কাটরা মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কাটরা মসজিদ
স্থানাঙ্ক: ২৪°১১′০৫″ উত্তর ৮৮°১৭′১৭″ পূর্ব / ২৪.১৮৪৭২২° উত্তর ৮৮.২৮৮০৫৬° পূর্ব / 24.184722; 88.288056স্থানাঙ্ক: ২৪°১১′০৫″ উত্তর ৮৮°১৭′১৭″ পূর্ব / ২৪.১৮৪৭২২° উত্তর ৮৮.২৮৮০৫৬° পূর্ব / 24.184722; 88.288056
স্থাপত্য তথ্য
গম্বুজ
মিনার

ওয়েবসাইট: "URL" 

কাটরা মসজিদ মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশনের ১৬০০ মিটার পূর্ব দিকে বাজারের মধ্যে অবস্থিত। ৫০.৬০ মিটার আয়তনের একটি বর্গাকার প্রাঙ্গণের মধ্যে একটি ভিতের উপরে এটি দন্ডায়মান। আয়তাকৃতির এক আইলে পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির পরিমাপ ৩৯.৬২×৭.৩২ মিটার। এর চার কোণে রয়েছে চারটি বুরুজ এবং বুরুজগুলি সরু হয়ে উপরে উঠে গেছে; প্যাঁচানো সিঁড়িপথ বুরুজের উপর পর্যন্ত প্রলম্বিত। বর্তমানে কেবল উত্তর-পশ্চিমে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি পার্শ্ব বুরুজ বিদ্যমান আছে। মসজিদটি চতুর্দিক দ্বিতল কক্ষ সারি দ্বারা পরিবেষ্টিত। স্থানীয়ভাবে কাটরা বলে অভিহিত কক্ষগুলি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহূত হতো। কাটরা মসজিদটি ঢাকার করতলব খান মসজিদ এর (১৭০০-১৭০৪ খ্রি.) অনুকরণে নির্মিত বলা যায়। পূর্বদিকের সম্মুখভাগে রয়েছে বহুভাঁজযুক্ত খিলানের মধ্যেস্থিত পাঁচটি প্রবেশ খিলান। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথটির উভয় পার্শ্বে রয়েছে সংলগ্নস্তম্ভ। অভ্যন্তরে প্রতিটি ‘বে’-তে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে মিহরাব, অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ টি মিহরাব রয়েছে মসজিদটির পশ্চিম দেয়ালে। অভ্যন্তরে হল ঘর দেয়াল থেকে উত্থিত চারটি আড়াআড়ি খিলানে মোট পাঁচ স্তম্ভপথে বিভক্ত। সমান্তরাল প্যারাপেট সুরক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং গম্বুজে রয়েছে উচুঁ ফিনিয়াল। মসজিদটির নির্মাতা মুর্শিদকুলি খান সমাহিত রয়েছেন বহুখিলানযুক্ত মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রবেশ তোরনের নিচে একটি সমাধিতে। মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবে এবং পূর্ব ফাসাদে কেন্দ্রীয় প্রবেশপথে দুটি ফারসি শিলালিপি পরিলক্ষিত হয়। দ্বিতীয় শিলালিপিতে নির্মাণকাল উৎকীর্ণ আছে ১১৩৭ হিজরি (১৭২৪-২৫ খ্রি.)। মুর্শিদকুলি খান ঢাকা থেকে ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তাঁর নিজের নামানুসারে নতুন রাজধানীর নামকরণ করেন মুর্শিদাবাদ। কাটরা মসজিদটি নতুন রাজধানীর জামে মসজিদ হিসেবে নির্মিত হয়।

কাটরা মসজিদ(কাটরা মস্ক হিসাবেও পরিচিত) একটি মসজিদ এবং নওয়াব মুর্শিদ কুলি খাঁন এর সমাধি যা ১৭২৩ এবং ১৭২৪ সালের মধ্যে নির্মিত হয় ।[১] এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ শহরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত । এর গুরুত্ব শুধুমাত্র ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবেই নয়, বরং মুর্শিদ কুলি খাঁন এর সমাধি, যা এর প্রবেশদ্বারের সিঁড়ির নিচে অবস্থিত এ নির্মাণটির গুরুত্ব বহন করে । এর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হল দুই কোনার উঁচু দুটি টাওয়ার, যেগুলোতে বন্দুক স্থাপনের জন্য ছিদ্র রয়েছে ।

বর্তমানে এর তত্ত্বাবধান এবং রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব আর্কিওলজিক্যাল সারভে অব ইন্ডিয়া এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর ন্যস্ত রয়েছে । [২]

নামকরণ[সম্পাদনা]

মসজিদটির নিকটে একটি বাজার ছিল এবং কাটরা মানে হচ্ছে বাজার । কাজেই সম্পূর্ন অর্থ করলে দাড়ায় কাটরা মসজিদ বা বাজার মসজিদ, বাজারে অবস্থিত একটি মসজিদ ।

নির্মাণ[সম্পাদনা]

বৃদ্ধাবস্থায় মুর্শিদ কুলি খাঁন তার সমাধি একটি মসজিদের পাশে হোক, এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন । তিনি মসজিদটি নির্মানের ভার তার বিশ্বস্ত লোক মুরাদ ফরাস খাঁন এর উপর ন্যস্ত করেন, যিনি ছিলেন একজন কারিগর ।

স্থাপত্যশৈলী[সম্পাদনা]

মসজিদটি একটি বর্গাকৃতির স্তম্বমূলের উপর নির্মিত । এটি ইট দিয়ে তৈরি এবং মসজিদটি সুদৃশ্য গম্বুজ দ্বারা বেষ্টিত, যা তখনকার দিনে যারা কোরআন শরীফ পড়ত, তাদের জন্য নির্মিত হয়েছিলো । এটিকে মাদ্রাসা হিসাবেও অভিহিত করা যায় । প্রত্যেকটি কক্ষে প্রায় ৭০০ জন লোক কোরআন পড়তে পারত । কক্ষগুলোর সামনে চত্বর বা আঙিনা বিদ্যমান ছিল ।[১] চারকোনায় চারটি বিশাল মিনার অবস্থিত । মিনারগুলোর আকৃতি অষ্টাভূজাকৃতি এবং এগুলো ক্রমশ উপরের দিকে সরু হয়ে গিয়েছে । মসজিদের সামনের মিনার বা টাওয়ারগুলো ৭০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং চওড়ায় প্রায় ২০ ফুট । সম্পূর্ণ মসজিদটি আকারে চতুর্ভূজাকৃতি, পুরো মসজিদটিতে অনেক সুদৃশ্য খিলান রয়েছে । মসজিদটি ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো । প্রত্যেক মিনারে একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি রয়েছে যা ক্রমশ উপর দিকে চলে গিয়েছে, একজন দর্শনার্থী মিনারের উপরের অংশ হতে মুর্শিদাবাদ শহরের অনেকটা অংশ অবলোকন করতে পারে । মসজিদটির দু’পাশের ৭০ ফুট উঁচু মিনারগুলো কালের আবর্তে আজ জরাজীর্ণ, মিনারের গম্বুজগুলো ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ হয় । ১৭৮০ সালে, একজন ভ্রমণকারী উইলিয়াম হজেস লিখেন যে ৭০০ জন কোরআন তেলওয়াতকারী মসজিদের ভেতর বাস করত ।

মসজিদটির প্রবেশদ্বারে পূর্ব দিক হতে চৌদ্দটি সিঁড়ির ধাপ রয়েছে, নওয়াব মুর্শিদ কুলি খাঁন এ সিঁড়িগুলোর নিচে মুর্শিদ কুলি খাঁন এর সমাধি অবস্থিত । এটি নবাব মুর্শিদকুলি খাঁন এর ইচ্ছা অনুসারে করা হয়, যিনি তার জীবনে কৃত পাপকর্মের জন্য অনুতপ্ত ছিলেন এবং এটি তার নিরহঙ্কারতার প্রকাশ । তিনি এমন এক স্থানে সমাহিত হতে চেয়েছিলেন, যেখানে তিনি মসজিদে প্রবেশকারী পূন্যবান লোকেদের পায়ের নিচে নিষ্পিষ্ট হবেন এবং তাদের পদস্পর্শ পাবেন ।

মসজিদটি আকৃতিতে চতুর্ভূজাকৃতি । এটি পাঁচটি অংশে বিভক্ত । প্রতিটি অংশে খিলানকৃতি প্রবেশদ্বার রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় অংশটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় কেননা এ অংশে রয়েছে সুদৃশ্য সরু চূড়া । মসজিদটির পাঁচটি গম্বুজ রয়েছে । এর মধ্যে কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং কিছু ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পরও মোটামুটি অক্ষত রয়েছে । ভূমিকম্পটি নির্মানটির অনেক অংশে ক্ষতিসাধন করে । নির্মানটির সম্পূর্ণ আয়তন ১৯.৫ একর এবং ২০০০ জন নামাজ আদায়কারী ধারণ করতে পারে । মেঝেতে ২০০০ টি চতুর্ভূজাকৃতি মাদুর চিত্রিত রয়েছে ।

মসজিদটির কুঠুরিগুলো দোতলা বিশিষ্ট এবং ২০ বর্গফুট আকারের । প্রত্যেকটির রয়েছে ৬টি খিলানকৃত দরজার আকৃতি । গেট পর্যন্ত পাথরে বাঁধাই করা ১৫টি সিঁড়ির ধাপ রয়েছে এবং মসজিদের মূল দরজা পর্যন্ত পাথরে বাঁধাই একটি পথ রয়েছে । মসজিদ এবং কুঠুরিগুলোর মধ্যে খোলা জায়গার আকার প্রায় ১৩ ফুট এবং মসজিদের পেছনের অংশে তা ৪২ ফুট । মসজিদের সামনের চত্বর ১৬৬ ফুট লম্বা এবং ১১০ ফুট চওড়া ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Katra Masjid"। india9.com। সংগৃহীত ১০ আগস্ট ২০১৬ 
  2. "About Katra Masjid"। blogspot.in। সংগৃহীত ২৬ আগস্ট ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]