চিঠি

চিঠি বা পত্র হলো একধরনের লিখিত বার্তা,যা মূলত এক ব্যক্তি থেকে অপর ব্যক্তির কাছে সাধারণত লেফাফাতে ভরিয়ে ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।[১]চিঠি আগে লেফাফা বা খামে করে প্রেরণ করা হলেও,খুব কম সময়ই ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।
আধুনিক যুগে ইমেলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন:ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করা হয়। তাই,হালজমাজায় আগেরকার দিনের মতো চিঠি বা পত্রের আদান-প্রদান খুব কমই দেখা যায়।[২]
চিঠি দুজন বা দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।পত্রের আদান-প্রদান বন্ধু ও আত্মীয়দের মধ্যকার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট করে তুলে,পেশাদারি সম্পর্ক উন্নয়ন করে এবং আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেয়।স্বাক্ষরতা টিকিয়ে রাখতেও একসময় চিঠির অবদান ছিল।[৩] প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ চিঠি আদানপ্রদান করেছে, ইলিয়াডে তার উল্লেখ ছিল।[৪] হিরোডোটাস এবং থুসিডাইডিসের রচনাবলীতেও তা উল্লেখ করা হয়েছে।[৫]
চিঠি লেখার ইতিহাস
[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিকভাবে, চিঠির প্রচলন ছিল প্রাচীন ভারত, প্রাচীন মিশর, সুমের, প্রাচীন রোম, মিশর এবং চীনে, এবং এই ইন্টারনেটের যুগেও এর চল বর্তমান। সতের ও আঠারো শতকে চিঠি লেখা হতো স্ব-শিক্ষার জন্য। চিঠি ছিল পাঠচর্চা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা, বিতর্কমূলক লেখা বা সমমনা অন্যদের সাথে আইডিয়া বিনিময়ের পদ্ধতি। কিছু লোক চিঠিকে মনে করতো কেবল লেখালেখি। আবার অন্যরা মনে করে যোগাযোগের মাধ্যম। বাইবেলের বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ চিঠিতে লেখা। অযক্তিগত, কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক- সবরকম চিঠিই পরবর্তীকালে ঐতিহাসিকগণ প্রাথমিক উৎস হিসেবে ব্যবহার করেন। কখনোবা চিঠি এতো শৈল্পিক রূপ পায় যে তা সাহিত্যের একটি বর্গ হয়ে ওঠে, যেমন বাইজেন্টাইনে এপিস্টোলোগ্রাফি বা সাহিত্যের পত্র উপন্যাস।[৬]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি দুভাবে লিখে চিঠির প্রেরক খরচ বাঁচাতে পারে।
- সিজার বোর্গিয়ার হাতে-লেখা একটি চিঠি।
- সান্তা ক্লজকে লেখা একটি শিশুর চিঠি।
- দি হাউন্ড অব দি বাস্কারভিল সম্বন্ধে আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা একটি চিঠি।
- ১৯৬১ সালে সিয়াটল স্পেস নিডলে আমন্ত্রণপত্র।
- রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগপত্র, ১৯৭৪।
- দ্য লেটার চিত্রকর্ম, ১৮৭৩
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "letter"। dictionary.cambridge.org (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "বিলুপ্তির প্রান্তে চিঠি সংস্কৃতি"। www.ajkerpatrika.com। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Blake, Gary; Bly, Robert W. (১৯৯৩)। The Elements of Technical Writing। Macmillan Publishers। পৃ. ১২৫। আইএসবিএন ০০২০১৩০৮৫৬।
- ↑ Homer, Iliad, 6. 167–70.
- ↑ Ebbeler, J. (২০০৯)। Rousseau, P. (সম্পাদক)। Tradition, Innovation, and Epistolary Mores। Chichester: Wiley-Blackwell। পৃ. ২৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-১৯৮০-১।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|কর্ম=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "Epistolography" in The Oxford Dictionary of Byzantium, Oxford University Press, New York & Oxford, 1991, p. 718. আইএসবিএন ০১৯৫০৪৬৫২৮
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিঅভিধানে চিঠি-এর আভিধানিক সংজ্ঞা পড়ুন।- Letters as historical sources.
- The First English Family Letters at History Today.