ক্রোধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।[১] রেগে থাকলে একজন ব্যক্তির শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নি:সরণ বেড়ে যায়। রক্তের সুগারের তারতম্য শুরু হয়। যারা প্রায়ই রেগে যান তাদের শুভ বুদ্ধির চর্চাও কমে যায়। অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে পাকস্থলীয় কোষ উজ্জিবিত হয়ে পরে এবং এসিড নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকগন ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।[২]

কারণসমূহ:[সম্পাদনা]

১. কোন কারনে কারো প্রতি মনে ক্ষিপ্ততার সৃষ্টি হলে

২. কেউ মনে কষ্ট দিলে বা কারো দ্বারা মনে কষ্ট পেলে।

৩. কেউ ছোট অথবা হীনতা মনোভাব প্রকাশ করলে।

৪. স্বীয় আবেগ- অনুভূতিকে কেউ মূল্যায়ন না করলে বা অবহেলা করলে।

৫. কারো কথা বা কাজের জন্য মনে হতাশার সৃষ্টি হলে।


লক্ষণ[সম্পাদনা]

কিছু প্রাণী উচ্চস্বরে শব্দ দেয়, শারীরিক দিক থেকে আরও বড় দেখানোর চেষ্টা করে, তাদের দাঁত বের করে তাকায়।

লোকেরা যখন মনে করে যে তারা বা তাদের যাদের যত্ন নেওয়া তাদের বিরক্ত করা হয়েছে, যখন তারা ক্রোধজনক ঘটনার প্রকৃতি এবং কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং যখন তারা অন্য কাউকে দায়বদ্ধ বলে নিশ্চিত করে এবং যখন তারা মনে করে তারা এখনও পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে পারে তখন তারা ক্ষুব্ধ হন বা এটি মোকাবেলা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও ব্যক্তির গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে তারা অন্য কারো দ্বারা এটি করা হলে তারা ক্ষুব্ধ হবে (উদাহরণস্বরূপ অন্য চালক এটি পুনরায় শেষ করেছেন) তবে পরিস্থিতিগত বাহিনী (যেমন শিলাবৃষ্টি) বা অপরাধবোধ ও লজ্জাজনিত কারণে যদি তা ঘটে থাকে তবে পরিবর্তে তারা দুঃখ বোধ করবেন। যদি তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হন (উদাহরণস্বরূপ তিনি ক্ষণিক অসতর্কতার কারণে একটি দেয়ালে বিধ্বস্ত হয়েছিলেন)। মনোচিকিত্সক মাইকেল সি গ্রাহাম বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা এবং অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রোধকে সংজ্ঞায়িত করেন। গ্রাহাম বলেছেন রাগ প্রায়শই ফলস্বরূপ ঘটে যখন আমরা ধরা পড়ি "... পৃথিবী তার চেয়ে আলাদা হওয়ার প্রত্যাশা করে"।

সাধারণত, যারা রাগের অভিজ্ঞতা পান তারা "তাদের কী হয়েছে" এর ফলস্বরূপ এর উত্তেজনাপূর্ণ ব্যাখ্যা করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্ণিত উস্কানিগুলি রাগের অভিজ্ঞতার সাথে সাথেই ঘটে। এই জাতীয় ব্যাখ্যা মায়াজালকে নিশ্চিত করে যে রাগের একটি পৃথক বহিরাগত কারণ রয়েছে। রাগী ব্যক্তি সাধারণত তাদের ক্রোধের কারণটি অন্য ব্যক্তির আচরণের ইচ্ছাকৃত, ব্যক্তিগত এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য দিকটিতে খুঁজে পান। এই ব্যাখ্যাটি তবে রাগান্বিত ব্যক্তির অন্তর্নিহিতের উপর ভিত্তি করে যারা তাদের আবেগের ফলে স্ব-পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং উদ্দেশ্য পর্যবেক্ষণে ক্ষতি অনুভব করে। রাগ বহুবিধ উত্স হতে পারে, এর মধ্যে কয়েকটি দূরবর্তী ঘটনাও হতে পারে তবে লোকেরা খুব কমই তাদের ক্রোধের জন্য একাধিক কারণ খুঁজে পায়। নোভাকোর মতে, "ক্রোধের অভিজ্ঞতাগুলি পরিবেশগত-সাময়িক প্রেক্ষাপটে এম্বেড করা বা বাসা বেঁধে দেওয়া হয়। " এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, একটি অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ ব্যথার কারণ হতে পারে যা ক্রোধ ক্রোধকে সক্রিয় করতে পারে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের উপায়:[সম্পাদনা]

ক্রোধের বশবর্তী হয়ে যে শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্ট দিবে। হয়তো তোমার মানসিক প্রতিক্রিয়া ভূল বোঝা অথবা ভূল ধারনা থেকে সৃষ্টি হতে পারে।তাই স্ব-সচেতন এবং আত্নসংযমী হওয়া উচিত। মানুষ হিসেবে মানুষ অথবা অন্য প্রাণীদের ছাড় দেওয়া মনোভাব তৈরি করা।একটা কথা মনে রাখা যে, মানুষের এতো বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও ভূল করে অন্য প্রাণীরা তো ভূল করবেই। ভেবে দেখুন আপনিও ভূল করেন।তাই সমঝোতার আর ছাড় দেওয়া মনোভাবে তৈরি করুন নিজেকে। মনে রাখবেন আজকের রাগের কারণ আগামীকাল ভূল ধারনা হতে পারে,তবে ক্রোধের প্রতিক্রিয়ায় ঘটা ঘটনায় প্রতিপক্ষ সহজে ভূূলতে পারবে না।তাই ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের সদা চেষ্টা করা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

প্রতিশব্দ:রাগ