ইলেক্ট্রা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আগামেমননের সৌধে ইলেক্ট্রা, Frederic Leighton c. 1869

গ্রিক পুরাণে ইলেক্ট্রা (//; গ্রিক: Ἠλέκτρα, Ēlektra) ছিলেন রাজা আগামেমনন এবং রানি ক্লাইমেনেস্ত্রার কন্যা, আর্গোসের রাজকুমারি। তিনি তার ভাই ওরেস্তেসের সাথে যৌথ ভাবে মা ক্লাইমেনেস্ত্রা এবং সৎ পিতা আয়গিস্থোসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। 

ইলেক্ট্রা গ্রিক ট্র্যাজেডিগুলোর মধ্যে একজন অন্যতম জনপ্রিয় পৌরাণিক চরিত্র। তিনি দুইটি গ্রিক ট্র্যাজেডির প্রধানা চরিত্র, এগুলো যথাক্রমে সফোক্লিসেইলেক্ট্রা এবং ইউরিপিদেসেইলেক্ট্রা। ইস্কিলুস, আলফিয়েরি ভলতাইরে, হফম্যানস্থাল এবং ইউজিন ও'নিল প্রমুখের নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলেক্ট্রা। 

মনোবিজ্ঞানে ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্সের নাম তারই নামানুসারে রাখা হয়েছে। 

পরিবার[সম্পাদনা]

ইলেক্ট্রার মাতা-পিতা ছিলেন রাজা আগামেমনন এবং রানি ক্লাইমেনেস্ত্রা। ইফিজিনিয়া এবং ক্রাইসোথেমিস ছিলেন তার বোন, এবং ওরেস্তেস ছিলেন তার ভাই। ইলিয়াদে হোমার ইলেক্ট্রাকে "Laodice" হিসেবে অভিহিত করেন। 

আগামেমননের হত্যা [সম্পাদনা]

Orestes, Electra and Hermes at the tomb of Agamemnon, lucanian red-figure pelike, c. 380–370 BC, Louvre (K 544)

ক্লাইমেনেস্ত্রা এবং আয়গিস্থোস যখন ট্রোজান যুদ্ধ হতে সদ্য আগত আগামেমননকে হত্যা করে তখন ইলেক্ট্রা মাইসিনিয়াতে  উপস্থিত ছিলেন না। ক্লাইমেনেস্ত্রা তার স্বামীর প্রতি ক্রুদ্ধ ছিলেন কেননা আগামেমনন তাদের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইফিজিনিয়াকে দেবী আর্টেমিসের কাছে উৎসর্গ করেন যাতে তিনি ট্রোজান যুদ্ধে যুদ্ধজাহাজ নির্বিঘ্নে পাঠাতে পারেন। যখন তিনি তার যুদ্ধ বন্দিনী কাসান্দ্রাকে এবং তাদের দুই যমজ পুত্র সন্তান নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তখন ক্লাইমেনেস্ত্রা এবং আয়গিস্থোস অথবা দুজনের যে কোন একজন আগামেমননকে হত্যা করেন সাথে কাসান্দ্রাকেও। আট বছর পর ওরেস্তেস এথেন্স থেকে ইলেক্ট্রাকে দেশে নিয়ে আসে। (অডিসি,iii. ৩০৬; X. ৫৪২ )।

পিন্দারের (পাইথিয়া, xi. ২৫ ) মতে ওরেস্তেসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন তার ধাত্রীমাতা বা ইলেক্ট্রা এবং তাঁকে নেওয়া হয়েছিল পারনাসাস পর্বতের উপর ফ্যানোতে, যেখানে রাজা স্ত্রোফিয়াস তার দায়ভার নেন। যখন ওরেস্তেস ২০ বছর বয়সে পদার্পণ করেন তখন ডেলফির ঐশীবাণী তাঁকে ঘরে ফিরে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে বলে।

ক্লাইমেনেস্ত্রার হত্যা[সম্পাদনা]

ইস্কিলুসের মতে ওরেস্তেস আগামেমননের সৌধের সামনে ইলেক্ট্রার চেহারা দেখতে পান, যেখানে তারা উভয়ই মৃতের প্রতি কর্তব্য পালন করতে গিয়েছিলেন। উভয়ের পরিচয় হওয়ার পর তারা পরিকল্পনা করা শুরু করে কীভাবে ওরেস্তেস তাদের পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেবে। পরবর্তীতে ওরেস্তেস তার বন্ধু পাইলাদেস, রাজা স্ত্রোফিয়াস এবং আনাক্সিবিয়ার পুত্র, এর সাথে মিলে ক্লাইমেনেস্ত্রা এবং আয়গিস্থোসকে হত্যা করে। কিছু কিছু গল্পের মাধ্যমে জানা যায় ইলেক্ট্রাও এতে সাহায্য করে।

মৃত্যুর আগমুহূর্তে ক্লাইমেনেস্ত্রা ওরেস্তেসকে অভিশাপ দিয়ে যান।এরিনাইরা অথবা ফিউরিরা , যাদের দায়িত্ব পরিবারের প্রতি অন্যায়কারীদের শাস্তি দেওয়া, তাদের অত্যাচার দিয়ে এই অভিশাপ সফল করেছেন। তারা সবসময় ওরেস্তেসকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেছেন। ইলেক্ট্রা তাদের রোষের স্বীকার হননি। 

ইফিজিনিয়া ইন তাউরিস -এ ইউরিপিদেস কাহিনীটি অন্যভাবে বলেছেন। তার মতে ফিউরিরা ওরেস্তেসকে তাড়া করে নিয়ে গিয়েছিল তাউরিসে, কৃষ্ণ সাগরের উপর দিয়ে, যেখানে তার বোন ইফিজিনিয়াকে রাখা হয়েছিল। তাদের দেখা হয় যখন ওরেস্তেস এবং পাইলাদেসকে ইফিজিনিয়ার কাছে নিয়ে আসা হয় আর্টেমিসের কাছে উৎসর্গিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে। ইফিজিনিয়া, ওরেস্তেস এবং পাইলাদেস তাউরিস থেকে পালিয়ে আসেন। ভাই-বোনের পুনর্মিলন দেখে সন্তুষ্ট হয়ে ফিউরিরা শান্ত হন এবং তাদের শাস্তি বর্জন করেন। ইলেক্ট্রা পরে পাইলাদেসের সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। 

ইলেক্ট্রার গল্পের অভিযোজন[সম্পাদনা]

Electra and Orestes, from an 1897 Stories from the Greek Tragedians, by Alfred Church

নাটক[সম্পাদনা]

  • ওরেস্তিয়া, ইস্কিলুসের ত্রয়ী নাটক। 
  • সফোক্লিসের ইলেক্ট্রা 
  • ইউরিপিদেসের ইলেক্ট্রা 
  • ইউরিপিদেসের ওরেস্তেস 
  • কুইন্তাস তুলিয়াস সিসেরো এর একটি হারিয়ে যাওয়া নাটক, ইলেক্ট্রা। এটি সম্পর্কে শুধু এতটুকুই জানা যায় যে এটি গ্রিক শৈলীর একটি ট্র্যাজেডি নাটক ছিল।
  • বেনিতো পেরেজ গালদোস এর ইলেক্ট্রা (১৯০১)
  • হুগো  ভন হফম্যানস্থাল এর ইলেক্ট্রা (১৯০৩)। এর ভিত্তি সফোক্লিসের নাটক। 
  • ইউজিন ও'নিল এর মোর্নিং বিকামস ইলেক্ট্রা (১৯৩১), ইস্কিলুসের নাটকের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। 
  • জ্যঁ গিরাডোক্স এর ইলেক্ট্রা (১৯৩৭)
  • জ্যঁ-পল সার্ত্র্‌ এর দ্য ফ্লাইস (১৯৪৩)। এখানে ইলেক্ট্রার কাহিনীর আধুনিকায়ন ঘটেছে এর সাথে অস্তিত্ববাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে।
  • ইজরা পাউন্ড এবং রুড ফ্লেমিং এর নাটক ইলেক্ট্রা (সূচনা ১৯৪৯ , ১ম মঞ্চায়ন ১৯৮৭)
  • মারগেরিতে জুরসেনার  ইলেক্ট্রা বা দ্য ড্রপিং মাস্কস (১৯৫৪)
  • দানিলো কিস এর ইলেক্ট্রা (১৯৯৫)
  • লুইস আলফারো এর ইলেক্ট্রিসাইডেড (২০০৪) 
  • জাডা আলবার্টস এবং অ্যানি-লুইস সার্কস এর ইলেক্ট্রা/ওরেস্তেস (২০১৫)

অপেরা[সম্পাদনা]

  • হুগো ভন হফম্যানস্থাল এর নাটকের উপর ভিত্তি করে রিচার্ড স্ট্রস এর ইলেক্ট্রা।
  • মিকিস থিওডোরাকিস এর ইলেক্ট্রা।
  • মারভিন ডেভিড লেভীর মোর্নিং বিকামস ইলেক্ট্রা ।
  • ভোল্‌ফগাংক্‌ আমাডেয়ুস মোৎসার্ট এর ইডোমেনিও , যেখানে তার চরিত্র প্রতাখ্যিত প্রেমিকা/খলনায়িকার। 

পরবর্তীতে ইলেক্ট্রা ফাইদেলস কে বিয়ে করেন।

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

  • মাইকেল ক্যাকোয়ানিস এর সিনেমা "ইলেক্ট্রা" (১৯৬২)। এতে অভিনয় করেছিলেন ইরিন পাপাস, সিনেমাটির ভিত্তি ছিল ইউরিপিদেস।
  • ডুডলি নিকোলস এর সিনেমা "মোর্নিং বিকামস ইলেক্ট্রা" তে অভিনয় করেন রোজালিন্দ রাসেল এবং মাইকেল রেডগ্রেভ।
  • ফারদিনান্দো বলডি এর সিনেমা "দ্য ফরগটেন পিস্তলেরো" এতে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো মান এবং লুসিয়ানা পালজ্জি। 
  • এলি সিনেমাটি সম্পূর্ণ কাহিনীটিকে আমেরিকার লৌকিক জীবনের বানিয়ে ফেলে।

সাহিত্য [সম্পাদনা]

  • ইয়ানিস রিতসসের "Beneath the shadow of the mountains" কবিতায় ইলেক্ট্রা একজন অনুল্লেখিত চরিত্র এবং বক্তা। 
  • হেনরি ট্রিসের বই ইলেক্ট্রা তে ইলেক্ট্রা তার নিজের গল্পের বক্তা।
  • ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সিলভিয়া প্লাথের কবিতার নাম "Electra on Azalea Path ", এতে ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্সের কথা বলা হয়েছে। 
  • ডোনা লিওনের ক্রাইম ফিকশন সিরিজের একজন চরিত্র বর্তমানকালের তরুণী ইলেত্রা ("ইলেক্ট্রা" এর ইতালীয় রূপ), যার সাথে পৌরাণিক ইলেক্ট্রার অনেক মিল পাওয়া যায়। 

কমিকস[সম্পাদনা]

  • মার্ভেল কমিকস ইউনিভার্সে ইলেক্ট্রা ন্যাচিওস নামের একটি চরিত্র আছে যা কিছুটা ইলেক্ট্রার উপর ভিত্তি করে বানানো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

পুস্তক-বিবরণী

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • Wikisource-logo.svg "Electra"। New International Encyclopedia। ১৯০৫। 
  • উইকিমিডিয়া কমন্সে ইলেক্ট্রা সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন
  • ইলেক্ট্রা লিব্রিভক্সে পাবলিক ডোমেইন অডিওবই (ইংরেজি)