অস্ট্রালোপিথেকাস বাহরেলগাজালি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

Australopithecus bahrelghazali'
Bahrelghazali.jpg
Mandible of A. bahrelghazali (KT12 / H1)
জীবাশ্ম
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Mammalia
বর্গ: Primates
পরিবার: Homnidae
উপপরিবার: Homininae
গণ: Australopithecus or Praeanthropus
প্রজাতি: A. bahrelghazali or P. bahrelghazali
দ্বিপদী নাম
Australopithecus bahrelghazali
Brunet et al., 1995

অস্ট্রালোপিথেকাস বাহরেলগাজালি হচ্ছে হোমিনিন জীবাশ্ম; যা ১৯৯৫ সালে প্রত্ননৃবিজ্ঞানী মাইকেল বারনেট এর নের্তৃত্বে একটি টিম এটি আবিষ্কার করে। দুইটি জীবাশ্ম বর্ণনা করা হয়েছে:

--শাদের বাহার আল গাজেলের (গাজেলের নদী) পূর্বদিকে ম্যাণ্ডিবুলের টুকরো পাওয়া যায়। এটি করো টরো থেকে ৪৫ কিমি দূরে। মাইকেল বার্নাট ১৯৯৫ সালের জানুয়ারীতে এটিকে আবিষ্কার করেন। এই সাইটটির নাম দেওয়া হয়েছে কেটি-ওয়ান-টু আর জীবাশ্মের নমুনার নাম রাখা হয়েছে কেটি-ওয়ান-টু/এইচওয়ান। এই নমুনার মধ্যে ছিল নীচের দিকের ছেদন দাঁত, শ্বদন্ত ও চারটি পেষণ দাঁত। এইসবকিছুই দন্তথলির মধ্যে আবদ্ধ ছিল।

- ১৯৯৬ সালের জানুয়ারীতে একই এলাকায় উপরের অগ্রপেষণ দাঁত আবিষ্কৃত হয়। এই প্রকরণের নাম দেওয়া হয়েছিল কেটি-ওয়ান-টু/এইচটু।[১][২][৩][৪]

তৃতীয় জীবাশ্ম হিসেবে ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারী ম্যাক্সিলার টুকরো পাওয়া যায়। কেটি-ওয়ান-টু এর কাছে কেটি-ওয়ান-থ্রি এলাকায়। এর নামকরণ করা হয়েছিল কেটি-ওয়ান-থ্রি-নাইনসিক্স-এইচওয়ান। ১৯৯৭ সালে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধে এসংক্রান্ত প্রকাশিত হয়।[৫][৬][৭]

সর্বশেষ চতুর্থ জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া যায়, ১৮ জুলাই ২০০০ সালে। এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায় কেটি-ওয়ান-থ্রি এর কাছাকাছি কেটি-ওয়ান-ফোর এলাকায়। কেটি-ওয়ান-টু, কেটি-ওয়ান-থ্রি, কেটি-ওয়ান-ফোর, এই সবগুলো সাইট একই এলাকায় হওয়ায় সম্ভাবনাময় জীবাশ্ম হিসেবে এটি আজো গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আছে। ৪র্থ জীবাশ্মটি ছিল ম্যান্ডিবুলারের টুকরো।​[৮]

অস্ট্রালোপিথেকাস বাহরেলগাজালি এর বয়স বেরিলিয়াম-নির্ভর তেজস্ক্রিয় ডেটিং এর মাধ্যমে করা হয়। এর ফলে এর বয়স নির্ধারণ করা হয় ৩৬ লক্ষ বছর।[৯][১০]

এই এলাকাসমুহ পূর্ব আফ্রিকার গ্রেট রিফ্য উপত্যকা থেকে ২,৫০০ কিমি (১,৬০০ মা) দূরে অবস্থিত। এই উপত্যকা মানব বিবর্তনের শৈশবকাল হিসেবে পরিচিত।( কেটি-ওয়ান-টু/এইচওয়ান জীবাশ্মের নমুনাকে বার্নেট তার বন্ধু আবেল ব্রিলানসিউয়ের স্মৃতি হিসেবে আবেল নামকরণ করেন)।[১][১১]

কেটু-ওয়ানটু/এইচওয়ান ম্যাণ্ডিবুলের অস্ট্রালোপিথেকাস আফারেন্সিস এর ন্যায় সমরুপ দন্তবিন্যাস আছে। যার জন্য গবেষক উইলিয়াম কিমবেল এই মর্মে বিতর্ক করেছেন যে আবেল কোনো ভিন্ন প্রজাতি নয় বরং অঃ আফারেন্সিস এরই একটি প্রকরণ। ১৯৯৬ সালে ব্রুনেট ও তার টিম এই নমুনাকে অঃ বাহরেলগাজাইল এর বলে পুনঃশ্রেণিবিন্যাস করে।[৫] এই শ্রেণিবিন্যাসকে বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল কারণ তা আইসিজেডএন এর সংজ্ঞার সাথে বিরোধী ছিল।[১২] অঃ বাহরেলগাজাইল স্বতন্ত্র; কারণ এটা একমাত্র অস্ট্রালোপিথেসিন জীবাশ্ম; যা মধ্য আফ্রিকায় পাওয়া গিয়েছিল। এথেকে প্রমাণিত হয়; শুধুমাত্র পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকায় নয়; বরং প্রাক হোমিনিন প্রজাতি আরো অনেক জায়গায় বিবর্তিত হয়েছিল।[১৩][১৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Brunet, Michel; Beauvilain, Alain; Coppens, Yves; Heintz, É.; Moutaye, A.H.E; Pilbeam, D. (১৯৯৫)। "The first australopithecine 2,500 kilometres west of the Rift Valley (Chad)."Nature378: 273–275। doi:10.1038/378273a0 
  2. Brunet, M.; Beauvilain, A.; Coppens, Yves; Heintz, É.; Moutaye,  ; Pilbeam, D. (১৯৯৬)। "Australopithecus bahrelghazali, une nouvelle espèce d'Hominidé ancien de la région de Koro Toro (Tchad)"Comptes Rendus des Séances de l'Académie des Sciences322: 907–913। 
  3. Australopithecus bahrelghazali, 'Abel'.
  4. Eugene M., McCarthy (n.d.)। "Australopithecus bahrelghazali"Macroevolution.net। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৫Etymology: Since the type specimen of Australopithecus bahrelghazali was found near the Bahr el Ghazal river valley, its name was created by adding the Latin genitive ending -i to bahrelghazal, yielding bahrelghazali, meaning 'of the Bahr el Ghazal'. 
  5. Tchad, un nouveau site à Hominidés Pliocène. Comptes Rendus des Séances de l'Académie des Sciences, t. 324, série IIa, p. 341 à 345.
  6. Lee-Thorp J., Likius A., Mackaye H.T., Vignaud P., Sponheimer M. et Brunet M. Isotopic evidence for an early shift to C4 resources by Pliocene hominins in Chad et dans 'Supporting information' de cet article.
  7. The jawbone of the Australopithecus bahrelghazali of KT13.
  8. Mandibular symphysis of the Hominid of KT40.
  9. Lebatard, Anne-Elisabeth; Bourlès, Didier L.; Duringer, Philippe; Jolivet, Marc; Braucher, Régis; Carcaillet, Julien; Schuster, Mathieu; Arnaud, Nicolas; Monié, Patrick; Lihoreau, Fabrice; Likius, Andossa; Taisso Mackaye, Hassan; Vignaud, Patrick; Brunet, Michel (২০০৮)। "Cosmogenic nuclide dating of Sahelanthropus tchadensis and Australopithecus bahrelghazali: Mio-Pliocene hominids from Chad"Proc. Natl. Acad. Sci. U.S.A.105 (9): 3226–3231। doi:10.1073/pnas.0708015105পিএমসি 2265126অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  10. Lebatard, Anne-Elisabeth; Bourlès, Didier L.; Duringer, Philippe; Jolivet, Marc; Braucher, Régis; Carcaillet, Julien; Schuster, Mathieu; Arnaud, Nicolas; Monié, Patrick; Lihoreau, Fabrice; Likius, Andossa; Mackaye, Hassan Taisso; Vignaud, Patrick; Brunet, Michel (২০০৮)। "Cosmogenic nuclide dating of Sahelanthropus tchadensis and Australopithecus bahrelghazali: Mio-Pliocene hominids from Chad"। 105–9। United States: Proc. Natl. Acad. Sci.: 3226–3231। 
  11. Brunel, Michel; Beauvilain, A.; Coppens, Yves; Heintz, É.; Moutaye, A. H. E; Pilbeam, D. (১৯৯৬)। "Australopithecus bahrelghazali, une nouvelle espèce d'Hominidé ancien de la région de Koro Toro (Tchad)"Comptes Rendus des Séances de l'Académie des Sciences322: 907–913। 
  12. Schwartz, Jeffrey H., and Ian Tattersal. 2005 The Human Fossil Record, vol.4: Craniodental Morphology of Early Hominids (Genera Australopithecus, Paranthropus, Orrorin) and Overview. John Wiley and Sons, New Jersey.
  13. Ann Gibbons (২০০৭)। The First HumanDoubleday Publishing Group। পৃষ্ঠা 8। আইএসবিএন 0307279820। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৩-১৮ 
  14. John Reader (2011). Missing links : in search of human origins. p. 393. Oxford University Press, New York, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২৭৬৮৫-১.

বই পরিচিতি[সম্পাদনা]

  • Beauvilain, Alain (২০০৩)। Toumaï, l'aventure humaine। Paris: La Table Ronde। পৃষ্ঠা 239। 
  • Gibbons, Ann (২০০৬)। The first human, the race to discover our earliest ancestors। New York: Doubleday। পৃষ্ঠা 306। 
  • Leakey, Mary; Walker, A (১৯৯৭)। Antiguos fósiles de homínidos en África। Investigación y Ciencia। পৃষ্ঠা 75। 
  • Reader, John (২০১১)। Missing links. In search of human origins। New York: Oxford University Press। পৃষ্ঠা 538। 

বহিঃস্থ সংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Human Evolution