অ্যালেন মস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(অ্যালান মস থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যালেন মস
অ্যালেন মস.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামঅ্যালেন এডওয়ার্ড মস
জন্ম(১৯৩০-১১-১৪)১৪ নভেম্বর ১৯৩০
টটেনহাম, লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১২ মার্চ ২০১৯(2019-03-12) (বয়স ৮৮)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৭১)
১৫ জানুয়ারি ১৯৫৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৭ জুলাই ১৯৬০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮২
রানের সংখ্যা ৬১ ১,৬৭১
ব্যাটিং গড় ১০.১৬ ৬.৯৯
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ২৬ ৪০
বল করেছে ১,৬৫৭ ৬৩,৫২৩
উইকেট ২১ ১,৩০১
বোলিং গড় ২৯.৮০ ২০.৭৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ৬৫
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৩
সেরা বোলিং ৪/৩৫ ৮/৩১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ১৪৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ এপ্রিল ২০১৯

অ্যালেন এডওয়ার্ড মস (ইংরেজি: Alan Moss; জন্ম: ১৪ নভেম্বর, ১৯৩০ - মৃত্যু: ১২ মার্চ, ২০১৯) মিডলসেক্সের টটেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং প্রদর্শন করেছেন ‘মসি’ ডাকনামে পরিচিত দীর্ঘদেহী অ্যালেন মস

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্রে খেলোয়াড় সন্ধান প্রকল্পের মাধ্যমে অ্যালেন মসের উত্থান ঘটে। জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণকালে ছুটি প্রাপ্তিসাপেক্ষে যথাসম্ভব নিজ কাউন্টি দলের পক্ষে অংশ নিতেন।[১]

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মিডলসেক্সের পক্ষে মূলতঃ বোলিং উদ্বোধন করতেন। ঐ সময়কালে দলটির শক্তিমত্তা তুলনামূলকভাবে বেশ দূর্বলমানের ছিল। কখনোবা অ্যালেন মসকে একাকী বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতে হতো।

কাউন্টি ক্রিকেটে ২১-এর কম গড়ে ১৩০১ উইকেট দখল করেন। পাঁচ মৌসুমে শত উইকেটের মাইলফলক পৌঁছেন।[২] ১৯৬০ সালে তাঁর স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত হয়। ১৩.৭২ গড়ে ১৩৬ উইকেট দখল করেন তিনি। তন্মধ্যে, নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৮/৩১ পান ও প্রতিপক্ষকে ৫৮ রানে গুটিয়ে দিতে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[৩] কাউন্টি দলটির পক্ষে মাত্র তিনটি একদিনের খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন অ্যালেন মস। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর।

১৯৫৪ সালে প্রথমবারের মতো মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। সেখানেই তিনি তাঁর প্রথম টেস্ট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ছয় বছরের অধিক সময় খেললেও মাত্র নয়টি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তাঁর। অংশগ্রহণকৃত ঐ টেস্টগুলোয় মনোযোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়। কেবলমাত্র শেষ দুই টেস্টেই কিছুটা ভালো খেলা উপহার দিয়েছিলেন। ১৯৬০ সালে লর্ডসে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৩৫ ও নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৩৬ পেয়েছিলেন। তবে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে উপস্থিতি ছিল।

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যানের অভিমত, অ্যালেন মস বিবেচক, উদ্যমী সুইং বোলারে ছিলেন। উপযুক্ত পরিবেশে দলকে সঞ্চালিত করতে পারতেন তিনি। লম্বাটে গড়নের অধিকারী হিসেবে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন তিনি।

প্রশাসনে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৬৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি বিপিসি ওয়েব অফসেট কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মুদ্রণ ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ থেকে ২০০২ সময়কালে মুদ্রণ উপদেষ্টা হিসেবে অবৈতনিক দায়িত্ব পালন করেন।

মিডলসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ পরিষদের বিশ্বস্ত সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ২০০৫ সাল ও ২০০৮ থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও ২০১০ থেকে ২০১২ সাল অবধি নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন অ্যালেন মস। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সম্মানীয় কোষাধ্যক্ষ এবং অর্থ ও প্রশাসনবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি, ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ইসিবি’র শৃঙ্খলা নির্ধারণ কমিটি ও মিডলসেক্সের আজীবন সহঃসভাপতি ছিলেন।

১৯৯৬ থেকে ২০১২ সময়কালে মিডলসেক্স ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ সময়েই মিডলসেক্স কাউন্টিতে বিনোদনধর্মী খেলা পরিচালিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১২ মার্চ, ২০১৯ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে শান্তিপূর্ণভাবে অ্যালেন মসের দেহাবসান ঘটে।[৪] সোনিয়া নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির গ্রাহাম ও সুজান নাম্নী সন্তান রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 124। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Alan Moss bowling season by season
  3. Wisden 1961, pp. 510–11.
  4. Alan Moss

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]