একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"
বিভিন্ন শিল্পী কর্তৃক সঙ্গীত
ভাষাবাংলা
ধারাদেশাত্মবোধক
গান লেখক
সঙ্গীত রচয়িতাপীতাম্বর দাস

একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি একটি বাংলা দেশাত্মবোধক গান। গানটি রচনা ও সুর করেন বাঁকুড়ার লোককবি পীতাম্বর দাস,[১][২] মতান্তরে মুকুন্দ দাস[৩][৪] এটি ভারতীয় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর সম্মানে রচিত।[৫][৬][৭]

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষুদিরাম বসু এখনো বিশেষ সম্মানের সঙ্গে স্মরিত হন। তাই গানটি আজও এখানে জনপ্রিয়। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষচন্দ্র চলচ্চিত্রে এই গানটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে গানটির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন লতা মঙ্গেশকর

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন প্রথম বাঙালি বিপ্লবী যাকে ব্রিটিশ সরকার ফাঁসি দিয়েছিল। ক্ষুদিরাম ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৮ সালের ১১ অগস্ট তার ফাঁসির নির্দেশ কার্যকর হয়।[৮][৯] ফাঁসির সময় তার বয়স ছিল ১৮। তার ফাঁসি উপলক্ষে তাকে বিদায় জানানোর জন্য এই গানটি রচিত হয়েছিল।[১০]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি উপলক্ষে প্রথম পুরুষে আখ্যানকবিতার আকারে এই দ্ব্যর্থবোধক গানটি রচিত। এটি শুনলে মনে হয় ক্ষুদিরাম একাধারে নিজের মা এবং দেশজননীর কাছে বিদায় চাইছেন।[১০]

গানের কথা[সম্পাদনা]

একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।

কলের বোমা তৈরি করে
দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো,
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আরেক ইংলন্ডবাসী।

হাতে যদি থাকতো ছোরা
তোর ক্ষুদি কি পড়তো ধরা মাগো
রক্ত-মাংসে এক করিতাম
দেখতো জগতবাসী

শনিবার বেলা দশটার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো
হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁসি

বারো লক্ষ তেত্রিশ কোটি
রইলো মা তোর বেটা বেটি মাগো
তাদের নিয়ে ঘর করিস মা
ওদের করিস দাসী

দশ মাস দশদিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস
দেখবি গলায় ফাঁসি।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. রফিকুল ইসলাম। "ক্ষুদিরাম বসু"। gunijan.org.bd। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৬, ২০১৫বিপ্লবী ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি চেতনার আয়নায় চিত্রায়ন করে, সেটি গান হিসেবে রচনা করেছিলেন বাঁকুড়ার লোককবি পীতাম্বর দাস। 
  2. "Biplobi Khudiram Basu"। ১০ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১২ 
  3. "ব্যক্তিত্ব"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ১৮ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৬, ২০১৫"একবার বিদায় দে মা".. -কালজয়ী এ গান(গুলোর) স্রষ্টা চারণ কবি মুকুন্দ দাস। 
  4. আবদুল মান্নান পলাশ (মে ১৮, ২০১৪)। "চারণকবি মুকুন্দ দাস: গানে-পালায় যার বিদ্রোহের আগুন"risingbd.com। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৬, ২০১৫বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসি হলে মুকুন্দ দাস গান বাঁধলেন: হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. Aurobindo Mazumdar (জানুয়ারি ১, ২০০৭)। Vande Mataram And Islam। Mittal Publications। পৃষ্ঠা 34–35। আইএসবিএন 978-81-8324-159-5। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৫, ২০১২ 
  6. West Bengal (India). Information & Cultural Affairs Dept (১৯৮৭)। India's struggle for freedom: an album। Dept. of Information & Cultural Affairs, Govt. of West Bengal। পৃষ্ঠা 71। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১২ 
  7. Probal Dasgupta (১৯৯৩)। The otherness of English: India's auntie tongue syndrome। Newbury Park। পৃষ্ঠা ৫৯–৬০। আইএসবিএন 978-0-8039-9456-0। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১২ 
  8. Sarmila Bose (২০১১)। Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh Warকলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১৩২–১৩৩। আইএসবিএন 978-0-231-70164-8। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৫, ২০১৫ 
  9. জয়নাল আবেদীন (১৩ আগস্ট ২০১৪)। "একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৫, ২০১৫ 
  10. Sunil Gangopadhyaya (জানুয়ারি ১, ২০০৪)। East-West। Sahitya Akademi। পৃষ্ঠা 350–। আইএসবিএন 978-81-260-1895-6। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৫, ২০১২