বিষয়বস্তুতে চলুন

আরাফাত রহমান কোকো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আরাফাত রহমান কোকো
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯৬৯-০৮-১২)১২ আগস্ট ১৯৬৯
কুমিল্লা, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ)
মৃত্যু২৪ জানুয়ারি ২০১৫(2015-01-24) (বয়স ৪৫)
কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া
মৃত্যুর কারণহৃদরোগে আক্রান্ত
সমাধিস্থলবনানী কবরস্থান, ঢাকা
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
দাম্পত্য সঙ্গীসৈয়দা শামিলা সিঁথি
সম্পর্কতারেক রহমান (ভাই)
তৈয়বা মজুমদার (নানী)
খুরশীদ জাহান হক (খালা)
শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (খালাতো ভাই)
সাইফুল ইসলাম ডিউক (খালাতো ভাই)
সাঈদ এস্কান্দার (মামা)
মাহবুব আলী খান (তালুই)
সন্তানজাহিয়া রহমান (কন্যা) জাফিয়া রহমান (কন্যা)
মাতাখালেদা জিয়া
পিতাজিয়াউর রহমান
বাসস্থানশহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়ি

আরাফাত রহমান (১২ আগস্ট ১৯৬৯-২৪ জানুয়ারি ২০১৫) হলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া[] ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র।[] তিনি কোকো নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন।[]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

আরাফাত রহমান কোকো ১২ আগস্ট ১৯৬৯ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম কুমিল্লায় হলেও তাঁর খান্দানী উৎস বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামের মণ্ডল বাড়িতে। তাঁর পরদাদা মুন্সী কামালুদ্দীন ইবনে কাঁকর মণ্ডল সাহেব বাগবাড়ী মাইনর স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও মহিষাবান ইউনিয়নর দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন এবং সেই বাগবাড়ী গ্রামের জমিদারকন্যা বেগম মিছিরুন্নেসা সাহেবাকে শাদী করার বাদে তিনি আদি নিবাস মহিষাবান থেকে বাগবাড়ী গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।[] গাবতলী, সুখানপুকুর ও যমুনার পশ্চিম তীরবর্তী এলাকার বিখ্যাত নেতা মুমিন উদ্দিন মণ্ডল মহিষাবানী (মৃঃ ১৮৪০) এবং উনার তৃতীয় অধস্তন আওলাদ কাঁকর মণ্ডল সাহেবের সরাসরি বংশধর আরাফাত কোকো।[]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শুরু হলে বাবা মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ও সশস্ত্র মক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত করেন। মায়ের সাথে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন কোকো। তারা সবাই কোকোর বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন ১৯৭১ পর্যন্ত থাকেন লুকিয়ে থাকেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা স্থান পরিবর্তন করেন। ২রা জুলাই ১৯৭১ ঢাকার সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকসেনারা মা ও বড় ভাই তারেকসহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তারা মুক্তি পান। কোকো শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন বিএএফ শাহীন স্কুলে[][]

এরপর বাবা জিয়াউর রহমান মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের হাল ধরলে মা তাকে পাঠিয়ে দেন চাচার কাছে যুক্তরাজ্যে। এখান থেকেই তিনি ও লেভেল শেষ করে আমেরিকা চলে যান। আমেরিকা থেকে এ লেভেল শেষ করেন। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সিভিল এভিয়েশনে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।[]

অস্ট্রেলিয়ায় নিদারুণ অর্থকষ্ট

[সম্পাদনা]

১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্নে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে (সে সময় নাম ছিল ভিক্টোরিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজী) ভর্তি হন আরাফাত রহমান কোকো। সেখানে দুই সেমিস্টার পড়ার পর তার মা বেগম খালেদা জিয়া টাকা পাঠাতে অক্ষম হলে কোকোর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি মেলবর্নের ক্লেটন সাবার্বে বসবাস করতেন। এ সময় পিজ্জা ডেলিভারী বয় হিসেবে কাজ করে যৎসামান্য যে আয় হতো তা দিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন। অর্থাভাব ছিল প্রকট। বিল পরিশোধ করতে না পারায় তার বাসার টেলিফোন লাইন কেটে দেয়া হয়। বিকল হয়ে যাওয়া গাড়ি মেরামত করেত অক্ষম হয়ার কারণে বন্ধুদের গাড়ী ধার করে খাবার ডেলিভারীর কাজ করেত হতো। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়নি। পড়ালেখা বাদ দিয়ে, বিমান ভাড়া জোগাড় করে, কোকোকে দেশে ফিরে আসতে হয়।[]

রাজনৈতিক নিপীড়ন

[সম্পাদনা]

পরিবারসহ ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন।[১০] তিনি ২০০৮ সালে ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বসবাস ও চিকিৎসা করছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের মে মাসে প্রেফতার অবস্থায় নিপীড়নের কারণে অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকে তিনি বিদেশেই অবস্থান করছিলেন।

আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন ছিল। খালেদা জিয়া ২০১২ সালে কোকোর সাথে সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত করেন। কিন্তু জিয়া পরিবার ২০০৭ সালের পরে কখনোই একসাথে হতে পারেনি।

ক্রীড়া সংগঠক

[সম্পাদনা]

তিনি ২০০২-২০০৫ সনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।[১১] এই সময় বিসিবির গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন।[১২] এছাড়া ক্রীড়া সংঘ ওল্ড ডিওএইচ এর চেয়ারম্যান ছিলেন। যুক্ত ছিলেন সিটি ক্লাবের সাথেও।

শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের রূপকার তিনি।[১৩] তাঁর মৃত্যুতে শোক জানায় বিসিবি ও কোয়াব।[১৪]

পারিবারিক জীবন

[সম্পাদনা]

আরাফাত রহমান সৈয়দা শামিলা সিঁথি (বিয়ে পরবর্তী নাম সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি) কে বিয়ে করেন।[১৫] তাদের দুই মেয়ে হয় যাদের নাম জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।[১৬]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
আরাফাত রহমানের কবর, ঢাকার বনানী কবরস্থানে

কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া জাতীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।[১০][১৭] ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে ঢাকায় হাজার হাজার শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল জানাজার পর তাকে বাংলাদেশের বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।[১৮][১৯]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Ali, S. Mahmud (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০)। Understanding Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮০২৩১৭০১৪৩৩। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০১২
  2. Selections from Regional Press (ইংরেজি ভাষায়)। দক্ষিণ এশিয়া: ইনস্টিটিউট অব রিজিওনাল স্টাডিজ। ২০০৮।
  3. "Khaleda Zia's self-exiled son dies in Malaysia"Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৫
  4. মহম্মদ আব্দুল মালেক। "জাতীয়তাবাদী চেতনার উৎস "প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান""Ziaur Rahman। ১২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  5. শিকদার, তামিম, শহীদ জিয়ার জন্ম বংশ পরিচয় ও শৈশব
  6. "কোকো ভাই"। ৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  7. আরাফাত রহমান কোকো সম্পর্কে কিছু তথ্য
  8. "হৃদয়ে কোকো ভাই"। ২ ডিসেম্বর ২০১৭।
  9. একজন মা একজন সন্তান লেখক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী
  10. 1 2 "কোকো মারা গেছেন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৬
  11. "High performance BCB"দ্য ডেইলি স্টার। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২১
  12. "Development running dry?"দ্য ডেইলি স্টার। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২১
  13. "Koko & commission"দ্য ডেইলি স্টার। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২১
  14. "ICL and our cricket"দ্য ডেইলি স্টার। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২১
  15. প্রতিবেদক, নিজস্ব (৬ মে ২০২৫)। "খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেন, সঙ্গে দুই পুত্রবধূ"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৫
  16. "দুই মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেলেন কোকোর স্ত্রী"প্রথম আলো। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  17. "আরাফাত রহমান কোকোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সারা দেশে সভা-মিলাদ মাহফিল আজ"দৈনিক ইনকিলাব। ২৪ জানুয়ারি ২০১৬।
  18. Limited, Alamy। "Dhaka, Bangladesh. 27th Jan, 2015. A large crowd of thousands including Bangladesh Nationalist Party (BNP) supporters gather to offer funeral prayers for Arafat Rahman Koko, son of former Bangladeshi president Ziaur Rahman and former prime minister Khaleda Zia, in Dhaka on January 27, 2015. Arafat Rahman Koko, 44, died in exile in Malaysia on January 24, devastating 69-year-old Zia as she launched a new rounds of protests earlier this month to topple bitter rival, Prime Minister Sheikh Hasina. Credit: ZUMA Press, Inc./Alamy Live News Stock Photo - Alamy"www.alamy.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  19. Report, Star Online (২৭ জানুয়ারি ২০১৫)। "Koko buried at Banani graveyard"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫