খাঁচা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

পিঞ্জর বা খাঁচা বাক্স আকৃতির তৈরী শক্ত কাঠামোবিশেষ। এতে কোন বন্য কিংবা পোষা পাখি বা প্রাণীকে সংরক্ষণ করা হয় কিংবা পোষ মানানোর উদ্দেশ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়ে থাকে। সাধারণতঃ খাঁচা অনেকগুলো লৌহজাতীয় ধাতব পদার্থের টুকরো, কিংবা বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি মজবুত আকৃতির পদার্থ দিয়ে তৈরী করা হয়। যদি পাখি রাখার উদ্দেশ্যে খাঁচা ব্যবহার করা হয়, তবে তা পাখির খাঁচা নামে পরিচিত হবে। এছাড়াও, সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে অপরাধী ব্যক্তিকে আটক কিংবা বিচারের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থায়ী অবকাঠামোও খাঁচার ন্যায় তৈরী করা হয়ে থাকে, যা কারাগার নামে পরিচিত।

সচরাচর খাঁচা কোন পশু-পাখিকে তার স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ধরা বা ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই খাঁচা শিকারের অন্যতম উপকরণ হিসেবে পরিচিত যা প্রায়শঃই নির্দিষ্ট প্রাণীর গর্তের সম্মুখে রাখা হয় বা সাধারণভাবে পাকড়াও করা হয়।

বন্দীদশা[সম্পাদনা]

বর্তমানে খাঁচা বন্য প্রাণীদেরকে অবরোধ বা বন্দী করার উত্তম উৎসরূপে বিবেচিত। প্রাণীদের আকার-আকৃতি বিবেচনায় এনে বিশেষভাবে তৈরী হয় এ খাঁচা। পাখি, ইঁদুর, সরীসৃপজাতীয় প্রাণীসহ বৃহদাকৃতির প্রাণীদেরকে আটক করে গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত করা হয়। গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত করার আরেক নামই পোষা প্রাণী। খাঁচা তৈরী করার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে বন্দী করা।

মানব খাঁচা[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিকভাবে আটক ব্যক্তি কিংবা অপরাধীকে কখনো কখনো খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখা হতো। সম্ভবতঃ শিকল দিয়ে বেঁধে স্বাচ্ছন্দ্যহীন অবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টভোগের উদ্দেশ্যে আটক করা হতো। ঘাড় থেকে কোমরহাঁটু পর্যন্ত শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠগড়ার ন্যায় সমপরিমাণ জায়গায় ১৬ দিনের জন্যে আটক রাখা হতো। খুবই ছোট্ট পরিসরে ২ ফুট বাই ২ ফুট পরিমাণ জায়গা নিয়ে গড়া এ ধরনের খাঁচা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কালীন ব্যবহার করা হয়েছিল।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

শিকার প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণের অন্যতম হাতিয়ার এবং উপকরণ হিসেবে খাঁচা অতীব প্রয়োজনীয় ও প্রাণীকে আটক করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাধারণ কিন্তু অবৈধপন্থা হিসেবে কোন প্রাণীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখা হয় ও বন্য প্রাণীকে শিকারের জন্যে উৎসাহিত করা হয়। অতঃপর বন্য প্রাণীটি এ ফাঁদে আটকা পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট খাঁচায় নিজেকে আবদ্ধ করে একটি ভল্লুক ধরেছিলেন।

গত দুই শতাব্দী ধরে আধুনিক সার্কাসে অনেক ধরনের প্রজাতির প্রাণী সার্কাসের অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্য প্রাণী বিশেষতঃ সিংহ, বাঘ, ভল্লুকের ন্যায় প্রাণীগুলোকে সার্কাসে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাণীগুলোকে সর্বদাই ছোট খাঁচায় পুরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা বিদেশ সফরে নিয়ে যাওয়া হয়।