অস্ট্রোনেশীয় ভাষাসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অস্ট্রোনেশীয়
ভৌগলিক বিস্তার: সামুদ্রিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ওশেনিয়া, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান
ভাষাগত শ্রেণীবিভাগ: বিশ্বের একটি প্রধান ভাষা পরিবার
প্রোটো-ভাষা: প্রোটো-অস্ট্রোনেশীয়
উপবিভাজনসমূহ:
আইএসও ৬৩৯-২ / : map
{{{mapalt}}}
পশ্চিম মালয়ি-পলিনেশীয় ভাষাসমূহ।
  ফিলিপিনি (অপ্রদর্শিত: তাইওয়ানে ইয়ামি)
  উত্তর সুলাওেসি (গোরোন্তালো, সাঙ্গিরমিনাহাসান)
  the westernmost Oceanic languages
The only demonstrated groups in this list, besides Malayo-Polynesian itself, are Sama-Bajaw and Oceanic.

ওশানিক ভাষার শাখা:
  আডমিরালটিস এবং ইয়াপেসে
  সেন্ট মাথিয়াস
  পশ্চিমী ওশানিক & মেসো-মেলানেশীয়
  তেমোতু
  দক্ষিণপূর্ব সলোমনস
  দক্ষিণ ওশানিক
  মাইক্রোনেশিয়া
  ফিজীয়–পলিনেশিয়া (অপ্রদর্শিত: রাপা নুই)
The black ovals at the northwestern limit of Micronesian are the Sunda–Sulawesi languages Palauan and Chamorro. The black circles in with the green are offshore Papuan languages.

অস্ট্রোনেশীয় ভাষাসমূহ (ইংরেজি: Austronesian languages) একটি বিরাট ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এরা মাদাগাস্কার থেকে ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত এবং তাইওয়ান ও হাওয়াই থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। ভাষার সংখ্যা এবং ভৌগোলিক বিস্তার উভয় দিক থেকেই এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষাপরিবার। এই পরিবারে ১২৪৪টি ভাষা আছে।

মাদাগাস্কার, মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, পলিনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৩০ কোটি লোক বিভিন্ন অস্ট্রোনেশীয় ভাষাতে কথা বলেন। বর্তমানে এদের মধ্যে চারটি ভাষা চারটি দেশে সরকারী মর্যাদা লাভ করেছে। এগুলি হল

অস্ট্রোনেশীয় ভাষাগুলি নিয়ে বিগত দশকগুলিতে ব্যাপক গবেষণা করা হলেও এদের উৎস ও প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। এদের শ্রেণীকরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব থাকলেও কোনটিই সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। ভাষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন এগুলি কোন একটি আদি ভাষা থেকে ৪০০০ বছর বা তারও আগে পৃথক হওয়া শুরু করে।

ধারণা করা হয় আদি অস্ট্রোনেশীয় ভাষাটির বক্তারা মালয় উপদ্বীপের কাছে বাস করত এবং সেখান থেকে তারা পশ্চিমে মাদাগাস্কার পর্যন্ত এবং পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্তরণ সম্ভবত দুই হাজার বছরেরও আগে সংঘটিত হয়েছল। একে অপরের থেকে বহু দূরে অবস্থিত হাজার হাজার দ্বীপে বসবাসের ফলে আদি ভাষাটি থেকে অনেকগুলি উপভাষার উৎপত্তি ঘটে যেগুলি পরে একেকটি স্বতন্ত্র ভাষাতে রূপ নেয়।

অস্ট্রোনেশীয় ভাষাগুলিকে দুইটি শাখায় ভাগ করা হয়--- মালয়-পলিনেশীয় এবং ফরমোসীয়। এদের মধ্যে মালয়-পলিনেশীয় শাখাতি বৃহত্তর। মালয়-পলিনেশীয় শাখাটিকে আবার দুইটি উপশাখায় ভাগ করা যায়। এগুলি হল

  • পশ্চিম উপশাখা; এতে প্রায় ৫০০টি ভাষা আছে যেগুলি মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ানের কিয়দংশ, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং ক্যাম্বোডিয়াতে প্রচলিত। এছাড়া মাইক্রোনেশিয়ার দুইটি ভাষা চামোররো ও পালাউয়ান ভাষাও এই দলের অন্তর্গত। এই উপশাখাতে ৩০ কোটিরও বেশি লোক কথা বলেন। জাভানীয় ভাষা, মালয় ভাষা এবং তাগালোগ ভাষা তিনটি প্রধানতম ভাষা,
  • কেন্দ্রীয়-পূর্বী উপশাখা। ওশেনীয় ভাষা নামেও পরিচিত। এই শাখায় প্রায় ৫০০টি ভাষা অন্তর্গত। এগুলির বেশির ভাগই নিউ গিনি দ্বীপে প্রচলিত। বাকিগুলি মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়ার প্রায় ১০ হাজার দ্বীপে প্রচলিত। ভৌগলিকভাবে বিস্তৃত হলেও এই উপশাখার ভাষাগুলিতে মাত্র ২০ লক্ষ লোক কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ভাষাগুলি এবং নিউ গিনির পাপুয়ান ভাষাগুলিকে এই উপশাখার অন্তর্গত ধরা হয় না।

বহু অস্ট্রোনেশীয় ভাষা আজ বিপন্ন। বিশেষ করে মেলানেশিয়ার ভাষাগুলিতে গড়ে ১৫০০-র বেশি বক্তা নেই।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]