চরফ্যাসন সরকারি কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চরফ্যাসন সরকারি কলেজ  ভোলা চরফ্যাসন সড়ক থেকে ১৯৮০ ফুট পশ্চিমে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম সড়কের পাশ্বে অবস্থিত একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চরফ্যাসন সরকারি কলেজ ভোলার কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ভোলা জেলার প্রাচীন তম এবং দক্ষিণ বাংলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ। এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। কলেজটি নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা। এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত [১] ।এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এর অধিভুক্ত।

চরফ্যাসন সরকারি কলেজ
চরফ্যাসন সরকারি কলেজ
প্রধান প্রবেশ পথ
অবস্থান
ভোলা চরফ্যাসন সড়ক থেকে ১৯৮০ ফুট পশ্চিমে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম সড়কের পাশ্বে [২]
৮৩৪০
বাংলাদেশ  বাংলাদেশ
তথ্য
ধরনসরকারী
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ
বিদ্যালয় জেলাভোলা
সভাপতিআবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব
অধ্যক্ষকয়ছর আহমেদ দুলাল
কর্মকর্তা২০ [৩]
অনুষদ০৫
শিক্ষকমণ্ডলী৬৩ [৪]
শিক্ষার্থী সংখ্যা৩০০০ প্রায়
ভাষার মাধ্যমবাংলা
ক্যাম্পাসের আকার১৩.২০ একর
ক্রীড়াফুটবল, ক্রিকেট
সংবাদপত্রপলিমাটির কথা ( প্রকাশিত ২০১৪)
শিক্ষা বোর্ডমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল
অন্তর্ভুক্তিজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ওয়েবসাইট

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক ভবন

পলিমাটির দেশ ভোলা এর উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাসন। নদী ভাঙ্গা মানুষের বিচ্ছিন্ন সংস্কৃতির অনিবার্য টানা পোড়নের মধ্যে দিয়ে বিকশিত হয়ে উঠেছে এখানকার সমাজ ব্যাবস্থা।এখানে সমষ্ঠির সংস্কৃতি গড়ে উঠে না উঠলেও সমাজ সচেতন কতে গুণী মানুষ কালে কালে সৃষ্টিশীল চিন্তার স্বাক্ষর রেখেছেন।চরফ্যাসন কলেজ সেই সকল গুনীজনদের মেধা ও শ্রমের ফসল। পঞ্চাচ দশকের শেষের দিকে ট্যাফনাল ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ হক মাস্টার এর নেতৃত্ব চরফ্যাসন কলেজ স্থাপনের উদ্যেগ গ্রহন করেন।সে মোতাবেক তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম এ আজিজ এর নিকট উদোক্তাগণ চরফ্যাসন কলেজ স্থাপনের আবেদন জমা দেন। তখন পর্যন্ত ভোলা কলেজে প্রতিষ্টা হয় নি। তখন মহকুমা প্রশাসন বলেন, যখন এখানে কলেজ নেই চরফ্যাসন হলো একটা ইউনিয়ন সেখানে কলেজে স্থাপিত হয় কি করে। আঃ হক মাস্টার কে বলেন আসেন আপনাকে দিয়ে এখানে প্রতিষ্টা করি কলেজ তখন। ১৯৬২ সালে তিনি হয়ে যান ভোলা সরকারি কলেজ এর প্রতিষ্টা অধ্যক্ষ।অতঃপর চরফ্যাসন কলেজ প্রতিস্টার কিছুটা ব্যাহত হলেও দমে যান,তবে থেমে থাকি নি। ১৯৬৮ সালে ১ লা জুন তৎকালীন এলাকার গন্যমান্য, ব্যাক্তিবর্গ,বাজার ব্যাবসায়ী, সমাজ সেবক,জনপ্রতিনিধি সকলে একত্রিত হন ব্রজগোপাল পাবলিক ক্লাবে।এলাকার গন্য ব্যাক্তি আবদুল মোতালেব মাস্টার এর নেতৃত্ব সে সভায় চরফ্যাসন কলেজ প্রতিষ্টার আনুস্টানিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এতে ১৪৩ সদস্য বিশিষ্ট আর্গানাইজিং কমিটি গঠন করেন।কলেজ কমিটির প্রতিষ্টা সভাপতি, মহকুমা প্রশাসন,সম্পাদক আবদুল মতিন,যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমান ফরাজি কোষাধ্যক্ষ মোঃ সামছুদ্দিন মাস্টার।প্রথম দিনের সভায় কোষাধ্যক্ষ নগদ দশ হাজার টাকা প্রদান করেন। তৎকালীন বরন্য ব্যাক্তিগন চরফ্যাসন টি.বি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এম. নজরুল ইসলাম। ৩১/০৭/১৯৬৮ ইং গভনিং বডি চরফ্যাসন টি.বি স্কুলের প্রধান কে চরফ্যাসন কলেজ এর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন।০১/০৮/১৯৬৮ সালে তিনি চরফ্যাসন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ব্রজগোপাল পাবলিক ক্লাবে কলেজ এর প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। [৫]

স্বীকৃতি প্রদান[সম্পাদনা]

০১/০৭/১৯৬৮ হতে যশোর শিক্ষা বোর্ড চরফ্যাসন কলেজের প্রথম মানবিক ও বিজ্ঞান শাখায় ও এবং ০১/০৭/১৯৬৯ হতে বানিজ্য শাখায় স্বীকৃতি দেন।১৬/০৭/১৯৭০ সালে ডিগ্রী কলা ও বানিজ্য অধিভুক্ত লাভ করে।০৬/০৭/২০০০ইং তারিখে বি এস সি অধিভুক্ত লাভ করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ০২/০১/২০১৩ ইং তারিখে রাস্ট্র-বিজ্ঞান,ব্যাবস্থাপনা,হিসাব বিজ্ঞান এবং ৩০/০৯/২০১৩ তারিখে ইতিহাসসমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করেন। [৬]

স্থাপনা[সম্পাদনা]

মসজিদ

১৯৭২ সালে একাডেমিক ভবন ৫ বানিজ্য ভবন।ছাত্রাবাস গ্রন্থাগার ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১০ এ মসজিদ। ২৩/০২/২০১৩ অর্নাস ভবন

অনার্স ভবন

ও একাডেমিক ভবন

একাডেমিক ভবন

বিজ্ঞান ভবন

১৭/১০/২০১৩ তারিখে ছাত্রী নিবাস প্রক্রিয়াধীন। শহীদ মিনার। [৭]

পরিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে মাধ্যমিক পরিক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত। ১৯৮৯ সালে ডিগ্রী পরিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন। ২০১৩ অর্নাস পরিক্ষার কেন্দ্র স্থাপন। [৮]

ফলাফল[সম্পাদনা]

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরিক্ষা ২০০৬ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষ দশ অবস্থান করেন। ২০০১ সালে ডিগ্রী কোর্সে রেজাল্টের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হয়। এছাড়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ড উচ্চ মাধ্যমিক ২০১১ সেরা ২০এর মধ্যে ১৮. ২০১২ সালে ১২ তম ২০১৪ সালে ১৬ তম স্থান অর্জন করে। [৯]

সরকারি করণ[সম্পাদনা]

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হতে ১১/০৬/২০১৩ তারিখে চরফ্যাসন কলেজ সরকারি করনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান পত্র শিক্ষা মন্ত্রানালয় প্রেরণ করেন।কলেজ সরকারি কলেজ করনের লক্ষ্যে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত পরিদর্শন টিম ২৩/০৬/২০১৩ তারিখে পরিদর্শন করেন।২২ এ জুলাই ২০১৩ ইং তারিখে সরকারি করনের লক্ষ্যে কলেজের নিয়োগ পদোন্নতি স্থাবর অস্থাবর সম্পতি হস্তান্তর ইত্যাদির ওপর নিষেধাজ্ঞা অরোপসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পতি সরকারের নিকট হস্তান্তর করার নিমেত্তে রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র দলিল Dead of Gift সম্পাদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রানালয় কর্তৃক চিঠি ইস্যু করা হয়। সে মোতাবেক গভনুং বডির ০২/০৮/২০১৩ তারিখে সভার সিন্ধান্ত মোতাবেক ১৪/০৮/২০১৩ তারিখ ৩৮৬৫ নং দলিলে মহামান্য রাস্ট্রপতি বরাবরে চরফ্যাসন মহাবিদ্যালয় এর পক্ষে অধ্যক্ষ হিসেবে Deed of Gift দলিল সম্পাদন করে। অতঃপর শিক্ষা মন্ত্রানালয়েরর ২২ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে শাঃ৯/স.ক.-১৮/২০১৩/৫১৮নং স্মারকে ১১ অক্টোবর ২০১৩ ইং তারিখ হতে চরফ্যাসন মহাবিদ্যালয়টি। চরফ্যাসন সরকারি কলেজ নামে সরকারি করন করা হয় এবং ৩১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ বাংলাদেশ গেজেট ভুক্ত হয়। [১০]

ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

ছাত্র ছাত্রীদের আবাসন[সম্পাদনা]

কলেজে 'মোশারফ হোসেন'ছাত্রাবাস আছে। ১৪০শয্যা বিশিষ্ট। আবাসন ও ছাত্রাবাস কমিটির তত্ত্বাবধানে ছাত্রাবাসগুলো পরিচালিত হয়। এছাড়াও ছাত্রদের জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডরমেটরী রয়েছে। এছাড়াও কলেজে ছাত্রীদের জন্য ছাত্রীনিবাস নির্মাণাধীন।

মাঠ[সম্পাদনা]

কলেজের অভ্যন্তরেই বিশাল আকৃতির ঐতিহাসিক কলেজ এর মাঠ অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

চরফ্যাসন সরকারি কলেজ এর গ্রন্থাগার ভোলা জেলার প্রাচিনতম গ্রন্থাগার এর মধ্যে একটি। কলেজে একটি কেন্দ্রীয় ও ০৫টি বিভাগীয় সেমিনার গ্রন্থাগার রয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এ সব মিলিয়ে প্রায় ৬৬৪৮ খানা বই রয়েছে। এছাড়াও ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কলেজ গ্রন্থাগারে দৈনিক , সাপ্তাহিক,পাক্ষিক এবং মাসিক পত্র-পত্রিকার ব্যবস্থা রয়েছে।

শহীদ মিনার[সম্পাদনা]

শহীদ মিনার

কলেজের পূর্ব পাশ্বে অবস্থিত সু বিশাল শহীদ মিনার

অনুষদ ও বিভাগসমূহ[সম্পাদনা]

অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

  • কলেজে ১টি মসজিদ রয়েছে।
  • ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক মিলনায়তন রয়েছে।
  • কলেজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সেনা শাখায় যোগদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • রোভার স্কাউট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রম চালু আছে। আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহন করতে পারে।
  • ব্লাড ডোনেশন ক্লাব রয়েছে
  • নিজস্ব সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে।
  • ক্যান্টিন
  • সাইকেল গ্যারেজ
  • শহীদ মিনার
  • বিজ্ঞানাগার
  • বিজ্ঞান ক্লাব
  • বিতর্ক ক্লাব
  • মুক্তিযুদ্ধা কর্নার

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত" 
  2. "অবস্থান" 
  3. "কর্মচারী" 
  4. "শিক্ষক" 
  5. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং৪৬-৪৭
  6. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং৫০,৫২,৫৩
  7. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং ৫৩
  8. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং৫০,৫১,৫৩
  9. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং৫২-৫৩
  10. "পলিমাটির কথা" পৃস্টা নং৫৪