ভোল্‌ফগাংক্‌ আমাডেয়ুস মোৎসার্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভোল্ফগ্যাং আমাদেয়্যস্ মোৎসার্ট
Wolfgang-amadeus-mozart 1.jpg
মোৎসার্টের প্রতিকৃতি: বারবারা ক্রাফ্‌ট্‌ ১৮১৯
জন্ম (১৭৫৬-০১-২৭)জানুয়ারি ২৭, ১৭৫৬
জাল্‌ৎস্‌বুর্গ, অস্ট্রিয়া
মৃত্যু ডিসেম্বর ৫, ১৭৯১(১৭৯১-১২-০৫) (৩৫ বছর)
ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
পেশা সুরকার
সঙ্গী কন্সতান্জে মোৎসার্ট' (৫ই জানুয়ারি, ১৭৬২ – ৬ই মার্চ, ১৮৪২)
সন্তান রেমন্ড্‌ লেওপোল্ড (১৭ই জুন – ১৯শে অগাস্ট, ১৭৮৩),
কার্ল টমাস মোৎসার্ট (২১শে সেপ্টেম্বর, ১৭৮৪ – ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৮),
ইয়োহান টমাস লেওপোল্ড (১৮ই অক্টোবর – ১৫ই নভেম্বর, ১৭৮৬),
তেরেসা কোন্সতানসিয়া আডেলহিড ফ্রিয়েদেরিক মারিয়া আন্না (২৭শে ডিসেম্বর, ১৭৮৭ – ২৯শে জুন, ১৭৮৮),
* মারিয়া আন্না (জন্মের পরই মারা যায়, ২৫শে ডিসেম্বর, ১৭৮৯),
ফ্রান্ৎস ক্সাভার ভোল্‌ফগাংক্‌ মোৎসার্ট (২৬শে জুলাই, ১৭৯১ – ২৯শে জুলাই, ১৮৪৪)
স্বাক্ষর

ভোল্ফগ্যাং আমাদেয়্যস্ মোৎসার্ট (জার্মান ভাষায় Wolfgang Amadeus Mozart ভ়োল্‌ফ়্‌গাংক্‌ আমাডেউস্‌ মোৎসাআট্‌) (জানুয়ারি ২৭, ১৭৫৬ডিসেম্বর ৫, ১৭৯১) অস্ট্রীয় সুরকার।

জন্ম ও শৈশব[সম্পাদনা]

তিনি সলজবুর্গ শহরে ১৭৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম 'লেওপোল্ড মোৎসার্ট' জাল্‌ৎস্‌বার্গ আর্চবিশপের সভাতে সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। সলজবুর্গ শহরে, শৈশবেই মোৎসার্ট তার আশ্চর্যজনক সুর প্রতিভা দেখান। কীবোর্ড এবং ভায়োলিনে পারদর্শী মোৎসার্ট পাঁচ বছর বয়স থেকেই সুর সৃষ্টি করেছিলেন। ১৭ বছর বয়সেই তিনি জাল্ৎ্সবার্গের দরবারী সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন, পাশাপাশি নিরলসভাবে অসংখ্য সুর সৃষ্টির মাধ্যমে আরো উচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৭৮১ সালে যখন তিনি ভিয়েনা ভ্রমণ করছিলেন, তখন তাঁকে জাল্ৎ্সবার্গের দরবার পদ থেকে বিচ্যুত করা হয়।

ভিয়েনার জীবন[সম্পাদনা]

কন্সতান্জে মোৎসার্ট

পরবর্তীতে ভিয়েনায় একজন পিয়ানোবাদক রূপে তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় আরম্ভ হয় এবং অল্প সময়েই তিনি নিজেকে ভিয়েনার শ্রেষ্ঠ পিয়ানোবাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৭৮২ সালে Die Entführung aus dem Serail অপেরায় তাঁর কাজের সাফল্য মোৎসার্টকে একজন সুরকার হিসেবে ভিয়েনায় সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

Die Entführung aus dem Serail অপেরায় সাফল্য লাভের পরও মোৎসার্ট পরবর্তী ৪ বছর অপেরার জন্য খুব সামান্যই কাজ করেন। এসময় তিনি নিজেকে একজন পিয়ানোবাদক এবং কন্সার্টো রচয়িতা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেছিলেন। অতঃপর ১৭৮৫ সালের শেষ দিকে তিনি কীবোর্ড এ সুর সম্পাদনার কাজ থেকে সরে আসেন এবং librettist Lorenzo Da Ponte-এর সাথে অপেরায় সহযোগীতার কাজ শুরু করেন, যা বেশ খ্যাতি অর্জন করে। ১৭৮৬ সালে,ভিয়েনায়, তার বিখ্যাত সৃষ্টি The Marriage of Figaro-এর সফল উন্মোচন ঘটে। ডিসেম্বর ১৭৮৭ এ, মোৎসার্ট খানদানী পৃষ্ঠপোষকতা অধীনে কাজে নিয়োগ প্রাপ্ত হন, যখন সম্রাট জোসেফ দ্বিতীয় তার দরবারী সুরকার Gluck-এর মৃত্যুর পর মোৎসার্টকে ঐ পদে নিযুক্ত হবার আহ্বান জানান। এটি ছিল একটি সাময়িক নিয়োগ যার যন্য মোৎসার্ট পেতেন প্রতি বছর মাত্র ৪০০ ফ্লৌরিন্স (মুদ্রা)। অবশ্য এসময় মোৎসার্টকে কেবল Redoutensaal-এ বার্ষিক বল নাচের জন্য সুর তৈরি করতে হত। এবং বস্তুত এই স্বল্প আয়ই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১৭৮৭ সালে, আরেক সুর সম্রাট লুডউইগ ভ্যান বিটোফেন মোৎসার্টের সঙ্গে অধ্যয়ন করার জন্য ভিয়েনায় কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত করেন। বিটোফেন তখন ছিলেন তরুণ, এবং এই দুই সুর সম্রাটের আদৌ কখনো দেখা হয়েছিল কি-না সে প্রসঙ্গে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিয়েনা পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

১৭৮৮ এর মাঝামাঝি সময়ে মোৎসার্ট এবং তার পরিবার কেন্দ্রিয় ভিয়েনা ছেড়ে আলসেরগ্রান্দ (অস্ট্রিয়াতেই)-এর শহরতলীতে চলে আসেন। ধারণা করা হয়েছিল মোৎসার্ট তার ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য এমনটি করেছিলেন, যদিও বর্তমান সময়ের গবেষণা বলে, এটি সত্য নয়। এসময় মোৎসার্টের বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ ধার নেওয়া এবং মলিন পোশাক-পরিচ্ছদের কারণে তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন বলে Maynard Solomon এবং আরো কিছু ব্যক্তির মতামত জানা যায়। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে তাঁর শেষ তিনটি সুর, যা সিম্ফোনি 39, 40, এবং 41 নামে খ্যাত (প্রতিটিই ১৭৮৮ সালে সৃষ্ট), এবং তিনটি Da Ponte operas-এর শেষটি (Così fan tutte) যার উন্মোচন হয় ১৭৯০ এ।

কাছাকাছি সময়েই মোৎসার্ট ভাগ্যের সন্ধানে লিপযিগ, বার্লিন এবং ড্রেসডেন এ (১৭৮৯ এ) এবং ফ্রান্কফুর্ট, ম্যানহেম এবং জার্মানীর অন্যান্য শহরে (১৭৯০ এ) দীর্ঘকালীন সফর করেন। সফরে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন সাফল্য লাভ করলেও এর দ্বারা তার ও তার পরিবারের আর্থিক দূরবস্থার কোনরূপ স্থায়ী উন্নতি হয়নি।

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

তার স্ত্রীর নাম 'কন্সতান্জে'। তাঁদের ছয়জন সন্তান ছিল, যাদের মধ্যে চারজন শৈশবেই মারা যান। মোৎসার্টের সন্তানেরা হলেন রেমন্ড্‌ লেওপোল্ড, কার্ল টমাস মোৎসার্ট, ইয়োহান টমাস লেওপোল্ড, তেরেসা কোন্সতানসিয়া আডেলহিড ফ্রিয়েদেরিক মারিয়া আন্না, মারিয়া আন্না, ফ্রান্ৎস ক্সাভার ভোল্‌ফগাংক্‌ মোৎসার্ট।

শেষ বছরগুলো[সম্পাদনা]

মোৎসার্টের জীবনের শেষ বছরগুলো ছিল তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুর সৃষ্টি-কাল এবং এক প্রকারে তার নিজেকে ফিরে পাওয়ার কাল। অপেরা The Magic Flute, চূড়ান্ত পিয়ানো কন্সার্টো (K. 595 in B-flat) , তার string quintets সিরিজের শেষ খন্ড , প্রার্থনাসংগীত (Motet) Ave verum corpus K. 618, এবং অসমাপ্ত Requiem K. 626. —এই কালজয়ী সৃষ্টিগুলো এই সময়েই করা, যার জন্য তিনি বহুল সমাদৃত হন।

১৭৯০ সালে, অবশেষে মোৎসার্টের আর্থিক দূরবস্থার অবসান ঘটে, যদিও এটির কারণ বা প্রমাণ মীমাংসাহীন। এটা প্রমাণ হয় যে হাঙ্গেরি এবং আমস্টারডাম এর ধনী পৃষ্ঠপোষকদের জন্য বার্ষিক বৃত্তির বিনিময়ে মোৎসার্ট নৈমিত্তিক রচনা করেন। তিনি সম্ভবত ইম্পেরিয়াল সভাগৃহ সুরকার হিসাবে তাঁর লিখিত নাচ সঙ্গীত বিক্রয় থেকেও সুবিধাপ্রাপ্ত হন। মোৎসার্ট এরপর আর অর্থ ধার করেননি এবং ধারের অর্থও শোধ করে দেন।

প্রাগে, ৬ সেপ্টেম্বর ১৭৯১ এ অপেরা La clemenza di Tito-এর উন্মোচন-এর সময়কালে, মোৎসার্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার স্ত্রী, তার কনিষ্ঠ বোন এবং পরিবারের ডাক্তার টমাস ফ্রান্ত্জ ক্লসেত তার দেখাশোনা করেন। ৩৫ বছর বয়সি মোৎসার্ট ১৭৯১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাত ১টায় মারা যান।

সেন্ট মার্কস সিমেট্রির একটি সাধারণ কবরে এই সুর সম্রাটকে শায়িত করা হয় ৭ ডিসেম্বর। দিনটি ছিল সাধারণ, শান্ত আবহাওয়ার।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসোর্স
উইকিসোর্স-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে: