আর্তুর র‍্যাঁবো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আর্তু্র র‍্যাঁবো
Rimbaud.PNG
১৮৭১ সালের ডিসেম্বরের দিকে ১৭ বছর বয়সে তোলা আর্তুর র‍্যাঁবোর ছবি।
জন্ম জঁ নিকোলা আর্তুর র‍্যাঁবো
(১৮৫৪-১০-২০)২০ অক্টোবর ১৮৫৪
শার্লভিল, ফ্রান্স
মৃত্যু ১০ নভেম্বর ১৮৯১(১৮৯১-১১-১০) (৩৭ বছর)
মার্সেই, ফ্রান্স
পেশা কবি
জাতীয়তা ফরাসি

স্বাক্ষর

জঁ নিকোলা আর্তুর র‍্যাঁবো (ফরাসি: Jean-Nicholas Arthur Rimbaud ফরাসি উচ্চারণ: ​[aʁtyʁ ʁɛ̃bo] (২০ অক্টোবর ১৮৫৪- ১০ নভেম্বর ১৮৯১) একজন ফরাসি কবি। ১৮৫৪ সালে ২০ অক্টোবর তিনি ফ্রান্সের শার্লভিল-মেজিয়ের শহরে জন্মগ্রহন করেন। তিনি তার অধিকাংশ কবিতাই লিখেছিলেন কিশোর বয়সে।

জীবন ও কবিতা[সম্পাদনা]

র‍্যাঁবোর পরিবারটি ছিল মধ্যবিত্ত। বাবা সৈন্য, মা গৃহিনী। ইজাবেল নামে এক বোন ছিল র‌্যাঁবোর। বড় এক ভাইও ছিল। র‌্যাঁবোর বয়স তখন দু’বছর - তখনই তাঁর মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। বাবা নয়, র‌্যাঁবোর ছেলেবেলা জুড়ে ছিল মায়ের কঠোর শাসন। মায়ের শাস্তিও ছিল অদ্ভুত রকমের, পড়া না পারলেই ১০০ লাইন লাতিন কবিতা মুখস্থ করতে হত। এরপরও আবৃত্তি ভুল হলে খাবার জুটত না। ৯ বছর বয়েসেই তাই নাকি ৭০০ লাইন লাতিন কবিতা ঠোটস্থ হয়ে গেছিল তাঁর।[১] তাদের বাড়ির নিচেই ছিল বিরাট এক লাইব্রেরি। খুব অল্প বয়সেই সেখানে বসে তিনি ফেনিমোর কুপার, গুস্তাভ আইমোর, জুল ভের্ন থেকে শুরু করে হেগেল ও সোয়েডনবর্গের দর্শন, প্রুদম, ফ্রান্সের লোককাহিনী এবং ইতিহাস ও সাহিত্য, এমনকী প্রাচ্য তথা ভারতীয় ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ, দর্শন, ধর্ম প্রচারক এবং দেব-দেবী ও দেবালয় সম্বন্ধেও পড়াশুনো করেন।[২] মাত্র সতেরো বছর বয়সেই অত্যন্ত আলোড়ণ উদ্রেককারী কবিতার মাধ্যমে তিনি প্যারিসের কবিসমাজকে উদ্বেলিত করে তুলেছিলেন। তাঁর মাতাল তরণী কবিতাটি পড়ে সেযুগের ফ্রান্সের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় প্রতীকবাদী কবি পল ভর্লেন তাঁর প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়েও উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি সব ধরনের সৃষ্টিশীল লেখালেখি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি আরব এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ভ্রমণ করেন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৮৯১ সালের ১০ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বিখ্যাত লেখনির মধ্যে নরকে এক ঋতু (উন সেজোঁ অন অঁফের), মাতাল তরণী (ল্য বাতো ইভ্র্‌) এবং গদ্য কবিতা ইলুমিনাসিওঁ অন্যতম।

কাব্যদর্শন[সম্পাদনা]

র‍্যাঁবোর কাব্যদর্শনের মূল কথাই ছিল স্বেচ্ছাধীন স্বতঃস্ফূর্ততার মাধ্যমে অসীম, অনন্ত ও অচেনা এক জগতের সন্ধান। এ' জগতের সন্ধান শুধুমাত্র পঞ্চেন্দ্রিয়য় আবদ্ধ অনুভূতির দ্বারা পাওয়া সম্ভব নয়। এই কারণেই বোধহয় তিনি কাব্যে আরও আরও প্রতীকের ব্যবহারের দিকে ঝোঁকেন। বিশ শতকে এসে পাবলো পিকাসো এবং জিম মরিসনের মত অনেকেরই তিনি গুরুতে পরিনত হন। এই প্রতিভাবান লেখকের হুট করে আবির্ভাব এবং আকস্মিক চলে যাওয়া এখনও অনেকের কাছে বিষ্ময়ের ব্যাপার।[৩]

র‍্যাঁবোর একটি কবিতার অনুবাদ[সম্পাদনা]

তাঁর আধুনিক প্রতীকবাদী সাহিত্যের এক উৎকৃষ্ঠ নমুনা হিসেবে এখানে তাঁর গদ্য কাব্যগ্রন্থ ইলিউমিনেশনস থেকে ভোর কবিতাটির একটি বাংলা অনুবাদ দেওয়া হল -

জড়িয়ে ধরি গ্রীষ্মের ভোর । প্রাসাদগুলোয় এখনও সাড়াশব্দ নেই। মৃত জল। ছায়ারা এখনও অরণ্যপথে ক্যাম্প করে আছে। হাঁটছি, উষ্ণ নিঃশ্বাস নিচ্ছি, ঝলমলে রত্ন ... শব্দহীন ডানার ঝাপটানো; প্রথম জন ছিল একটি সতেজ ফ্যাকাশে মেয়ে ফুল যে তার নামটি বলেছিল। পাইন বনে হালকা রঙের জন্তু দেখে আমি হেসেছিলাম। রুপালি শীর্ষে চিনতে পারলাম দেবীকে । তারপর একে এক আমি তার আবরণ উম্মোচন করি । গলিতে হাত নাড়লাম। সমতলে দেখি মোরগ। নগরে গম্বুজ ও গির্জের ভিড়ে হারিয়ে গেল। মার্বেলের জেটিতে দৌড়াল ভিক্ষুকের মতো, আমিও পিছন পিছন গেলাম। লরেল বনের ধারে রাস্তায় আমি তাকে আচ্ছাদিত করি । আমি তার অপরিমেয় দেহ পাই টের । ভোর ও শিশু বনের ধারে পড়ে যায় । জেগে উঠে দেখি দুপুর।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]