আবদুল হাকিম খান বাহাদুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আবদুল হাকিম খান বাহাদুর বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, পন্ডিত ও লেখক। তিনি বাংলাদেশ সরকার এর বেসামরিক পদক একুশে পদক পুরস্কার পান। [১]

আবদুল হাকিম খান বাহাদুর
আবদুল হাকিম খান বাহাদুর.jpg
খান বাহাদুর
জন্ম(১৯০৫-১২-০২)২ ডিসেম্বর ১৯০৫
মৃত্যু১৪ জুন ১৯৮৫(1985-06-14) (বয়স ৭৯)
যেখানের শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় 
পেশাশিক্ষাবিদ, পন্ডিত ও লেখক
পুরস্কারএকুশে পদক (১৯৮২) [২]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

আবদুল হাকিম খান বাহাদুর এর পিতার নাম মৌলবি ওয়াসিমউদ্দীন আহমদ এবং মাতার নাম নাসিমুন্নেসা। ১৯০৫ সালের ২ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার হাজীনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

১৯২২ সালের ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় দ্বিতীয় এবং ১৯২৪ সালের আই.এস.সি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।যথাক্রমে ১৯২৭ ও ১৯২৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে বি.এ (অনার্স) ও এম.এ পাস করেন। অনার্স পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে কালীনারায়ণ স্কলারশিপ প্রদান করে। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়  হতে ১৯৩০ সালে গণিত শাস্ত্রে ‘ট্রাইপস’সহ অনার্স এবং ১৯৩১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৩১ সালে আবদুল হাকিম টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া সাদত কলেজ এবং কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩২ সালে তিনি বাংলা সরকারের শিক্ষাবিভাগে মহকুমা স্কুল পরিদর্শক রূপে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৩৮ সালে ‘বেঙ্গল রুর‌্যাল প্রাইমারি এডুকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩০’ বাস্তবায়নের জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন।ওই সময় তিনি বাংলার শিক্ষক নামক একটি শিক্ষা-বিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য ১৯৩৯ সালে সরকার তাঁকে ‘খান সাহেব’ উপাধি প্রদান করে।

১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত খান সাহেব আবদুল হাকিম ঢাকা ও প্রেসিডেন্সি বিভাগ দুটির বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৪ সালে সরকার তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধি দেয়।

১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত আবদুল হাকিম পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শিক্ষা বিভাগের সহকারী জনশিক্ষা পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত তিনি জনশিক্ষা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষাসংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল হাকিম বাংলার  জনশিক্ষা সম্পর্কিত একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। ‘ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্রাঙ্কলিন বুকস প্রোগ্রামের’ আওতায় ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত বাংলা বিশ্বকোষের ৪টি সংস্করণের প্রধান সম্পাদক ছিলেন (১৯৬১-১৯৭৬)।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • একুশে পদক (১৯৮২)

অনান্য[সম্পাদনা]

আবদুল হাকিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ও সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি  বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি একজন সহকারী এবং ১৯৮২ সালে এর সভাপতি ছিলেন। 

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আবদুল হাকিম ১৪ই জুন ১৯৮৫ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "হাকিম, খানবাহাদুর আবদুল"। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  2. "একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠান" (PDF)সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পৃষ্ঠা ১৬। ২২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]