এমফুনেকো এনগাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এমফুনেকো এনগাম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএমফুনেকো এনগাম
জন্ম২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৯
মিডলড্রিফট, কেপ প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৭৮)
৮ ডিসেম্বর ২০০০ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট২ জানুয়ারি ২০০১ বনাম শ্রীলঙ্কা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৬
রানের সংখ্যা ৩২৯
ব্যাটিং গড় ৭.৩১
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ০* ৩৫
বল করেছে ৩৯২ ৭০৫৯
উইকেট ১১ ১১৫
বোলিং গড় ১৭.১৮ ৩২.০৮
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/২৬ ৪/২০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ১৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

এমফুনেকো এনগাম (ইংরেজি: Mfuneko Ngam; জন্ম: ২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৯) কেপ প্রদেশের মিডলড্রিফট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার, ডলফিন্স, ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়ারিয়র্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এমফুনেকো এনগামের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শৈশবে তার পছন্দের ক্রিকেটার ছিলেন অ্যালান ডোনাল্ড। এছাড়াও, মাইকেল হোল্ডিং তার আদর্শ ছিলেন। সহজাত ফাস্ট বোলার ছিলেন। মসৃণ দৌঁড়ে পর্যাপ্ত পেস সহযোগে সেরা ব্যাটসম্যানদেরকেও বিব্রত করতেন। ২০০১ সালে প্রথম আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে তাকে বর্ষসেরা জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে মূল্যায়িত করা হয়।

পায়ের হাড়ে ফাঁটল ধরা পড়ায় জানুয়ারি, ২০০১ সাল থেকে অক্টোবর, ২০০৩ সালের মধ্যে মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন। ক্রিকেট খেলায় ফিরে এলেও জাতীয় দলে ঠাঁই হয়নি তার। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এ আঘাতগুলো তরুণ বয়সে জিনের তারতম্য কিংবা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের অভাবে হয়েছে।[১]

ফাস্ট বোলার এমফুনেকো এনগাম তার প্রথম পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ইস্টার্ন প্রভিন্স বি-দলের পক্ষে খেলেছিলেন। তবে, নিজস্ব তৃতীয় মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা এ-দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।[২] দলের সহকারী কোচ শুক্রি কনরাড মন্তব্য করেন যে, তিনি অসাধারণ খেলোয়াড়।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন এমফুনেকো এনগাম। ৮ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে কেপ টাউনে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের তিন মাস পর এমফুনেকো এনগামকে ২০০০-০১ মৌসুমে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্যে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ পর্যায়ে আঘাতপ্রাপ্ত অ্যালান ডোনাল্ডের স্থলাভিষিক্ত হন ও ৮ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।[৪] জোহেন্সবার্গে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টটি বৃষ্টিবিঘ্নিত ছিল ও তিনি ২/৩৪ লাভ করেন।[৫]

শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি[সম্পাদনা]

এক সপ্তাহ পর এমফুনেকো এনগামকে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণীর চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়।[৬] শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুইটি উৎসাহব্যঞ্জক খেলায় অংশ নেন। মাখায়া এনটিনি’র সাথে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। ২০০০-০১ মৌসুমে সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে পরবর্তী দুই টেস্টে অংশ নেন। নয় উইকেট পান তিনি।[৭] সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে পিঠের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।[১]

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে তাকে টেস্ট দলে ফিরিয়ে আনা হয়। দলে অন্তর্ভূক্তির চারদিন পর পুণরায় আঘাত পান।[৮]

আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে আসার পর ইস্টার্ন প্রভিন্স ছেড়ে ডলফিন্স দলে যোগ দেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে ২২ উইকেট পান। ঐ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট মৌসুমে এটিই তার সেরা ছিল।[৯] তবে, ঐ মৌসুমের প্রো২০ সিরিজ শেষে পুণরায় ওয়ারিয়র্সে প্রত্যাবর্তন করেন।[১০] চূড়ান্ত খেলায় দলের সাথে যুক্ত হন। তবে, দুই ওভারে তিনি ৪০ রান খরচ করেন। তবে, জয়ের ১২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি তার দল।[১১]

অবসর[সম্পাদনা]

২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজস্ব সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর মৌসুম অতিবাহিত করেন। আট খেলায় ৩৪.০০ গড়ে ১৬ উইকেট পান। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে একটি লিস্ট এ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশিক্ষণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইস্টার্ন কেপের শহর অ্যালাইসভিত্তিক ফোর্ট হেয়ার একাডেমি পরিচালনা করেন।[১২][১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]