কঠ উপনিষদ্‌

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কঠ উপনিষদ্‌ (দেবনাগরী: कठ उपनिषद्) বা কঠক হল অন্যতম মুখ্য উপনিষদ্‌আদি শঙ্কর এই উপনিষদের ভাষ্য রচনা করেছিলেন। এটি কৃষ্ণ যজুর্বেদের চারক-কঠ শাখার অন্তর্গত এবং বৈদিক সংস্কৃত ভাষার ইতিহাসে সূত্রসাহিত্যের যুগে রচিত। এটিতে বৌদ্ধ চিন্তাধারার কিছু পরিচয় পাওয়া যায়। তাই মনে হয়, এটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের পরে লেখা।[১][২] মুক্তিকা উপনিষদে ১০৮টি উপনিষদের যে তালিকা পাওয়া যায়, তাতে এই উপনিষদের স্থান তৃতীয়। কঠ উপনিষদ্‌ দুটি "অধ্যায়াস" বা অধ্যায়ে বিভক্ত। অধ্যায়গুলি আবার তিনটি করে "বল্লী" বা উপপর্বে বিভক্ত। প্রতিটি বল্লীতে ১৫ থেকে ২৯টি করে শ্লোক আছে। এই উপনিষদের কয়েকটি পংক্তি ভগবদ্গীতা-র সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আধুনিক গবেষকদের মতে, এই উপনিষদে দ্বৈতবাদী দর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়।[৩]

কঠ উপনিষদ্‌ একটি বহুপঠিত উপনিষদ্‌। এটি ফার্সি অনুবাদে প্রথম ইউরোপে যায়। ১৮৭৯ সালে ম্যাক্সমুলার এটির অনুবাদ করেন। এডউইন আর্নল্ড তাঁর কবিতায় এই উপনিষদ্‌কে "মৃত্যুর রহস্য" ("The Secret of Death) বলে উল্লেখ করেন। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন তাঁর প্রবন্ধ "ইমমর্টালিটি"-র শেষভাগে এই উপনিষদের কেন্দ্রীয় কাহিনিটি বর্ণনা করেছিলেন। এই উপনিষদের কেন্দ্রীয় কাহিনি ঋষি বাজশ্রবার পুত্র নচিকেতা ও হিন্দুদের মৃত্যুর দেবতা যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।[৪]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Richard King, Early Advaita Vedānta and Buddhism: the Mahāyāna context of the Gauḍapādīya-kārikā. SUNY Press, 1995, ISBN 978-0-7914-2513-8 (page 52).
  2. A.L. Basham in Paul Williams, ed., Buddhism: Buddhist origins and the early history of Buddhism in South and Southeast Asia. Taylor & Francis, 2005, ISBN 978-0-415-33227-9 (page 61).
  3. Ariel Glucklich, The Strides of Vishnu: Hindu Culture in Historical Perspective. Oxford University Press US, 2008, ISBN 978-0-19-531405-2 (page 70): "The Upanishadic age was also characterized by a pluralism of worldviews. While some Upanishads have been deemed 'monistic', others, including the Katha Upanishad, are dualistic. Monism holds that reality is one – Brahman – and that all multiplicity (matter, individual souls) is ultimately reducible to that one reality. The Katha Upanishad, a relatively late text of the Black Yajurveda, is more complex. It teaches Brahman, like other Upanishads, but it also states that above the 'unmanifest' (Brahman) stands Purusha, or 'Person'. This claim originated in Samkhya (analysis) philosophy, which split all of reality into two coeternal principles: spirit (purusha) and primordial matrix (prakriti)."
  4. Swami Paramananda, p. 27

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]