ইয়েভগেনি প্রিমাকভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইয়েভগেনি প্রিমাকভ
Евгений Примаков
E Primakov 03.jpg
৩১তম রুশ প্রধানমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ – ১২ মে ১৯৯৯
রাষ্ট্রপতিবোরিস ইয়েলৎসিন
প্রথম ডেপুটি
পূর্বসূরীভিক্তর চের্নোমির্দিন (ভারপ্রাপ্ত)
উত্তরসূরীসের্গেই স্তেপাশিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৯ জানুয়ারি ১৯৯৬ – ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮
প্রধানমন্ত্রী
পূর্বসূরীআন্দ্রেই কোজিরেভ
উত্তরসূরীইগর আইভানভ
সোভিয়েত অফ দ‍্য ইউনিয়নের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
৩ জুন ১৯৮৯ – ৩১ মার্চ ১৯৯০
পূর্বসূরীইউরি খ্রিস্তোরাদনভ
উত্তরসূরীআইভান লাপতেভ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মইয়েভগেনি মাকসিমোভিচ প্রিমাকভ
(১৯২৯-১০-২৯)২৯ অক্টোবর ১৯২৯
কিয়েভ, সোভিয়েত ইউক্রেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন
মৃত্যু২৬ জুন ২০১৫(2015-06-26) (বয়স ৮৫)
মস্কো, রাশিয়া
জাতীয়তারুশ
রাজনৈতিক দলসোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি
(১৯৫০-এর দশক–১৯৯১)
স্বতন্ত্র
(১৯৯১–১৯৯৮, ২০০২–২০১৫)
ফাদারল‍্যান্ড – অল রাশিয়া
(১৯৯৮–২০০২)
সন্তানআলেকসান্দার
নানা
প্রাক্তন শিক্ষার্থীমস্কো ইনস্টিটিউট অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ
মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি
পেশারাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, কূটনীতিক, গুপ্তচর
পুরস্কারOrder "For Merit to the Fatherland" 1st class Order "For Merit to the Fatherland" 2nd class Order "For Merit to the Fatherland" 3rd class
Order of Alexander Nevsky 2010 ribbon.svg Orden of Honour.png Orderredbannerlabor rib.png
Order friendship of peoples rib.png Order badge of honor rib.png 100 lenin rib.png Ribbon Medal 850 Moscow.png VeteranLaborRibbon.png Order of Prince Yaroslav the Wise 4th class Order Dostik 1st class Medal State Prize Soviet Union.png Medal Lomonosov AN SU.gif

ইয়েভগেনি মাকসিমোভিচ প্রিমাকভ (রুশ: Евге́ний Макси́мович Примако́в, tr. Yevgeniy Maksimovich Primakov; ২৯ অক্টোবর ১৯২৯ – ২৬ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন রুশ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক যিনি ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সোভিয়েত ইউনিয়নের সুপ্রিম সোভিয়েতের স্পিকার এবং ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রিমাকভ একজন বুদ্ধিজীবী (আরববিশারদ) ছিলেন এবং রুশ একাডেমি অফ সায়েন্সের প্রেসিডিয়াম সদস‍্য ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রিমাকভ ১৯২৯ সালের ২৯ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউক্রেন প্রজাতন্ত্রের কিয়েভ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সোভিয়েত জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি শহরে তাঁর শৈশব অতিবাহিত হয়। অধিকাংশ নথিপত্র অনুযায়ী, প্রিমাকভের পিতা ছিলেন একজন ইউক্রেনীয়। তাঁর নামের পদবী ছিল নেমচেঙ্কো। তাঁকে গুলাগে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল এবং তিনি সেখানেই মৃত‍্যুবরণ করেন[১][২]। প্রিমাকভের মাতার নাম অ‍্যানা ইয়াকোভলেভনা প্রিমাকোভা, এবং তিনি পেশায় একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ছিলেন[৩][৪][৫][৬]। তিনি ইহুদি ছিলেন[৭]। বিখ‍্যাত মনোবিজ্ঞানী ইয়াকোভ কিরশেনব্লাত ছিলেন তাঁর চাচাত ভাই।

প্রিমাকভ মস্কো ইনস্টিটিউট অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ থেকে ১৯৫৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তিনি সোভিয়েত বেতারের সাংবাদিক এবং প্রাভদা পত্রিকার মধ‍্যপ্রাচ‍্য সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। এসময় তাঁকে প্রায়ই 'মাকসিম' সাংকেতিক নাম দিয়ে সোভিয়েত গুপ্ত পুলিশ কেজিবি মধ‍্যপ্রাচ‍্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোপন অভিযানে প্রেরণ করত[৮][৯]

প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

সোভিয়েত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ইয়েভগেনি প্রিমাকভ

প্রিমাকভ ১৯৬২ সালে ইনস্টিটিউট অফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ‍্যান্ড ইন্টারন‍্যাশনাল রিলেশন্সের সিনিয়র রিসার্চার হিসেবে বৈজ্ঞানিক জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৭০ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত সোভিয়েত একাডেমি অফ সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ‍্যান্ড ইন্টারন‍্যাশনাল রিলেশন্সের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি ইনস্টিটিউট অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ অফ সোভিয়েত একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর পরিচালক ছিলেন। এসময় তিনি সোভিয়েত শান্তি কমিটির প্রথম উপ-সভাপতিও ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ইনস্টিটিউট অফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ‍্যান্ড ইন্টারন‍্যাশনাল রিলেশন্স-এ ফিরে আসেন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন[১০]

১৯৮৯ সালে প্রিমাকভ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং সোভিয়েত আইনসভার দুই কক্ষের একটি সোভিয়েত অফ দ‍্য ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত তিনি সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের রাষ্ট্রপতি পরিষদের সদস‍্য ছিলেন[১০]‌। উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি ইরাকে গর্বাচেভের বিশেষ দূত নিযুক্ত হন এবং ইরাকের রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেন[১১][১২]

ফরেন ইন্টেলিজেন্সের প্রধান[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের ব‍্যর্থ অভ‍্যুত্থানের পর প্রিমাকভ কেজিবির প্রথম উপ-সভাপতি এবং কেজিবির প্রথম চীফ ডিরেক্টরেটের পরিচালক নিযুক্ত হন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রিমাকভ কেজিবির প্রথম চীফ ডিরেক্টরেটকে রুশ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বাধীনে নিয়ে আসেন এবং সংস্থাটির নতুন নামকরণ করা হয় 'ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস'। প্রিমাকভ নতুন নামের অধীনে কেজিবির পুরাতন সংগঠনটি অপরিবর্তিত রাখেন এবং সংস্থাটিতে কোনো শুদ্ধি অভিযান বা গাঠনিক সংস্কার পরিচালনা থেকে বিরত থাকেন[১৩]। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন[১০]

পররাষ্ট্রমন্ত্রী[সম্পাদনা]

প্রিমাকভ ১৯৯৬ সালের ৯ জানুয়ারি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং ১৯৯৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দেশে-বিদেশে রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থের কঠোর কিন্তু বাস্তববাদী সমর্থক[১৪] এবং পূর্ব ইউরোপে ন‍্যাটোর সম্প্রসারণের বিরোধী হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। অবশ‍্য ন‍্যাটোর মহাসচিব জেভিয়ার সোলানার সঙ্গে তাঁর পাঁচ মাসব‍্যাপী আলোচনার পর ১৯৯৭ সালের ২৭ মে রাশিয়া ফাউন্ডেশন অ‍্যাক্ট-এ স্বাক্ষর করে[১৫], যার মধ‍্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের শত্রুতার অবসান ঘটে বলে মনে করা হয়। যুগোস্লাভ যুদ্ধসমূহের সময় প্রিমাকভ যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি স্লোবোদান মিলোসেভিচকে সমর্থন করেন[১৬]

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্বব‍্যাপী একক মার্কিন আধিপত‍্যের বিকল্প হিসেবে প্রিমাকভ বহুকেন্দ্রিকতা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে খ‍্যাতি লাভ করেন। প্রিমাকভ কম ব‍্যয়বহুল মধ‍্যস্থতা এবং মধ‍্যপ্রাচ‍্য ও প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোতে প্রভাব বিস্তারের ভিত্তিতে রুশ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান[১৭][১৮]। ১৯৯৯ সালের প্রথমদিকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত‍্য রোধের উদ্দেশ‍্যে রাশিয়া, চীনভারতের সমন্বয়ে একটি 'কৌশলগত ত্রিভুজ' গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন। তাঁর এই প্রস্তাবনাকে কিছুসংখ‍্যক পর্যবেক্ষক মধ‍্য এশিয়ায় 'রঙিন বিপ্লব' সংঘটনের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার চুক্তি হিসেবে ব‍্যাখ‍্যা দেন[১৯][২০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ‍্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Obituary: Yevgeny Primakov. Steel and shadows", The Economist, July 18, 2015.
  2. Леонид Млечин «История внешней разведки». Глава «Академик спас разведку»
  3. Леонид Млечин «История внешней разведки»
  4. Примаков Е. М.। Встречи на перекресткахআইএসবিএন 978-5-227-05739-6 
  5. Richard C. S. Trahair; Robert L. Miller (১৮ অক্টোবর ২০১৩)। Encyclopedia of Cold War Espionage, Spies, and Secret Operations। Enigma Books। পৃষ্ঠা 346। আইএসবিএন 9781936274260 
  6. Robert A. Saunders; Vlad Strukov (১৩ মে ২০১০)। Historical Dictionary of the Russian Federation (illustrated সংস্করণ)। Scarecrow Press। পৃষ্ঠা 464। আইএসবিএন 9780810874602 
  7. Russian Crossroads: Toward the New Millennium (2008) by Yevgeny Primakov, pp. 17
  8. Christopher Andrew and Vasili Mitrokhin, The Mitrokhin Archive: The KGB in Europe and the West, Gardners Books (2000), আইএসবিএন ০-১৪-০২৮৪৮৭-৭
  9. Vadim J. Birstein. The Perversion Of Knowledge: The True Story of Soviet Science, Westview Press (2004) আইএসবিএন ০-৮১৩৩-৪২৮০-৫
  10. Russia and the Commonwealth of Independent States: Documents, Data, and Analysis (1997) by Zbigniew Brzezinski and Paige Sullivan, pp. 124
  11. Primakov, Yevgeni (১১ মার্চ ১৯৯১)। "Diplomacy: My Final Visit with Saddam Hussein"Time। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৫ 
  12. Garthoff, Raymond L. (১৯৯৪)। The Great Transition: American-Soviet Relations and the End of the Cold War। Washington, D.C.: Brookings Institution। পৃষ্ঠা 435। আইএসবিএন 0-8157-3060-8 
  13. Waller, J. Michael। "Who Is Making Russian Foreign Policy?"Perspective, Boston University Institute for the Study of Conflict, Ideology and Policy 
  14. Quinn, Paul (৯ নভেম্বর ১৯৯৮)। "Russia's New Icon"Time। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৩ 
  15. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৭ এপ্রিল ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  16. "Obituary: Yevgeny Primakov: Steel and shadows"The Economist। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৫ 
  17. The Geopolitical Curse of the Caucasus (2013) by Nodar Gabashvili
  18. Heintz, Jim (২৬ জুন ২০১৫)। "Former Russian PM Yevgeny Primakov dies at 85"। WSPA 7। ২৭ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৫ 
  19. The Third Among the Equals. Moscow, New Delhi and Beijing are creating counter-revolutionary union Kommersant 3 June 2005
  20. Chandra, Amresh (২০১০)। "Strategic Triangle among Russia, China and India: Challenges and Prospects" (PDF)। Journal of Peace Studies। ২৭ জুন ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৫