বিষয়বস্তুতে চলুন

কেশরি বাথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কেশরী বাথ ( কন্নড়: ಕೇಸರಿ ಬಾತ್ ) একটি ভারতীয় মিষ্টান্ন যা সারা দেশে প্রচলিত। এর প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত ধ্রুপদী উপাদানগুলি হল সুজি, চিনি, ঘি (সাধারণত), জল এবং দুধ। উত্তর ভারতের কিছু অংশে মিষ্টিটি সাধারণভাবে জোনাডুলা হালওয়া নামে পরিচিত।

কেশরী বাথের সুনির্দিষ্ট রন্ধন প্রক্রিয়া তার উপাদানের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে আঞ্চলিকভাবে পরিবর্তিত হয়। এই মিষ্টান্নটি প্রধানত আনারস,[১] কলা, আম, নারকেল, বা ভাত দিয়ে প্রস্তুত করা যেতে পারে।

দাবি করা হয়েছে যে খাদ্যটির উৎপত্তিস্থল কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য অঞ্চল। এই খাবারটি কর্ণাটকের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের একাধিক অঞ্চলের রন্ধনশৈলীতে অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত উগাদির মতো উৎসবের সময় এটি একটি জনপ্রিয় খাবার হিসাবে প্রস্তুত করা হয়। একাধিক ভারতীয় ভাষায় কেশরি শব্দটির মাধ্যমে জাফরানকে বোঝানো হয়। জাফরান ব্যবহারের ফলে খাবারে রান্নার পর একটি কমলা-হলুদ-রঙের আভা থাকে। যদিও এটি একটি মিষ্টি খাবার, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে, এটি শুধুমাত্র একটি মিষ্টান্ন পদ হিসেবে নয়, বরঞ্চ প্রাতঃরাশের জন্যও প্রস্তুত করা হয়। এটি উপ্পিট্টু বা খারা ভাতের সাথেও পরিবেশন করা হয় এবং এই উভয় খাবারকে জনপ্রিয়ভাবে "চৌ চৌ ভাত " বলা হয়।

উত্তর ভারতে, এটি একটি মিষ্টান্ন পদ হিসাবে এটি পরিবেশন করা হয়। এটি শিরা বা সুজি হালুয়ার সমতুল্য। কর্ণাটকের প্রকৃত ঐতিহ্যবাহী কেশরী বাথের রন্ধনপ্রনালীর বিপরীতে এই খাবার অনেক সরল কারন এতে সামান্য ঘি ব্যবহার হয় এবং কোন রঙ বা জাফরান ব্যবহার হয়না। সাধারণত মারাঠি/হিন্দিতে শিরা, মালায়লাম, তেলেগু এবং তামিল ভাষায় রাভা কেসারি এবং উত্তর ভারত ও বাংলাদেশে সুজি হালওয়া নামে পরিচিত খাবারগুলি কেশরি ভাতের সমতুল্য।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

চালুক্য রাজা সোমেশ্বর তৃতীয়ের দ্বাদশ শতাব্দীর রচনা মনসোল্লাসায় এই মিষ্টান্ন পদটিকে শালি-আন্না হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। [২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Pineapple Kesari Bath"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১৩ 
  2. "Full text of "Indian Food Tradition A Historical Companion Achaya K. T.""archive.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-৩০