ওড্ডিয়ান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ওড্ডিয়ান (পশতু: اوډيانه‎; ওড়িয়া: ଓଡ଼ିଆଣ) মধ্যযুগীয় ভারতের একটি ছোট রাজ্য ছিল। এই রাজ্য থেকে বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম উদ্ভূত ও সমৃদ্ধ হয় বলে অনুমান করা হয়।[১]

অবস্থান বিতর্ক[সম্পাদনা]

ওড্ডিয়ানের প্রকৃত অবস্থান সম্বন্ধে বিতর্ক রয়েছে।[১] যে সমস্ত স্থানকে ওড্ডিয়ান অঞ্চলের সাথে একাত্ম করা হয়েছে, সেগুলি হল নিম্নরূপ-

ওড্ডিয়ান শব্দটি দ্রাবিড় শব্দ ওট্টিয়ন থেকে এসেছে বলে ভাষাবিদেরা অনুমান করেন, যার অর্থ ওড্রদেশের বাসিন্দা বা তেলুগু ভাষায় ওট্টিয়ম দেশের বাসিন্দা। বর্তমান উড়িষ্যা রাজ্যকে ওড্র বা ওট্টিয়ম বলা হত। আবার, ওড্ডিয়ান শব্দটি উদ্যান শব্দের মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষাগত পরিবর্তিত রূপ বলেও মনে করা হয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই নামেই উড়িষ্যার অঞ্চলগুলিকে চিনতেন।[১] ভাষাবিদ পি সি বাগচীর মতে তিব্বতী ভাষায় ও-র্গ্যান বা উ-র্গ্যান (তিব্বতী: ཨུ་རྒྱན་ওয়াইলি: u rgyan) এবং ও-ডি-ভি-ষা নামক দুইটি পৃথক শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ও-র্গ্যান বা উ-র্গ্যান বা ও-ডি-য়া-না রাজ্যের সঙ্গে ওড্ডিয়ানের রাজা ইন্দ্রভূতির নাম জড়িত। অপরদিকে ও-ডি-ভি-ষা বা ওড্র (অধুনা উড়িষ্যা) রাজ্যের সঙ্গে রাজা ইন্দ্রভূতির উল্লেখ পাওয়া যায় না। কিন্তু এন কে সাহুর মতে ওড, ওড্র, উড্র, ওডিভিষা এবং ও-ডি-য়া-না বা উড্ডিয়ান একই শব্দের ভিন্ন রূপ। সাধনমালা গ্রন্থে উড্ডিয়ান শব্দটিকে ওড্রয়ান বানানে এবং কালিকা পুরাণ গ্রন্থে ওড্র বানানে লেখা রয়েছে। চতুরাশিতি সিদ্ধ প্রবৃত্তি গ্রন্থে ইন্দ্রভূতিকে ওডিভিষার রাজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ব্স্তান-'গ্যুর নামক তিব্বতী গ্রন্থসঙ্কলনে তাঁকে উড়িষ্যার রাজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ইন্দ্রভূতি রচিত জ্ঞানসিদ্ধি গ্রন্থের সূচনাতে উড়িষ্যার দেবতা জগন্নাথের বন্দনা করা হয়েছে। সেই হিসেবে বর্তমান উড়িষ্যা রাজ্যই যে মধ্যযুগে ওড্ডিয়ান ছিল, সেই প্রমাণ পাওয়া যায়।[n ১]

বাংলা ?[সম্পাদনা]

নলিনীনাথ দাশগুপ্ত ওড্ডিয়ানের অবস্থান সম্পর্কে মত পোষণ করেছেন যে এই স্থানটি প্রাচীন বাংলায় অবস্থিত ছিল। ব্স্তান-'গ্যুর গ্রন্থসঙ্কলনে উল্লেখ রয়েছে সরহ পা এবং তৈলিকপাদের জন্ম ওড্ডিয়ানে হয়েছিল। আবার, পাগ-সাম-জোন-জাং নামক তিব্বতী গ্রন্থে তাঁদেরকে বঙ্গালের অধিবাসী বলা হয়েছে। ব্স্তান-'গ্যুর গ্রন্থসঙ্কলনের দুইটি বিভিন্ন অংশে অবধূতপাদ অদ্বয়বজ্রকে ওড্ডিয়ানবাসী এবং বাঙ্গালী বলা হয়েছে। পাগ-সাম-জোন-জাং গ্রন্থে লুই পাকে ওড্ডিয়ানে জন্ম হয়েছে বলা হলেও ব্স্তান-'গ্যুর গ্রন্থসঙ্কলনে তাঁকে বাংলার অধিবাসী বলা হয়েছে।[৪] ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় নলিনীনাথ দাশগুপ্তের মতামতকে সমর্থন করেছেন।[৫]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. In his argument, P. C. Bagchi states that there are two distinct series of names in Tibetan: (1) O-rgyān, U-rgyān, O-ḍi-yā-na, and (2) O-ḍi-vi-śā, with the first series connected with Indrabhūti, i.e., Oḍiyăna and Uḍḍiyāna, while the second series falls back on Oḍi and Oḍiviśa, i.e., Uḍra (Orissa) and has nothing to do with Indrabhūti. N.K. Sahu objects, however, and points out that these two sets of names are seldom distinguished in Buddhist Tantra literature, and opines that the words Oḍa, Oḍra, Uḍra, Oḍiviśa and Oḍiyāna are all used as variants of Uḍḍiyāna. In the Sādhanamālā, he further points out, Uḍḍiyāna is also spelt as Oḍrayāna while in the Kālikā Purāṇa, as indicated earlier, it is spelt either Uḍḍiyāna or Oḍra. There is also evidence, Sahu continues, that Indrabhūti is the king of Orissa rather than of the Swāt valley. The Caturāsiti-siddha-Pravṛtti, for example, mentions him as the king of Oḍiviśa while Cordier, in his Bṣtān-ḥgyur catalogue, gives sufficient indications of his being the king of Orissa. Also, in his famous work Jñānasiddhi, king Indrabhūti opens it with an invocation to Lord Jagannātha, a deity intimately associated with Orissa and with no other area of India.[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ Keown, Damien (ed.) with Hodge, Stephen; Jones, Charles; Tinti, Paola (2003). A Dictionary of Buddhism. Great Britain, Oxford: Oxford University Press. P.203. ISBN 0-19-860560-9
  2. http://www.mtholyoke.edu/~naqvi20r/classweb/swat/History.html
  3. Donaldson, Thomas E. (2001). 'Iconography of the Buddhist Sculpture of Orissa: Text', Volume 1 of Iconography of the Buddhist Sculpture of Orissa, Indira Gandhi National Centre for the Arts. Abhinav Publications. ISBN 81-7017-375-2, ISBN 978-81-7017-375-5 Source: [১] (accessed: Tuesday February 2, 2010), p.11
  4. নলিনীনাথ দাশগুপ্ত, বাঙ্গালার বৌদ্ধধর্ম, কলকাতা, ১৩৫৫
  5. নীহাররঞ্জন রায়, বাঙ্গালীর ইতিহাস - আদিপর্ব, দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা, ষষ্ঠ সংস্করণ, মাঘ ১৪১৪, পৃষ্ঠা ৫৮৮, ISBN 81-7079-270-3

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Faxian, A Record of Buddhistic Kingdoms (James Legge translation), Chapter 8. (Online at the University of Adelaide Library)