ হাতে ৭৮৪ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন তিনি। তন্মধ্যে খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ মৌসুমে ১৯৫৫ সালে ৪৫ বছর বয়সেও ৬৯ ক্যাচ তালুবন্দী করতে সক্ষমতা দেখান। কেবলমাত্র পাঁচজন খেলোয়াড় এক মৌসুমে তার তুলনায় অধিক ক্যাচ নিয়েছেন।[১]

লেগ সাইডের দিকে বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখতেন। টাইমসের অভিমত, তার ব্যাটিং যতোটা না অদ্বিতীয় ছিল, তার তুলনায় বেশ সংযত ভঙ্গীমা প্রদর্শন করতেন। এ খেলার অন্যতম আদর্শস্থানীয় ছিলেন। প্রত্যেক বল মোকাবেলা করার পূর্বে শরীরের প্রত্যেকটি উপকরণের দিকেও খেয়াল রাখতেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

তার স্মরণে উইজডেন উল্লেখ করে যে, ২০শ শতকের অন্যতম সেরা ইংরেজ ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অনন্য সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে ১৯৫০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।[৩] এছাড়াও, ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই পদবীতে ভূষিত হন তিনি।[২]

অবসর[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর ২৫ মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনোযোগিতা, নিষ্ঠা ও প্রাচীনপন্থী ধাঁচের চলাফেরার কারণে সর্বত্রই পূজনীয় ছিলেন তিনি। এর স্বীকৃতিস্বরূপ সাতবার টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে ও আটবার একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা পরিচালনা করেছেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেমস ল্যাংগ্রিজ ও জন পুত্র রিচার্ড ল্যাংগ্রিজ সাসেক্স ক্রিকেটের অন্যতম অনুসঙ্গ ছিলেন। চইলি এলাকায় জন ল্যাংগ্রিজের জন্ম। ব্রাইটনে ৫০ বছর অবস্থান করেন ও ২৭ জুন, ১৯৯৯ তারিখে ৮৯ বছর বয়সে সাসেক্সের ইস্টবোর্ন এলাকায় জন ল্যাংগ্রিজের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Player Profile from CricInfo
  2. "John Langridge - Sussex batting legend dies (30 June 1999)"CricInfo। ESPN। ৩০ জুন ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৩ 
  3. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]