আতঙ্কজনিত ক্রয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০১৯–২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী চলাকালীন লকডাউনের শুরুতে ভারতের, কলকাতায় আতঙ্কজনিত কেনাকাটা।
২০১৯–২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী চলাকালীন নির্দিষ্ট টয়লেট পেপারের আতঙ্কজনিত কেনাকাটার পরবর্তী ফলাফল

আতঙ্কজনিত ক্রয় ( এটি আতঙ্কজনিত কেনাকাটা নামেও পরিচিত) তখন ঘটে যখন গ্রাহকরা বিপর্যয় বা অনুভূত বিপর্যয়ের ভয়ে বা তার পরে দামের প্রভুত বৃদ্ধি বা জিনিস ঘাটতির আশঙ্কায় অস্বাভাবিকভাবে একটি বৃহত পরিমাণে পণ্য কেনে।

আতঙ্কজনিত কেনাকাটা এক ধরনের গোষ্ঠিগত আচরণ । [১] এটি গ্রাহক আচরণ তত্ত্ব, "সম্মিলিত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা" সহ অর্থনৈতিক অধ্যয়নের বিস্তৃত ক্ষেত্রের আগ্রহের বিষয় যেমন হুজুগ এবং চলন, স্টক মার্কেট ওঠানামা, উপভোগযোগ্য বা অ-টেকসই পণ্যের চলন, কেনার উন্মাদনা, মজুদ করা এবং ব্যাংকিং আতঙ্ক সৃষ্টি ।" [২]

আতঙ্কজনিত ক্রয়, পরবর্তী অভাবের ঝুঁকি সত্য কিনা তা বিবেচনা না করেই প্রকৃত সংকট দেখা দিতে পারে; পরবর্তী পরিস্থিতি স্বয়ংসম্পূর্ণ পূর্বাভাসের একটি উদাহরণ। [৩]

উদাহরণ[সম্পাদনা]

আতঙ্কজনিত ক্রয় নিম্নলিখিত এই ঘটনাগুলির আগে, সময় বা পরে ঘটেছিল:

  • প্রথম [৪] এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। [৫]
  • ১৯১৮–-১৯২০ বিশ্বব্যাপী ইনফ্লুয়েঞ্জা বৈশ্বিক মহামারী ("স্প্যানিশ ফ্লু") -ফার্মাসিস্ট এবং ডাক্তারদের থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং এর লক্ষণগুলির জন্য কুইনাইন এবং অন্যান্য প্রতিকার যোগাড়, আতঙ্কজনিত ক্রয়ের কারণ হয়েছিল। [৬] ভিক্স ভেপোরাব বিক্রয় এক বছরে $ ৯০০,০০০ থেকে বেড়ে $ ২.৯ মিলিয়ন হয়ে গিয়েছিল। [৭]
  • ১৯২২–১৯২৩ জার্মান হাইপারইনফ্লেশন
  • মহামন্দার সূচনার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রা মজুতের ফলাফল হিসাবে ব্যাংকগুলিতে একটি রান [৮]
  • ১৯৪৩ পঞ্চাশের মন্বন্তর [৯]
  • ১৯৬২ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কট - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি খাবারের আতঙ্কজনিত ক্রয় করা হয়েছিল। [১০]
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে .১৯৭৩ টয়লেট পেপারের আতঙ্কজনিত ক্রয়। [১১]
  • ১৯৭৯ ––-১৯৮০ তেল সংকট জাপানের নেতৃত্বে তেলের আতঙ্কজনিত ক্রয় শুরু হয়েছিল। [১২]
  • ১৯৮৫ সালে নতুন কোকের আগমন অনেক গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে কোকাকোলা ক্লাসিক কেনা শুরু করেছিল। [১৩][১৪]
  • সন ২০০০ সমস্যা - খাদ্য [১৫][১৬]
  • ২০০১ - ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পরে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে ধাতব, স্বর্ণ ও তেল আতঙ্কজনিত ক্রয় [১৭]
  • ২০০৩ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারিতে, সার্সের প্রাদুর্ভাবের সময়, বিভিন্ন প্রদেশের (নুন, চাল, ভিনিগার, উদ্ভিজ্জ তেল, অ্যান্টিবায়োটিক, মুখোশ এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ সহ ) কয়েক দফায় চীনের কুয়াংতুং প্রদেশে এবং পার্শ্ববর্তী হাইনান এবং হংকংয়ের মতো অঞ্চলে আতঙ্কজনিত ক্রয় সংঘটিত হয়েছিল। [১৮]
  • ২০০০ এবং ২০০৫ ইউ কে জ্বালানী প্রতিবাদ [১৯][২০]
  • ২০০৫ জিলিন রাসায়নিক কারখানা বিস্ফোরণ - জল, খাদ্য [২১]
  • ২০০৮-২০১৩ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সংকট - রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার অধীনে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের আশঙ্কা করে, বন্দুকের মালিকরা যে আতঙ্কিত কেনাকাটা শুরু করেছিলেন, তা গোলাবারুদ ঘাটতির এক কারণ ছিল। [২২][২৩]
  • সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে, ভেনিজুয়েলার অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ভেনিজুয়েলা সরকার টয়লেট পেপারের "উৎপাদন, বিপণন ও বিতরণ" পরিচালনা করতে আরাগুয়া ভিত্তিক পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থা টয়লেট পেপার কারখানাটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছিল, পরবর্তী মাসগুলিতে টয়লেট পেপার সহ মৌলিক সামগ্রী এবং খাদ্যশস্য, যেমন চাল এবং রান্নার তেলের স্টক উধাও হয়ে যায়। এই ঘাটতির জন্য দোষ "মৌলিক পণ্যাদির উপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞার মতো নীতি-ধারণার বিষয়ে সরকারী নীতিগুলিতে" এবং মজুত করার উপর চাপানো হয়েছিল। [২৪]
  • দাকাজো - ২০১৩ সালের ভেনিজুয়েলার পৌরসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এবং বড়দিনের এক মাস আগে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো, যিনি যদি তার দল নির্বাচনে অংশ না নিলে, সম্ভাব্য  গণভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং  তার আগের মাসগুলিতে ভেনেজুয়েলার মধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছিল, তখন দাকাকে কঠোরভাবে কম দামে তার পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল। ৮ নভেম্বর ২০১৩-তে। [৪] [৫] রাষ্ট্রপতি মাদুরো একটি ভাষণে পুঁজিবাদকে সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন যে ডাকা ১০০০% এরও বেশি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। ভেনিজুয়েলার পাঁচটি ডাকা রিটেইল স্টোর নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দাম কমিয়ে দেওয়ার জন্য সৈন্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যদিও কয়েকটি দোকানে কোলেটিভোস নামক সরকারপন্থী দল কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থিত হয়েছিল এবং ডাকা কর্মীদের কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল [২৫] ডাকাজোর বা ডাকা ধামাকার শেষে ভেনিজুয়েলার অনেক স্টোর তাদের পণ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। ্ডাকাজোর এক বছর পরে ২০১৪ সালের নভেম্বর, অবধি কিছু স্টোর খালি রয়ে গেছিল।
  • ২০১৯–২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী- ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে আতঙ্কিত কেনাকাটা একটি বড় আন্তর্জাতিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়, যখন সারা বিশ্বের স্টোরগুলি মুখের মুখোশ , খাবার, বোতলজাত জল, দুধ, টয়লেট পেপার,[২৬] হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পরিষ্কার করার জন্য এল্হকোহল, অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ওয়াইপ এবং ব্যথানাশকের [২৭] মতো জিনিসগুলি অতিদ্গুরুত শেষ হয়ে গেছিল। ফলস্বরূপ, অনেক খুচরা বিক্রেতারা এই জিনিসগুলি বিক্রয়ের জন্য সীমিত করে দিয়েছিলেন। [২৮] যেমন ইবে এবং অ্যামাজন ইত্যাদি অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা থার্ড পার্টি( ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যবর্তী জন) বিক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট পণ্যগুলি যেমন টয়লেট পেপার,[২৯] ফেস মাস্কস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ওয়াইপগুলি অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় বাজার থেকে তুলে নেন। [৩০][৩১] ফলস্বরূপ, অ্যামাজন, স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার এবং সরকারী এজেন্সিগুলিতে এই পণ্যগুলি এবং অন্যান্য (যেমন থার্মোমিটার এবং ভেন্টিলেটর) বিক্রি সীমাবদ্ধ করে। [৩২]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • আতঙ্কজনিত বিক্রয়
  • রেশন ব্যবস্থা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bruce Jones & David Steven, The New Politics of Strategic Resources: Energy and Food Security Challenges in the 21st Century (eds. David Steven, Emily O'Brien & Bruce D. Jone: Brookings Institution Press, 2015), p. 12.
  2. William M. Strahle & E. H. Bonfield. Understanding Consumer Panic: a Sociological Perspective, Advances in Consumer Research, Volume 16, 1989, eds. Thomas K. Srull, Provo, UT: Association for Consumer Research, pp. 567-573.
  3. "Toxic leak threat to Chinese city"The Repository। ৮ মার্চ ২০২০। 
  4. Faris, Robert (১৯৪৮)। Social Disorganization। The Ronald Press Company। পৃষ্ঠা 524। 
  5. Spaull, Andrew David (১৯৮২)। Australian Education in the Second World War। University of Queensland Press। পৃষ্ঠা 100। আইএসবিএন 978-0-7022-1644-2 
  6. Honigsbaum, Mark (২০১৩)। "Regulating the 1918–19 Pandemic: Flu, Stoicism and the Northcliffe Press": 165–185। আইএসএসএন 0025-7273ডিওআই:10.1017/mdh.2012.101অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  7. Burden, Lizzy (২০ মার্চ ২০২০)। "Is panic buying irrational? Here's why it can seem to make economic sense"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  8. Wilkes, Jonny (১৭ মার্চ ২০২০)। "Has there always been panic buying? And when have people panic shopped through history?"HistoryExtra। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  9. Archibald Percival Wavell (১৯৭৩)। Wavell: The Viceroy's Journal। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 34 
  10. Alice L. George (২০০৩)। Awaiting Armageddon: How Americans Faced the Cuban Missile Crisis। The University of North Carolina Press। পৃষ্ঠা 78আইএসবিএন 0807828289 
  11. Buder, Emily (১৯ মার্চ ২০২০)। "The Great Toilet-Paper Shortage Scare - The Atlantic"www.theatlantic.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২০ 
  12. Mamdouch G. Salameh, "Oil Crises, Historical Perspective" in Concise Encyclopedia of the History of Energy (ed. Cutler J. Cleveland: Elsevier, 2009), p. 196.
  13. Taylor, Peter (২০১৩)। The thirty-six stratagems: A modern-day interpretation of a strategy classic। Infinite Ideas। পৃষ্ঠা 50। আইএসবিএন 978-1-908474-97-1 
  14. Roberts, Kevin (২০০৫)। Lovemarks: the future beyond brands। powerHouse Books। পৃষ্ঠা 193। আইএসবিএন 978-1-57687-534-6 
  15. Lohr, Steve (১ জানুয়ারি ২০০০)। "Technology and 2000 – Momentous Relief; Computers Prevail in First Hours of '00"New York Times 
  16. "The Millenium Bug threatens food supply systems – developing countries are also vulnerable, FAO warns"Food and Agriculture Organization। ১৯ এপ্রিল ১৯৯৯। 
  17. "Oil and gold prices spike"money.cnn.com। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। 
  18. Huiling Ding, Rhetoric of a Global Epidemic: Transcultural Communication about SARS (Southern Illinois University Press, 2014), pp. 70, 72, 83, 103, 111.
  19. Collins, Nick (২৫ আগস্ট ২০০৯)। "EU ban on traditional lightbulbs prompts panic buying"The Telegraph। ১১ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২০ 
  20. "UK fuel blockades tumble"। BBC News। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০০৮ 
  21. "Toxic leak threat to Chinese city"। BBC News। ২৩ নভেম্বর ২০০৫। 
  22. Danielle Kurtzleben, Here's why the ammunition shortage went on for years, Vox (1 July 2014).
  23. Stephanie Clifford, Shop Owners Report Rise in Firearm Sales as Buyers Fear Possible New Laws, New York Times (22 December 2012).
  24. Brochetto, Marilia; Botelho, Greg (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Facing shortages, Venezuela takes over toilet paper factory"CNN। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ 
  25. "Watch: Looting in Venezuela after government launches attack on 'bourgeois parasites'"। EuroNews। ১২ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৪ 
  26. What everyone's getting wrong about the toilet paper shortage Medium
  27. "Supermarkets report panic buying over coronavirus fears"Inside Retail। ২০২০-০৩-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৩ 
  28. Gadher, Dipesh (২৯ মার্চ ২০২০)। "Every ration helps in coronavirus crisis: Tesco puts one-item limit on essentials"The Sunday Times। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  29. Halliday, Josh (১৬ মার্চ ২০২০)। "eBay urged to clamp down on coronavirus profiteering"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  30. "Coronavirus price gouging: Amazon and eBay failing to tackle rip-off sellers, says Which?"Sky News। ২৫ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  31. Nicas, Jack (১৪ মার্চ ২০২০)। "He Has 17,700 Bottles of Hand Sanitizer and Nowhere to Sell Them"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০ 
  32. Palmer, Annie (২ এপ্রিল ২০২০)। "Amazon blocks sale of N95 masks to the public, begins offering supplies to hospitals"CNBC। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২০