চণ্ডীদাস মাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চণ্ডীদাস মাল
জন্ম নামচণ্ডীদাস মাল
জন্ম(১৯২৯-১০-০৭)৭ অক্টোবর ১৯২৯
বালী, হাওড়া, বৃটিশ ভারত
ধরনপুরাতনী, আগমনী, টপ্পা, শ্যামাসঙ্গীত
পেশাসঙ্গীত শিল্পী
কার্যকাল১৯৪৪–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীনমিতা দেবী
সন্তানদেবজ্যোতি মাল
পিতা-মাতানারায়ন চন্দ্র মাল(পিতা)
ঊষাঙ্গিনী মাল(মাতা)

চণ্ডীদাস মাল (৭ অক্টোবর ১৯২৯) বাংলা পুরাতনী, আগমনী গান, টপ্পা, শ্যামাসঙ্গীত ও ঠুমরির সঙ্গীতশিল্পী।[১]

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

চণ্ডীদাস মালের জন্ম বৃটিশ ভারতের বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বালিতে। পিতা নারায়ণ চন্দ্র মাল ও মাতা ঊষাঙ্গিনী মাল। পড়াশোনা বালির রিভার থমসন স্কুলে (বর্তমানে শান্তিরাম বিদ্যালয়ে)। তিনি এক সাঙ্গীতিক পরিবারের বেড়ে উঠেছেন। আরামবাগের দৌলতপুরের বিখ্যাত তবলিয়া এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশারদ শশীভূষণ পাত্র ছিলেন তাঁর দাদামশাই। পিতা তৎকালীন হুগলি ব্যাঙ্কের কর্মী হলেও অনাথবন্ধু বসুর কাছে টপ্পা শিখতেন, মাও গান গাইতেন। খুব অল্প বয়সেই বাবার কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম শুরু তাঁর। তারপর শিক্ষালাভ বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সনৎ সিংহের দাদা কিশোরীমোহন সিংহের কাছে ও পরে কিশোরীমোহনের গুরু রামচন্দ্র পালের কাছে। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে সাত বৎসর বয়সে অল বেঙ্গল মিউজিক কম্পিটিশনের জুনিয়র বিভাগে তার খেয়ালের তানকারি, রাগরূপ পরিবেশনা, স্বরের স্বচ্ছন্দ যাতায়াত শুনে প্রবাদপ্রতিম দৃষ্টিহীন সঙ্গীত শিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র দে মোহিত হয়ে আক্ষেপ করে বলেছিলেন-

" একবার চোখে যদি দেখা যেত শিশুটির মুখখানি। ওগো কে আছ, ওই ছেলেটিকে একবার আমার কোলে দাও দেখি"।

এরপর বহু গুরুর কাছে বহু কিছু শিখেছেন তিনি। শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি অগাধ ভালবাসা আর নিষ্ঠার কারণে অনেকেই তাঁকে গান শেখাবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এগারো বছর বয়স থেকে ক্রমান্বয়ে তিনি কালীপদ পাঠকের কাছে টপ্পা, আগমনী আর শ্যামাসঙ্গীত, দুর্গাদাস সেনের কাছে পুরাতনী, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছে ভজন, কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে খেয়াল, শচীনদাস মতিলালের কাছে ঠুমরি, শৈলজারঞ্জন মজুমদারের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীতে তালিম নিয়েছিলেন তিনি। বিষ্ণুপুর ঘরানার শচীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও কিছু দিন শিক্ষা নেন। "রামকৃষ্ণ-সারদা-স্বামীজি" গান শিখেছেন স্বামী চণ্ডিকানন্দ মহারাজের কাছে বেলুড়মঠের লনে মহারাজের সাথে ঘুরতে ঘুরতে। বিখ্যাত গুণী জ্ঞানী মানুষের সান্নিধ্যে এসে তিনি নিজের মেধা ও দক্ষতায় বাংলা আগমনী, পুরাতনী, টপ্পা, ধ্রুপদ সঙ্গীত জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।[২]

সঙ্গীত জীবন[সম্পাদনা]

বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়াও স্থানীয় ক্লাবে যাত্রাপালা যেমন রৈবতক','উত্তরা', 'ভীষ্ম' ইত্যাদিতে এবং কলকাতার মিনার্ভা থিয়েটারে মহেন্দ্র গুপ্তর 'শ্রীকৃষ্ণ সারথি', 'দেবত্র', 'মহানায়ক শশাঙ্ক' নাটকেও গান গেয়েছেন।

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে আকাশবাণী কলকাতাদূরদর্শনের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন।[১]

সঙ্গীত প্রশিক্ষক হিসাবে বহু নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, সুরঙ্গমা, অল বেঙ্গল মিউজিক কলেজ, সঙ্গীত নাটক আকাদেমির বাৎসরিক ওয়ার্কশপ পরিচালনা ছাড়াও বাড়িতে নিয়মিত গান শেখাতেন ছাত্রছাত্রীদের। তাঁর বহু কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে আছেন - অজয় চক্রবর্তী, ড. উৎপলা গোস্বামী, তিমিরবরণ ঘোষ, চন্দ্রবলী রুদ্র দত্ত, লোপামুদ্রা, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখেরা।[২]

তাঁর কণ্ঠে ঠাকুরের ৭৫ টি গান রামকৃষ্ণ মিশনের বেলুড়মঠের আর্কাইভে এবং ১০০ টি টপ্পা, ঠুমরি, পুরাতনী, শ্যামাসঙ্গীত, দাশরথি রায় আর মহেন্দ্রলাল তর্কালঙ্কারের আগমনী সঙ্গীত নাটক আকাদেমির আর্কাইভে সংরক্ষিত।[১]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

বাংলা সঙ্গীত জগতে বিশেষ অবদানের জন্য চণ্ডীদাস মাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য নাটক সঙ্গীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমির আকাদেমি পুরস্কার ও বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদের 'বিভাকর' পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাজ থেকে গিরিজাশঙ্কর পুরস্কার পান।[৩]

পরিবার[সম্পাদনা]

চণ্ডীদাস মালের সহধর্মিণী হলেন বিখ্যাত শিল্পী শর্বরী রায়চৌধুরীর ভগিনী নমিতা দেবী। এদের পুত্র দেবজ্যোতি ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. পল্লব মুখোপাধ্যায় (২০২০-০৬-২৮)। "তাঁর গাওয়া ৭৫ টি গান আজ বেলুড় আর্কাইভে"আনন্দবাজার পত্রিকা। রবিবাসরীয়। 
  2. সৌমিত্র ঘোষ (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "উপেক্ষার আড়ালে টপ্পার ধারক চণ্ডীদাস"এই সময়। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২০ 
  3. "বাংলার সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে: ফিরহাদ"bartamanpatrika.comবর্তমান। ২৭ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২০