গুজরাত সালতানাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গুজরাত সালতানাত
ગુજરાત સલ્તનત
সালতানাত

 

১৪০৭–১৫৭৩
 


পতাকা

রাজধানী পাতন (১৪০৭–১৪১১)
আহমেদাবাদ (১৪১১–১৪৮৪, ১৫৩৫–১৫৭৩)

মুহাম্মাদাবাদ (১৪৮৪–১৫৩৫)

ভাষাসমূহ পুরনো গুজরাতি
উর্দু
ফার্সি
ধর্ম হিন্দুধর্ম
ইসলাম
জৈন
সরকার রাজতন্ত্র
মুজাফফরি রাজবংশ
 -  ১৪০৭–১৪১১ প্রথম মুজাফফর শাহ
 -  ১৪১১–১৪৪৩ প্রথম আহমেদ শাহ
 -  ১৪৪৩–১৪৫১ প্রথম মুহাম্মদ শাহ
 -  ১৪৫১–১৪৫৮ দ্বিতীয় কুতুবউদ্দিন আহমেদ শাহ
 -  ১৪৫৮–১৫১১ মাহমুদ বেগারহা
 -  ১৫১১–১৫২৮ দ্বিতীয় মুজাফফর শাহ
 -  ১৫২৬-১৫৩৭ বাহাদুর শাহ
ইতিহাস
 -  প্রথম মুজাফফর শাহ কর্তৃক দিল্লি সালতানাত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা ১৪০৭
 -  দিউর যুদ্ধ ১৫০৯
 -  দিউর যুদ্ধ ১৫৩১
 -  বাসেইনের চুক্তি ১৫৩৪
 -  দিউ অবরোধ ১৫৩৭
 -  আকবর কর্তৃক অধিকৃত ১৫৭৩
বর্তমানে অংশ গুজরাত, দমন ও দিউ এবং মুম্বাই
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়
১৫শ শতাব্দীতে গুজরাত সালতানাত
১৫৩৭ সালে দিউ অবরোধের সময় বাহাদুর শাহর মৃত্যু (১৬শ শতাব্দীর শেষের দিকে আকবরনামায় চিত্রায়িত)।[১]

গুজরাত সালতানাত ছিল ১৫শ শতাব্দীর প্রথম দিকে গুজরাতে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন সালতানাত। ১৩৯১ সালে শাসক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা জাফর খানকে দিল্লি সালতানাতের পক্ষ থেকে গুজরাতের গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়। জাফর খান (পরবর্তীতে প্রথম মুজাফফর শাহ) পাতনের নিকটে ফারহাত-উল-মুলককে পরাজিত করে শহরে নিজ রাজধানী স্থাপন করেন। ১৪০৭ সালে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার নাতি প্রথম আহমেদ শাহ তার পরে সুলতান হন এবং তিনি ১৪১১ সালে সাবরমতি নদীর তীরে নতুন রাজধানী হিসেবে আহমেদাবাদ স্থাপন করেন। একে তিনি শহর-ই-মুয়াজ্জাম (মহান শহর) উপাধি দেন। প্রথম মাহমুদ শাহ বেগারহার সময় সালতানাতের সমৃদ্ধি সর্বো‌চ্চ শিখরে পৌছায়। ১৫০৯ সালে দিউর যুদ্ধের পর পর্তুগিজরা গুজরাত সালতানাতের কাছ থেকে দিউ ছিনিয়ে নেয়। ১৫৩৫ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন গুজরাত আক্রমণ করেন। ১৫৭৩ সালে আকবর গুজরাতকে নিজ সাম্রাজ্যের সাথে একীভূত করে নেন। এরপর গুজরাত মুঘল সুবায় পরিণত হয়। শেষ শাসক তৃতীয় মুজাফফর শাহকে বন্দী করে আগ্রা নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫৮৩ সালে তিনি পালিয়ে যান এবং অভিজাত ব্যক্তিদের সহায়তায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। এরপর আকবরের সেনাপতি আবদুর রহিম খান-ই-খানান তাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন।[২]

প্রথম মুজাফফর শাহ[সম্পাদনা]

মুজাফফর শাহর তাম্র মুদ্রা

দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলক ১৩৭৭ সালে মালিক মুজাফফর (ফারহাত-উল-মুলক নামেও পরিচিত ছিলেন) ও রাস্তি খানকে গুজরাতের গভর্নর নিয়োগ দেন। ১৩৮৭ সালে তার বদলে সিকান্দার খানকে নিয়োগ দেয়া হয়, কিন্তু ফারহাত-উল-মুলক নির্দেশ অমান্য করে সিকান্দার খানকে হত্যা করেন। ১৩৯১ সালে সুলতান নাসিরউদ্দিন মুহাম্মদ বিন তুগলক জাফর খানকে গুজরাতের গভর্নর নিয়োগ দেন এবং তাকে মুজাফফর খান উপাধি দেন। ১৩৯২ সালে মুজাফফর খান ফারহাত-উল-মুলককে পাতনের নিকটে কাম্বইয়ের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং শহরটি অধিকার করেন।[৩]

১৪০৩ সালে তার পুত্র তাতার খান তাকে দিল্লির দিকে অগ্রসর হওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু তিনি তাতে স্বীকৃতি দেননি। ফলে তাতার খান তাকে বন্দী করে নিজে মুহাম্মদ শাহ উপাধি ধারণ করে সুলতান হন। এরপর তিনি দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু পথিমধ্যে তার চাচা শামস খান তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেন। এরপর মুজাফফর শাহ মুক্তি পান এবং পুনরায় দায়িত্বগ্রহণ করেন। ১৪০৭ সালে তিনি নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন। তিনি সুলতান মুজাফফর উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা চালু করেন। ১৪১১ সালে তার মৃত্যুর পর তার নাতি ও তাতার খানের পুত্র আহমেদ শাহ সুলতান হন।[৩]

প্রথম আহমেদ শাহ[সম্পাদনা]

প্রথম আহমেদ শাহ কর্তৃক নির্মিত আহমেদাবাদের তিন দারওয়াজা

সিংহাসনে বসার পর আহমেদ শাহ তার চাচাদের বিদ্রোহের মুখোমুখি হন। তার বড় চাচা ফিরোজ খান বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন এবং নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ফিরোজ ও তার ভাইয়েরা আহমেদ শাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এই বিদ্রোহের সময় মালওয়ার সুলতান হোশাং শাহ গুজরাত আক্রমণ করেছিলেন। তাকে প্রতিহত করা হলেও ১৪১৭ সালে তিনি কানদেশের শাসক নাসির খানের সাথে পুনরায় আক্রমণ করেন এবং সুলতানপুর ও নন্দুরবার অধিকার করে নেন। গুজরাতের সেনারা তাদের পরাজিত করে। পরবর্তীতে ১৪১৯, ১৪২০, ১৪২২ ও ১৪৩৮ সালে আহমেদ শাহ চারবার মালওয়ায় অভিযান চালান।[৪]

১৪২৯ সালে ঝালাওয়ারের কানহা রাজা বাহমানি সুলতান আহমেদ শাহর সহায়তায় নন্দুরবার ধ্বংস করেন। তবে গুজরাতের সেনারা বাহমানিদের পরাজিত করে এবং বাহমানিরা দৌলাতাবাদে পালিয়ে যায়। বাহমানি সুলতান আহমেদ শাহ অতিরিক্ত সেনা পাঠান এবং কানদেশের সেনারা তাদের সাথে যোগ দেয়। এবারও গুজরাতের কাছে তারা পরাজিত হন। শেষপর্যন্ত আহমেদ শাহ বাহমানিদের কাছ থেকে থানা ও মাহিম অধিকার করতে সক্ষম হন।[৪]

আহমেদ শাহর মুদ্রা

শাসনামলের শুরুর দিকে তিনি আহমেদাবাদ শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাতন থেকে এখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার শাসনামলে আহমেদাবাদ জামে মসজিদতিন দারওয়াজা নির্মিত হয়।[৫]

১৪৪৩ সালে সুলতান আহমেদ শাহ মারা যান এবং এরপর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ সুলতান হন।[৪]

প্রথম মুহাম্মদ শাহ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় কুতুবউদ্দিন আহমেদ শাহর রৌপ্য মুদ্রা, ৮৬২ হিজরি (১৪৫৭-৫৮ খ্রিষ্টাব্দ)।
প্রথম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহর রৌপ্য মুদ্রা।
মাহমুদ শাহর তাম্র মুদ্রা।
দ্বিতীয় মুজাফফর শাহর তাম্র মুদ্রা।

মুহাম্মদ শাহ ইদার আক্রমণ করে এর শাসক রাজা হরি রায়কে তার আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। এরপর তিনি রাওয়াল থেকে কর আদায় করেন। ১৪৪৯ সালে তিনি চাম্পানিরের দিকে যাত্রা করেন। কিন্তু চাম্পানিরের শাসক রাজা কনক দাস মালওয়া সুলতান মাহমুদ শাহ খিলজির সহায়তায় তাকে প্রতিহত করেন। ফেরার পথে মুহাম্মদ শাহ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৪৫১ সালের ফেব্রুয়ারি মারা যান। এরপর তার পুত্র দ্বিতীয় কুতুবউদ্দিন আহমেদ শাহ সুলতান হন।[৬]

মাহমুদ বেগারহা[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় কুতুবউদ্দিন আহমেদ শাহ ১৪৫৮ সালে মারা যান। এরপর অভিজাত ব্যক্তিরা তার চাচা দাউদ খানকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু অল্প সময় পড়ে তারা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং দ্বিতীয় মুহাম্মদ শাহর পুত্র ফাতেহ খানকে সিংহাসনে বসায়। ফাতহ খান সিংহাসনে বসার পর আবুল ফাতেহ মাহমুদ শাহ উপাধিধারণ করেন। কিন্তু তিনি মাহমুদ বেগারহা নামে পরিচিত ছিলেন। বেগারহা অর্থ দুই দুর্গ বিজেতা। গিরনার ও চাম্পানির দুর্গ জয়ের পর এই নামে তিনি পরিচিত হয়ে থাকতে পারেন। ১৫১১ সালের ২৩ নভেম্বর মাহমুদ মারা যান।[৭]

দ্বিতীয় মুজাফফর শাহ[সম্পাদনা]

মাহমুদ বেগারহার পুত্র খলিল খান তার পিতার উত্তরসূরি হন এবং মুজাফফর শাহ উপাধি ধারণ করেন। ১৫১৯ সালে রানা সাঙ্গা মালওয়া ও গুজরাত সালতানাতে জোটবাহিনীকে পরাজিত করেন এবং মালওয়ার দ্বিতীয় মাহমুদ শাহকে বন্দী করেন। পরবর্তীতে রানা সাঙ্গা গুজরাত আক্রমণ ও লুন্ঠন করেন।[৮] মুজাফফর শাহ ১৫২৬ সালের ৫ এপ্রিল মারা যান এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিকান্দার সুলতান হন।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Cambridge history of the British Empire, Volume 2 by Arthur Percival Newton p. 14
  2. Sudipta Mitra (২০০৫)। Gir Forest and the Saga of the Asiatic Lion। Indus Publishing। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 978-81-7387-183-2 
  3. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 155-7
  4. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 157-60
  5. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 709-23
  6. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 160-1
  7. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 162-7
  8. Bayley's Gujarat, p. 264.
  9. Majumdar, R.C. (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp. 167-9

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]