আনোয়ার হোসেন (পাকিস্তানী ক্রিকেটার)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আনোয়ার হোসেন
আনোয়ার হোসেন.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআনোয়ার হোসেন খোখার
জন্ম(১৯২০-০৭-১৬)১৬ জুলাই ১৯২০
লাহোর, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৯ অক্টোবর ২০০২(2002-10-09) (বয়স ৮২)
লাহোর, পাকিস্তান
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১৬ অক্টোবর ১৯৫২ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১২ ডিসেম্বর ১৯৫২ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৫
রানের সংখ্যা ৪২ ১,৫১১
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ২৬.৯৮
১০০/৫০ ০/০ ০/১২
সর্বোচ্চ রান ১৭ ৮১
বল করেছে ৩৬ ২,৯১০
উইকেট ৩৬
বোলিং গড় ২৯.০০ ৩৬.০২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/২৫ ৪/৬৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ১৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৭ এপ্রিল ২০২০

আনোয়ার হোসেন খোখার (উর্দু: انور حسین کھوکھر‎‎; জন্ম: ১৬ জুলাই, ১৯২০ - মৃত্যু: ৯ অক্টোবর, ২০০২) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, মুম্বই, উত্তর ভারত ও সিন্ধু দলের প্রতিনিধিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন আনোয়ার হোসেন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত আনোয়ার হোসেনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ২০ বছর বয়সে ১৯৪০-৪১ মৌসুমে পঞ্চদলীয় প্রতিযোগিতায় বাদ-বাকী একাদশের বিপক্ষে মুসলিম দলের সদস্যরূপে অভিষেক ঘটে তার।

পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর খেলায় প্রথম বলের মুখোমুখি হন ও বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ডিসেম্বর, ১৯৪৭ সালে সিন্ধু দলের সদস্যরূপে পশ্চিম পাঞ্জাবের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় এ ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি।[১] ১৯৯০-এর দশকে এ দূর্ভাগ্যজনক কীর্তির সন্ধান পাওয়া যায়।

এরপর, রঞ্জী ট্রফিতে উত্তর ভারত ও বোম্বে দলের পক্ষে খেলেন। শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন ও ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে ভারতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাগুলোয় প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতেন। এরপর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে খেলেন।[২]

অধিনায়কত্ব লাভ[সম্পাদনা]

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে সিন্ধু দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব সেরা খেলা উপহার দেন। ঐ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে ১২ ও ৮১ রান তোলার পর ৪/৬৬ ও ১/১৯ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[৩] এক সপ্তাহ পর লাহোরে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের বিপক্ষে পাকিস্তান প্রথম প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু, খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ঐ মৌসুম শেষে পাকিস্তানের প্রথম সফরকারী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। কলম্বোয় সিলন দলের বিপক্ষে উভয় খেলাতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও, ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে সিলন দল পাকিস্তান গমন করে। সফরকারী দলের বিপক্ষে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশ নেন।[২]

২০ বছরের ছোট হানিফ মোহাম্মদ অধিনায়ক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন। এছাড়াও হানিফ মোহাম্মদের অপর ভ্রাতৃদ্বয় - ওয়াজির মোহাম্মদ ও রইছ মোহাম্মদ খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, রইছ মোহাম্মদ শতরান করে করাচীকে নয় উইকেট জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে কলকাতায় একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে ইংরেজ দল ভারত, পাকিস্তান ও সিলন গমনে আসে। ডিসেম্বর, ১৯৫১ সালে করাচীতে এমসিসি’র বিপক্ষে সফরকারী দলের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সুন্দর খেলেন। এ পর্যায়ে অধিনায়ক আবদুল হাফিজ কারদারের সাথে ৮৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন। নিজে করেন ৪৮ রান। খেলায় স্বাগতিক দল চার উইকেটে জয় পায় ও পরবর্তী জুলাইয়ে দেশের টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তিতে বিরাট ভূমিকা রাখে।[১]

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে আবদুল হাফিজ কারদারের নেতৃত্বে পাকিস্তান দল তাদের উদ্বোধনী টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে ভারত গমন করে। সহকারী অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে পাঁচ টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের চারটিতে অংশ নেন। তবে, ব্যক্তিগতভাবে খুব কমই সফল হয়েছিলেন।[৪]

টেস্ট সিরিজে তিনি মাত্র ৪২ রান তুলতে পেরেছিলেন ও একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ঐ টেস্টগুলোয় বোলিং উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন তিনি। তবে, খুব কম সময়ই এ স্তরের ক্রিকেটে বোলিংয়ের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে পেরেছিলেন। এ সিরিজের পর আর কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ভারত বিভাজনের পর করাচীতে বসবাস করতে থাকেন। যকৃতের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অতঃপর, ৯ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ৮২ বছর বয়সে লাহোর এলাকায় আনোয়ার হোসেনের দেহাবসান ঘটে।[৫] মৃত্যুকালীন মাসেই তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ৫০ বছর পূর্বেকার দিল্লিতে প্রথম টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wisden 2003, pp. 1613–14.
  2. "First-Class Matches played by Anwar Hussain"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  3. "Sind v West Indians 1948-49"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  4. "Pakistan to India 1952-53"Test Cricket Tours। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  5. "Former Pakistan Test cricketer Anwar Hussain dies"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]