বিষয়বস্তুতে চলুন

আল-আমীন মিশন

আল-আমীন মিশন
Al-Ameen Mission
আল-আমীন মিশন লোগো
ঠিকানা
মানচিত্র

পশ্চিমবঙ্গ

ভারত
স্থানাঙ্ক২২°৪৫′০৭″ উত্তর ৮৭°৫৯′০৭″ পূর্ব / ২২.৭৫১৯২৮৮° উত্তর ৮৭.৯৮৫১৬৬২° পূর্ব / 22.7519288; 87.9851662
তথ্য
প্রাক্তন নামইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক কালচার
বিদ্যালয়ের ধরনআবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৮৬ (1986)
প্রতিষ্ঠাতাএম. নুরুল ইসলাম (সাধারণ সম্পাদক)
বিদ্যালয় বোর্ডপশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, সিবিএসই
বিদ্যালয় জেলাহাওড়া
ট্রাস্টআল-আমীন মিশন ট্রাস্ট
নিয়ন্ত্রকমারুফ আজম
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
  • ননী গোপাল চৌধুরী
  • সেখ মোঃ আলী
  • এম এ রশিদ
  • ড. এস.কে. মোঃ হাসান
  • এম আব্দুল হাসেম মল্লিক
  • কাজী আব্দুল বাসির
  • নুরুল আনোয়ার
  • আবু সালেহ মোঃ রেজওয়ানুল করিম
শ্রেণিপঞ্চম–দ্বাদশ
লিঙ্গসহশিক্ষা
ভর্তি২০,৭২২ (২০২৬)
ভাষাইংরেজি, বাংলা
প্রকাশনাআল-আমীন বার্তা
আল-আমীন নিউজলেটার
ওয়েবসাইটalameenmission.org

আল-আমীন মিশন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে হাওড়া জেলার খলতপুর গ্রামে নুরুল ইসলামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীকালে এটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৮৬ সালে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের খলতপুর গ্রামে নুরুল ইসলামের উদ্যোগে আল-আমীন মিশনের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক কালচার নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে একটি টিনের ছাউনিতে এর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। নুরুল ইসলাম কলকাতায় কলেজে অধ্যয়নকালে গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে পরিচিত হন। সেখানে আবাসিক পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা তাঁকে প্রভাবিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আর্থিকভাবে অনগ্রসর ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।[১]

১৯৮৭ সালের ২৩-এ জানুয়ারী ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক কালচার-এর নাম পরিবর্তন করে আল-আমীন মিশন রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে মিশনের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রম ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। খলতপুরে প্রতিষ্ঠিত মূল কেন্দ্রের বাইরে পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মিশনের শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর এর শিক্ষা কার্যক্রম পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও সম্প্রসারিত হয়।[২]

শিক্ষাব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

আল-আমীন মিশনে আবাসিক ব্যবস্থায় পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলা মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রম এবং ইংরেজি মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। মিশনের কয়েকটি শাখায় সিবিএসই-ভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি মিশনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি)-এর প্রস্তুতি দেওয়া হয়। দ্বাদশ শ্রেণির পর এনইইটি, জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন (জেইই) মেইন এবং জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষার জন্য পৃথক প্রস্তুতিমূলক কোর্স রয়েছে। এছাড়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও এনইইটি ও জেইই প্রস্তুতিমূলক কোর্স পরিচালিত হয়।[৩][৪]

মিশনের কিছু শিক্ষা কার্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা ও পরামর্শদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পঞ্চম থেকে নবম এবং একাদশ শ্রেণির কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও নথি যাচাইয়ের পর ভর্তি সম্পন্ন করা হয়। আর্থিকভাবে অনগ্রসর, দরিদ্র ও অনাথ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থার কথাও মিশনের ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।[৫]

ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো

[সম্পাদনা]

আল-আমীন মিশন ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি ভারতীয় ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ এবং সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৮৬০-এর অধীনে নিবন্ধিত চারটি পৃথক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংস্থাগুলি হলো আল-আমীন মিশন, আল-আমীন মিশন ট্রাস্ট, আল-আমীন এডুকেশনাল কাউন্সিল এবং আল-আমীন ট্রাস্ট। চারটি সংস্থার প্রশাসনিক নেতৃত্বে রয়েছেন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এম. নুরুল ইসলাম।

মিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিভিন্ন কার্যভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ, পরিচালন সমিতি, নির্মাণ কমিটি, শিক্ষা কমিটি, শৃঙ্খলা কমিটি এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ কমিটি। এসব কমিটি যথাক্রমে মিশনের প্রশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণ-সংক্রান্ত বিষয় তদারকিতে ভূমিকা পালন করে।

খলতপুরে অবস্থিত মিশনের প্রায় ২০ একর আয়তনের প্রধান ক্যাম্পাসে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শাখার প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থা পৃথকভাবে তত্ত্বাবধান করা হয়। মিশনের বিভিন্ন শাখা ও ক্যাম্পাস মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

অর্থায়ন

[সম্পাদনা]

আল-আমীন মিশনের অর্থায়নের প্রধান উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে জনসাধারণের অনুদান, জাকাত, শিক্ষার্থীদের ফি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা। মিশনের প্রাথমিক পর্যায়ে খলতপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি পরিবার থেকে এক মুঠো চাল সংগ্রহের মাধ্যমে অর্থ ও খাদ্যশস্য সংগ্রহের প্রচলন ছিল। পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ, খাদ্যশস্য, নির্মাণসামগ্রী ও জমি অনুদান হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে মিশনের আর্থিক ভিত্তি সম্প্রসারিত হয়।

মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন ব্যবস্থা হলো জাকাত তহবিল। আল-আমীন মিশন জাকাত ফান্ডে সাধারণ নাগরিক ও মিশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জাকাত প্রদান করেন। এই তহবিল থেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বা আংশিক ফি মওকুফ, উচ্চশিক্ষার ব্যয় নির্বাহ এবং মিশনের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। মিশনে শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে একটি স্তরভিত্তিক ফি কাঠামোও রয়েছে।

মিশনের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তা রয়েছে। এর প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের মাওলানা আজাদ এডুকেশন ফাউন্ডেশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জি. ডি. চ্যারিটেবল সোসাইটি আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন-এর মাধ্যমে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল (MPLADS)-এর অর্থও মিশন পেয়েছে। ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক প্রতিযোগিতামূলক চিকিৎসা ও প্রকৌশল প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে আবাসিক কোচিং পরিচালনায় অনুদান প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরও কোচিং কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া ভবিষ্যৎ কোচিং কেন্দ্র ও গবেষণা-পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতার নিউ টাউনে ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে ২ একর জমি বরাদ্দ করেছে।[৬]

মিশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অর্থায়নে ভূমিকা রাখেন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সরকারি আধিকারিক হিসেবে কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদান এবং জাকাতের অর্থ মিশনের বিভিন্ন তহবিলে প্রদান করা হয়।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

শিক্ষা ও সমাজোন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য আল-আমীন মিশন বিভিন্ন সময়ে একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছে।[৭]

  • দ্য টেলিগ্রাফ স্কুল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সেলেন্স: ২০০২ সালে আল-আমীন মিশন সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে এই সম্মান লাভ করে।[৭]
  • সার্টিফিকেট অব অনার: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মিশনটি ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে সম্মানপত্র লাভ করে।
  • বঙ্গভূষণ: ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আল-আমীন মিশনকে বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।[৮]
  • এএমপি এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড: ২০২০ সালে এএমপি শিক্ষা পুরস্কার-এর মাধ্যমে আল-আমীন মিশন শিক্ষাক্ষেত্রে স্বীকৃতি লাভ করে।
  • স্যার সৈয়দ আহমদ খান অ্যাওয়ার্ড: মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম. নুরুল ইসলাম ২০১৯ সালে এই পুরস্কারে সম্মানিত হন।
  • মৌলানা আবুল কালাম আজাদ পুরস্কার: ২০২১ সালে শিক্ষার প্রসারে অবদানের জন্য এম. নুরুল ইসলাম মৌলানা আবুল কালাম আজাদ পুরস্কার লাভ করেন।
  • ইন্ডিয়াস বেস্ট টিচার অ্যাওয়ার্ড: এম. নুরুল ইসলাম ভারতের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার-সহ বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রের সম্মাননা লাভ করেন।
  • সামগ্রিক স্বীকৃতি: এসব পুরস্কার ও সম্মাননা আল-আমীন মিশনের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, আর্থিকভাবে অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।[৯]

শাখা ও ক্যাম্পাসসমূহ

[সম্পাদনা]
আল আমীন মিশন, জুনিয়র বিল্ডিং, খলতপুর

আল-আমীন মিশন ও আল-আমীন মিশন ট্রাস্টের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্যে একাধিক আবাসিক একাডেমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। মিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও প্রধান ক্যাম্পাস হাওড়া জেলার খলতপুরে অবস্থিত। দক্ষিণবঙ্গে হাওড়া জেলার নয়াবাজ, খলিসানী, উলুবেড়িয়া ও রানীহাটি, কলকাতার পাঁচুর এবং নিউ টাউনে মিশনের শাখা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বারুইপুর, হাসনেচা, সূর্যপুর, জয়নগর, তালদি, উস্তি ও ভাঙ্গারে একাধিক শাখা পরিচালিত হয়।

রাঢ় ও মধ্যবঙ্গ অঞ্চলে নদিয়া জেলার চাপড়া; হুগলি জেলার বাবনান ও পান্ডুয়া; বাঁকুড়া জেলা; পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহর, মেমারি ও গালসি; পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর; এবং বীরভূম জেলার পাথরচাপড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর ও লোহাপুরে মিশনের কার্যক্রম রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ধুলিয়ান, বেলডাঙা, উমরপুর, হরিহরপাড়া, উজুনিয়া ও নওদা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মেদিনীপুর সদর, খড়গপুর ও কোটবারেও মিশনের শাখা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে মিশনের কার্যক্রম মালদা জেলার সদর ও বৈষ্ণবনগর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বেলপুকুর এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদে বিস্তৃত। এছাড়া শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও মিশনের শাখা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, বিহারের পাটনা, আসামের হাউলি, ত্রিপুরা এবং মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও আল-আমীন মিশনের একাডেমি পরিচালিত হয়।[১০]

সামাজিক প্রভাব

[সম্পাদনা]

আল-আমীন মিশন মূলত পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের আবাসিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে সামাজিক ও শিক্ষাগত মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।[১১] বিদ্যালয় স্তরের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সর্বভারতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্স পরিচালনা করে। শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে টিউশন ফি মওকুফ, পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা ও বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন। মিশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ১,৯৪১ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা বিজ্ঞানে, ২,০১৫ জন প্রকৌশল বিদ্যায় এবং ৫৫ জন রাজ্য সিভিল সার্ভিস (WBCS) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন।[১২] প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকে পরবর্তীকালে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকেন।[১৩]

নারী শিক্ষা

[সম্পাদনা]

গ্রামীণ ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আল-আমীন মিশন বেশ কয়েকটি পৃথক আবাসিক ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্পাসে পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পাশাপাশি সিবিএসই পাঠ্যক্রমে পাঠদান করা হয়। নিয়মিত শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি ছাত্রীদের জন্য সর্বভারতীয় নিট (NEET) ও জেইই (JEE)-র মতো প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশেষ প্রস্তুতিমূলক আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।[১৪]

সংস্থার নীতি অনুযায়ী আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বা আংশিক ফি এবং বিশেষ বৃত্তির সুযোগ প্রদান করা হয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বৃত্তিমূলক পেশায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।[১৫]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "Thanking the man who built boarding school network to educate impoverished Muslim kids" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  2. ↑ "Al-Ameen Mission"। alameenmission.org। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  3. ↑ "This Mission gives wings to the dreams of underprivileged kids"। The Times of India। ২৬ আগস্ট ২০১৬। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  4. ↑ "Merit overcomes adversity, doctor dreams off to a flying start"। The Times of India। ৭ জুন ২০১৯। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  5. ↑ কুদ্দুস, রোহণ। "Al-Ameen Mission | অন্ধকার থেকে আলোকবৃত্তে"। www.anandabazar.com। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
  6. ↑ "Al-Ameen Mission to set up centre of excellence in New Town"। The Times of India। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  7. 1 2 "Al Ameen sends 510 students to become doctors"। https://www.awazthevoice.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |ওয়েবসাইট=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)
  8. ↑ "Nurul Islam – General Secretary – Al Ameen Mission | Mpositive.in" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  9. ↑ "Al-Ameen Mission"। alameenmission.org। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  10. ↑ "Al-Ameen takes mission to Ranchi and Assam"। The Times of India। ১৯ জুন ২০১৫। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  11. ↑ "Kolkata: Al-Ameen poor students pass with flying colours"। The Times of India। ২২ মে ২০১৯। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  12. ↑ "NEET (UG) 2025: 472 Students of Al-Ameen Mission Qualify for Free Medical Seats in Government Medical Colleges Across West Bengal"। Muslim Mirror (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুন ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  13. ↑ modir (২৬ জুন ২০২৫)। "India: Al Ameen Mission Empowers 472 Students for Free Medical Seats in West Bengal"। Shia Waves (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  14. ↑ "Farmer's Daughter From Murshidabad Cracks UPSC in First Attempt, Sana Azmi Secures All India Rank 764"। The Observer Post (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  15. ↑ "Electricians', bidi-workers' kids make it to 90% list"। The Times of India। ৫ মে ২০২৪। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]